প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার ‘মিনি ঢাকা’য়, ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৭২

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত কোতারায়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী রয়েছেন।   স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাঁচশ’র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় সন্দেহভাজন আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হয়।   মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে স্থানীয়ভাবে ‘বাংলা মার্কেট’ ও ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত হিসেবে পরিচিত কোতারায়া এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে প্রবাসীদের সমাগম ছিল। অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   পরে অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ৩৬৪ জন। এছাড়া মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ১৮, পাকিস্তানের ৭, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, ভারতের ৬, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।   কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।   দেশটির অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ গণমাধ্যমকে জানান, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। এবার অভিযানে তল্লাশি করা আড়াই হাজারের বেশি অভিবাসীর মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যথাযথ তদন্ত শেষে এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য আটক ব্যক্তিদের ডিটেনশন ডিপোতে নেওয়া হচ্ছে।   উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে অবস্থান করা কর্মী ছাড়াও তাদের নিয়োগকর্তা বা আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে যাওয়ার দুই মাসেই কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন আলিফ

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি যুবক ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর গাজীপুরের কালীগঞ্জে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। উন্নত জীবন ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্নযাত্রার করুণ পরিণতি হলো কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামের মাটিতে ফেরা।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে আলিফের মরদেহবাহী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।   সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে ভিড় করেন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের বদলে কফিন দেখে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।   বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে উত্তরগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।   আলিফের মরদেহ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সহযোগিতা করেন। মাদ্রিদে জানাজা, মরদেহ সংরক্ষণ, আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই তারা পরিবারের পাশে ছিলেন।   এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাদ্রিদ থেকে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ পাঠানো হয়। পরে ইস্তাম্বুল থেকে সংযোগ ফ্লাইটে তা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়।   ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় মাত্র দুই মাস আগে তিনি স্পেনে যান।   প্রবাস জীবনের শুরুতেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যুতে স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে কমিউনিটির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।   কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ শুক্রবার সকালে বাড়িতে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।   স্বপ্নপূরণের আশায় যে তরুণ মাত্র দুই মাস আগে বিদেশের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, শুক্রবার সেই জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হলো নিজ গ্রামের মাটিতে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে যুবদলের কর্মীসভা

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করার লক্ষ্যে কর্মীসভা করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।   যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।   সংগঠনের নেতা জাকির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আমানত হোসেন ও রেজাউল আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।   সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং মিজানুর রহমান মিল্টন।   নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে নিউইয়র্কের হিলটন ও শেরাটন হোটেলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনাও হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মীসভায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ সার্বিক প্রস্তুতি আরও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।   স্থান ও সময় চূড়ান্ত করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ঐকমত্য এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই অনুষ্ঠানটির স্থান ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৮ মাসের অপেক্ষার পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

লিবিয়ায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল আট মাস আগে। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন স্বজনেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার বিকেলে কফিনে করে তাঁর মরদেহ পৌঁছে জয়পুরহাটে গ্রামের বাড়িতে।   তরিকুল ইসলাম (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় যান।   স্বজনেরা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে তরিকুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আট মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তরিকুলের মরদেহ দেশে ফিরবে কি না।   শনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।   আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল, দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল সৌদি কোস্ট গার্ড

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল হয়ে সাগরে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের নিরাপদে তীরে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাবিগ উপকূলে দায়িত্ব পালনরত সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একটি নৌযান সাগরে বিকল হয়ে পড়ার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।   পরে সাগরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর সমুদ্রযাত্রীদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সাগরে যাত্রার আগে নৌযানের ফিটনেস ও চলাচলের উপযোগিতা ভালোভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ওমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুম্মন।   ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসমাইল ভূঁইয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান কেন্দ্রীয় বিএনপির সভাপতি এস এম হারুন রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহির রাজা।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান বিএনপির সহসভাপতি জানে আলম, এহসান কবির, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, ফজলুল বারী, আল আমিন, জাকির হোসেন ও ইসমাইল রিপন।   এ ছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান, কামাল উদ্দিন, জামাল সর্দার, মোজাম্মেল হক, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ আরিফ, মোহাম্মদ শামীম, মো. মিঠুন, ইউনুস রাজন, মারুফ বিল্লা, মোহাম্মদ রবিউল, ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ, মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী, সারোয়ার উদ্দিন, আল-আমিন, আলমগীর হোসেন, মো. ফারুক, সাঈদ খোকন, হেলাল গাজী, জিয়া উদ্দিন, মো. এমরান, মোহাম্মদ সুমন ও আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।   আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ, দেশের জনগণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ কারি মো. আরিফ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম।   আয়োজনে ওমান বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ও শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মাদক সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি আটক

