দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মুন্সীর (৪০) মরদেহ দেশে এনে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর শুক্রবার সকালে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। আসাদুজ্জামান মুন্সী উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের মরহুম আবুবকর মুন্সীর ছেলে। গত ৩০ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ইডেনভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহকর্মী, বন্ধু এবং একই এলাকার প্রবাসীরা মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরহুমের মেজ ভাই কামরুজ্জামান মুন্সী বলেন, আমার বড় ভাই ২০১৪ সালে চাকরির সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। পরে সেখানে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসাও শুরু করেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আমরা তার সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন। অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা। প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন, ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’ প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন। বুধবার (৫ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিস সামিয়া ইসরাত রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান এসএম গোলাম সরোয়ার। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অংশ নেন পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে প্রবাস থেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। সভায় বক্তারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বর্তমান সরকার ও দূতাবাসের কাছে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-লিসবন সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু এবং ঢাকায় পর্তুগাল দূতাবাস স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
সৌদি আরবে কর্মরত এক ফিলিপাইনি প্রবাসী নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তার নিজ দেশে গিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন এক সৌদি যুবক। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ওই নারী সৌদি আরবে একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে পরিবারের এক তরুণ সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ওই নারী অনুরোধ করেন, প্রস্তাবটি যেন তার পরিবারের উপস্থিতিতে দেওয়া হয়। প্রেমিকার এই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সৌদি যুবক ফিলিপাইনে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উপহারসামগ্রী ও ফুল নিয়ে কনের বাড়িতে প্রবেশ করছেন। স্থানীয় রীতিনীতি মেনে তাকে স্বাগত জানায় কনের পরিবার। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রস্তাব গ্রহণের দৃশ্যও দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে আন্তরিক ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্মানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
মালদ্বীপে গত এক সপ্তাহে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। হাইকমিশন সূত্র জানায়, কয়েকজন প্রবাসী কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৩ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম রওশন কর্মস্থলে মিক্সার মেশিন দুর্ঘটনায় নিহত হন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ২১ বছর বয়সী সোলাইমান মাতব্বর ভুলবশত রাসায়নিক পদার্থ পান করার পর মারা যান বলে জানা গেছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমান নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করছে। এ ছাড়া স্ট্রোক ও হৃদরোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন— হুমায়ুন কবির (৪৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সায়েদ মোল্লা (৪৪), শরীয়তপুর মকবুল মিয়া (৪৭), কুমিল্লা মো. শেখ ফরিদ (৪৫), ফেনী দেলোয়ারা নবী (৭০), বরিশাল হাইকমিশন জানিয়েছে, হুমায়ুন কবির ও সায়েদ মোল্লার মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেক প্রবাসী শারীরিক ও মানসিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন। বিশেষ করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে।
মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপো পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনের সময় ক্যাম্পে আটক থাকা ৯৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সোমবার (৩ আগস্ট) হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিপোটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই দিনে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই শেষে ২৬টি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। অবশিষ্ট ট্রাভেল পারমিটও শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে শাস্তি ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ চালু থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে অনেক বাংলাদেশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। হাইকমিশন জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন এবং ট্রাভেল পাস ইস্যুর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশি অতীতে অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্যান্য দেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জেল ও ক্যাম্প পরিদর্শন করলেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খুব কম দেখা যায়। তবে বর্তমান লেবার মিনিস্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও ক্যাম্প পরিদর্শনের কারণে সেই অভিযোগ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় রেম্বাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী লাডাং সুয়া মাঙ্গিস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্তরা একই বাড়িতে বসবাস করতেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এখনো নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। আটক ব্যক্তিকে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদনসহ হাজির করা হয়েছে। মামলাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিট ২০২৬-এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ। সামিটটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “দ্য ফিউচার অব দ্য সোশ্যাল ইকোনমি”। এটি মালয়েশিয়ার ১৩তম জাতীয় পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩) এবং সিক্স হেলিক্স ইনোভেশন মডেল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত একটি জাতীয় নীতি পরামর্শমূলক সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মোরদি আনাক বিমল, এপিপিজিএম-এসডিজির সচিবালয় প্রধান দাতুক ড. ডেনিসন জয়সুরিয়া এবং জাতিসংঘের মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের আবাসিক সমন্বয়কারী নিকোলাস মিন্ট উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনেটর ড. হাজি জুফিতরি জোহা। আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ১৩টি প্রদর্শনী বুথের মধ্যে ইয়ুথ হাবের বুথটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলে আয়োজক সূত্র জানিয়েছে। সংস্থাটির বুথে ইকো-প্রিন্ট, ক্লে জুয়েলারি, গার্মেন্টস বর্জ্য থেকে তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল), নারী ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ উপস্থাপন করা হয়। ইয়ুথ হাবের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড কালচারাল বিভাগের প্রধান নিয়ান সাহা-র নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নেন এসডিজি এজেন্ট রফিকুল ইসলাম, জারিফ হামিম ইরাম এবং কাজী নাফিয়া ইসলাম। তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কাছে সংস্থাটির কার্যক্রম তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের যুব নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, প্রযুক্তি শিক্ষা, সামাজিক উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা এসডিজি-৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১৩ ও ১৭ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সামাজিক উদ্ভাবন এবং যুব ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার উই ওয়ান্ট মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স’-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন। সম্মেলন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার ডেলিগেট নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন তরুণ অংশ নিলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রতিনিধি হিসেবে তামরিন অংশগ্রহণ করছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি, কূটনীতি, তরুণ নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা শেখ তামরিন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী সাংবাদিক শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি’র জ্যেষ্ঠ কন্যা। প্রবাসে বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার পিতা শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি বলেন, “এটি একজন বাংলাদেশি ও প্রবাসী বাবা হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।” আন্তর্জাতিক এ মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসে থাকা নেতাকর্মীদের দলীয় আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। সভায় আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী নেতাকর্মীদের অনলাইনের মাধ্যমে সদস্যপদ ফরম পূরণ করে দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়। অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রবাসে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রবাসে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬০০-এর বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। সবশেষ অভিযানে ১৪ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২৩ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানের পর মোট ১২ হাজার ৬১৩ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে মোট ১৪ হাজার ১৫৪ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ১০৩ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৩৯৭ জন শ্রম আইন এবং ৩ হাজার ৬৫৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৪১৮ জনকে আটক করা হয়। একইভাবে, অবৈধভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের অভিযোগে আরও ১৭ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ৩০ হাজার ৬৭৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৫ হাজার ৪২৪ জন বহিষ্কারের আগে ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন করা, আশ্রয় দেয়া বা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি জব্দ এবং অপরাধীর নাম প্রকাশ করার মতো সাজা হতে পারে।
কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয়, নেপালি ও ফিলিপিনো প্রবাসীদের একটি অংশ অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ কার্যক্রমে অর্থ বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘ইয়েপবিট’ নামের একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ‘বনচ্যাট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেই অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকে প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। বিনিয়োগের পর প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পিন কোড দেওয়া হতো এবং সেটি অ্যাপে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টে ডলার যোগ হওয়ার তথ্য দেখানো হতো। