সারাদেশ

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে সাব্বির জামান। একইসঙ্গে গত ১৭ বছর ধরে যে ধরনের পরিস্থিতি চলে এসেছে, এখনো সেই একই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

সাব্বির জামান বলেন, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিপক্ষে আওয়াজ তোলায় সরকার আমাদের এভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। এটা আমরা আগেও দেখেছি। গত ১৭ বছর একই প্রোগ্রামে চলেছে। এখনো আবার সেই একই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে।

বাবার ফেসবুকে গেলে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন উল্লেখ করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছোট ছেলে বলেন, আমাদের ফেসবুকে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন। আমাদের ফেসবুকে উনার গতকালের লাইভগুলো আছে। আপনারা সেগুলো দেখে জাজ করেন। এখানে উনি কি অন্যায় করেছেন নাকি এটা কাম্য ছিল?

এর আগে, গতকাল মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা। তিনি বিএনপির মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে নিজের ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দেশবাসী। সবাই ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু আপনাদের সবাইকে জানিয়ে গেলাম। দোয়া করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেন জনগণের জন্য দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শহীদ হতে পারি। আল্লাহ যেন আমার এই দাবি কবুল করেন। আহ্বান কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি থাকবো আজীবন থাকবো। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন জনগণের পাশে থাকবো, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করব। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হয়। ওই ফ্লাইটে ছিলেন আখতারুজ্জামান। ঢাকায় বিমানবন্দরে নেমে ওই ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘বাজে’ আচরণ শুরু করেন তিনি। তিনি বিমানমন্ত্রীর নাম ধরেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব, ঘাড় ধরে বের করে দিব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মার খাইতে চান?’ তবে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এদিকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দরের মতো এলাকায় দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন অশোভন আচরণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই গতকাল বিমানবন্দর থানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব মামলা করেন। মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দেখতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে সাব্বির জামান। একইসঙ্গে গত ১৭ বছর ধরে যে ধরনের পরিস্থিতি চলে এসেছে, এখনো সেই একই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।  সাব্বির জামান বলেন, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিপক্ষে আওয়াজ তোলায় সরকার আমাদের এভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। এটা আমরা আগেও দেখেছি। গত ১৭ বছর একই প্রোগ্রামে চলেছে। এখনো আবার সেই একই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। বাবার ফেসবুকে গেলে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন উল্লেখ করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছোট ছেলে বলেন, আমাদের ফেসবুকে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন। আমাদের ফেসবুকে উনার গতকালের লাইভগুলো আছে। আপনারা সেগুলো দেখে জাজ করেন। এখানে উনি কি অন্যায় করেছেন নাকি এটা কাম্য ছিল? এর আগে, গতকাল মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। জানা যায়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা। তিনি বিএনপির মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি। এদিকে গ্রেপ্তারের আগে নিজের ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দেশবাসী। সবাই ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু আপনাদের সবাইকে জানিয়ে গেলাম। দোয়া করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেন জনগণের জন্য দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শহীদ হতে পারি। আল্লাহ যেন আমার এই দাবি কবুল করেন। আহ্বান কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি থাকবো আজীবন থাকবো। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন জনগণের পাশে থাকবো, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করব। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।’ এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হয়। ওই ফ্লাইটে ছিলেন আখতারুজ্জামান। ঢাকায় বিমানবন্দরে নেমে ওই ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘বাজে’ আচরণ শুরু করেন তিনি। তিনি বিমানমন্ত্রীর নাম ধরেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব, ঘাড় ধরে বের করে দিব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মার খাইতে চান?’ তবে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এদিকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দরের মতো এলাকায় দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন অশোভন আচরণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই গতকাল বিমানবন্দর থানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব মামলা করেন। মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন। মামলার বিবরণ ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দেখতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

থানায় ৮ চোরের সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রেপ্তার আরও ২ চোর

ছবি: সংগৃহীত

মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে: রফিকুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতু যেভাবে বদলে দিলো মোংলা বন্দরের রফতানি চিত্র

