জাতীয়

জিএসএ ও ট্রাভেল এজেন্সির কবজায় টিকিটের বাজার

Admin অক্টোবর ০৪, ২০২৫

দেশের আকাশপথে চলছে ভাড়া নৈরাজ্য। ২৫-৩০ হাজার টাকার সাধারণ এয়ার টিকিট যাত্রীকে কিনতে হচ্ছে লাখ টাকায়। বছরের পর বছর একটি সিন্ডিকেট যাত্রীর পকেট থেকে ভাড়ার তিনগুণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ চক্রের কাছে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কঠিনভাবে জিম্মি রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। যুগান্তরের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এয়ারলাইন্স কোম্পানি, কিছু ট্রাভেল এজেন্সি এবং কিছু এয়ারলাইন্স কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে টিকিটের বাজারে এই ভাড়া নৈরাজ্য। বছরের পর বছর চলা এ নৈরাজ্য ও যাত্রী শোষণের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা জারি থাকলেও তা কেউ মানছে না। সিন্ডিকেট কীভাবে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে, এর খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য। এতে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অন্তত ১১টি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি জিএসএ এজেন্ট (গ্লোবাল সেলস এজেন্ট) এবং ৩০টি ট্রাভেল এজেন্সি মালিকের যোগসাজশে চলছে অরাজকতা। তারা গ্রুপ টিকিটের নামে ভুয়া তথ্য দিয়ে একেকটি ফ্লাইটের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ টিকিট ব্লক করে রাখে। এভাবে টিকিট বা সিট ব্লক করে রাখলে ফ্লাইটে সিট স্বল্পতা দেখা দেয়। তখন টিকিটের দাম বেড়ে যায়। আর দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করে রাখা টিকিট বিক্রি শুরু করে সিন্ডিকেট। এভাবে কেনা দামের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে তারা টিকিট বিক্রি করে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এক অনুষ্ঠানে টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তার সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে যুগান্তর এর পেছনের চক্রটিকে সামনে আনার চেষ্টা করে।

প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই গরিব শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা হোক। তাদের কষ্টার্জিত টাকাই দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। টিকিটের গায়ে মূল্য লেখার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে যুগান্তরের অনুসন্ধানে টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি ধাপে সিন্ডিকেটের কারসাজির তথ্য উঠে আসে। বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের পরিচিতি বা প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট রুটে (বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বা উৎসবের সময়ের রুট) টিকিট ব্লক করে রাখে। চক্রটি এয়ারলাইন্সগুলোর গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) ব্যবহার করে কারসাজি করে। তারা যাত্রীর নাম বা পাসপোর্ট নম্বর ছাড়াই বহুসংখ্যক টিকিট বুকিং সিস্টেমে হোল্ড করে। এর ফলে ওই সিটগুলো বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যায়। অনলাইন বা সাধারণ ট্রাভেল এজেন্টের কাছে টিকিট ‘সোল্ড আউট’ দেখায়। অথচ বাস্তবে আসনগুলো খালি থাকে। এভাবে জোগান কম দেখিয়ে চাহিদা বাড়ানো হলে এয়ারলাইন্সের ডায়নামিক প্রাইসিং সিস্টেমে (চাহিদার ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর সিন্ডিকেট নিজেদের হাতে থাকা ব্লক টিকিটগুলো চড়া দামে বাজারে ছাড়ে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে টিকিট কেনেন।

কীভাবে ঘণ্টায় ঘণ্টায় টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয় সিন্ডিকেট, একজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা থেকে সেই ধারণা পাওয়া যায়। কুয়েতগামী যাত্রী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার আলী হোসেন। ৬ অক্টোবর তার ফ্লাইট। এর জন্য তিনি টিকিট কাটতে যান। বুধবার সকালের কথা। তার কাছে প্রথমে টিকিটের দাম ৬০ হাজার টাকা দাবি করে ট্রাভেল এজেন্সি। টাকা সংগ্রহ করার পর বিকালে তিনি টিকিট কাটতে যান। তখন তাকে বলা হয়, টিকিটের দাম বেড়ে গেছে। এখন ৭৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এ কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন আলী হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, টিকিট না কিনলে চাকরিটা চলে যেত। ধারদেনা করে অতিরিক্ত টাকা দিতে হলো। বিদেশে যাওয়ার আগেই ঋণের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

সরকারের নির্দেশনা ছিল-পাসপোর্ট নম্বর ছাড়া টিকিট বুকিং নয়। সিন্ডিকেট নতুন ফাঁদ পাতে। যেহেতু বুকিং করার সময় যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ শর্ত পূরণের জন্য এজেন্সিগুলো এখন ভুয়া, বানানো বা ডামি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করছে। সিস্টেম যেহেতু শুধু একটি বৈধ চেহারাযুক্ত (সঠিক ফরম্যাটের) নম্বর ইনপুট হিসাবে চায়, তাই এজেন্সিগুলো সেই ডামি নম্বর ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক সিট ব্লক বা হোল্ড করে রাখছে। এছাড়া একটি বৈধ পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে সেই যাত্রীর জন্য একই রুটের বা ভিন্ন ভিন্ন রুটের একাধিক তারিখে টিকিট বুকিং করা হয়।

