বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬৩৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপানের বেসরকারি খাত। প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে—এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবির জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, উপজেলা গভর্ন্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে জাপান সরকার ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও উন্নয়ন সহযোগিতা ও অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, একটি প্রযুক্তিনগরী বা টেক সিটি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের তিন থেকে চারটি বিভাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুন কবির জানান, এসব প্রস্তাবের বিষয়ে জাপান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়েও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে জাপান বাংলাদেশের প্রতি টেকসই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধগুলোও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
জাপান সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনাকে ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আইজিপির বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত আইজিপির বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের অবস্থানের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সহ্য করবে না সরকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘মওলানা ভাসানী একজন আইকনিক ক্যারেক্টার। তার জীবন থেকে অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে। সেজন্যই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হয়েছে মওলানা ভাসানী।’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভাসানীর আদর্শ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। এই আদর্শকে তুলে ধরে বিএনপি এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য উনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। যথাসময়ে বই উৎসব হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০০২ সালের জানুয়ারিতে বই দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রেখেছিলাম ২০০৬ সাল পর্যন্ত। আবার আমরা এসেছি, যথাসময়ে এবার ২৭ যাবে না, ২৬-এর ভেতরেই বই বিতরণ হয়ে যাবে। বইয়ের যে কোয়ালিটি, সে কোয়ালিটির কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না। সুন্দর বই আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা ৪টি নতুন বই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করেছি। চতুর্থ শ্রেণিতে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা) এবং আমার কারিগরি শিক্ষা। সেই সঙ্গে জেলা শহরগুলোর জন্য কীভাবে ট্রাফিকের ব্যবস্থা শিখতে হয়, তা জানার জন্য আমরা অপশনাল বইও দিচ্ছি পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান প্রমুখ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলার উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর ঘিরে বিদ্যমান সংকটের ন্যায়সংগত, শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চেয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ঢাকায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পাকিস্তান হাইকমিশন আয়োজিত ‘কাশ্মীর ব্ল্যাক ডে’ পালন এবং কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সদস্য, পাকিস্তানের বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের বার্তা পাঠ করা হয়। তাঁদের বাণীতে ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবরকে জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন শ্রীনগরে ভারতীয় সেনা অবতরণের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের জনগণের দীর্ঘ দুর্ভোগের সূচনা হয়। পাকিস্তানের নেতারা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। এ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তাঁরা। বার্তায় ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক নেতা ও অধিকারকর্মীদের আটক রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে অঞ্চলটির বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। কাশ্মীরের জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাকিস্তানের নেতৃত্ব জানায়, কাশ্মীরের জনগণের প্রতি দেশটির নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে পাকিস্তান কাজ চালিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে কাশ্মীরের জনগণের দুর্ভোগ, কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ তুলে ধরে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।