সারাদেশ

বেলা বাড়ার সঙ্গে কমেছে চামড়ার দাম

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সকাল থেকে আশেপাশের এলাকা থেকে এক-দুইটা করে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনে গুলশান ২ এলাকায় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী হালিম।

 

সকালে যে মাপের চামড়া ৯০০ টাকা করে বিক্রি করেছিলেন, বিকাল ৫টায় এসে তার দাম ৭০০ টাকা করে পেয়েছেন বলে দাবি তার।

দরদকষাকষি করে ৭০০ টাকা দরে চামাড় বিক্রি করে অসন্তোষই প্রকাশ করলেন হালিম। তিনি বলেন, “দাম নাই। দাম তো কমই।

“আমার চামড়া এখন নিল ৭০০ টাকা করে। সকালে এই চামড়া ৯০০ টাকা কইরা নিয়া গেছে।”

গুলশানের আশেপাশের এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন তিনি

তবে দাম নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি উড়িয়ে দেন সেখানে চামড়া কেনার দায়িত্বে থাকা ইসলাম ট্রেডার্সের প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ।

সরাসরি হেমায়েতপুরে হরিণধরার চামড়া শিল্পনগরীতে এ চামড়া পাঠাবেন, এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “দাম কম তো বলবেই! কম হলে তো আর কেউ দিত না।”

তিনি কত টাকা করে কিনছেন, এমন প্রশ্নে রশিদ বলেন, “আমরা প্রতি ফুট চামড়ায় ৩৫-৪০ টাকা করে দিচ্ছি। এরপর লবণ ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি চামড়ায় ৩০০ টাকা আছে।

“দর তো সরকার থেকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা সেভাবেই দাম দিচ্ছি। দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে তো আর কেউ দিত না।”

তিনি বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫০০ এর মতো কোরবানির গরুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার কথা বলেছেন।

“হাজার টাকা যায়নি কোনোটা। গড়ে ধরেন ৭৫০ টাকা করে কিনছি।”

গুলশান ২ সার্কেলে ঘুরে গুটিকয়েক ফড়িয়া পাওয়া যায়; হেমায়েতপুরে ট্যানারি মালিকদের কাছে কাছে যারা বিক্রি করবেন, তাদেরই প্রতিনিধি তারা। সে কারণে এখানে দাম তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের স্থান ও সবশেষ এক সময়কার কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় আড়ৎ রাজধানীর লালবাগের পোস্তা ঘুরেও বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমার বিষয়টি জানা যায়।

বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।

এবার ঢাকার ভেতরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় ঢাকায় প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে সমপরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে ট্যানারিতে, যা গত বছর ছিল ২২ টাকা থেকে ২৭ টাকা, আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা, যা গতবার ছিল ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা।

তবে দাম নিয়ে গতবছরের মতো এবারও হতাশা দেখা যায় বিক্রেতাদের মধ্যে; আড়তদার ও ফড়িয়ারা দায়ী করছেন ট্যানারি শিল্প মালিকদেরকে।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম নগরীতেও গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেছেন আড়তদাররা ‘সিন্ডিকেট’ করে চামড়ার দাম কমিয়েছেন। তবে আড়তদাররা তাদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে নগরীতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রির তথ্য মিলেছে।

গেল বছর চট্টগ্রামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই সড়কে চামড়া ফেলে যান, তাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সড়কেই নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে ২০১৯ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

সরকার নির্ধারিত দাম নিয়ে ক্ষোভ

সরকার কাঁচা চামড়ার যে দাম বেঁধে দিয়েছে, তা নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া উভয়ের মধ্যেই ক্ষোভ দেখা গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তা তারা পাচ্ছেন না। আর ফড়িয়ারা বলছেন, তারা বেশি দামে কিনেছেন, কিন্তু পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে দাম পাবেন কিনা শঙ্কায় আছেন।

বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গুলশান ২ গোলচত্ত্বরে দুটি চামড়া নিয়ে আসেন মহাখালী রেললাইন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আবু ইউসুফ।

চামড়ার দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন “আমরা তো ছোটো ব্যবসায়ী। বাজার যাচাই করতে মাত্র দুইটা নিয়ে এসেছি। আরও ছয়টা সংগ্রহে আছে।

“কিন্তু দাম তো অনেক কম। দুইটা বলে ১ হাজার ১০০ টাকা। আমরা তো ভাবছি দুইটা হবে দুই হাজার টাকার ওপরে।”