কুয়েতের মোবারক আল-কবির গভর্নরেটে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। মাদক সরবরাহের একটি অভিনব কৌশল অনুসরণ করার সময় প্রথম ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।   কুয়েতি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সন্দেহভাজন ব্যক্তি নির্জন স্থানে মাদক রেখে তার অবস্থান অন্য ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতেন। এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।   জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থান এবং মাহবুলা এলাকায় ওই ব্যক্তির কক্ষে অভিযান চালায়। এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।   পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও এক বাংলাদেশিকে মুতলা এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়েও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   অভিযানে জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৩ ব্যাগে প্রায় ৪৬ দশমিক ৪ গ্রাম গাঁজা, ১৭৫ ব্যাগে প্রায় ১৮২ দশমিক ৪ গ্রাম মেথামফেটামিন এবং সাত ব্যাগে ৫ দশমিক ৮ গ্রাম হেরোইন।   এ ছাড়া ৮৫টি ক্যাপটাগন ক্যাপসুল ও ১৭৮টি লাইরিকা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি রাসায়নিকযুক্ত ছয় ব্যাগ এ-ফোর (A4) কাগজ, তিনটি সূক্ষ্ম ওজন মাপার যন্ত্র এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।   কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, চাকরি হারালে কমবে সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মী ভিসায় থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সুবিধা বাতিল হতে পারে।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১, ও-১সহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকে।   প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর নাও থাকতে পারে। ফলে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হলে কিংবা তার কর্মচুক্তি শেষ হয়ে গেলে নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও পেশাদার সেবা খাতে কর্মরত বিদেশিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   বড় প্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নিয়মটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চাকরি হারানো কর্মীদের দ্রুত নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।   তবে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, বিধিনিষেধের কারণে সাময়িক কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই প্রস্তাবটিকে দেখা হচ্ছে।   তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবের ওপর আগামী দুই মাস ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ফলে বর্তমানে কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এখনো বহাল রয়েছে; প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রায় ৪৫০ অভিযোগ, সমাধান ৩৩০টির বেশি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।   ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এসব অভিযোগ আসতে থাকে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।   প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান অনেক বাংলাদেশি। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরও কেউ কেউ নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ, বেতন বকেয়া, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি দেশে ফেরত পাঠানোর পরও অনেককে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।   এসব বিষয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকমিশনের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনায়।   গত ৮ সেপ্টেম্বর Responsible Business Alliance (RBA) আয়োজিত ‘From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। সেখানে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।   আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।   তিনি জানান, কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে হাইকমিশন।   একই সঙ্গে সমস্যায় থাকা কর্মীদের কল্যাণমূলক সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও হাইকমিশন সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।   হাইকমিশনের এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মদিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরবের মদিনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারা বেগম (৬২) নামে এক বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে মদিনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মনোয়ারা বেগম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের প্রয়াত হোসেন মোল্লার স্ত্রী।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছোট ভাই জালাল সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যান মনোয়ারা বেগম। মক্কায় ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা মদিনায় পৌঁছান। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা জানান, মনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মদিনায় যাওয়ার পর তার অসুস্থতা বেড়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মনোয়ারা বেগমের বাবার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম সরকারের মেয়ে।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের প্রচলিত আইন ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে মদিনাতেই মনোয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন করা হবে।   তার মৃত্যুর সংবাদে কুমিল্লার দেবিদ্বারের ওয়াহেদপুর এবং ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া প্রবাসীদের অধিকার ও দেশের সংকট নিয়ে এনসিপির মতবিনিময়

