অর্থনীতি

বৈদেশিক শ্রমবাজারে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হোক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জনশক্তি রফতানি ঘিরে বিদেশে এক ধরনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। এর মূলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নথি জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশগমন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে শুরু করে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইত্যাদির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে একের পর এক দেশ বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত, এমনকি বন্ধ ঘোষণা করার নজিরও রয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার বেদখল হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ এনে প্রায়ই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো। বিগত সময়ে ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করেছে প্রায় দুই বছর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও ২০২৪-এর জুলাই থেকেই ভিসা ইস্যু বন্ধ করেছে দেশটি। গত বছর কাতারও একই পথে হেঁটেছে।

এর পেছনে নানা কারণ থাকলেও জাল নথিপত্রের ব্যাপক ব্যবহার যে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ কম। এটাও অবৈধ অভিবাসনেরই একটা প্রক্রিয়া। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ স্পষ্টই জানিয়েছে জাল নথিপত্র দিয়ে ভিসা নেয়ার পথ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রক্রিয়া সহজ করবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের পেছনেও নানা রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে নানা সময়ে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের মিশন যৌথভাবে আহ্বান জানিয়েছিল যে জাল নথি ব্যবহারে শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা ও সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও রয়েছে, যা এরই মধ্যে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। একটি দূতাবাস একাই প্রায় ৩০০টি পর্যটন ভিসা আবেদনে একই ব্যাংকের জাল স্টেটমেন্ট শনাক্ত করেছে বলে জানা যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ প্রতারণা একটি সংগঠিত রূপ নিয়েছে। দালাল চক্র ও অননুমোদিত ভিসা এজেন্সির একটি বড় অংশ ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য পরিবর্তন করে, সাময়িকভাবে টাকা জমা দেখিয়ে কিংবা সম্পূর্ণ ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করে ভিসাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এ চক্র ভাঙতে না পারলে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকের বাজার টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে সময়োচিত। এ উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বাস্তবায়নের পথে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করা প্রয়োজন। প্রথমত, দেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেখানে এরই মধ্যে উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোয় কাজ করছে, সেখানে অনেক সরকারি ও ক্ষুদ্র ব্যাংক এখনো মৌলিক ডিজিটাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে। ৯০ দিনের মধ্যে সবার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কিউআর কোড চালুর যে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে তা বিদ্যমান বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তাছাড়া কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যাংকিং ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার তৈরি হলে সেখানে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও সংগত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে সাইবার নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হলেও সেটি কতটা এনক্রিপ্টেড ও সুরক্ষিত হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয়া হয়নি। অন্যদিকে প্রতিটি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। সুতরাং ভুয়া নথির মাধ্যমে ভিসা আবেদনের পথ বন্ধ করতে হলে পূর্বশর্ত হিসেবে এসব সমস্যার সমাধান অপরিহার্য। আবার কেবল কিউআর কোড থাকলে প্রতারণা বন্ধ হবে—এটা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায় না। কারণ যে চক্র বর্তমানে জাল স্টেটমেন্ট তৈরি করছে, তারা ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো পন্থাও অবলম্বন করতে পারে। তাই কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান যথেষ্ট নয়, আইনি প্রতিকারও জরুরি।

এসব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে একটি কেন্দ্রীয় যাচাই-বাছাই সার্ভার (সেন্ট্রালাইজড ভেরিফিকেশন পোর্টাল) তৈরি করা, যেখানে সব ব্যাংক তাদের নথির তথ্য একীভূত করবে। এতে প্রতিটি ব্যাংকের আলাদা সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না এবং বিনিয়োগও সাশ্রয়ী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বাংলা কিউআর কোড নিয়ে কাজ করছে এবং জুলাই থেকে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে—এ অবকাঠামো কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারে যুক্ত দালাল ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কঠোর করতে হবে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি না হলে প্রযুক্তিগত সমাধান কেবল সাময়িক সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার একদিনে সম্ভব নয়, কিন্তু এ পথে ধীরে ধীরে এগোনো প্রয়োজন। কিউআর কোডের নির্দেশনা সেই পথে একটি ধাপ হতে পারে, যদি বাস্তবায়ন করা যায়। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো তৎপর হতে হবে এবং সরকারকেও এদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
দেশে তিন মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৭৮ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে এফডিআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়।   সোমবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের মতে, এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত যে, বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করছেন এবং সেই মুনাফা আবার এ দেশেই বিনিয়োগ করছেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত প্রান্তিকে নিট ইকুইটি মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ কম। এর কারণ হিসেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলেছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।   অন্যদিকে নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫.১৭ শতাংশ কমে ৮.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩৩.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণপ্রবাহ এলেও বিদ্যমান ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধ হওয়ায় নিট ঋণপ্রবাহ কমেছে।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন। এপ্রিল-জুন ২০২৬ প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকের ০.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব রক্ষণশীল থাকায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশে যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছি, যাতে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি আমাদের ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।   অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করা সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রচি আরও বলেন, ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এখন এর উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে কী কী কাজ হয়েছে, আর কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন, তা আমরা জানিয়েছি। সামনে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত জানাব। আমরা চাই, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ নিক।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

ছবি: সংগৃহীত

ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ার কারসাজির অভিযোগ তদন্তে বিএসইসির কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষ ১০ ব্যাংক, প্রথম প্রান্তিকে কারা এগিয়ে?

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রবাসী আয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক; আর কৃষি ব্যাংক গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এই দুটি ব্যাংক গত অর্থবছর শেষেও প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও সেই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক দুটি।   প্রবাসী আয়–সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করেছে প্রথম আলো। তাতে দেখা যায়, তালিকায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।]   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় আহরণকারী দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ২টি সরকারি মালিকানাধীন আর বাকি ৮টি বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এই ১০ ব্যাংক মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এনেছে প্রায় ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তার দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৬৮ শতাংশই এসেছে ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে।   এবার জেনে নিন চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের কারা কত প্রবাসী আয় দেশে আনল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।   তালিকায় নতুন যেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন দুটি ব্যাংক জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ দশের তালিকায়। নতুন যুক্ত হওয়া ব্যাংক দুটি হলো ঢাকা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই দুটি ব্যাংক নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় গত অর্থবছর শেষের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দুটি। বাদ পড়া ব্যাংক দুটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।   গত অর্থবছর শেষে যে ১০টি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এনেছিল, সেই তালিকায়ও শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কৃষি ব্যাংক, তৃতীয় অবস্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, চতুর্থ অবস্থানে ট্রাস্ট ব্যাংক, পঞ্চম অগ্রণী ব্যাংক; আর ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে জনতা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসে শীর্ষ দশের তালিকায় কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থানের বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অবস্থান বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংক এবারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে; আর তাতে গত অর্থবছরের অষ্টম অবস্থান থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। আর গত বছর শেষের নবম অবস্থান থেকে এবার দশম অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।   এবার জেনে নিন গত অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় আহরণে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় কারা ছিল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।   গত অর্থবছর শেষে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। যার মধ্যে উল্লিখিত ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছিল মোট প্রবাসী আয়ের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৭১ শতাংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কাছে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

দেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সংগৃহীত ছবি
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৪ টাকা।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।   এর আগে গত সোমবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬২ দফা কমানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ দফা দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ দফা কমানো হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবাসন খাত থমকালেই সংকটে পড়বে যেসব শিল্প

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশ-ভারতের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

শিল্পের অবস্থান ও ঘনত্ব জানতে মানচিত্র তৈরি করছে বিবিএস

0 Comments