২০১৬-১৭ এর দিকে এমন একেকটা চামড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা করেও বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেন ইউসুফ।

তখন এক ফড়িয়া টিপ্পনি কেটে বলে উঠেন, “আমরাও ৫ হাজার টাকা করে কিনেছি।”

সন্ধ্যা ৬টার দিকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় কথা হয় রামপুরার আফতাবনগর থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা মো. শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে, তিনি দুটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন।

শিহাব উদ্দিন বলেন, “দাম কম মানে, অনেক কম। দাম যেখানে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল। সেখানে দাম দিচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা।”

বিক্রির জন্য ১৩২টি চামড়া এনেছেন তারা। বিক্রি করেছেন গড়ে ৫৮০ টাকা করে।

সরকারি মূল্যে বিক্রি করতে না পারায় সরকারেরও সমালোচনা করে শিহাব উদ্দিন বলেন, “সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই সরকার দিয়ে আমরা কী করব?”

তিনি দাবি করেন, এই দামে গরুর চামড়া বিক্রি করে স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকদের টাকা দিয়ে ‘আর কিছুই থাকবে না’।

সায়েন্সল্যাবে একসঙ্গে আড়াইশর মতো চামড়া কিনছিলেন নজির লেদার এক্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. নজির।

তিনি বলেন, “আমিসহ এখানে সবাই গড়ে ৫০ টাকা করে বর্গফুট কিনতেছি। লবণ ছাড়াই।

“এরপর লবণ দিমু। প্রতি ফুটে খরচ পড়ে যাইব আরও ১০ টাকা। ৬০ টাকা তাইলে পড়েই গেল। কিন্তু পরে দাম আমরা পামু কিনা জানি না।

যাচাই-বাছাইতে অনেক বাদ পড়ে যায় দাবি করে নজির বলেন, “লবণ দেওয়ার পর আবার বাছাই করতে হবে। কাটা হলে বাদ। করোনা (চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ ভাইরাসের কারণে) হলে বাদ।

“কিন্তু আমরা তো কিনতেছি গড়ে। সবাই টিভি দেখে দাম দিতেছে। আমরাও দিতেছি। কিন্তু সরকারি রেট আমরা পামু কিনা জানি না।”

তিনি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭০০টির মতো চামড়া সংগ্রহ করেছেন সায়েন্সল্যাব থেকে।

ঢাকার আরও তিন জায়গা থেকে একই হারে চামড়া সংগ্রহ করার কথা বলেছেন নজির।

তিনি বলেন, এসব চামড়ার কিছু তিনি হেমায়েতপুরে বিক্রি করবেন, আর কিছু নিজে রপ্তানি করবেন।

নজিরের সঙ্গে থাকা তার ছেলে বলছিলেন, গড়ে ৫৫০ টাকা ও ৬০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছেন তারা।

‘লাভের চিন্তা করছি না’

রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কাঁচাবাজার বাজারে আগের মতো সেই চাঙা ভাব না থাকলেও বেশকিছু দিন ধরেই ব্যস্ত যাচ্ছে সেখানকার আড়তদারদের। নানা টানাপড়নের মধ্যে হারানো সেই জৌলুস ফেরাতে চান তারা।

তবে পুরনো সুরেই কথা বলছিলেন তারা। ট্যানারি মালিকদের কাছে পুঁজি হারিয়ে আড়তদাররা প্রকাশ করেছেন নিজেদের বাড়তি মূল্যে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের অক্ষমতার কথা।

একই সঙ্গে তারা যে কেবল পুনোনো পৈত্রিক ব্যবসার ‘ঘানি টানছেন, লাভের আশা দেখছেন না’, তাও বললেন।

সন্ধ্যা ৭টায় পোস্তায় গিয়ে দেখা যায় ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে আসছেন ফড়িয়া, মাদ্রাসার প্রতিনিধি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

বাজার কেমন যাচ্ছে, এমন প্রশ্নে শাহাদাত অ্যান্ড কোম্পানির পরিচালক আজীজ বলছেন, “দাম কমই। আমরা কত দাম পাব জানি না।

“লাভের চিন্তা তাই করছি না। এখন কিনতেছি শুধু। পরে কী দাম পাই আল্লাহ জানেন। পরে দেখা যাইব।”

