ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতা আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ হিসেবে পূজিত লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রথম গন্তব্য হওয়ায় কার্যত উন্মাদনায় ভাসছে ‘সিটি অব জয়’। কলকাতার রাজপথ, মোড় এবং খোলা জায়গা জুড়ে বিশাল কাটআউট, ব্যানার ও পোস্টারে ছয়ে গেছে শহর। মেসির পা রাখার আগেই থমকে যাওয়ার উপক্রম নগরজীবনের।
ভারতের এই পূর্বাঞ্চলীয় মহানগরীতে মেসির জনপ্রিয়তা নতুন নয়। ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসে প্রথমবার কলকাতায় পা রাখেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তার দ্বিতীয় আগমনকে ঘিরে এবার প্রত্যাশা আরও তুঙ্গে।
কলকাতা সেই শহর, যেখানে এর আগে এসেছেন ফুটবলের আরও দুই মহাতারকা—পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসে কলকাতাকে মুগ্ধ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ম্যারাডোনা এসেছিলেন ২০০৮ ও ২০১৭ সালে—দু’বারই অবাক হয়েছিলেন এ শহরের ফুটবল উন্মাদনা দেখে।
২০০৮ সালে জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কানও এখানেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচও হয়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে—যেখানেই এবার মেসিকে ঘিরে থাকছে মূল আয়োজন। এই ইভেন্টে থাকবে কনসার্ট ও তারকা-সমৃদ্ধ একটি সেলিব্রিটি ম্যাচ, যেখানে অংশ নেবেন সৌরভ গাঙ্গুলি, ভাইচুং ভুটিয়া ও লিয়েন্ডার পেজের মতো ক্রীড়াবিদরা।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কলকাতায় এসে যে উন্মাদনা দেখেছিলেন, সেটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ঠিক এক মাস আগেই শহর সফর করেছিলেন জার্মান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার মাথাউস। ইউরোপীয় ফুটবল রাজধানীগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ফুটবল উত্তেজনা দেখে তিনিও বিস্মিত হন।
“ফুটবলের ঈশ্বরকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন”
কলকাতার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার দেবজ্যোতি ধর ১১ হাজার ৮০০ রুপির টিকিট কিনেছেন কেবল মেসিকে এক নজর দেখার আশায়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মেসিকে নিয়ে পাগল। প্রায় দুই দশক ধরে তার খেলা দেখছি। এত কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।”
কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠানসূচি
মেসি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিটে দুবাই হয়ে মিয়ামি থেকে কলকাতায় পৌঁছাবেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকারের (MLS) সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সকালে তিনি অংশ নেবেন স্পনসরদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ অনুষ্ঠানে, যেখানে থাকবে আর্জেন্টাইন ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন ফেস্টিভ্যাল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে সরাসরি উপস্থিত না রেখে ভার্চুয়ালি তার সবচেয়ে বড়—৭০ ফুট উচ্চতার—মূর্তি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে পরিকল্পনা ছিল তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন, তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
সল্টলেক স্টেডিয়ামের মূল আয়োজনে ৭৫ হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারি খোলা রাখা হয়েছে। ইভেন্টের প্রমোটার শতদ্রু দত্ত জানান, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে মঙ্গলবার থেকেই কাউন্টার বিক্রিও চালু করা হয়েছে।
মেসির সঙ্গে এই সফরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজের। ভারতের অন্যান্য শহর—হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতেও থাকছে অনুষ্ঠান। পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান, জন আব্রাহাম ও টাইগার শ্রফের উপস্থিতি এই ‘GOAT ইন্ডিয়া ট্যুর’-কে পরিণত করছে এক অনন্য উৎসবে।
সব মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার আগমন উদ্যাপনে প্রস্তুত কলকাতা—আরও একবার প্রমাণ করছে কেন এই শহরকে ভারতের ফুটবল-রাজধানী বলা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। যে কারণে সম্প্রতি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সম্প্রতি ভারত সফরে দারুণ পারফরম্যান্সে বোর্ডের সু নজরে এসেছে ড্যারেন স্যামির শিষ্যরা। ভারত থেকে সোজা বাংলাদেশ সফরে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। দুই টেস্টের সিরিজে টাইগারদের হারিয়ে বাড়তি প্রণোদনা পেতে চায় ক্যারিবীয়রা। এমনটি জানিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি বলেছেন, খেলোয়াড়দের প্রতি আমার বার্তা হলো, বিশেষ করে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে। আর্থিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দুই চক্রেই অষ্টম স্থানে থাকা আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে এবার আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাদা বলের দল দারুণ করেছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দলও একই কাজ করতে পারবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে সোমবার স্যামি বলেন, ভারত সিরিজে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর খবর জানানোর পর তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলেছে, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়তা, আবেগ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়। তিনি আরও বলেন, একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে কিংবা একটি বোর্ড হিসেবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সে বাস্তবতা বুঝতে হবে। আর্থিকভাবে আমরা কোন অবস্থায় আছি, তা কারও অজানা নয়। স্যামি বলেন, আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা সৎ ও বাস্তববাদী ছিলাম। এখন আমরা ঠিক সেই অবস্থানেই রয়েছি, যেখানে থাকার প্রত্যাশা করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, আগামী দুটি টেস্ট আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটি পূরণের মধ্য দিয়ে এই চক্র শেষ করতে চাই।
স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ এল ক্লাসিকোতে আবারও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচে একটি ফাউলের ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হোসে মরিনিও। লা লিগার দশম রাউন্ডের ম্যাচে ৬০তম মিনিটে বার্সেলোনার ফুটবলার জোয়াও কানসেলোর একটি চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ইয়ান দিওমান্দেকে জোরালোভাবে চ্যালেঞ্জ করলেও মাঠের রেফারি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। ঘটনাটির পর কানসেলোকে হলুদ কিংবা লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং কানসেলোকে কোনো কার্ড দেখাননি। মাঠের রেফারি নয়, ভিএআরের সমালোচনায় মরিনিও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মাঠের রেফারির পরিবর্তে ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মরিনিও। তার মতে, কানসেলোর চ্যালেঞ্জটি সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর মতো গুরুতর ছিল। অথচ ভিএআরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করা হয়নি। মরিনিও বলেন, ‘রেফারি দারুণ একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু ৬০তম মিনিটে ভিএআর ঘুমিয়ে ছিল এবং দিওমান্দেকে ফাউল করার জন্য একটি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল।’ ফুটবলে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন আলোচনা এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিতর্কিত ফাউলের ঘটনায় ভিএআরের ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য লাল কার্ডের ঘটনায় প্রযুক্তির সহায়তায় সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। মরিনিওর মন্তব্যের পর আলোচিত ফাউলটি এবং ম্যাচ পরিচালনায় ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও সামনে এসেছে।
লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। হোসে মরিনিওর দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রাফিনিয়া। রোববার (২৫ অক্টোবর) বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। বল দখলে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৪১ মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। দিয়োমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্টিনের পায়ে লেগে বলটি এমবাপ্পের গায়ে আঘাত করে জালে জড়িয়ে যায়। গোল করার ক্ষেত্রে ফরাসি তারকার তেমন কিছু করার ছিল না, তবে সঠিক জায়গায় অবস্থান করায় এগিয়ে যায় রিয়াল। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা। বিরতির আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৬১ মিনিটে পেদ্রির দারুণ পাস থেকে রাফিনিয়া গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান। ডি-বক্সের কাছ থেকে পেদ্রির নিখুঁত পাস পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সমতায় ফেরার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় বার্সেলোনা। ইয়ামালও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় এগিয়ে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠ থেকে জুড বেলিংহামের অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার কার্যকর পাসের সমন্বয়ে বল পেয়ে এমবাপ্পে নিখুঁত শটে জালে পাঠান। তার দ্বিতীয় গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। শেষ দিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি বার্সেলোনা। ফলে চলতি মৌসুমে লা লিগায় প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারাল হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের আগে পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও জয়ের পর ব্যবধান কমিয়ে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে নতুন করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে মরিনিওর দল।