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে প্রবাসীদের অধিকার, দেশের চলমান সংকট এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পেনাংয়ের জুরু অটো সিটি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘প্রবাসীদের অধিকার এবং দেশের সংকটে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।   পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে পেনাং আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।   সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনামুল হক। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাজেদুল আলম ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব আলম রওশন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল হক দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে তাদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি।   তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ—এই ধারণাকে প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।   ফরিদুল হক আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।   বিশেষ অতিথি আলাউদ্দিন মোহাম্মদ প্রবাসীদের মর্যাদার সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে একজন বাংলাদেশির ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি তার দেশের পরিচয়ও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে প্রবাসীদেরও ভূমিকা রয়েছে।   তিনি প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তি হিসেবে না দেখে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে প্রবাসীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   সভায় বক্তারা প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীদের ভূমিকা এবং জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনে তাদের অবদান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।   বক্তারা বলেন, রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসীদের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি গঠনে কাজে লাগানো যেতে পারে।   সভায় কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম, সেলাঙ্গর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল হোসেন, পেনাং আঞ্চলিক কমিটির সহ-সমন্বয়ক শেখ আবদুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক রুকন বেপারী এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।   এ সময় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার এবং কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাং আঞ্চলিক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   অনুষ্ঠানের শেষপর্বে এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব মুশফিক চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়াতে হাইকমিশনের বৈঠক

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।   গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, যৌথ ব্যবসা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।   হাইকমিশনের কর্মকর্তারা পেনাংয়ের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমআইসিসিআই) সভাপতি দাতো ব্রায়ান তান গুয়ান হুই দাতুক ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সফরে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) পেনাং শাখার সভাপতি দাতো’ সেরি লি তেওং লি এবং সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা হয়।   আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি এবং পেনাংয়ে একটি ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।   দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং পারস্পরিক সফর বিনিময়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।   বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বারের ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার, পেনাংয়ে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) উপস্থিত ছিলেন।   হাইকমিশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ৪০ কারখানায় অভিযান, বাংলাদেশিসহ ১১৯৬ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চারটি শিল্পাঞ্চলের ৪০টি কারখানায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ১৯৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের ৭১৫ কর্মকর্তা ছাড়াও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা অংশ নেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মোট ২ হাজার ১৫৯ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়।   এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ১ হাজার ১৯৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৯৪৬ জন পুরুষ ও ২৫০ জন নারী।   আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তবে আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।   এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের কাজ দেওয়া ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৩৭ জন মালয়েশীয় নাগরিক ও নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্তের স্বার্থে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   আটক বিদেশি নাগরিকদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।   মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ ভিসা, পাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানের সামনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে জামাল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি।  নিহত জামাল মিয়া চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার সিপাই কান্দি গ্রামের ছিডু মিয়া বেপারির ছেলে। তার বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামাল মিয়া ছয় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। পরে দেশটির রাজধানীতে ভ্যারাইটি সুপারশপে ব্যবসা করতেন। বুধবার রাতে তিনি নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আগে থেকে প্রস্তুত থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে  গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।  জামালের পরিবারের দাবি, এ তাকে পরিকল্পনা মাফিক হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ মর্গে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনায় তার দোকানের এক কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে ওই কর্মচারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  নিহতের বাবা মো. ছিডু মিয়া বেপারী জানান, তার ছেলে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশে গিয়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ব্যবসা করছিলেন। এখন সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের বাড়ি সিপাই কান্দিতে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,  নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতের একজন সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ইতিপূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
আল মামুন। সংগৃহীত ছবি
কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নান্দাইলের যুবকের মৃত্যু