তিনি বলেন, “এখন কিনে লবণ দিচ্ছি। আমরা তিন দিন ধরে সংগ্রহ করব। ট্যানাররা এক সপ্তাহ পর থেকে আসতে শুরু করবেন।”

কত করে কিনছেন জানতে চাইলে বলেন, ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা করে। পরে লবণ ও শ্রমিকদের খরচ মিলিয়ে প্রতি চামড়ায় ১৫০ টাকা করে পড়ে।

বৃষ্টির জন্য চামড়ার মান খারাপ হওয়ার শঙ্কা আছে? জবাবে আজীজ বলেন, “আজ তো কেবল কোরবানি হল। আগের বৃষ্টিতে কিছু হবে না। লবণ দিলেই সব ‘ওকে’।”

তখনও একের পর এক পিকআপ ভ্যানে করে চামড়া আসছিল তার আড়তে। বললেন, “লক্ষ্য হচ্ছে ৪০০০-৫০০০ পিস কেনা।”

দাম নিয়ে একই সুর ফড়িয়াদের সমিতির নেতা মো. শামীমের। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেরও সমালোচনা করেন তিনি।

এর সঙ্গে ট্যানারি মালিকরা ‘টাকা মেরে দেন’ বলেও অভিযোগ তার। এছাড়াও সরকার থেকে লবণে ভর্তুকি দিলে বেশি দামে চামড়া কেনা যেত, বলেন তিনি।

চামড়া সংগ্রহকারীদের এ নেতা বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা হল কি জানেন, যে সরকার যে মাদ্রাসারে লবণটা দেয়, সে লবণটা আমাদেরকে দিক। মাদ্রাসাতো লবণ লাগায় না, মাল কিনে না, মাল মাগনা (বিনামূল্যে) পাইয়া মাগনা বেচে।

“তো তারে লবণটা কি দেওয়ার দরকার? লবণটা আমরা যদি মাগনা পাই, তাহলে আমরা ২০০ টাকা ১০০ টাকা বাড়ায়া চামড়াটা কিনতে পারবো। আমাদের কষ্ট কমবে, আমরা ওদেরকে দামটা দিতে পারব।”

লবণ ও শ্রমিক মিলে প্রতি চামড়ায় ৪০০ টাকা করে খরচ বলে দাবি তার।

শামীম বলেন, “১১০০ থেকে ১২০০ টাকা লবণের বস্তা। পাঁচটা থেকে ছয়টা মালে (চামড়া) এক বস্তা লবণ দিতে হয়। ২০০ তে ২২০ টাকা লবণ লাগে।

“এই একটা চামড়ায় লবণ দিতে ৬০ টাকা, মাল টানতে ১৫ টাকা, আড়তদারি ৫০ টাকা, আপনার মোট ৪০০ টাকা খরচ। মালটা কিনবেন কয় টাকা আপনি? এর মধ্যে বাদ আছে, কাটা আছে। আমরা যত বাইছা লই, তারপরও বাদ আছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ট্যানারির মালিকদের কাছে বেচি। আমাদেরতো মনে করেন টাকা মাইর খেতে খেতে, কোম্পানির মালিকরা টাকা না দিতে দিতে আমাদের পুঁজি হয়া গেছে ছোট।

“আমরা ধার-কর্জ নিয়া কোরবানির কামটা করি। অর্থাৎ ২ লাখ, অর্থাৎ ৪ লাখ, অর্থাৎ ৫ লাখ নিয়া এটা করি। যেহেতু চামড়ার সাথে জড়িত একটা সিজন, না করলেও বাইধ্য। ঘুমায়ে থাকলেও ‘উস-পিস’ লাগবে। তাই এই কামটা আমাদের করতেই হইবো।

তিনি বলেন, ঈদের দিন ৪০০-৬০০ চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। আর ঈদের দ্বিতীয় ২০০-৩০০ এবং তৃতীয় দিন ২০০-৩০০টি চামড়া কেনার কথা বলেন শামীম।

শুধু কোরবানির সময় নয় পোস্তায় সারা বছর রাজধানীতে জবাই হওয়া পশুর চামড়া আসে। কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও চামড়া আসে দৈনিক।

কাঁচা চামড়ার এসব ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের আবাসও পোস্তাসহ পুরান ঢাকার আশপাশের এলাকায়।

‘রপ্তানি বাজার মাথায় রেখে দাম’

