সারাদেশ

৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করবে সরকার

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0

প্রতি বছরের মতো এবারও রোজায় সুলভমূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি করবে সরকার। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ ও প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস ২৫০, প্রতি লিটার দুধ ৮০ এবং প্রতিটি ডিম আট টাকা করে বিক্রি হবে।


রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রমজান কেন্দ্রিক ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সভায় গত বছরের চেয়ে এবছর পণ্য বিক্রির স্থান বৃদ্ধির নির্দেশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এবার ৪৮টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বরাবরের মতো এবছরও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। আমরা চাই রমজান মাসে রোজাদারদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে। এজন্য আমরা কাজ করছি।


তিনি জানান, এরই মধ্যে এসব পণ্য সরবরাহকারী অংশীজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা গত বছরের চেয়ে এবছর বেশি জায়গায় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনে জলদস্যুর তাণ্ডব: ২২ জেলে অপহরণ, ১৭ জন এখনো জিম্মি

উপকূলীয় সুন্দরবনে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। গত দুই দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে ২২ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১৭ জন এখনো জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতে বেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নেওয়া হয়। অপহরণের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। অপহৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোমনি ফকির (৩০), মুর্শিদ আলম (৪০), ইসমাইল শেখ (২৮), আব্দুল করিম (৪৮), আব্দুস সামাদ (৪০), মনোহর সরকার (৩৪), আল মামুন (১৬), হুমায়ুন (২৬), মনিরুল (২৫), রবিউল (৩০), সঞ্জয় (৫২), আল আমিন (৩৭), শাহাজান (৫০), আবুল বাসার বাবু (৩৫), রেজাউল (৩৫), আব্দুস সালাম (৫৫) ও আবুল কালাম (৪০)। এছাড়া মুক্তিপণের শর্তে ছাড়া পাওয়া পাঁচ জেলে হলেন, ধ্রুব সরকার (৩৮), হৃদয় মণ্ডল (৫৩), সবুর গাইন (৫০), সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইউনুস আলী (২৬)। অপহৃতদের পরিবারের সদস্য ও মহাজনদের ভাষ্য, চার থেকে পাঁচ দিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান জেলেরা। পরে বিভিন্ন খালে ছড়িয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্বজন বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা নির্দিষ্ট কোনো মুক্তিপণের অঙ্ক জানায়নি। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলেই তারা যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপহৃতদের নিরাপদে ফেরত পেতে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। ফিরে আসা জেলেদের অভিযোগ, দস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নতুন করে সুন্দরবন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার না করলে জেলেদের জীবিকা ও নিরাপত্তা দুটিই হুমকির মুখে পড়বে।

মারিয়া রহমান মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি ঘোষণা

সোমবার ভেড়ামারা থানার হলরুমে সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে বিএনপি কর্মী হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত লিমন

সংগৃহীত ছবি
মাছ খাওয়ার বাহানা করে মাকে বাজারে পাঠিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহনন

ভোলা সদর উপজেলায় তৈয়্যবা জাহান চৈতি (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) সকালে শহরের অফিসার পাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত চৈতি ভোলায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন ফকিরের মেয়ে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় হলেও বাবার চাকরির সুবাদে তারা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। পুলিশ জানায়, এ বছর ভোলা শহরের মাসুমা খানম স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে চৈতি। রবিবার সকালে পাঙাশ মাছ খাওয়ার বাহানা করে মাকে বাজারে পাঠায় সে। বাজার থেকে ফিরে তার মা দেখতে পান রুমের দরজা বন্ধ। পরে তাকে ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে চৈতির মরদেহ। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়। চৈতির মা সোনিয়া বেগম জানান, গতকাল রবিবার চৈতির গণিত পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে জানায় তার পরীক্ষা ভালো হয়নি। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পরলেও কোনোভাবেই তার মন খারাপের বিষয়টি বাড়ির কাউকেই বুঝতে দেয়নি। পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন তিনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

২৩ ঘণ্টা পর আবারও বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা,অটোরিকশা চালকসহ ৫ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতিকে চোরাচালানের অভিযোগে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
কাল থেকে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণের কারণে দেশের সর্বপ্রথম বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপাল ভোগ, গোলাপ খাস, বোম্বাই, বৈশাখীসহ পরিপক্ক আম গাছ থেকে ছাড়ানোর মাধ্যমে বাজারজাতকরণ শুরু হচ্ছে ।     কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবছর সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ঝড় ঝাপটার মধ্যে না পড়লে এবছর সাতক্ষীরায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।   যা প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বাজারজাত হবে হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম।   জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে সকাল থেকে গাছ থেকে আম ছাড়ানো শুরু হবে। একই সাথে সাতক্ষীরার বড়  আমের হাট সুলতানপুরের বড়বাজারের আড়ত গুলোতে পাওয়া যাবে গোবিন্দভোগ, গোলাপ খাস, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের দেশীয় আম।   আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন থেকে। আর মূলত এ কারণেই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্বাদে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে।     এ বছরও আমের রাজ্য সাতক্ষীরা থেকে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া এবং আমরুপালিসহ ১০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হবে।যা থেকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে সরকার।   কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার খামারবাড়ির তথ্য মতে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম।     পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।   শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাবিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবাসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন।   সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধরাণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, 'ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। তবে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পরিপক্ষ পাকা প্রতি মন গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ৫ মে সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হবে তখন বলা যাবে।   সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর সাতক্ষীরা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝর ঝাপটার কবলে না পড়লে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এবং সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা এবার সাতক্ষীরার আম বেচাকেনা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।     এছাড়া কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন বাজারে অপরিপক্ক কেমিক্যাল মিস্ত্রিত আম বিক্রি করতে না পারে সেজন্য'মাসজুড়ে আম ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা মাঠে থাকবে। ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৩০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিপক্ক আম ধ্বংস করা হয়েছে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব নিরাপদ বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে রাঙামাটি উত্তাল, ১৪৪ ধারা জারি

ছবি: সংগৃহীত

বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা,

ছবি: সংগৃহীত

ধেয়ে আসছে ভয়াবহ বন্যা, ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

0 Comments