‘অহন আমি কিবায় চলবাম? এই অবুজ সন্তানরে কিবায় পালবাম? আমি আমার স্বামীর লাশটা ফেরত চাই। আর যারা আমার স্বামীরে ধোঁকা দিয়া এ যুদ্ধের মুখে পাডাইছে, আমি ওই অপরাধী দালালরার বিচার চাই!’—সাড়ে তিন বছর ও মাত্র ৫ মাস বয়সী দুই দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে বুকে জড়িয়ে এভাবেই বিলাপ করছেন ভাগ্যহত মহিমা আক্তার।     উচ্চ বেতনে ‘ইলেকট্রনিক শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর রাশিয়ায় গত প্রায় ৫ মাস আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁর স্বামী আল মামুন (২৫)। কিন্তু দালালের নির্মম প্রতারণায় শ্রমিকের বদলে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মারণাস্ত্র। বাধ্য করা হয়েছিল ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিতে। অবশেষে ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হলো ময়মনসিংহের নান্দাইলের এ যুবককে।     একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা তাঁর পুরো পরিবার।    আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।     পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মামুন। ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য এজেন্সির সঙ্গে তাঁর ৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল।     এ বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে ব্যাংক থেকে ঋণ এবং চড়া সুদে ধারদেনা করতে হয়েছিল পরিবারটিকে।     পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পর ওই প্রতারক এজেন্সি এবং একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র মামুনসহ তাঁদের ৩০ জনের দলটিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাদের কোনো কাজের সুযোগ না দিয়ে, জোরপূর্বক সামরিক পোশাক পরিয়ে ও হাতে অস্ত্র দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একেবারে প্রথম সারিতে (ফ্রন্টলাইন) পাঠিয়ে দেওয়া হয়।     গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের সহকর্মী রাজন মিয়ার একটি ফোনকলে মামুনের মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।     রাজন মিয়া জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।     ওই একই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন। পরে রাশিয়ার একটি হাসপাতাল থেকে কোনোমতে পালিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।   মামুনের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। বাগরুদ্ধ বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম আর দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে স্ত্রী মহিমার কান্না থামছেই না। যে স্বপ্ন নিয়ে মামুন বিদেশ গিয়েছিলেন, তা এখন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চড়া সুদের ঋণের বোঝা আর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন মহিমা। এলাকাবাসীদের কথা অন্তত মামুনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ মাটিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয় এবং এই জঘন্য পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।     এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারূর ইসলাম জানান, বিষয়টি কেউ থানায় জানাননি। পরিবার যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে গুরুত্ব: ওমানে ১০ হাজার কর্মীর নিয়োগ চুক্তি

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওমান সরকার। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষি খাতে এবং বাকি ৫ হাজার নেওয়া হবে মৎস্য খাতে।     বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদের নেতৃত্বে আসা এক প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা ও চুক্তি সই হয়। আগামী মাসে ওমানের আরেকটি দল এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করবে।       পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের সময়ে নানা কারণে ওমানের ভিসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে ভিসা চালুর জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশিরা আবার নিয়মিত সেখানে যেতে পারেন। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের ওমানে পাঠাতে সরকার বেশি জোর দিচ্ছে। ওমান সরকারও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।       বৈঠকে ওমানের রাজপরিবারের প্রতিনিধি আল সাইয়্যেদ দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
টেনেসিতে বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য ১০ ও ১১ অক্টোবর কনস্যুলার সেবা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা দিতে বিশেষ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর নক্সভিলে এ সেবা দেয়া হবে।   কনস্যুলেটের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ইউনিভার্সিটি অব টেনিসি নক্সভিলের (ইউটিকে) রুম নম্বর ৩০০, আইএএমএম সদর দপ্তর-ইউটি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং সদর দপ্তর, ২৬৪১ ওএসএফ ক্যাম্পাস ওয়ে, নক্সভিল, টেনেসি ৩৭৯২০’ ঠিকানায় কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা এবং ১১ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চলবে।   বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে থাকছে—   ই-পাসপোর্ট: অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি ও ছবি নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। আবেদন ফি অনলাইনে পরিশোধের পর কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ১০% সারচার্জসহ ফি প্রযোজ্য হবে। মেইলের মাধ্যমে নিজ ঠিকানায় পাসপোর্ট পেতে আগ্রহীদের ইউএসপিএস-এর প্রিপেইড রিটার্ন এনভেলপ সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।   নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) এনডোর্সমেন্ট ও ভিসা: প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে। ফি ৮৮ ডলার।   পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতা/দাতাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে।   অন্যান্য ডকুমেন্ট সত্যায়ন: প্রয়োজনীয় সব অরিজিনাল ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।   জন্ম নিবন্ধন: বাংলাদেশী নাগরিকদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ আবেদন করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে https://bris.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।   ট্রাভেল পারমিট: যাদের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ যেতে হবে, তাদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ট্রাভেল পারমিটের আবেদন করা যাবে।   কনস্যুলেট জানিয়েছে, সব সেবা সরাসরি উপস্থিত হওয়ার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে। তবে সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফরম ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কনস্যুলার সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। তবে কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ, মিয়ামি-এর ব্যাংক পরিচালিত সেবা ফি ফেরতযোগ্য নয়।   প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্যের জন্য কনস্যুলেটের ওয়েবসাইট https://florida.mofa.gov.bd দেখার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১৫৫ বাংলাদেশিসহ আটক ২৩৪