ফড়িয়াদের নেতা মো. শামীম বলেন, “সরকার যে রেটটা দিছে, এই রেটটা আমাদের জনগণ বুঝতেছে আমাগোকে দিছে। কিন্তু সরকার এইটা ফরেন বাজার (রপ্তানি) ঠিক রাখবার জন্য দিছে।”

তার ভাষ্য, “চামড়া তো এইডি চলেনা। ভালো চামড়া চলে। কাটা চলবে না, দুই চারটা কাটা হলে চলবে। চারটা, পাঁচটা, ১০টা কাটা হইলে তো চলবে না।

“এখন সরকারেরটা (দাম) হইলো বিদেশি বাজারের হিসাব। যাতে বিদেশি বাজারে সমস্যা না হয়, এজন্য সরকার বাজারটা (চামড়ার দাম নির্ধারণ) দিছে।”

সরকার প্রকাশ্যে দাম কম বললে রপ্তানির বাজারে মুখ থুবড়ে পড়বে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমরা যদি কম দাম বলি, বিদেশের বাজারে সমস্যায় পড়ব।

“বিদেশি এরা, আমাদের গ্রাহকরা, আমাদের কম দাম লাগাবে। তখন চামড়ার বাজারে আরও ধস নামবে। এইটার জন্য সরকার, এইটারে বিদেশি বাজার ঠিক রাখার জন্য সরকার একটা নির্ধারণ করে দিছে। না হলে আসলে কিন্তু চামড়ার বাজারতো সেরকম না।”

আগামী ৩০ জুন শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) চামড়া রপ্তানি খাত থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। সবশেষ এপ্রিল মাসে বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়েছিল ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

তার আগের দুই বছরে ধস নেমেছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমেছিল ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে।

 

ট্যানারি মালিকরা ইচ্ছেমত দাম দেয়’

হাজী আব্দুর রাজ্জাক অ্যান্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শাহাব উদ্দীন অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকরা ‘ইচ্ছেমত’ দাম দেন।

একই সঙ্গে কাঁচা চামড়া কেনার পর বাছাইয়ে অনেক বাদ দেওয়ার কারণে দাম কমে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

শাহাব উদ্দীন বলেন, “মূল কথা হইল গিয়ে, মালের মধ্যে বাদ হয়ে যায় অনেক। এই যে লুকানো বাদ দেওয়ার ব্যাপার যেটা, এটা চামড়া কিনতে গিয়ে বুঝতে পারি না।

“যেগুলি বুঝি, চামড়াওয়ালারা যারা নিয়ে আসে, এরা বোঝে না। এইখানে সমস্যাটা হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, বাজারে ৫০০ থেকে ৭০০, ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে চামড়া কিনছে। ৫০০ টাকার চামড়া তারা নেন না। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে নিচ্ছেন।

চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ থাকার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ট্যানারি শিল্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে শাহাব উদ্দীন বলেন, “ওরা তো কোনো দাম বলে না। ওরা আমাদেরকে বিগত কয়েক বছর যাবৎ কোনোই দাম বলে না। ওদের ‘ইচ্ছামত’ দাম দেয়। এটা আমরা কোনো কিছু করেও পারিনি।

“আমাদের বলে একটা- এত পর্যন্ত। কিন্তু কেনার সময় দেখা যায়- যে আরও ১০ টাকা ২০ টাকা করে কম দাম দেয়। আর তো আপনার খরচ বেশি, কারণ একটা মালের মধ্যে ৪০০, ৪৫০ টাকা খরচ। তারপর বাদ দিলে গড়ে ৬০০ টাকার মত খরচ হয়ে যায়। কারণ ২০-৩০ শতাংশ বাদ দিয়ে দেয়।”

এরপর আর ‘লবণের টাকা ওঠে আসে না’ দাবি করে তিনি বলেন, “এক্কেবারে লবণের টাকা উঠে না।”

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতানও বললেন একই কথা।

নতুন মৌসুমি ব্যবসায়ী আসায় কাঁচা চামড়ার মান ও দাম দুই-ই সংকটে পড়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে এ ব্যবসা ‘পুরনোদের’ কাছে রাখার দাবি জানান তিনি।

সেক্ষেত্রে সহজে লবণপ্রাপ্তি, পুঁজির জন্য ঋণ সহায়তা এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে যে পাওনা আছে তা পেতে সরকারকে এগিয়ে আসার কথা বলেন টিপুর সুলতান।

