দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত সিরিজের সুবাদে আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন বিরাট কোহলি। সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে বিশ্বের দুই নম্বর ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। শীর্ষস্থান দখল করে থাকা সতীর্থ রোহিত শর্মার সঙ্গে কোহলির ব্যবধান এখন মাত্র ৮ রেটিং পয়েন্ট।
তিন ম্যাচের সিরিজে ব্যাট হাতে একেবারে পুরোনো কোহলিকে দেখা গেছে। রাঁচিতে ১৩৫ ও গুয়াহাটিতে ১০২ রানের দুটি টানা সেঞ্চুরির পর বিশাখাপত্তমে অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস খেলে সিরিজ শেষ করেন তিনি। মোট ৩০২ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ২০২১ সালের পর এই প্রথম আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানের এত কাছাকাছি এলেন কোহলি।
অন্যদিকে, পুরো সিরিজে ১৪৬ রান করলেও এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কোহলির ব্যাটিং ঝলকে কিছুটা আড়ালে থাকলেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে রোহিত ও কোহলি—দুজনেই এখন বিশ্বের শীর্ষ দুই ব্যাটসম্যান। ফলে অনেকদিন পর আবারও ভারতের দখলে শীর্ষস্থানীয় র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দুই জায়গা।
ভারতের সুখবর এখানেই শেষ নয়। বিশ্রামে থাকা শুভমান গিল ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বর স্থান ধরে রেখেছেন। আর সিরিজে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করা কে এল রাহুল দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১২ নম্বরে।
বোলারদের তালিকায়ও এগিয়েছে ভারত। বাঁহাতি চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব তিন ধাপ লাফিয়ে উঠে এসেছেন ওয়ানডে বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঝের ওভারে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
প্রোটিয়া শিবিরেও র্যাঙ্কিংয়ে অর্জন এসেছে। কুইন্টন ডি কক উঠে এসেছেন ১৩ নম্বরে। এইডেন মার্করাম এগিয়ে ২৫ এবং অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৩৭ নম্বরে অবস্থান করছেন।
টি–টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েও ভারতীয় বোলারদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। অক্ষর প্যাটেল উঠে এসেছেন ১৩ নম্বরে, আর্শদীপ সিং ২০ নম্বরে এবং জাসপ্রীত বুমরাহ ছয় ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ২৫ নম্বরে।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের ব্যাটিং নেতৃত্বে রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল, অবস্থান আট নম্বরে। শুভমান গিল ও ঋষভ পান্ত আছেন যথাক্রমে ১১ ও ১৩ নম্বরে। বোলারদের তালিকায় শীর্ষে আছেন জাসপ্রীত বুমরাহ, তার পেছনে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন মিচেল স্টার্ক।
দীর্ঘ সময় পর আবারও তিন সংস্করণেই ভারতের ক্রিকেটারদের এমন দাপুটে উপস্থিতি ২০২৬ সালের ঘনাগামী আন্তর্জাতিক সূচির আগে দলটির শক্তিমত্তাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী জুনে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ। ফিফার মেগা এই টুর্নামেন্ট শুরুর বাকী মাত্র ৫ মাস। তার আগেই আর্জেন্টাইন ভক্ত-অনুরাগীদের দুঃসংবাদ দিলেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী রক্ষণসৈনিক হুয়ান ফয়েথ। অনেক আগেভাগেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে তার। গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের হয়ে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার মাঝে চোটে পড়েছেন আর্জেন্টিনার এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। ২৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের কারও সঙ্গে সংঘর্ষ না হলেও, পায়ে চোট পান ফয়েথ। একপর্যায়ে তীব্র ব্যথায় তিনি বদলি হয়ে উঠে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ফয়েথের অ্যাকিলিস হিল টেন্ডন (গোড়ালি) ছিড়ে গেছে। গুরুতর এই চোটে চলতি মৌসুমের বাকি সময়ে আর মাঠে নামা হচ্ছে না হুয়ান ফয়েথের। তার ক্লাব ভিয়ারিয়াল জানিয়েছে, পরীক্ষায় ফয়েথের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পরবর্তীতে তার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেল এই আলবিসেলেস্তে সেন্টারব্যাকের। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সরাসরি বলেই দিয়েছে যে, ফয়েথের আর বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। এর আগেও ফয়েথ দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ও কাঁধের চোটে ভুগেছেন। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে তাকে আর পাচ্ছে না স্প্যানিশ ক্লাবটি। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপের স্কোয়াড প্রস্তুত করা অবশ্য অমূলক। তবে ইতোমধ্যে নিজের প্রাথমিক দলের তালিকা তৈরির কথা জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই দলে থাকার প্রবল সম্ভাবনা ছিল হুয়ান ফয়েথের। কিন্তু এই চোঁট তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্যই মাঠ থেকে ছিটকে দিল। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ আসর শুরু হবে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ ‘জে’-তে। গ্রুপপর্বে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হবে। ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর ২২ জুন ডালাসে অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন একই ভেন্যুতে জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পৃথিবীতে নানা ধরনের মিথ্যা কথা অপ্তবাক্য হিসেবে জনপ্রিয়। তবে একটি অপ্তবাক্য এতোটাই মিথ্যা যে তা রীতিমত হাস্যকর। বাক্যটি হচ্ছে খেলাধুলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না। বিরাজনীতিকরণের অদ্ভুত উন্নাসিকতা থেকে উৎসারিত এই বাক্যটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা ভুলে যান যে, আন্তর্জাতিক খেলাধুলা মানেই রাজনীতি। শুধু রাজনীতিই নয়, কেউ কেউ মনে করেন, হাজার হাজার বছর ধরে দেশ দখল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের লক্ষে দেশে দেশে যে যুদ্ধ হতো, তার আধুনিক রূপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার যে শিকারী প্রবণতা, খেলার মাঠে তা কেবল অবদমন করা হয়। আধুনিক যুগে মরণঘাতী যুদ্ধের অভাব রাষ্ট্রগুলো খেলার ময়দানে পূরণ করে। এই কারণেই জর্জ ওরওয়েল আন্তর্জাতিক খেলাধুলাকে বলেছিলেন, ‘ওয়ার মাইনাস দ্য শুটিং’। এবং সেই নাম ধরে মার্কিন ক্রীড়ালেখক মাইক মারকুইসি ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার রাজনীতি, কূটনীতি এবং এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। ঠিক ৩০ বছর পর, উপমহাদেশে আরেকটি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ক্রিকেট কূটনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী—বাংলাদেশ ও ভারত। এই ঘটনার নানাদিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ক্রিকেট কূটনীতি শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্ক এবং আরও নানা বিষয়কে প্রভাবিত করে। ঘটনার বিস্ফোরণ ঘটে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। ৯ কোটি রুপির বেশি টাকায় তাকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়া হলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাকে দলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বোর্ডের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে দলে রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনের কারণ, ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দলের এক নেতা হুমকি দিয়েছিলেন যে, মুস্তাফিজ আইপিএলে খেললে কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলটির মালিক শাহরুখ খানকেও দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শাহরুখ ভারতের সুপারস্টার হলেও তিনি মুসলমান। মুস্তাফিজও মুসলমান। বিজেপির শাসনে তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বাংলাদেশি মুসলমানদের উপর বহু হামলার নজির রয়েছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী শাসনে অহিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য জীবনযাপন অনিরাপদ। চলমান জাতিগত বিদ্বেষ ও হত্যাকাণ্ডের ধারা দেশে ভয়ঙ্কর মাত্রা পেয়েছে। তবে, সেই বিজেপি দাবি করছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন চলার পর হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণহত্যার চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশটিতে বাংলাদেশকেও প্রায় একই ধরনের সম্পর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা চলছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ঘৃণার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদের প্রভাব জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গত দেড় বছর ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অক্ষমতার কারণে মাজার ভাঙচুর ও মব আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অমুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে। তবে, ভারতের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বিপুল