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে পৃথক অভিযানে তিনটি কারখানা থেকে ১৫৫ বাংলাদেশিসহ ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। আটক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং অনুমোদিত পাশ বা পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।   জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি মুয়ারের পারিত জামিল এলাকায় দুটি আসবাবপত্র কারখানায় চালানো হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী ‘অপস মাহির’ অভিযানে ১৭৬ পুরুষ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ বাংলাদেশি, ২৭ নেপালি, দুজন চীনা এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক।   অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা দুই স্থানীয় নারী কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।   মুয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান মোহাম্মদ ইজওয়ান ওসমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে অভিযানটি চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পুরো কারখানা এলাকা ঘিরে রাখায় তারা পালাতে পারেননি।   অন্যদিকে, বাতু পাহাতের জালান আয়ার হিতাম-ইয়ং পেং এলাকায় একটি কাঠের কারখানায় দুপুর ১২টার দিকে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাত নারীসহ ৫৮ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়।   আটক শ্রমিকদের মধ্যে ২৪ মিয়ানমারের, ১৬ ভারতের, আটজন বাংলাদেশের, সাতজন চীনের, দুজন নেপালের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। এ অভিযানে একজন স্থানীয় লরি চালককেও আটক করা হয়েছে। বাতু পাহাত ইমিগ্রেশন বিভাগের অপারেশন প্রধান ইখমাল ফাউজির নেতৃত্বে ৫৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অভিযানে অংশ নেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক বিদেশি শ্রমিকদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯-এর বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং নির্ধারিত পাশ বা পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   অভিযান শেষে আটক ২৩৪ বিদেশি শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জোহরের পেকান নানাস, পন্তিয়ানের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে গাড়ি দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   স্থানীয় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত প্রবাসীরা জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।   স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। তবে নিহত অন্য দুজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকায়ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।   নিহত অন্য দুজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এক দোকান দিয়ে শুরু, এখন ৮০ দোকানের ব্যবসা: স্পেনে আল-আমিনের সাফল্যের গল্প

