অর্থনীতি

পোশাক শিল্পে কারখানা বন্ধের ধাক্কা, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

Admin অক্টোবর ০১, ২০২৫ 0

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্পে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অভিঘাত, ঋণের বোঝা, শ্রমিক অসন্তোষ ও কার্যাদেশ সংকট মিলিয়ে খাতটি এখন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এর ফলে বেকার হয়ে পড়ছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, সমান্তরালে অন্যান্য খাতেরও বহু কারখানা বন্ধ হচ্ছে। নতুন কারখানা চালুর প্রবণতা থাকলেও তা সংকট নিরসনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার কৌশল পুনর্গঠন না করলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।

 

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮২টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় এক লাখ ৯ হাজার ২৭৫ শ্রমিক। একই সময়ে ১৬৫টি নতুন কারখানা সদস্যপদ লাভ করলেও সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৬৬ জনের। অর্থাৎ এক বছরেরও বেশি সময়ে মোট ১৭টি কারখানা কমে গেছে এবং নিটভাবে ১১ হাজার ৪০৯ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

 

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “কারখানা খোলা ও বন্ধ হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে জটিলতা বেড়েছে। অনেক মালিক দেশ ছেড়ে বাইরে থাকায় কারখানাগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এসেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার অর্ধেক শ্রমিক নতুন কর্মসংস্থানও পাননি।”

 

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন—


১. নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হলেও তা বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার তুলনায় যথেষ্ট নয়।


২. রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অভিঘাত সরাসরি শিল্পে পড়ছে।


৩. ঋণ সংকট ও কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় ব্যবসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে শুধু তৈরি পোশাক খাত নয়, অন্যান্য শিল্পও হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হ্রাসের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিডা ও জাইকার উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

 বাংলাদেশের বিনিয়োগ সেবাকে একীভূত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ ‘বাংলাবিজ ২.০’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।  এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। একটি তথ্যভিত্তিক পোর্টাল হিসেবে বাংলাবিজের প্রথম সংস্করণ ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চালু করা হয়।  সে সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিদ্যমান ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালগুলো সংযুক্ত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। বিডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাবিজ ২.০-তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন: নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন। এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন। বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস (কেওয়াইএ)’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের (আরএম) সাথে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন। এই সংস্করণে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি (বিবিআইডি), যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি (ইউবিআইডি) চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন (এসএসও) সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত  বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তোমোহিদে ইচিগুচি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন, বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে। তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাইকার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে। বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে এমন নতুন ফিচার যুক্ত করা হবে, যা বিনিয়োগের খরচ, সময় ও অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে দেশি বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উপপরিচালক আবু মোহাম্মদ নূরুল হায়াত টোটুল এবং বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের (বিসিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পার্টনার তৌসিফ ইশতিয়াক। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় আগামীকাল শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো

ছবি : সংগৃহীত
ডিএসইতে সূচকের উত্থান, লেনদেন ৬২৬ কোটি টাকা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইতে ৩৯২টি কোম্পানির ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাত বদল হয়। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৪ টাকা। ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৯.০৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৯৩.৩৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৭.২৩ পয়েন্টে এবং শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৮.৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪২.৮৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।  লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি-ডমিনেজ স্টিল, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফাইন ফুডস, তৌফিকা ফুড, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং ওয়ান ব্যাংক। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি-আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আলহাজ টেক্সটাইল, সিএপিএমআই বিবি আইবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং এবং স্যালভো কেমিক্যাল। দর কমার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি- ঢাকা ডাইং, ফার কেমিক্যাল, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, রিং শাইন, সার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, বিবিএস কেবলস, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনে সতর্কতা: ৮–১৩ ফেব্রুয়ারি ‘রেড অ্যালার্ট’

ছবি : সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা হবে সোমবার

ছবি : সংগৃহীত

টানা ৪ দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক

বাংলাদেশে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল: ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ করবর্ষের নতুন দিগন্ত

২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় সূচিত হয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির সকল করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং করদাতাদের হয়রানি মুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।   ২০২৫-২৬ করবর্ষের বিশেষ সময়সীমা বৃদ্ধি: চলতি ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে করদাতাদের ব্যাপক সাড়া এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির সুবিধার্থে এনবিআর কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূলত জাতীয় নির্বাচন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে করদাতাদের অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দিতেই সরকার এই স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে করদাতারা কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বার্ষিক আয়ের বিবরণী জমা দিতে পারছেন।   ২০২৬-২৭ করবর্ষের আগাম প্রস্তুতি: আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্মার্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এনবিআর। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর হিসাবের সুবিধা যুক্ত হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য রিটার্ন দাখিলকে একটি সহজ মোবাইল গেমিংয়ের মতো আনন্দদায়ক করে তুলবে।   কেন এই অনলাইন পদ্ধতি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ? অনলাইন ট্যাক্স সাবমিশন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এখন নানাবিধ সুবিধা ভোগ করছেন: হয়রানি মুক্তি: আয়কর অফিসে যাওয়ার ঝামেলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট থেকে করদাতারা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। সঠিক হিসাব: ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গাণিতিক ভুলের সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু অনলাইনে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় ও বিনিয়োগ রেয়াত হিসাব করে দেয়। তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকার: রিটার্ন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই পাওয়া যাচ্ছে একনলেজমেন্ট স্লিপ ও কর সার্টিফিকেট। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা: করদাতার ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত হচ্ছে।   পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি: এনবিআর-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি হলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।   নিবন্ধিত করদাতা: প্রায় ১ কোটি। যোগ্য করদাতা: প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে কর দেওয়ার যোগ্য সীমায় রয়েছেন। ই-রিটার্ন দাখিল: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ইতিমধ্যে ৩১ লক্ষাধিক করদাতা অনলাইনে তাদের রিটার্ন সফলভাবে জমা দিয়েছেন। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর-এর মাধ্যমে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।   সাধারণ মানুষের সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক করদাতার মাঝে প্রাথমিক দ্বিধা ছিল। এই দ্বিধা কাটাতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন তথ্যমূলক পেজ ও গ্রুপ করদাতাদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।   এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো 'My Lawyer, Income Tax Solution BD' ফেসবুক পেজটি। এই প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাতিঘর হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।   My Lawyer, Income Tax Solution BD পেজটি নিয়মিত লাইভ সেশন, টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং সহজবোধ্য পোস্টের মাধ্যমে কীভাবে ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হয়, তা সাধারণ মানুষকে শেখাচ্ছে। এমনকি জটিল আইনি বিষয়গুলোও তারা খুব সহজে ব্যাখ্যা করছে, যা হাজার হাজার মানুষের করভীতি দূর করতে সাহায্য করেছে।   এছাড়াও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন বিনিয়োগ রেয়াত, ট্যাক্স রিবেট এবং সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি।   উপসংহার ও আহ্বান:  সরকার ও এনবিআর-এর এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের দেওয়া করই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। অনলাইন রিটার্ন দাখিল এখন নাগরিকের অধিকার ও সম্মানের প্রতীক।তাই বিলম্ব না করে বর্ধিত সময়সীমা অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিন। নিজে স্মার্ট হোন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হোন।  

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
স্বর্ণের কানের দুল। ছবি : সংগৃহীত

ভরিতে সোনার দাম কত জেনে নিন

জ্বালানি তেল। ছবি : সংগৃহীত

আরও কমিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরধারী গ্রিন ফ্যাক্টরি ‘হ্যামস গার্মেন্টস’কে বিজিএমইএ’র বিশেষ সংবর্ধনা

0 Comments