সারাদেশ

আরাকান আর্মির অপহরণে জেলে পরিবারগুলোতে হাহাকার

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সমুদ্রের ডাক শুনে বড় হয়েছেন মোহাম্মদ ইলিয়াস মাঝি। শৈশবে কবে প্রথম নৌকায় ভেসে দরিয়ায় গিয়েছিলেন, চল্লিশোর্ধ ইলিয়াস মনেও করতে পারেন না। দরিয়ার ভয় বলতে ছিল শুধু তুফান। সেটা মোকাবিলা করে বেশ কয়েকবার জীবন নিয়ে ঘরেও ফিরেছেন।

 

পোড় খাওয়া সেই ইলিয়াসের কাছে এখন দরিয়ায় তুফানের চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আরাকান আর্মি। যখন-তখন কোনো কারণ ছাড়াই সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের জেলেদের নৌকাসহ অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

ছয় মাসের বেশি সময় আরাকান আর্মির হাতে বন্দি থাকার পর বাড়ি ফিরতে পারা সুঠাম দেহের ইলিয়াস শরীরের চামড়া টেনে টেনে দাগ দেখিয়ে বিভীষিকার সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হাড় আর চামড়া নিয়ে ফিরে আসছি। গোসত ছিল না। নির্যাতন করে আমার দুইটা দাঁত ভেঙে দিছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ পরীর দ্বীপের সৈকতে দাঁড়িয়ে ইলিয়াস মাঝি যখন কথা বলছিলেন, তখন পাশে তার দুই ছেলেও ছিল। তাদেরকেও বাবার সঙ্গে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল আরাকান আর্মি।

চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি তারা ছাড়া পেয়ে ফিরে আসেন। সন্তানসহ কেন তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এখনও তা স্পষ্ট না তার কাছে। ধরে নিয়ে যাওয়ার সেই দিনের কথা বলছিলেন ইলিয়াস মাঝি। ঋণ করেই নতুন একটি ট্রলার তৈরি করেছিলেন। দুই ছেলেকে নিয়ে সেই ট্রলারে করে গিয়েছিলেন নাফ নদীতে মাছ ধরতে।

বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, সে কারণে মাছ ধরতে গেলে সবসময় সতর্ক থাকতেন ইলিয়াস। সেদিনও সতর্ক ছিলেন। বাংলাদেশের জলসীমাতেই মাছ ধরছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের অংশেই ছিলাম, আরাকান সীমান্তে ঢুকিনি। কিন্তু আরাকান আর্মি স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করল। তাদের স্পিডবোট আর আমার ট্রলার। পালানোর তো সুযোগ নাই। অস্ত্রের মুখে দুই ছেলেসহ আমাদের চারজনকে ধরে নিয়ে গেল।”

“দীর্ঘ ছয় মাস আরাকান আর্মির হাতে ছিলাম। আমি একা না, আরও অনেকে আছে। ওখানে খাওয়া-দাওয়া বেশি কষ্টের। দিনরাতে শুধু এক বেলা খাওয়া জোটে কপালে। আমার দুই ছেলের কষ্ট দেখে মনকে ধরে রাখতে পারতাম না। নির্যাতনে আমার দুইটা দাঁত পড়ে গেছে।”

ইলিয়াস মাঝি বলেন, তিনি ও তার দুই ছেলে ফিরে এসেছেন। কিন্তু তার ট্রলারটি ফেরত দেয়নি আরাকান আর্মি। অনেক ঋণ করে তিনি ট্রলারটি তৈরি করেছিলেন।

তাদের কেন ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখল, কেন নির্যাতন করল কিংবা কেনইবা ছেড়ে দিল—তা স্পষ্ট নয় ইলিয়াস মাঝির কাছে।

এখন একদিকে পরিবারের দায়, অন্যদিকে ঋণ শোধের চাপ। এই দুই চাপ সামাল দিতে তাকে আবার সেই বিপদ মাথায় নিয়ে সমুদ্রে নামতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা অসহায়। মাছ ধরার কাজ ছাড়া আর কিছু পারি না। এটা ছাড়া পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব না।

ভয় লাগে না? আবার যদি আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়?

প্রশ্ন শুনে ইলিয়াস বলেন, ভয় পেলেতো পেটে ভাত জুটত না। নিয়ে গেলে আর কী করা! কতজনকেই তো নিয়ে যাচ্ছে। সবাইতো ফিরছেও না।

 

চারজন ফিরলেও আমান ফেরেননি

মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অংশটি রাখাইন রাজ্য। যুদ্ধে জর্জরিত এ রাজ্যের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে আরাকান আর্মি।

সশস্ত্র এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বাংলাদেশি জেলে অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে।

এর মধ্যে দুটি নৌকা থেকে ১২ মার্চ তিনজন এবং ১৭ মার্চ আরও চারজনকে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নদীর মোহনা থেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাষ্য।

ধরে নিয়ে যাওয়া অনেক জেলেকে মুক্তিও দিয়েছে তারা। জেলেদের ভাষ্য, শুরুর দিকে যাদের ধরে নেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।

সেসময় অপহৃত ট্রলারও ফেরত দিত আরাকান আর্মি। কিন্তু এখন জেলে-মাঝি ফিরে এলেও মাছ ধরার ট্রলার কিংবা মালামাল ফেরত দিচ্ছে না। ট্রলার ভর্তি মাছ মিয়ানমারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত কতজন জেলে অপহৃত হয়েছেন, কতজন ফিরে এসেছেন, কতজন এখনও আটক আছেন—তার কোনো সরকারি হিসাব নেই।

