ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভারতের আরও জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনও যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি এবং চলমান সংঘাত ইরান, এই অঞ্চল কিংবা মানবতার কারও স্বার্থেই কাজ করছে না।
কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) এবং ‘সাংহাই প্লাস’ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। খবর তাসনিম নিউজ’র।
সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের যুদ্ধে ইরানের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার প্রশাসনের শুরু থেকেই ইরানের নীতি ছিল শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা। তবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার পথ’ বেছে নিয়েছে।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘কখনও যুদ্ধকে স্বাগত জানায় না।’ তিনি বলেন, ইরানি জনগণকে বিপদ ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষা করা এবং শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য সম্পাদিত চুক্তিগুলোর আওতায় ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার দায়বদ্ধতা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান এখনো একটি চুক্তি ও পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে নয়, এই অঞ্চলের স্বার্থেও নয় এবং মানবতার স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তি ও বাস্তববোধ নির্দেশ করে যে আমাদের যুদ্ধ ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব এড়িয়ে চলা উচিত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিছু গোষ্ঠী সংঘাত অব্যাহত রাখার মধ্যেই নিজেদের স্বার্থ দেখতে পায়। তিনি শান্তির পক্ষে প্রচেষ্টা জোরদার এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি মোদিকে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ‘যুদ্ধ ও রক্তপাত’ থেকে সরে এসে সংলাপ ও সমঝোতার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অঞ্চল ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুক্তিবাদী শক্তিগুলোর আকাঙ্ক্ষা হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বস্তি এবং যুদ্ধ এড়িয়ে চলা। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।
পেজেশকিয়ান সব ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে ইরানের প্রস্তুতির কথাও জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা তেহরান ও নয়াদিল্লির সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার চেষ্টা করলেও তেহরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।
অন্যদিকে, মোদি পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে ভারত ইরানের সঙ্গে তার সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মোদি তাকে একজন শান্তিপ্রিয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেজেশকিয়ানের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী যুদ্ধ অব্যাহত রাখার মধ্যেই নিজেদের স্বার্থ দেখতে পায়। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, শেষ পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তাই প্রতিষ্ঠিত হবে।
দুই নেতা পরিবহন ও সামুদ্রিক সহযোগিতা, হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং চাবাহার বন্দরে সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
তারা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ইরান ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে বিদ্যমান সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, আগের যে কোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে এই ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিয়ে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন করেছেন, প্রতারণায় জড়িয়েছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পিগট বলেন, “ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আইন ভঙ্গ করা, প্রতারণা করা কিংবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার ক্ষেত্রে বিদেশিদের প্রতি আমাদের কোনো ধরনের ছাড় নেই।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। আলজাজিরা এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বাতিল করা ভিসার সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছিল দপ্তরটি। তখন সেটিকে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে যাচাই এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারতে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ বছর এটি তার দ্বিতীয় সরকারি ভারত সফর। এ সফরে কূটনীতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতে আসার আগে রুবিও উজবেকিস্তান সফর করেন। সেখানে তিনি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান জানান। এরপর তিনি মুম্বাইয়ে পৌঁছান। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে, গত মে মাসে তিনি নয়াদিল্লি ও কলকাতা সফর করেন। সে সময় তিনি তাজমহলও ঘুরে দেখেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এবার মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকের কোনো সূচি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের জামনগর সফর করবেন। বন্দরনগরী জামনগর ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স শিল্পগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে অবস্থিত গোষ্ঠীটির প্রধান তেল শোধনাগারটি বিশ্বের বৃহত্তম। এ ছাড়া ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় নিহত ১৬৬ জনের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা রয়েছে তার।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তার ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি সমান আচরণ করা হচ্ছে— এর প্রমাণ দিতে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সোমবার দেওয়া আদালতের এ নির্দেশ এসেছে লুলার নির্বাচনী প্রচারশিবিরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। তাদের অভিযোগ, আগামী রোববারের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর প্রচারণাকে সুবিধা দিতে মেটা তাদের অনলাইন কনটেন্টের প্রচার সীমিত করছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা অবশ্য নির্বাচনে কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লুলার নির্বাচনী প্রচারের কিছু বিজ্ঞাপন ভুলবশত নিষ্ক্রয় করা হয়েছিল। এ ধরনের ত্রুটি শুধু ব্রাজিলেই ঘটেনি বলেও দাবি করেছিল তারা। লুলার প্রচারশিবির হোয়াটসঅ্যাপের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অসংগত আচরণের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, লুলাসংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কনটেন্টের প্রচার সীমিত করা হলেও বলসোনারোর প্রচারসংশ্লিষ্ট কনটেন্টে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের (সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত) এক বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিদিন এক লাখ ডলার জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছিল। তবে সোমবারের নতুন আদেশে আদালত জানায়, আগের নির্দেশ মেনে চলার যথেষ্ট প্রমাণ মেটা দিতে পারেনি। এ কারণে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিদিন দুই লাখ ডলার করা হয়েছে বলে এএফপির দেখা আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের আদেশে বলা হয়, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে, আগের জরিমানার পরিমাণ যথেষ্ট ছিল না।’ লুলার রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, সোমবারও তারা নতুন করে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ পেয়েছে। এর আগে দলটি এ বিষয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা (ওএএস) ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিল। দলটির যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক এদেন ভালাদারেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি, মেটা ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারকে সুবিধা দেওয়া বন্ধ করবে।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচনী আদালতে নতুন করে অভিযোগ দাখিল করা হবে। এদিকে মেটার সাও পাওলো কার্যালয়ের বাইরে লুলার বেশ কয়েকজন সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা ‘মেটা, ব্রাজিল ছাড়ো’ বলে স্লোগান দেন। ভিডিও অ্যানিমেটর ৪৭ বছর বয়সী লিলিয়ান ডোরিং এএফপিকে বলেন, ‘সম্প্রতি মেটা পরিচালিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে যা দেখি, তার প্রায় কিছুই আর বিশ্বাস করতে পারি না।’ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস কারাগারে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এ কারণে রোববারের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তাকেই এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শনিবার ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারশিবির অভিযোগ করেছে, মেটার ‘অনুমোদনে’ লুলার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রচারণা অভিযান’ চালানো হচ্ছে। জনমত জরিপগুলোতে ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ও ৮০ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার মধ্যে প্রায় সমানে-সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।