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, নতুন সদস্য যুক্ত করলে অতিরিক্ত কমিশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি। তবে গত ১০ জুলাই থেকে অনেক ব্যবহারকারী অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেও টাকা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, শুরুতে কয়েকবার টাকা তোলা সম্ভব হলেও পরে উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে। এক ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম থেকেই তার সন্দেহ ছিল। পরিচিত কয়েকজনকে টাকা তুলতে দেখে এবং বন্ধুর অনুরোধে তিনি ১,৫০০ ডলার বিনিয়োগ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০০ ডলার দেখালেও পরে আর টাকা তুলতে পারেননি। আরেক ভুক্তভোগী সুমন শেট দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার জমা ছিল। তিনি বলেন, শুরুতে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। বেশি মুনাফার আশায় টাকা না তোলায় এখন পুরো অর্থ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় পরিচিত অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্কও নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। কুয়েত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের নীতিমালা যাচাই করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি ও নতুন সদস্য আনলে বেশি কমিশন দেওয়ার প্রলোভন থাকলে সেটি প্রতারণামূলক স্কিম হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রবাসীদের প্রতি তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানান।
ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সরকারি জরিমানা পরিশোধ করে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসের জারি করা এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিয়েতনাম ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি সরকারি চিঠি প্রদান করে। ওই চিঠিতে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার পর ইমিগ্রেশন থেকে এক্সিট পাস সংগ্রহ করে নিজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ফেরা যাবে। দূতাবাস ভুক্তভোগীদের সরাসরি নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামের তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেন না করার জন্যও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, পাসপোর্ট না থাকলে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা ছাড়া এ ধরনের আর্থিক লেনদেন বা দেশে পাঠানোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ট্রাভেল পারমিটের সরকারি ফি ১০ মার্কিন ডলার, তবে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে তা মওকুফ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জরিমানার অর্থ সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের নির্ধারিত কোষাগারে জমা দিতে হবে। যে কোনো প্রতারণার তথ্য বা অভিযোগ উপযুক্ত প্রমাণসহ দূতাবাসের ই-মেইল mission.hanoi@mofa.gov.bd ঠিকানায় পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন। ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের বিষয়ে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭.৪ শতাংশ। ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনকারীদের নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ কিংবা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা বসবাসের সহজ কোনো পথ নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, দুর্বল দাবি কিংবা অসঙ্গত তথ্যের কারণে অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয়ের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া আবেদন সফল হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি বিষয়। এখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর নিজের ক্ষতি হয় না, দেশের মানুষের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার (মাইআইএমএমএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসেনি। তাই এসব কর্মী পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে। জাকারিয়া শাবান বলেন, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত সব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করা হবে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে তারা পালিয়ে যেতে পারেন। তিনি আরও জানান, এসব বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। কারণ, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার স্থাপন করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাস অনুমোদন দেন। তার ভাষায়, যারা সিস্টেম সম্পর্কে জানতেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়া-এর সঙ্গে যৌথ ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা সম্ভব হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ার হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস বা যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো কাজে ব্যবহৃত বিশেষ হার্ডওয়্যার হিসেবেও এ ধরনের ডংল পরিচিত। জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাস থেকেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করেছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ‘অপস ক্র্যাক’ পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি এসব সন্দেহভাজনকে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
