খেলাধুলা

আইপিএল নিলাম আজ : যেসব বিষয়ে জানা জরুরি

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

আইপিএলের মঞ্চে আজ ফের খুলছে কোটি টাকার দরজা। আবুধাবির ইতিহাদ অ্যারেনায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের মিনি নিলাম, যেখানে দল গঠনের শেষ ছক্কা মারতে নামবে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় শুরু হওয়া এই নিলামে যেমন নজর থাকবে ক্যামেরন গ্রিন, লিয়াম লিভিংস্টোনদের দিকে, তেমনি বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটারের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে এই মঞ্চেই। তবে নিলামের আগে জেনে নেওয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় :

কতজন খেলোয়াড় দল পাবেন

মোট ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্কোয়াডে এখনো ৭৭টি জায়গা খালি। এর মধ্যে ৩১টি বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, একটি দল সর্বোচ্চ ২৫ জন খেলোয়াড় নিতে পারবে এবং স্কোয়াডে বিদেশির সংখ্যা হতে পারবে সর্বোচ্চ আটজন। সবচেয়ে বেশি শূন্যতা কলকাতা নাইট রাইডার্সের—১৩টি জায়গা, আর সবচেয়ে কম পাঞ্জাব কিংসের—মাত্র চারটি।

নিবন্ধনকৃত খেলোয়াড়

এবারের নিলামের জন্য শুরুতে ১,৩৫৫ জন খেলোয়াড় নাম নিবন্ধন করলেও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৩৬৯ জন। এর মধ্যে ৪০ জনের ভিত্তিমূল্য সর্বোচ্চ ২ কোটি রুপি। ভারতীয়দের মধ্যে এই দামে আছেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও রবি বিষ্ণোই—দুজনই এবার বড় অঙ্কের লড়াইয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে কারা?

বাংলাদেশ থেকে নিলামে আছেন সাত ক্রিকেটার—মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান, শরীফুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসান। তাদের মধ্যে ভিত্তিমূল্য সবচেয়ে বেশি মোস্তাফিজুর রহমানের। প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিলামে জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের।

আলোচনায় যেসব ক্রিকেটার

নিলামের আলোচনার কেন্দ্রে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাঁর দাম ২৫ কোটি রুপির ঘরও ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি লিয়াম লিভিংস্টোন, জেমি স্মিথ, ডেভন কনওয়ে ও ডেভিড মিলারদের প্রতিও থাকবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাড়তি আগ্রহ।

দলগুলোর কাছে কেমন অর্থ আছে

দলগুলোর হাতে থেকে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে কলকাতা নাইট রাইডার্স—তাদের হাতে রয়েছে ৬৪.৩০ কোটি রুপি। এরপর চেন্নাই সুপার কিংসের ঝুলিতে আছে ৪৩.৪০ কোটি রুপি। বিপরীতে পাঞ্জাব কিংস ও গুজরাট টাইটানস তুলনামূলক কম বাজেট নিয়ে নামছে নিলামে।

নিলামের নিয়ম

মিনি নিলাম হওয়ায় এবার কোনো ‘মার্কি সেট’ নেই এবং রাইট টু ম্যাচ (আরটিএম) কার্ড ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না। ক্যাপড ব্যাটসম্যানদের দিয়েই শুরু হবে নিলাম। ৭০ জন খেলোয়াড় উপস্থাপনের পর শুরু হবে অ্যাক্সেলেরেটেড রাউন্ড, যেখানে অবিক্রীত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে দলগুলো দ্রুত পছন্দ বেছে নেবে।

সব মিলিয়ে আজকের নিলাম শুধু দল গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি অনেক ক্রিকেটারের জন্য নতুন ঠিকানা খোঁজার দিন, আবার কারও জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হওয়ার মুহূর্ত। কোটি টাকার ডাকের ভিড়ে কার হাসি চওড়া হবে, আর কার স্বপ্ন থমকে যাবে—তার উত্তর মিলবে আজই।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে সরাসরি আফগানিস্তান, বাংলাদেশের ভাগ্য এখন ভারতের হাতে

আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে নবম দল হিসেবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল আফগানিস্তান। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে আর একটি দল। সেই স্থানের জন্য লড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। এজন্য তাদের হাতে সময় আর দেড় মাসের একটু বেশি।   আয়োজক হওয়ার কারণে আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে দশটি দল। আয়োজক দুই দল বাদে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের কাটঅফ টাইমের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা দল বিশ্বমঞ্চে খেলবে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে জিম্বাবুয়ে সেরা দশের বাইরে থেকেও অংশ নিচ্ছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা সেরা আটের মধ্যে থাকায় নবম স্থানে থাকা একটি দল সুযোগ পাবে, সেই স্থানের জন্য লড়তে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশকে।   বর্তমানে বাংলাদেশ যোগ্য দল হিসেবে ৯ নম্বরেই আছে। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ থাকায় তাদের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। কাটঅফ সময়ে বাংলাদেশের ভারত সিরিজ খেলার কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপের মধ্যে রয়েছে।   তবে এই সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের ভূমিকা। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হবে ভারত সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট হারানো। ভারত যদি সিরিজটি জিতে নেয়, তাহলে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারে। ভারত সিরিজ শেষ পর্যন্ত না হলে বাংলাদেশের নজর থাকবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেলে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি হবে। অর্থাৎ নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার দৌড়ে তাই বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য সিরিজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা অথবা ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ক্যারিবীয়দের পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ফ্লাইট জটিলতায় ইতালিতে আটকা বাংলাদেশি ফুটবলার

সংগৃহীত ছবি

ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিপাকে ফিফা প্রধান

মায়ামির হয়ে ম্যাচের এক মুহূর্তে কাসেমিরো। ছবি : রয়টার্স

জার্সিতে ভুল নাম, কেন সেই বানান বদলাননি কাসেমিরো?

ছবি: সংগৃহীত
‘সম্ভবত এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ’ — তালিয়াফিকোর বিদায়ের ইঙ্গিত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদায়ের সুর আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো।   সম্প্রতি স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে আলাপকালে তালিয়াফিকো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’   ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা ১৭, যা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তার সামনে আছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।   তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’   আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সেটিই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্বকাপের পর ইতোমধ্যে নিকোলাস ওতামেন্দি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে লিওনেল মেসি এখনও ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ আসর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।   ফাইনালে হেরে গেলেও দলের অর্জন নিয়ে গর্বিত তালিয়াফিকো। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে ২০২২ সালের স্বর্ণপদক আছে। এবার রানার্সআপ পদক পেলাম। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ নয়। আমাদের তা মূল্যায়ন করা উচিত।’   পরাজয় নিয়েও ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে জানতে হবে। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। ফুটবলে কখনও জয় আসে, কখনও পরাজয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।’   বিশ্বকাপ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তালিয়াফিকো বলেন, একটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয় নয়; আগের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেই প্রস্তুতি চলতে থাকে। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একজন ফুটবলার বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রদ্রিকে কিনতে বার্সেলোনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ম্যানচেস্টার সিটি

ক্যাম্পবেলের বলে আউট হওয়ার পর শান্তর হতাশ অভিব্যক্তি। ছবি : ক্রিকইনফো

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়, ইনিংস ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা ছাড়তে পারেন আরাউহো, লিভারপুলে লোনে যাওয়ার গুঞ্জন

ছবি: সংগৃহীত
সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলতে বিসিবিকে বললেন শফিকুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যেখানে তিনি একজন ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে’ প্রকাশ্যে পূজা করা ব্যক্তির ক্রিকেট ইতিহাসে থাকার কোনো অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল- যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন।   তিনি আরও লেখেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ (শেখ হাসিনা)—যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে। তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।   পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেসিকে কোপা আমেরিকা খেলতে কোনো চাপ দেবে না আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

রদ্রিকে ছাড়তে বার্সার ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ম্যানসিটি

ছবি: সংগৃহীত

দাপুটে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ

0 Comments