তার ভাষ্য, “শুধুমাত্র পুরনো ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবসাটা না থাকলে এ খাত ধ্বংস হবে।”

কারো থেকে অর্থ সহায়তা না পেয়ে নিজেদের পুঁজিতে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে ধার-কর্জ করে এ ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

তিনি বলেন, “সেই পুঁজিও ট্যানারি মালিকদের কাছে আটকে আছে। এজন্য লবণ কিনে যে চামড়া সংরক্ষণ করব, বেশি দামে বেচব, রপ্তানি করব এটিও ‘চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে’।

 

 

পোস্তায় ঘুরে আড়তদাররা বেশিরভাগ চামড়া সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মূল্যে গড়ে কিনতে দেখা যায়। সর্বোচ্চ দাম ৮০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন দাম ৪০০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

 

বিটিএ নেতা যা বললেন

সাধারণত বড় আকারের গরুর চামড়া ৩১ থেকে ৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ২১ থেকে ৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া ১৬ থেকে ২০ বর্গফুটের হয়।

সে হিসাবে লবণযুক্ত ছোট আকারের একটি চামড়ার দাম ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর মাঝারি আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এবার চামড়ার দাম কম কেন, এ প্রশ্নে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অবস্থা—এ সবকিছুই কিন্তু যে কোনো বাজার দরের উপর নির্ভর করে। যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বই এখন টালমাটাল; থামবে থামবে বলেও থামছে না। এ অবস্থায় আমাদের রপ্তানি বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।”

তার দাবি, দেশে মূল্যস্ফীতি বেশি; ৯ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

“এবার কিন্তু দেখবেন, প্রচুর গরু বিক্রি না হয়ে ফেরত গেছে; ব্যবসায়ীরা হা-হুতাশ করছেন। তাদের নাকি অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার মনে হয়, এবার মানুষ আগের চেয়ে কম পশু কোরবানি দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ। নতুন সরকার আসলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।”

বিনিয়োগের খারাপ অবস্থা তুলে ধরে শাহীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে কখনও এত কম প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।”

“এ সবের প্রভাব চামড়ার দামের ক্ষেত্রেও পড়েছে বলে আমার মনে হয়।”

“আরেকটি কারণ আছে—সেটি হচ্ছে, রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগের লোকজনও (নেতা) কিন্তু এবারও কোরবানি দিতে পারেনি। এটাও কোরবানি কম হওয়ার কারণ বলে আমার মনে হয়,” বলেন শাহীন আহমেদ।

 

সতর্ক রয়েছে সরকার’

কোরবানির ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকার আমিন বাজারের চামড়া বিক্রয় কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রণালয়ে সংবাদিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, ‘সিন্ডিকেট’ বা চামড়ার অপচয় না ঘটে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে মন্ত্রী বলেছেন।

মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথাও বলেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়ার ক্রেতা ও বিক্রেতা, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাজার পরিস্থিতি, মূল্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এলএনজি ও পাইপলাইনে ভোলার গ্যাস সরবরাহের বড় পরিকল্পনা সরকারের

