বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, প্রশাসনের মধ্যে আগের ফ্যাসিস্ট আমলের অনেকেই রয়ে গেছে। যারা সবসময়ই ইসলামী দলগুলোর বিষয়ে বিপরীত অবস্থান নিয়ে থাকে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আমরা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে আমরা শঙ্কিত।
রবিবার (৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইগড় এলাকায় দাওয়াতুল কোরআন মাদরাসার খতমে বোখারী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
জোটের আসন বিন্যাস নিয়ে সমস্যা চলছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোট একটি বিশাল বিষয়, আমরা কোনো জোট গঠন করিনি, শুধু আসন সমঝোতা করেছি। অনেকগুলো দলের সমন্বয়ে আমরা ইসলামপন্থীদের একটি ব্যালট বক্স নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছি, আমাদের মধ্যে এখনো কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি আমরা অচিরেই জোটের চূড়ান্ত আসন বিন্যাস ঘোষণা করব।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বারের এনসিপি’র জন্য আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে কোনো নেতা কোনো ঘোষণা দিলে সেটি চূড়ান্ত নয়, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত চূড়ান্ত আসন বিন্যাসের ঘোষণা কেন্দ্রীয়ভাবে আসবে। এখন পর্যন্ত এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার আনোয়ার হোসেন সর্বোচ্চ তালিকায় রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কোনো নেতা আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেওয়ার অধিকার রাখে না, এটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত হবে। কেউ যদি আসন সমঝোতার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দিয়ে থাকেন, এর কোনো ভিত্তি নেই।
১০১ আলেমের বিবৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিবৃতিতে যে সমস্ত শীর্ষ আলেমের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই এই বিবৃতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা বিভিন্ন ধরনের বিবৃতি এবং ভিডিও বার্তায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চট্টগ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।দেশের খ্যাতিমান বলীরা (কুস্তিগীর) শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবেন লালদীঘি মাঠে। এ খেলায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রাম এসেছেন শতাধিক বলী। এদিকে ১১৭তম এই আসরকে ঘিরে জমে উঠেছে তিন দিনের বৈশাখী মেলা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশ এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বলীখেলা চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় লোকজ ক্রীড়া আয়োজন। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য এখন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি নগরবাসীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলা ও আয়োজনের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন মেলা ভোরের মধ্যেই শেষ করা হয়। আয়োজকরা জানান, বিষয়টি মাথায় রেখেই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবসমাজকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এ বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের লালদীঘি মোড়কে ‘জব্বারের মোড়’ হিসেবে নামকরণের দাবি উঠেছে এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করে এলাকাটিকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল জানান, জব্বারের বলীখেলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা। এবারের বলীখেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলীরা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, এমনকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও শক্তিশালী কুস্তিগীররা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৮০ থেকে ১০০ বলী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় কুস্তিগীরদের ‘বলী’ বলা হয়, আর এই প্রতিযোগিতাকে বলা হয় ‘বলীখেলা’। এটি মূলত গ্রামীণ কুস্তির একটি ঐতিহ্যবাহী রূপ, যেখানে শক্তি, কৌশল ও সহনশীলতার সমন্বয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাটির তৈরি বিশেষ বৃত্তাকার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীরা মুখোমুখি হন এবং নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেষ্টা করেন। ঐতিহাসিকভাবে এই বলীখেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রচলন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় লোকজ উৎসবে পরিণত হয় এবং আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলছে। গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ কুস্তিগীর, যিনি ফাইনালে রাশেদ বলিকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিলেন। ফলে তিনি টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এবারের আসরেও শরীফ ও রাশেদ— দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই অংশ নিচ্ছেন, যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এবারের ফাইনালেও এই দুই বলীর মধ্যে লড়াই জমে উঠতে পারে। মেলা ঘিরে লালদীঘি মাঠজুড়ে বসেছে বৈশাখী পসরা। রয়েছে মাটির তৈরি নানা জিনিস, বাঁশ ও কাঠের হস্তশিল্প, লোকজ অলঙ্কার, খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন দোকান। পাশাপাশি রয়েছে দেশীয় খাবারের স্টল। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, বিভিন্ন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আয়োজকরা জানান , বলীখেলা সফলভাবে আয়োজন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে, বলীদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া দর্শকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। লালদীঘি মাঠ ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, বলীখেলা ও মেলাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১১৭তম জব্বারের বলীখেলা ঘিরে চট্টগ্রামে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আয়োজকরা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখে এবারের আয়োজনও শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং দর্শকদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জানা যায়, স্থানীয় বদরপতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তিখেলার প্রচলন করেছিলেন। সে কুস্তি কালক্রমে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘বলীখেলা’ নামে। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ বলীখেলা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পর ফ্লাইট চলাচল আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল হলেও গত সপ্তাহে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিমানবন্দরের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রতিদিন ২-৩টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে সাত দিনে বাতিল হয়েছে ১৬টি ফ্লাইট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দরের ৩৩৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেছেন, গত সাত দিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি ডিপার্চার, এয়ার আরাবিয়ার শারজাহর ৪টি অ্যারাইভাল ও ৪টি ডিপার্চার এবং সালাম এয়ারের মাস্কাটের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির পর শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-দোহা রুটে ফ্লাইট চলাচলও শুরু হয়েছে এবং দ্রুত এ রুটে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ ও হ্রদের ভারসাম্য রক্ষায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর তিন মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি অঞ্চলের সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদে কার্প প্রজাতির মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ডিম ছাড়ার মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কাপ্তাই হ্রদ দেশের কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান। এসময় মাছ শিকার বন্ধে কাপ্তাই হ্রদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় বরফকলগুলোও এসময় বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সহায়তায় মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে দুই মাসের জন্য ৪০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২ মে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। একই দিন হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনাও ছাড়া হবে। কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক নিশ্চিতকরণে মধ্যরাত থেকে আগামী তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হ্রদে অবৈধ মাছ শিকার রোধে নৌ-পুলিশ ও বিএফডিসির সমন্বয়ে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হবে অস্থায়ী চেকপোস্ট। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।