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে পাঠানোর নামে অফিস খুলে প্রতারণা দম্পতির, এখন প্রতিবেশী দেশে তারা

জিসান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন এক দম্পতি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খুলনায় কার্যালয় স্থাপন করে সার্বিয়া ও ডেনমার্কে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়।   আস্থা অর্জনের কৌশল হিসেবে ভুয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র এবং নকল ভিসার কাগজপত্র দেওয়া হতো। এমনকি চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে প্রশিক্ষণের নামে সাজানো কার্যক্রমও পরিচালনা করতেন তারা। এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার অন্তত অর্ধশত তরুণ সর্বস্ব হারিয়েছেন।   ওই প্রতারকের নাম মোহাম্মদ ফিরোজ রাশেদ ওরফে জিসান। তার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞায়। প্রধান সহযোগী হিসাবে জড়িত ছিলেন তার স্ত্রী শিলা খানম। তারা খুলনা নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে ডাচ-বাংলা ভবনের উপরে অফিস খুলে প্রতারণা করেন। গত ৭ আগস্ট ওই দম্পতি সেই অফিস গুটিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।   নগরীর নতুন রাস্তা এলাকার বাসিন্দা ও প্রাইভেটকার চালক আরমান জানান, ‘খুব কম সময়ে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তিতে জিসানের স্ত্রী শিলা নতুন রাস্তা মোড়ে এসে আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যান। পরে আমাদের হাতে যে ভিসা ও ম্যানপাওয়ারের কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়, তা পুরোটাই ভুয়া ও জাল প্রমাণিত হয়।’ আরেক ভুক্তভোগী হাসানুর রহমান বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে প্রায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমাদের সার্বিয়ার জাল ভিসা ও এয়ার টিকিট দেওয়া হয়। ফ্লাইটের আগের দিন তারা পালিয়েছেন। পরে ঢাকায় গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে খুলনায় ফিরে আসি। এসে শুনি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৫০ যুবকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে কেটে পড়েছে এই দম্পতি।   শেখপাড়ার বাসিন্দা কুমকুম বেগম জানান, আমার বাসার পাশেই ওদের অফিস ছিল। বিশ্বাস করে স্বামীকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ডেনমার্ক পাঠানোর চুক্তি করি। কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জিসানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জিসান ইতোমধ্যে ভারতে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী শিলা খানম ৭ আগস্ট অবৈধ পথে ভারতে পালানোর সময় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে আটক হন। তার বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।   সূত্র জানায়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জিসান দালালদের মাধ্যমে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তবে আটক হন তার স্ত্রী শিলা। পরে স্থানীয় নেতা ও পুলিশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। বাকি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাড়া পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। একাধিকবার জিসান ও শিলার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম পান্না জানান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি আমলী আদালতে জিসান ও শিলার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি এজাহার হিসাবে নেওয়ার জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে জিসান ট্রাভেলসের মালিক দম্পতির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রিজভীর শোকবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সংগৃহীত ছবি

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

সংগৃহীত ছবি
কারিগরি শিক্ষানির্ভর শিক্ষানীতি জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন : এমপি মনিরুল হক

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কারিগরি শিক্ষানির্ভর শিক্ষানীতি জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। আজকের নতুন প্রজন্ম একেকটি আগুনের গোলা। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ একদিন সব ক্ষেত্রে বিশ্বে অনন্য স্থান করে নেবে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী নভেম্বরে ‘দি এডুকেশন পলিসি কুমিল্লা কনসেপ্ট’ নিয়ে আমরা পুরো কুমিল্লাবাসী একত্রিত হবো। যেখানে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে কারিগরি শিক্ষা পদ্ধতি।   এ সময় তিনি মেলায় প্রদর্শিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।   শিক্ষার্থীদের নতুন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি কোর্স চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।   কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুলতানা রাজিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।   অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ (নোট পেপার) উপস্থাপন করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক (উপসচিব) কাজী ফারুক আহম্মেদ। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান আমির।   অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্তার হোসেন, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ধামরাইয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত ট্রেনের দুই বগিতে আগুন

নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গ। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদী সদরে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত, আহত ২

0 Comments