ঢাকার শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভোলার গ্যাস এলএনজি করে সরবরাহ করার কথা ভাবছে সরকার। দীর্ঘ মেয়াদে পাইপলাইন করে বরিশাল হয়ে ঢাকা বা খুলনা অঞ্চলে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। এলএনজি ও পাইপলাইন পদ্ধতিতে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল)। মঙ্গলবার এক বৈঠকে জিটিসএলকে দায়িত্ব দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।      দ্বীপজেলা ভোলায় রয়েছে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র। এর মধ্যে ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ কোটি ঘনফুট থাকলেও চাহিদা না থাকায় উত্তোলন করা হয় ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট। এখানে আরও ১৫টি কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে পেট্রোবাংলা। প্রস্তাবিত কূপগুলোর খনন শেষ হলে দৈনিক উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ কোটি ঘনফুট বাড়তে পারে। বর্তমানে ভোলায় গ্যাসের মজুত রয়েছে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এই মজুত আরও বাড়তে পারে। ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকটের সমাধান হিসেবে ভোলার গ্যাস কয়েক বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে। এই গ্যাস কীভাবে দেশের মূল গ্রিডে আনা হবে, তা নিয়েই চলছে টানাপোড়েন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমিত আকারে সিএনজিতে রূপান্তর করে ঢাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রচেষ্টা খুব বেশি এগোয়নি।      একদিকে এলএনজি আকারে গ্যাস পরিবহন, অন্যদিকে পাইপলাইনের দুটি রুট এখন আলোচনার টেবিলে। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার বিষয় সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম।       পাইপলাইন নিয়ে দুটি মত রয়েছে। একটি বরিশাল হয়ে সরাসরি ঢাকার আমিন বাজারে আসবে। অন্যটি বরিশাল হয়ে খুলনা যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়। সে সময় বরিশাল থেকে খুলনার চেয়ে ঢাকার গ্যাস নেওয়ার বিষয়ে বেশি জোর ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির পাশাপাশি ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে আনার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খুলনার রুটটি ফের আলোচনায়। এখন খুলনা হয়ে যশোর পর্যন্ত পাইপলাইন নেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে। তবে শিল্প মালিকদের দাবি, সবচেয়ে তীব্র গ্যাস সংকট যেহেতু ঢাকা-গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে, তাই ভোলার গ্যাসের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিল্পাঞ্চলের জন্য।     জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, ভোলার গ্যাস এখন শুধু একটি জেলার সম্পদ নয়। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। স্বল্প মেয়াদে এলএনজি পরিবহন কিছুটা স্বস্তি দিতে পারলেও দীর্ঘ মেয়াদে পাইপলাইন, স্থানীয় শিল্পায়ন এবং নতুন অনুসন্ধান– এই তিনটি উদ্যোগকে সমন্বয় করেই এগোনো উচিত।  এ ব্যাপারে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী সমকালকে বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার নানা উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকে।     এলএনজি ও পাইপলাইনে গ্যাস আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প-কারখানার মাধ্যমে বাড়তি গ্যাসকে কাজে লাগানো যায় কিনা, পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কোনো আলোচনাই এখনও চূড়ান্ত নয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।   ভোলার গুরুত্ব দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২৬০-২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও দিন দিন কমছে।   এক সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদনও দ্রুত কমছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিদিন ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা ৮০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।   খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের গ্যাস সংকট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ ও অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। একদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানিও চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো যাচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা থাকায় গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস একটি বড় সমাধান হতে পারে।    ১৯৯৫ সালে বাপেক্স ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে এবং ২০০৯ সালে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ভোলা নর্থ ও ইলিশা নামে আরও গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।   সাম্প্রতিক থ্রিডি সিসমিক জরিপে শাহবাজপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২ দশমিক ৪২৩ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চরফ্যাসন এলাকায় টুডি জরিপে আরও ২ দশমিক ৬৮৬ টিসিএফ গ্যাসের সম্ভাবনার তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন মূল্যায়নে ভোলার সম্ভাব্য মজুত পাঁচ থেকে আট টিসিএফ পর্যন্ত হতে পারে।   ব্যর্থ সিএনজি, ব্যয়বহুল এলএনজি আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকোকে সিএনজি আকারে ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার অনুমতি দেয়। প্রথমে দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট এবং পরে আড়াই কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। বাস্তবে দিনে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ৯ লাখ ঘনফুট গ্যাস পরিবহন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ আরও কমেছে। অতিরিক্ত ব্যয়, পরিবহন জটিলতা ও সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকল্পটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।   এই অবস্থায় সরকার নতুন পথ খোঁজে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তর করে জাহাজে মূল ভূখণ্ডে আনা হবে। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত বছর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। এফবিসিসিআই, বিজেএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈঠকের পর মতামতের জন্য ১৬০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। তবে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অল্প কয়েক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে।  তারা প্রতি ঘনমিটার ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছে। তবে গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এলএনজি করে ভোলার গ্যাস সরবরাহ করতে প্রতি ঘনমিটারের দাম ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা প্রস্তাব করে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, এত বেশি দামে গ্যাস কিনে প্রতিযোগিতামূলক শিল্প চালানো কঠিন হবে।    সূত্র জানিয়েছে, ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার বিষয়ে ৯টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। এখান থেকে গ্যাজপ্রম, সিসিডিসি, সিএমসিসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, ঢাকা-গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের তীব্র গ্যাস সংকটের স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে এলএনজির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পাইপলাইনের বিষয়ে কথা হয়েছে।    বিইআরসির সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বিদ্যমান শিল্পের জন্য পাইপলাইনের গ্যাস প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। তবে নতুন শিল্প ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই দাম ৪০ টাকা। আর ভোলা থেকে সিএনজি করে আনা গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা।    পাইপলাইনের রুট  দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল-খুলনা বা ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঢাকা-বরিশাল অংশের পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই আওয়ামী লীগের আমলেই সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারও ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন বিষয়ে আগ্রহী ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম ধাপে ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। এই গ্যাস যাবে খুলনার রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রে। যশোর, খুলনা ও বরিশালে আবাসিকে গ্যাস দেওয়া হবে। রূপসা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ যাবে সিরাজগঞ্জে। তখন সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রর গ্যাস এলেঙ্গা হয়ে চন্দ্রা, আশুলিয়ায় দেওয়া হবে। এরপর গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকলে বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা হবে।   ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস আনতে ২০২৩ সালে আনুমানিক এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের প্রস্তাব করেছিল জিটিসিএল। ঢাকার আমিনবাজার পর্যন্ত এই পাইপলাইনের মোট দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার । বরিশাল-ঢাকা অংশের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত গ্যাস নিতে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। শিল্প মালিকদের মতে ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলে গ্যাসের সংকট বেশি। তাই ভোলার গ্যাস এ অঞ্চলের জন্য বেশি প্রয়োজন। তার বলেন, খুলনায় শুধু ৮০০ মেগাওয়াটের রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া বড় কোনো শিল্প এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। তাই ঢাকার অগ্রাধিকার বেশি হওয়া উচিত।   স্থানীয় উন্নয়ন  অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভোলার গ্যাস আগে স্থানীয় উন্নয়নেই ব্যবহার করা উচিত। সরকারি অর্থায়নে সার কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং বিসিক শিল্পনগরী, শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেলটেক সিরামিক কারখানা চালু করেছে এবং প্রাণ-আরএফএল বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাস পরিবহনের বদলে ভোলাতেই সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিরামিক, কাচ, রাসায়নিক ও গ্যাসভিত্তিক ভারী শিল্প গড়ে তোলা হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন শিল্পবিপ্লব ঘটতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে ।