ভিয়েতনামে বিধি-বহির্ভূতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরিমানা পরিশোধ করে বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসের এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ইমিগ্রেশন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিপোর্ট করার পর ভিয়েতনামের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি সরকারি পত্র প্রদান করবে। ওই পত্রে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাবে জরিমানার অর্থ জমা দিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা এক্সিট পাস সংগ্রহের পর নিজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ফেরা যাবে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামের কোনো ব্যক্তি কিংবা দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি বাংলাদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে, এমনকি দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, পাসপোর্ট না থাকলে কেবল প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করাই তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকারি ফি ১০ মার্কিন ডলার হলেও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক সময় তা মওকুফ করা হয়। এছাড়া জরিমানার অর্থ সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো ধরনের প্রতারণার তথ্য বা অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণসহ দূতাবাসের ই-মেইল mission.hanoi@mofa.gov.bd-এ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
জনতা ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার ও শিক্ষাবিদ শামীম আহমেদ কোরেশীর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে লন্ডনে এক প্রীতি সম্মিলনী, মতবিনিময় সভা ও ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট সরকারি এমসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শিক্ষাজীবনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ মুজাককির হোসেন আবদুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মল্লিক শাকুর ওয়াদুদ। মুহাম্মদ তারিফ আহমদ ও কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা সৈয়দ ফারুক আহমেদ চৌধুরী। শামীম আহমেদ কোরেশীর আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মিলনমেলায় উপস্থিত অতিথিরা সৈয়দপুর গ্রামের শিক্ষাবান্ধব ঐতিহ্য, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সৈয়দ নাহাস পাশা, সৈয়দ শাহীন, কামাল কোরেশী, সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমেদ, সৈয়দ আবুল কাশেম, মল্লিক শাকুর ওয়াদুদ, মুজাককির হোসেন আব্দুল হক, মাশূক ইবনে আনিস, মুহাম্মদ তারিফ আহমদ, দিলু নাসের, সৈয়দা রেখা ফারুক, সৈয়দ ফারুক হোসেন চৌধুরী, শাহ আলম কোরেশী, এমদাদ আলী, সৈয়দ সুমন, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও রফিকুল হাসান হিরণ প্রমুখ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন শিপা, উবায়দা সুলতানা শাহীন, নাজমুন নাহার ওয়াদুদ নাজু ও সৈয়দা শোভা কাশেম। সংবর্ধিত অতিথি শামীম আহমেদ কোরেশী তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমার জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। লন্ডনের মতো ব্যস্ত নগরীতে আত্মীয়স্বজন ও সিনিয়র-জুনিয়রদের আন্তরিকতায় আমি অভিভূত।” প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আপনাদের মাধ্যমে আমাদের সমাজ শিক্ষাদীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।” অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে সিলেট এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মরহুম সালেহ আহমেদ রানু, সমাজচিন্তক ফয়জুল হক মনিসহ প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করতে দেশটির মানবপাচার দমন সংক্রান্ত দপ্তর এটিপসম (ATIPSOM)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা। মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন এটিপসম-এর পরিচালক আসানী বিন লাদজানি। বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের সব স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষত নারী ভিকটিমদের উদ্ধার, আশ্রয়, পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া মানবপাচার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— শ্রম কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রাব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি ফাল্গুনী বাগচী।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং কর্মরত দেশের আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলতে উৎসাহিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইন অনুসরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বেশকিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে করণীয়গুলো হলো- ১) কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা। ২) পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। ৩) চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা। ৪) অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) থেকে সাবধান থাকা। ৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। এ ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বর্জনীয় কিছু বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো- ১) সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা। ২) ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করা। ৩) কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা। ৪) যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) না দেওয়া। ৫) কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা। ৬) নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করা। ৭) ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া। ৮) ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া। ৯) কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।