তবে জেলে সমিতি ও ট্রলার মালিক সমিতির ধারণা, আরাকান আর্মির হাতে আটক থাকা জেলের সংখ্যা দেড়শর কাছাকাছি হবে।

এক জেলে আমান উল্লাহ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ। তার পরিবার এখনো জানে না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।

একই অবস্থা বহু পরিবারের। কেউ জানেন না স্বজন ফিরবেন কি না।

টেকনাফের বিভিন্ন জেলে পাড়ায় এখন ঘরে ঘরে কান্না। পরিবারগুলো সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে, শুধু একটাই অপেক্ষা—কে কখন ফিরে আসে।

কিন্তু অনেকেই আর ফিরছেন না। কেউ জীবিত, কেউ বা নিখোঁজ—এই অনিশ্চয়তাই এখন নাফ নদী ও উপকূলজুড়ে ভয়াবহ বাস্তবতা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কুলখানি তবারক নিতে গিয়ে পদদলিত: শিশুসহ ১৫ জন আহত

নরসিংদীর মাধবদীতে একটি কুলখানি অনুষ্ঠানে তবারক নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।   শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার মাধবদী থানার ভগিরথপুর গ্রামের হাজী লাল মিয়া মোল্লা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—আব্দুল মান্নান (৬০), আফাজ উদ্দিন (৫৫), কাদির মিয়া (৩০), সুমন আহমেদ (২৫), জাকারিয়া (১৫) ও ইব্রাহিম (৫)। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল মোমেন মোল্লার প্রয়াত পিতা লাল মিয়া মোল্লার কুলখানি উপলক্ষে এই ভোজের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজের আগেই ভগিরথপুর ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে জড়ো হন। নামাজের পর বিদ্যালয়ের ফটক খুলে দেওয়া হলে ভেতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে নিচে পড়ে যান এবং পদদলিত হয়ে ১৫ জন আহত হন। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশান আরা কবির জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার বলেন, ভগিরথপুর হাজী লাল মিয়া মোল্লা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কুলখানি অনুষ্ঠানের জন্য কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। পদদলিত হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা আমার জানা নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আরাকান আর্মির অপহরণে জেলে পরিবারগুলোতে হাহাকার

ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে মাইন ও আইইডি উদ্ধার

বগুড়ায় জামায়াত আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সভায় বক্তব্যে দেন অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন।

বগুড়া-৬ সদর আসনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জামায়াতের

সংগৃহীত ছবি
চা-শ্রমিকরা দেশের সম্পদ, তাদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি : ডিসি জাহিদ

  চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ‘নতুন চা-বাগান’-এ চা-শ্রমিকদের জন্য নির্মিত নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চা-শ্রমিকদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক চা-শ্রমিকদের ‘চা-বাগানের প্রাণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উৎস খুব বেশি নয়। প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চা রপ্তানির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যেখানে চা-শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সরকার আপনাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সেই বিবেচনা থেকেই চা-শ্রমিকদের জন্য ঘরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।” অনুষ্ঠানে ৮টি নবনির্মিত ঘরের চাবি শ্রমিক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের মধ্যে উপহার সামগ্রী এবং ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১০০ জন চা-শ্রমিকের মধ্যে পোশাক বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা একটি নতুন, নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমিকদের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের পূর্বপুরুষরা যেমন এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তেমনি আপনারাও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এখনও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। এ কারণেই সরকার আপনাদের জন্য ঘর প্রদান করেছে।” চা-শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা নিজেদের উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন।” জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণ। প্রতিটি মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো জরুরি। সরকার চা-শ্রমিকদের সুস্থ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি ইতিমধ্যে চালু রয়েছে। এছাড়া নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে, যা জীবনমান উন্নয়ন ও সন্তানের শিক্ষায় ব্যয় করা যাবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি একটি কৃষ্ণচূড়া ও একটি রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া চা-শ্রমিকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ব সংকটে বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান যত উন্নত হবে এবং চা রপ্তানি যত বাড়বে, দেশের উন্নয়ন তত ত্বরান্বিত হবে। চা-শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজন সরাসরি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন আর কেউ কারো থেকে দূরে নয়। আপনারা সহজেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।” অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্য এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন প্রমুখ।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
বহিষ্কৃত নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ। ছবি : সংগৃহীত

যুবদলের এক নেতা বহিষ্কার

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে নোটিশ জারি, না মানলেই শাস্তি

সংগৃহীত ছবি

ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

ছবি : সংগৃহীত
বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান, এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবাকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি বিয়ের জন্য রান্না খাবার জব্দ করে এতিমখানায় পাঠিয়েছে প্রশাসন।   শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে কসবা পৌরশহরের বগাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বগাবাড়ি এলাকায় এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে উপজেলা প্রশাসন। পরে কসবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জন্মসনদ অনুযায়ী ওই কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৬ মাস এবং সে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী তদন্তে বের হয়ে আসে। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করে।   এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিনি মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দেন। এছাড়া অভিযানকালে বিয়ের জন্য প্রস্তুত খাবার জব্দ করে স্থানীয় আড়াইবাড়ী এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।   এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার মো. তানজিল কবির বলেন, বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি একটি মেয়ের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রশাসন এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কৃষকের ছদ্মবেশে অভিযান, ডাকাত গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

সাজা এড়াতে ৬ বছর পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

সিদ্ধিরগঞ্জে ১৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

0 Comments