বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সেরা অ্যাথলেটদের তালিকায় অন্যতম নাম সাকিব আল হাসান। প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের মর্যাদা অর্জন করেছেন তিনি।
তবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না এই তারকা ক্রিকেটার। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই অনিশ্চয়তায় ঝুলছে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। দেশে ফিরতে চাইলেও সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতায় সেটি সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়েকটি মামলার জটিলতা।
তবুও ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, ক্রিকেটার সাকিবকেই মূল্যায়ন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও বয়সভিত্তিক কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর।
তিনি বলেন, সাকিবের ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো ওর ব্যাপার। ভালো-মন্দ বিচার করার জন্য কোর্ট আর সমাজ আছে। কিন্তু একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ব্র্যান্ড। আগামী ১০০ বছরে একটা সাকিব পাব কি না, আমরা জানি না। তবে সাকিব আল হাসান ইজ সাকিব আল হাসান।
৩৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে এর আগেও প্রশংসা করেছিলেন বিসিবির এই পরিচালক। তার মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব এমন এক নাম যাকে সময়ের সঙ্গে মেলানো কঠিন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হারলেও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে ভারত। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে আজ ভারত হাঁকিয়েছে ১১টি ছক্কা। ফলে ভারতের মোট ছয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০০টি। প্রতি ম্যাচে ভারত গড়ে ১০টি করে ছয় মেরেছে। এক বছরে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার নজির গড়েছে ভারতীয় দল। এবছর তারা ৪০০টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ১৪২টি ছক্কা হাঁকিয়েছে ভারত। এর আগে গত বছর অস্ট্রিয়া ৩২৬টি ছক্কা মেরেছিল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আগের রেকর্ড ছিল ভারতেরই। তারা ২০২২ সালে ৪০ ম্যাচে ২৮৯টি ছয় মেরেছিল। এবার আগের পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। সবচেয়ে বেশি ৮৬টি ছয় মেরেছেন অভিষেক শর্মা। এরপর রয়েছেন ঈশান কিশন (৬০) এবং সঞ্জু স্যামসন (৫০)। অলরাউন্ডার নমন ধীর ৪০০তম ছয়টি মেরেছেন। ১৯তম ওভারে ব্লেয়ার টিকনারের বল নমনের ব্যাটের কানায় লেগে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছয় হয়ে যায়। আজ হ্যামিল্টনে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করে ভারত। দলের হয়ে ঈশান কিশন ৩২ বলে ৬১ রান করেন। তবে টিম সেইফার্টের ৯৩ রানের ইনিংসে ১২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের দাপুটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
ক্রিকেটে সেরাদের স্বীকৃতি দেওয়ার আয়োজনে বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এত দিন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্ষিক পুরস্কার ঘোষণা করলেও এবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফুটবলের ব্যালন ডি’অর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল অনার্সের আদলে আয়োজনটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত করতে চায় তারা। দুই বছরের বিরতি শেষে ২০২৭ সালে ফিরতে যাচ্ছে আইসিসি অ্যাওয়ার্ড। সেখানে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দুই বছরের পারফরম্যান্স একত্র করে একটি পুরস্কারের চক্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির লক্ষ্য, ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়, দল ও সংগঠকদের একই মঞ্চে এনে তাদের অর্জন উদযাপনের জন্য আরও বড় পরিসরে সেটি আয়োজন করা। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর কাছে এমনটা নিশ্চিত করেছে আইসিসির একটি সূত্র। সেই লক্ষ্যে ২০২৫ সালের পুরস্কার ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি ছিল অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের ধরন নতুন করে ভাবার পরিকল্পনারই অংশ। আইসিসির এক মুখপাত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে বলেছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আইসিসি তাদের বার্ষিক পুরস্কার ডিজিটাল মাধ্যমে দিয়ে আসছে। তবে এই আয়োজনটি কেমন হওয়া উচিত এবং এর মাধ্যমে কী অর্জন করা সম্ভব, তা নতুন করে ভাবার জন্য আমরা সচেতনভাবেই ২০২৫ সালের আয়োজন পিছিয়ে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পুনর্বিবেচনার ফল হিসেবে আমরা এখন আইসিসি অ্যাওয়ার্ডের নতুন একটি কাঠামো তৈরির কাজ করছি। ২০২৭ সালে এটি ফিরবে এবং ২০২৫-২৬ সালকে একটি মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়, দল ও অর্জনগুলো উদযাপনের জন্য আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ আয়োজনের মঞ্চ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” আইসিসির এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য পুরস্কারটির মর্যাদা ও গুরুত্ব বাড়ানো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল মাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকা এই আয়োজনকে এবার স্বশরীরে উপস্থিতিনির্ভর বড় অনুষ্ঠানে রূপ দিতে চায় সংস্থাটি। তবে অনুষ্ঠানের ধরন, ভেন্যু, পুরস্কারের বিভাগ ও বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের চরম বিপর্যয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। টানা তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেয়ে চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরেছে রেড ডেভিলরা। এই হারে ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ এখন চরমে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচে জয়হীন রইল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের পর যা তাদের দীর্ঘতম জয়হীন থাকার রেকর্ড। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এটি ম্যানইউর চতুর্থ পরাজয়। এই হারে টেবিলের ১৬ নম্বরে নেমে গেছে তারা, রেলিগেশন জোন থেকে অবস্থান মাত্র ১ পয়েন্ট ওপরে। বাজে শুরুর পরও পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্যারিক, কিন্তু এই হারের পর তার কোচিং ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। প্রথম অর্ধে কিছুটা আশা দেখালেও বিরতির পরপরই খেই হারিয়ে ফেলে ইউনাইটেড। বিরতির ঠিক পাঁচ মিনিট পর ইউনাইটেড রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চেলসিকে এগিয়ে নেন মরগান রজার্স। অত্যন্ত ছান্দিকভাবে ইউনাইটেড ডিফেন্স চিরে বল জালে পাঠান এই চেলসি তারকা। এর ১৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে চেলসির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোল পামার। ডি-বক্সের ভেতর বলের দিকে না তাকিয়ে ওয়েসলি ফোফানার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করার অপরাধে ভিএআরের পর্যালোচনায় পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে। লাল কার্ডের পর পামার পেনাল্টি থেকে গোল করতেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। জাবি আলোনসোর অধীনে মৌসুমে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া চেলসি উইঙ্গার এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও অল্পের জন্য তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। প্রথম অর্ধে ইউনাইটেডও অবশ্য ইতিবাচক ফুটবল খেলেছিল। মাথিউস কুনহা খুব কাছ থেকে হেডে গোল করলেও অফসাইডের কারণে ভিএআর তা বাতিল করে। একাদশে ফেরা ব্রুনো ফের্নান্দেস একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন এবং আমাদ দিয়ালো দুই-দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও চেলসি গোলরক্ষক মাইক পেনডার্সকে পরাস্ত করতে পারেননি। তবে বিরতির পর সেই ধার ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় রেড ডেভিলরা। প্রথম অর্ধে চেলসি সমর্থকদের কাছ থেকে কিছুটা দুয়ো দিতে দেখা গেলেও দ্বিতীয় অর্ধে চেলসির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সেই অসন্তোষ মিটিয়ে দেয়। রজার্সের গোল চেলসিকে কাঙ্ক্ষিত গতি এনে দেয়, আর তিন মিনিটের ব্যবধানে মার্তিনেসের দুই হলুদ কার্ড ও পামারের গোল ম্যাচ পুরো চেলসির নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়। চেলসি বিকল্প খেলোয়াড় ভালেনতিন বারকো শেষের দিকে আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ইনজুরি টাইমে ইউনাইটেডের ব্রায়ান এমবেউমোর একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এই হারের ফলে রেলিগেশন জোনে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে গেছে ক্যারিকের দল। অন্যদিকে এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে চেলসি।