ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নাম লেখালেন ভারতের স্পিনার শ্রী চারানি। দুই সপ্তাহ আগে ভারতের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৮০০ রেটিং পয়েন্টের মাইলফলক ছোঁয়া এই বাঁহাতি স্পিনার এবার গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টের মালিক এখন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারী ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেখানে টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন চারানি। সর্বশেষ হালনাগাদে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ১৮। ২২ বছর বয়সি এই স্পিনারের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৮১৭।
এর আগে টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শুটের দখলে। তার সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৮০৬। শুটকে ছাড়িয়ে এবার নতুন রেকর্ড গড়লেন চারানি।
চারানি ও শুটের বাইরে মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে আর মাত্র একজন বোলার ৮০০ রেটিং পয়েন্টের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোনের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৮০২।
সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন চারানি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ১৩ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন তিনি। পুরো আসরে তিন ম্যাচ খেলে তার শিকার ৮ উইকেট।
টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে চারানির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের দীপ্তি শার্মা। ফাইনালে ৩ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারের রেটিং পয়েন্ট ৭৫৪। ৭২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের সোফি এক্লেস্টোন।
এদিকে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচে উঠে এসেছেন ভারতের স্মৃতি মান্ধানা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ৭৯ রানের ইনিংস খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছেন।
ব্যাটারদের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। আর অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড ১৮২ রানের ইনিংস খেলে ব্যাটারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছেন ম্যাথিউস। ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষে রয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। বোলারদের তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালানা কিং এবং অলরাউন্ডারদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন অ্যাশলি গার্ডনার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ, গ্যালারিতে উপচে পড়া ভিড়। তবে এশিয়ান গেমসের হকি সেমিফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। মাঠে যখন চলছিল টানটান উত্তেজনা, তখন গ্যালারির বড় একটি অংশ ছিল প্রায় ফাঁকা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় ভারত। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দর্শকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ভারতীয় দলের খেলার সময় গ্যালারির এক অংশে কয়েকজন সমর্থককে দেখা গেলেও পাকিস্তানের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। দুই দেশের হকি লড়াইয়ে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি তৈয়ব ইকরাম। প্রেসবক্সের পাশে ভিআইপি লাউঞ্জে কথা বলার সময় গ্যালারির অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যালারি এক পাশ ভরেছে আরেক পাশ খালি।’ তবে গ্যালারির যে অংশে লোকজন ছিলেন, তাঁদের বড় একটি অংশ ছিলেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড় এবং এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, গ্যালারির আরেক অংশে ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ভারতের কয়েকজন সাংবাদিকের ভাষ্য, ভারত-পাকিস্তান হকির ম্যাচে এত কম দর্শক তাঁরা আগে দেখেননি। তাঁদের মতে, শহর থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব বেশি হওয়ায় দর্শকদের উপস্থিতি কম হতে পারে। মাঠে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে ভারতের জয় একসময় বিশ্ব হকিতে দাপট দেখানো পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এবারের সেমিফাইনালে দুই দলই দারুণ লড়াই উপহার দেয়। ম্যাচের শুরুতে ভারত ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলেও ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে ৩-৩ সমতা ফেরায় দলটি। শেষ পর্যন্ত খেলা শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড আগে অভিষেকের গোলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ৪-৩ ব্যবধানের এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। মাঠের লড়াইয়ে উত্তেজনা, প্রত্যাবর্তন আর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—সবই ছিল। কিন্তু এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচেও গ্যালারির বড় অংশ ফাঁকা থাকায় দর্শক উপস্থিতির বিষয়টি আলাদা করে আলোচনায় এসেছে।