মারিয়া রহমান জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি, বিপৎসীমার ১ সেমি নিচে

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে ৫৭ বছর ছোট

ছবি: সংগৃহীত

প্রকল্পের সাশ্রয়ী অর্থ ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও

মতলব উত্তর থানা। ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না মায়ের

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় খাদিজা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠাতে গিয়ে ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি।   সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার তাতুয়া এলাকার বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত খাদিজা বেগম মতলব দক্ষিণ উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। একমাত্র ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।   সোমবার বিকেলে প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাতুয়া এলাকায় যান খাদিজা বেগম। ওষুধ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় একটি অটোরিকশায় ওঠার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি হাইস গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।   স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   প্রত্যক্ষদর্শী পথচারী সোহাগ হালদার বলেন, আমি ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলাম। ওই নারী অটোরিকশায় ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে একটি দ্রুতগতির হাইস গাড়ি এসে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি না থেমেই দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু তার আগেই তিনি মারা যান।   জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে নিহতের কপাল, গাল, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে জানা গেছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে এমপি নজরুলের ভিডিও আছে, দাবি ড্রাইভারের

ছবি: সংগৃহীত

নতুন ফুটেজে প্রশ্নের মুখে এমপির বক্তব্য, ‘নীলার বাড়ি’ বিতর্কে নতুন মোড়

হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

দেশি পেঁয়াজের তীব্র সংকট, ভারত থেকে আমদানির দাবি ব্যবসায়ীদের

ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, টেকনাফে মিয়ানমারের ৩ সেনাকর্মী আটক

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।     সোমবার দুপুরে নাফনদী পেরিয়ে অনুপ্রবেশকালে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।   আটক ব্যক্তিরা হলেন, হেউন ডে টে (৩৮), কিয়াও নাইং (৩৫) ও থেইন জও (৩৩)। তাদের মধ্যে হেউন ডে টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য এবং অপর দুজন দেশটির পুলিশ সদস্য। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও মংডু এলাকায়।      টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তিন মিয়ানমার নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।     তিনি আরও বলেন, তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ পাচারকারী আটক

ছবি: সংগৃহীত

সততা ও স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত: প্রকল্প শেষে ৬৪ লাখ টাকা ফেরত দিল আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল: এআই বলার পর ভাইরাল নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

0 Comments