অচেনা দেশ, সীমিত পুঁজি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই তিনকে সঙ্গী করেই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আল-আমিন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগের পথচলা এখন প্রায় দুই দশকের।   মালয়েশিয়া থেকে পর্তুগাল, এরপর স্পেন—প্রবাসে জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে আল-আমিন এখন স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে যুক্ত একটি বিস্তৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলমূল ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তার প্রতিষ্ঠান ‘Dhaka Frutas’ ইতোমধ্যে পরিচিত একটি নাম।   তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, পারিবারিক সহযোগিতা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মানসিকতা।   ছোট উদ্যোগেই বড় স্বপ্ন: প্রবাসে ব্যবসা শুরু করার সময় আল-আমিনের সামনে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। নতুন দেশ, ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তাকে এগোতে হয়েছে। ফল ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে বাজার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন তিনি। ক্রেতাদের চাহিদা বোঝার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন। সময়ের সঙ্গে ছোট উদ্যোগটি বিস্তৃত হতে থাকে। ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে Dhaka Frutas Y Verduras Alimentacion SL। প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ফল, সবজি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য, বিপণন ও বিতরণ। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হয়েছে।   সাফল্যের সূত্র লক্ষ্য ও দায়িত্ববোধ: আল-আমিনের কাছে উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা নয়। তার মতে, সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। নিজের একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষ যখন নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং লক্ষ্য থেকে সরে না যায়, তখন সাফল্য একদিন তার কাছে আসবেই।’ দ্রুত বড় হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ব্যবসার ভিত্তি শক্ত করাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিনের কাজ, মানুষের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন বলে জানান তিনি।   মাদ্রিদে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার পরিচিতি: স্পেনের মাদ্রিদে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে আল-আমিনকে স্থানীয় বাজারের নিয়মকানুনের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০২৬ সালে স্পেনের সংবাদপত্র El País মাদ্রিদের অভিবাসী উদ্যোক্তাদের ফলমূল ব্যবসা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘Dhaka Frutas’-এর নাম উল্লেখ করে। আল-আমিনের জন্য এটি যেমন ব্যবসায়িক স্বীকৃতি, তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতারও একটি উদাহরণ।   সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান: নিজের অর্জনকে কখনোই একক সাফল্য হিসেবে দেখেন না আল-আমিন। তার মতে, দীর্ঘ পথচলায় পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তার সহোদর আবু বকর ব্যবসার বিভিন্ন কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন। ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারিবারিক সহযোগিতাও তাদের উদ্যোগকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ২০২১ সালে আল-আমিন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আবু বকর সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ব্যবসার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পারিবারিক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।   কঠিন সময়ের মানুষদের ভুলে যাননি: আল-আমিন মনে করেন, একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে শুধু নিজের শ্রম থাকে না। কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকেন, তাদের অবদানও মনে রাখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘যারা কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সাফল্যের সময় তাদের কথা মনে রাখা এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মানুষের দায়িত্ব।’ এই ভাবনা থেকেই প্রতিবছর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেন তিনি। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার বাইরে এসব আয়োজন তার কাছে সম্পর্ক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ।   তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বার্তা: প্রবাসে এসে ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ। তাদের উদ্দেশে আল-আমিনের পরামর্শ—সাফল্যের জন্য তাড়াহুড়ো না করে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। তার মতে, ব্যবসায় শুধু পুঁজি থাকলেই সফল হওয়া যায় না। প্রয়োজন ধৈর্য, সততা, মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রায় ১৯ বছরের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, ছোট ছোট অর্জনই একসময় বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। পথে বাধা আসবে, ভুলও হতে পারে; কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে আবার শুরু করার মানসিকতাই একজন উদ্যোক্তাকে এগিয়ে নেয়।   এক দোকান থেকে ৮০—এক দীর্ঘ পথচলা: মালয়েশিয়ায় শুরু হওয়া প্রবাসজীবন, এরপর পর্তুগাল এবং সবশেষে স্পেনের মাদ্রিদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া—আল-আমিনের পথচলায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে যাননি। একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হওয়ার এই যাত্রা একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের শ্রম, ধৈর্য, ঝুঁকি, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই। আল-আমিনের গল্প দেখায়, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা শুধু চাকরি বা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুযোগ ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে তারাও ব্যবসা গড়ে তুলে স্থানীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন। একটি ছোট দোকান থেকে আজকের বিস্তৃত ব্যবসায়িক পরিসর—আল-আমিনের এই যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রবাসে স্বপ্ন দেখা অনেক বাংলাদেশি তরুণের জন্যও অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সঙ্গে ফুটসাল খেললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রীতি ফুটসাল ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার নেতৃত্বাধীন সফরসঙ্গী দল বাংলাদেশি প্রবাসীদের ফুটবল ক্লাব (বিডিএফসি) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় কুয়ালালামপুরের লালাপোর্ট ফুটসাল ইনডোর স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছেলে আয়ান এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরীও খেলায় অংশ নেন।   ম্যাচে প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন আমিনুল হক নিজেই। খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রবাসীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।   এ সময় বিডিএফসি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিডিএফসি মালয়েশিয়ার রাফিজ রহমান রাসেল, মো. সাইফুদ্দিন, আবদুল মোবিন ভূঁইয়া, মোস্তফা ইমরান রাজু, আলী আসগর মিলন, সোহাগ আহম্মেদ, যুবায়ের রহমান, ইকবাল হুসাইন, শাহজাহান আলম ও বাপ্পী কুমার দাসসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   খেলা শেষে আমিনুল হক বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফুটসাল ম্যাচে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।   প্রবাসীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে থেকেও বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের খেলাধুলা এগিয়ে নেওয়ার যে আন্তরিকতা তিনি দেখেছেন, তাতে তিনি অভিভূত।   তিনি বলেন, খেলাধুলা প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।   আমিনুল হকের মতে, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের নিয়ে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