এখনকার ফুটবল প্রজন্মের কাছে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল খুব একটা পরিচিত না। বার্সেলোনা, ম্যানইউ, চেলসি সম্পর্কে এখনকার প্রজন্ম যতটা নিখুঁত তথ্য দিতে পারে ততটা দিতে পারবে না ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অনেক শক্তিশালী। তাদের ফুটবলের সোনালি অধ্যায় আছে। সেটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো না। বাংলাদেশের ঘরে সাফের ট্রফি, সাফ গেমসের ট্রফি, মিয়ানমারে টুর্নামেন্ট জয়ের ট্রফি রয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলে আছে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। আছে অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক আছে। পাঁচবার এশিয়ান কাপে খেলেছে। আছে অনেক ট্রফি। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের সেই ইতিহাস অনেক লম্বা। বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কটাও দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ তখন নিয়মিত মারদেকা কাপ ফুটবলে খেলছে, মালয়েশিয়ায়। এখনকার ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলও বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী। ফিফার র্যাংকিংয়েও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলাররা ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলছে। ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারও রয়েছে এই দলে। খেলবে নিজেদের মাঠে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে। দুই ম্যাচ হেরেছে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। হারলেও ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ছিল সমালোচিত। একজন হামজা চৌধুরী ছাড়া পুরো দলের খেলা ছিল হতাশজনক। তার ওপর বাংলাদেশ দলের আমেরিকান কোচ থমাস ডুলির গেম প্ল্যান পদে পদে সমালোচিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টা কর্নার পেয়েও গোল করতে পারেনি। একটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত। সেটপিস নিয়ে কাজ করেছেন কোচ। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটা ম্যাচের পরই কোচ সমস্যা দূর করতে মাথা ঘামিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলাররা কখনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। সবকিছু ভুলে গিয়ে আজ নতুন করে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুতি নিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জাকার্তার স্টেডিয়ামে দর্শক খুব একটা ছিল না। পুরোটাই ফাঁকা ছিল বলা যায়। কিন্তু আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই স্টেডিয়ামের ছবি বদলে যাবে। স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলা। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যেমনই হোক, লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। জামাল ভূঁইয়ারা সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল অনুশীলনে নেমে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন তারা গেম প্ল্যান করছেন। ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচগুলো ভালোভাবে দেখেছেন কোচিং স্টাফ। কোথায় কোথায় ভুল করতে পারে সেগুলো খুঁজে নিয়েছেন কোচ। ইন্দোনেশিয়া যত শক্তিশালী হোক। আজ বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যাচ জেতা। মানসিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেক বেশি চাঙ্গা। অনেক বেশি ক্ষুধার্থ। তারা বিশ্বাস করে ম্যাচ জয়ের লড়াই হবে। লড়াই হবে ইতিহাসের। পেছনের গল্প ভুলে গিয়ে নতুন ইতিহাস করতে জীবনবাজি রাখতেও প্রস্তুত বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ২০২২ সালে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। সাতবারের মুখোমুখিতে জয় আছে এক বার, ৮৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ গোলে।
গুয়াহাটিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড। বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রেকর্ডের বৃষ্টি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একগাদা রেকর্ড গড়ে ৮১১ রানের ম্যাচে ভারতকে জিতিয়েছেন শুবমান গিল। বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের তিন সেঞ্চুরিয়ানের সৌজন্যে ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০৫ রান করেছিল। এই রানকেও ছেলেখেলা বানিয়ে ভারত মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৯ বল হাতে রেখে জিতে গেল। ৮ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে নিশ্চিত করে ফেলল স্বাগতিকরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ, আমির জাঙ্গু সেঞ্চুরি করেন। তাতে ৭ উইকেটে চারশ পার করে ক্যারিবিয়ানরা। এনিয়ে তৃতীয়বার চারশ রান দিয়েছিল ভারত। কিন্তু যেমন শুরু দরকার, তেমনই করে তারা। ৭০ বলে দলীয় স্কোর ১০০, ১৩০ বলে দুইশ, আর ১৭৮ বলে তিনশ! গিল ও রোহিত শর্মা ওপেনিংয়ে ২৫৫ রানের জুটি গড়ে দেন। ৭২ বলে সেঞ্চুরি করার তিন বল পর বিদায় নেন রোহিত। তার ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১০ চার ও ৬ ছয়। নির্ভার থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে বিরাট কোহলি ১৯ বলে ২৯ রান করে ফিরে যান। ততক্ষণে ৩২০ রান স্কোরবোর্ডে। হেসেখেলে জিতে যাওয়ার কথা। তবে চ্যালেঞ্জ ছিল গিল দুইশ করতে পারেন কি না। সেটা তিনি করেছেন মাত্র ১১৭ বল খেলে। ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির পর ২২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ভারতের অধিনায়ক। ৬২ বলে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার রান তাড়ায় নেমে সর্বোচ্চ ইনিংসও খেলেন ডানহাতি ব্যাটার। ১৩৩ বলে ২২৩ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২৬ চার ও ৮ ছয়। জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর সময় গিলের সঙ্গী ছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। ৩১ রানে খেলছিলেন তিনি। ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রান করে ভারত। এর আগে কখনও এত রান তাড়া করে জিততে সফল হয়নি ভারত। সর্বোচ্চ ৩৬০ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়েছিল। এবার সেটা ছাপিয়ে গেল। এনিয়ে দ্বিতীয়বার চারশর বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনা ঘটল। ২০০৬ সালে শেষবার ওয়ান্ডারার্সে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৮ রান করেছিল।