গ্লাসগোর আকাশে শীতের মেঘ ভেসে বেড়ায়। তখন ছোট্ট অদ্রি হোসাইনের পৃথিবীটা দুই রঙে আঁকা থাকে। একদিকে তার স্কুল, খেলার মাঠ, ইংরেজি ভাষায় বন্ধুত্ব আর স্কটিশ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। অন্যদিকে ঘরের দরজা পেরোলেই বদলে যায় সেই পৃথিবী। সেখানে মায়ের মুখে বাংলা গল্প, বাবার কণ্ঠে বাংলাদেশের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলা আর শিকড়ের সঙ্গে এক অদৃশ্য সম্পর্ক। অদ্রির বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। তার ছোট ভাই আরশাদ হোসাইনের বয়স মাত্র দেড় বছর। দুজনের জন্ম গ্লাসগোতে। এই শহরই তাদের প্রথম পরিচয়, প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম পৃথিবী দেখা। তাদের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশ। অদ্রিকে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কোথাকার?’ সে বলে, ‘আমি গ্লাসগোর।’ এটাই তার বেড়ে ওঠার শহর। পরিবারের গল্পে, মায়ের ভাষায়, বাবার স্মৃতিতে বাংলাদেশও তার নিজের হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এই গল্পে আরও একটি ছোট্ট মুখ আছে। তার নাম শেহনাজ রুবা হোসেন। বয়স আড়াই বছর। বাবা মো. শাহিনুর হোসেন রুবেল, মা সুইটি আক্তার। জন্ম তারও গ্লাসগোতেই। এখনও পৃথিবীকে চিনছে ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে। বাংলা আর ইংরেজি একসঙ্গে শুনেই বড় হচ্ছে সে। মা যখন বাংলায় আদর করে ডাকেন, আর বাইরে বেরোলেই চারপাশ ভরে যায় ইংরেজি কথোপকথনে, তখন অজান্তেই তার ভেতরেও জন্ম নিচ্ছে দুই সংস্কৃতির এক নতুন পরিচয়। প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিশুদের জীবন আসলে দুই সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন। স্কুলে তারা ব্রিটিশ সমাজের অংশ। ইংরেজিতে পড়ে, ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখে, স্কটিশ বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়। বাড়িতে তারা বহন করে বাবা-মায়ের ফেলে আসা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি আর আবেগ। অদ্রি ও আরশাদের বাবা সাগর মনে করেন, সন্তানদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়ের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘একটা সন্তান শুধু যে দেশে জন্মায়, তার পরিচয় শুধু সেই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের ইতিহাস, ভাষা আর সংস্কৃতিও তার পরিচয়ের অংশ।’ প্রবাসী পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। সন্তানকে নতুন দেশের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া, আবার নিজের সংস্কৃতির সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করা। গ্লাসগোর অনেক বাংলাদেশি পরিবারেই এখন এমন চেষ্টা দেখা যায়। সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় শিশুরা ব্রিটিশ স্কুলে যায়। ইংরেজিতে পড়াশোনা করে। ছুটির দিনে কেউ বাংলা শেখে, কেউ বাংলা গান শোনে, কেউ পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের গল্প শুনে বড় হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে অদ্রির পরিচয় মায়ের রান্নার গন্ধে, পরিবারের গল্পে, উৎসবের আনন্দে। পহেলা বৈশাখের রঙিন পোশাক, ঈদের সকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার সঙ্গে তার নিজের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠছে। আরশাদ এখনও খুব ছোট। কথা বলতে শেখার বয়স। তার চারপাশেও তৈরি হচ্ছে সেই দুই সংস্কৃতির পরিবেশ। একদিন সেও হয়তো জানবে, তার জন্ম গ্লাসগোয় হলেও তার পরিবারের আবেগ আরও দূরের একটি দেশে। শেহনাজ রুবা হোসেন এখনও বাংলাদেশকে চেনে না। তার ছোট্ট হাত ধরে যখন বাবা-মা বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যান, কিংবা ঈদের সকালে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তখন সেই পরিবেশই তার অজান্তে পরিচয়ের ভিত গড়ে দেয়। বড় হয়ে হয়তো সেও প্রশ্ন করবে, ‘বাংলাদেশ কোথায়?’ তখন উত্তরটি শুধু মানচিত্রে পাওয়া যাবে না, পাওয়া যাবে পরিবারের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় আর ভাষার টানে। প্রবাসী শিশুদের জন্য দেশ অনেক সময় মানচিত্রের কোনো জায়গা নয়। দেশ হয়ে ওঠে স্মৃতির গল্প। দাদু-দাদির মুখে শোনা কাহিনি, বাবা-মায়ের শৈশবের কথা, ঘরের খাবারের স্বাদ আর মাতৃভাষার মায়া। তারা বাংলাদেশের গ্রামের মাটিতে বড় হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে ভেজেনি, পাড়ার মাঠে খেলেনি, গ্রামের পথ ধরে স্কুলে যায়নি। বাবা-মায়ের স্মৃতির মধ্য দিয়ে তারা সেই দেশের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে। গ্লাসগোর কোনো এক শীতের সন্ধ্যায় অদ্রি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখবে কুয়াশায় ঢাকা শহর। বাইরে স্কটল্যান্ডের প্রকৃতি, ঘরের ভেতরে বাংলা ভাষার উষ্ণতা। একইভাবে কোনো এক বিকেলে শেহনাজ রুবাও হয়তো জানালার কাঁচে হাত রেখে বৃষ্টিভেজা আকাশ দেখবে, আর ঘরের ভেতর ভেসে আসবে রবীন্দ্রসংগীত কিংবা মায়ের কণ্ঠে শোনা কোনো বাংলা ছড়া। এই ছোট ছোট মুহূর্তই একদিন তাদের শিকড়ের গল্প হয়ে থাকবে। এই দুইয়ের মাঝেই তৈরি হবে তাদের নিজস্ব পরিচয়। তারা শুধু গ্লাসগোর সন্তান নয়, শুধু বাংলাদেশের উত্তরাধিকারীও নয়। তারা দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন। অদ্রি, আরশাদ, শেহনাজ রুবাদের মতো প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুরাই আগামী দিনের বিশ্বনাগরিক। তারা কেউ বিজ্ঞানী হবে, কেউ শিল্পী, কেউ চিকিৎসক, কেউ উদ্যোক্তা। পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের ভেতরে কোথাও বেঁচে থাকবে একটি ছোট্ট শব্দ বাংলা। গ্লাসগোর আকাশে তাদের স্বপ্ন উড়বে। আর সেই স্বপ্নের গভীরে, নীরবে, অমলিন হয়ে লুকিয়ে থাকবে এক টুকরো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর সভাপতি মামুনুর রশীদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসব সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সার্বিক কল্যাণ এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ। প্রবাসী সাংবাদিকরা যেন কোনো ধরনের বাধা, ভয় বা চাপ ছাড়াই পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চা করতে পারেন, সে বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। সাক্ষাৎকালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত একটি বিশেষ সুভেনিয়ার কোট পিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। তারা আগ্রহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন বলে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।