মাত্রায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়নি। বিরোধী মতের ওপর চাপ দিয়ে, স্বৈরশাসক হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারত সরকার পরিস্থিতিকে বিদ্বেষপূর্ণ করতে চায়। হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কঠোর করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শিথিলতা সীমিত। মোদির আমলে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদের খেয়াল রাখে না। মোদির শাসনে আক্রমণাত্মক কূটনীতি ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করে। মুস্তাফিজের ঘটনায় ভারত সরকারের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক ও অন্যদের তুচ্ছ করার মনোভাব থেকে উদ্ভূত। তবে তারা ভুলে গেছে, এর প্রতিউত্তর আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এটি একটি কৌশলগত সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ আসন্ন এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে দলকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত করা সম্ভব। ভারত হয়তো ধারণা করতে পারেনি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। কারণ, আইপিএল বিশ্বকাপের পরে শুরু হবে। তখন মুস্তাফিজের প্রতিহিংসা করলে বাংলাদেশের পক্ষে সীমাবদ্ধতা থাকবে না। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ বিরোধিতা ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় কার্ড। ধর্ম ও ক্রিকেটকে ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরি করা সহজ। প্রশ্ন হলো, মুস্তাফিজ অন্য কোনো অঞ্চলের দলে খেললে কি এমন প্রতিক্রিয়া হতো? রাজনীতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষকে ঘৃণার মাধ্যমে পরিচালনা করা রাজনীতিবিদদের জন্য ফলপ্রসূ। মোদি বা ট্রাম্পের বিজয় তা প্রমাণ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায়। তবে এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাশ কাটিয়ে পরবর্তী সরকারের সঙ্গে করতে চায়। দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এই ধরনের শীতল সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। ভারত বরাবরই পাপেট সরকার বসাতে চেয়েছে। হাসিনার শাসনামল সেই চেষ্টার উদাহরণ। গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন যেকোনো সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। লোকরঞ্জনবাদের যুগে রেটোরিক ও উত্তেজনা রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশের মানুষও প্রায়শই এই উত্তেজনায় আবদ্ধ। “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান যেমন প্রচলিত, তেমন বাস্তব নীতি নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি কীভাবে স্বনির্ভর হবে, ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে—এ নিয়ে কোনো দৃঢ় পরিকল্পনা নেই। অর্থনীতিবিদ মাহা মির্জা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হাসিনার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা, জ্বালানি খাতের চুক্তি—এসব মোকাবিলার জন্য স্বনির্ভর অর্থনীতি ও নীতি প্রয়োজন। মুখে “ঢাকা ঢাকা” বললে জনতুষ্টি হয়, কিন্তু আধিপত্যবাদ ঠেকানো যায় না। ক্রিকেট কূটনীতিতে লক্ষ্য ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। লুজ বলের মতো সুযোগ মিস করলে খেলার সুবিধা হারায়। ভারত লুজ বল দিয়েছে, বাংলাদেশ সুচিন্তিতভাবে ছক্কার মাধ্যমে তা ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের কৌশল ও প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। ভারতকে দেখাতে হবে যে, গুণ্ডামির জবাব দেওয়া যায়। ক্রিকেট বোর্ড নিয়ম মেনে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল পাঠানো হতো না। আয়োজক দেশের জন্য, বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের জন্য, এটি অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ সরকারও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। একদিকে মববাজি, অন্যদিকে ব্যর্থ সরকারের জন্য ভারতবিরোধী কৌশল হলো শক্তিশালী হাতিয়ার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সময় নিজেদের স্কোর বাড়াতে চায়। ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য কী? এক্সিট প্ল্যান কী? বাংলাদেশ কি সম্পর্ক বন্ধ করবে, নাকি দরকষাকষি করে সম্মান নিশ্চিত করবে? বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ হলো ভারতের ভুলকে কাজে লাগানো, দরকষাকষি করা, আইসিসিতে প্রভাব খাটানো। ১৯৯৬ সালে অ-এশীয় ব্লক শ্রীলংকা বয়কট করেছিল। আজহারউদ্দিন ও ইমরান খানের নেতৃত্বে দল খেলে, আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। রাজনৈতিক ব্লকের শক্তি না থাকায় কেনিয়া হারায়। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বেশি এগোয়নি। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই কূটনৈতিক স্বার্থে সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশের বার্তা হবে কেবল ক্রিকেট নয়—তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা, সীমান্ত হত্যা—এসবেও ভারতকে সতর্ক করতে হবে। বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সার্কের মতো সংগঠনের পুনর্জাগরণও প্রয়োজন। কূটনীতি হলো ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতি। ছোট দেশের জন্য বড় দেশের সঙ্গে কৌশলী, একতাবদ্ধ ও বাস্তববাদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওপারের বিজেপি ও ঘৃণাবাদীরা রিয়েল পলিটিকে আগ্রহী নয়। তারা ধর্ম ও উগ্র জাতীয়তাবাদের কার্ড ব্যবহার করে উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চায়। বাংলাদেশ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ একপেশে সম্পর্ক, নতজানু অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা জনগণের দাবি। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া মানসিক ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে পরবর্তী চালগুলো কৌশলী হতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সম্পর্ক বন্ধ করাও চাই না। সমতার কূটনীতি ও সম্মান নিশ্চিতকরণের রাজনীতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শুধু জাতীয়তাবাদী হাতিয়ার না বানিয়ে সত্যিকারের ধারালো করতে হবে। বিশ কোটি মানুষের দেশের বাজার শক্তি অর্জন করতে হবে। মুস্তাফিজের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শক্তি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ব্যবহার করতে হবে। রুডইয়ার্ড কিপলিং বলেছিলেন, হোয়্যাট শ্যুড দে নো অফ ইংল্যান্ড হু অনলি ইংল্যান্ড নো? শুধুমাত্র ইংল্যান্ড জানলেই কি সাম্রাজ্য বোঝা যায়? অনুরূপভাবে, সিএলআর জেমস বলেছেন, হোয়্যাট ডু দে নো অফ ক্রিকেট হু অনলি ক্রিকেট নো? কেবল স্কোর, রান, অ্যাভারেজ মিলে ক্রিকেট বোঝা যায় না; ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, শ্রেণি ও রাজনীতি না বোঝা পর্যন্ত ক্রিকেট বোঝা যায় না। ক্রিকেট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার। বাংলাদেশের অর্জন প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে হলেও, এটি ভবিষ্যতে ন্যায্যতার লড়াই শুরু করতে পারে। ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব।
দল থেকে বাদ পড়ে প্রহসনের অভিযোগ এনেছেন ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী। যে কারণে সম্ভাবনা থাকার পরও নাকি সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো কিছু অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন দল সংশ্লিষ্ট সূত্র। থাইল্যান্ডে গতকাল শেষ হওয়া আসরের শিরোপা ভাগ্য আগেই লেখা হয়ে যাওয়ায় কৌতূহল ছিল রানার্সআপ ও তৃতীয় স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ। গতকাল ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে নেপাল। ভারত ও পাকিস্তান দুই দলের সামনে সুযোগ ছিল রানার্সআপ হওয়ার। পাকিস্তানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চতুর্থ স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান পেয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের সাফ জেতা উচিত ছিল অথবা অন্তত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থেকে পোডিয়ামে থাকা উচিত ছিল! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বজনপ্রীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হিংসা, অন্যায্য সিদ্ধান্ত ছিল! শুধু দল এবং নিজের জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়ায় আমাকে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক কিছু বলার ছিল, সংক্ষেপে শুধু এটাই বলব যে, আমরা এটি প্রাপ্য ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত এটি আমাদের দেশের জন্যই একটি ক্ষতি ছিল!’ দলের এক কোচিং স্টাফ কালবেলাকে বলেছেন, ‘কোনো দলই চায় না একটা প্রতিযোগিতার মাঝপথে বিতর্ক সৃষ্টি হোক। কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিন্তু সময়টাও আদর্শ ছিল না। কারণ এমন সিদ্ধান্ত দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসলে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। অন্যদের বেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না, শুধু একজনের বেলায় কেন এমনটা ঘটবে?’