বিমান ভ্রমণের নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী একই সময়ে একই রুটে কনফার্ম টিকিট নিতে পারেন না। সিস্টেমের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এজেন্সিগুলো একই নামে বারবার টিকিট বুকিং (রিপিটেড বুকিং) করে। এতে বাজারে কৃত্রিম সিট সংকট তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই বাকি টিকিটের দাম বেড়ে যায়। এই রিপিটেড বুকিংয়ের বেশির ভাগ ডামি যাত্রী।

এদিকে টিকিটের দাম নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে নজর দিলে দেশের যাত্রীসাধারণ কতটা ঠকছেন, এর একটা ধারণা পাওয়া যায়।

যুগান্তরের হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, কলকাতা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের দূরত্ব ঢাকার সমপরিমাণ বা কিছু ক্ষেত্রে বেশি হলেও সে দেশের যাত্রীর টিকিটের দাম অর্ধেক বা তারও কম। ৮ অক্টোবর বিদেশি একটি এয়ারলাইন্সে যে যাত্রী ঢাকা থেকে রিয়াদ যাবেন, তার টিকিটের মূল্য ও সময় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশি যাত্রীকে ৯ ঘণ্টার ফ্লাইট যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৯৫ হাজার টাকা। একই দিনে কলকাতা থেকে রিয়াদগামী একই বিমানে যাত্রীর আকাশপথে ১১ ঘণ্টার জন্য দিতে হয় ৫৫ হাজার টাকা। ভাড়া কম। যাত্রার সময় বাংলাদেশ থেকে ২ ঘণ্টা বেশি। একইভাবে ঢাকা থেকে দুবাই পৌঁছার সময় ৫ ঘণ্টা। এই দূরত্বের জন্য একজন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ৭১ হাজার টাকায় টিকিট কিনছেন। অপরদিকে কলকাতা থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইং সময় একই হলেও টিকিটের দাম মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। এবার নজর দেওয়া যাক ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের ফ্লাইটের দিকে। বাংলাদেশ থেকে এই রুটে যাত্রা সময় (লে-ওভারসহ) সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টা। এই রুটে একজন যাত্রীর খরচ পড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অপরদিকে কলকাতা থেকে নিউইয়র্কের ফ্লায়িং দূরত্ব ও সময় ৪৫ ঘণ্টা (লে-ওভারসহ)। কিন্তু তাদের যাত্রীর টিকিটের দাম ৯৫ হাজার টাকা।

এতে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রিয়াদ যেতে বাংলাদেশি যাত্রীকে কলকাতার যাত্রীর চেয়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ ভাড়া বেশি গুনতে হয়। একইভাবে দুবাইগামী যাত্রীকে প্রায় ৮৭ শতাংশ এবং নিউইয়র্কগামী যাত্রীকে দিতে হয় অন্তত ৫৮ শতাংশ বেশি ভাড়া।

দূরত্ব প্রায় সমান বা কলকাতা থেকে কম হলেও ঢাকা ও কলকাতার টিকিট মূল্যের পার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন বিদেশি এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, বাংলাদেশে ট্যাক্স ও এয়ারপোর্ট চার্জ অতিরিক্ত। এর বাইরে ঢাকায় যাত্রীদের টিকিট ও এয়ারলাইন্সের সিটের কৃত্রিম সংকট ও সিট সংকট তৈরি করে কেউ কেউ বাড়তি অর্থ নেয়। এতে বেড়ে যায় টিকিটের দাম। বাড়তি টাকা গুনতে হয় যাত্রীকে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বারবার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হলেও সিন্ডিকেট চক্র নতুন কৌশল অবলম্বন করে যাত্রীর পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা কেড়ে নিচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে সতর্কতা জারি করে। সরকারের নির্দেশনা ছিল, টিকিট বিক্রির সময় অবশ্যই যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট নম্বর যুক্ত থাকতে হবে। টিকিটে দাম উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া তা টিকিটের গায়েও ছাপা থাকতে হবে। যদিও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আকাশপথে যাত্রীসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের কোনো কার্যকারিতা এখন নেই।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙা যাচ্ছে না, বরং প্রতিদিনই ভাড়া বাড়ছে। টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া নিছক বাজারের কারণে নয়। এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের প্রমাণ। এয়ারলাইন্স ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সি মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তারা লোয়ার ক্লাস বন্ধ করে দেয় এবং ফ্লাইটের ক্লোজিং ডেট যত ঘনিয়ে আসে, দাম তত বাড়ায়। সিন্ডিকেট শুধু এজেন্সিগুলো একা করে না। এয়ারলাইন্সের সম্পৃক্ততা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্রুপ টিকিটের নামে বিপুলসংখ্যক টিকিট ব্লক করে রাখা, সেগুলো এয়ারলাইন্স থেকে নেওয়া ও বিক্রি নিয়ে কোনো মনিটরিং নেই।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসাধু চক্র সাধারণ যাত্রীদের পকেট কেটে নিচ্ছে। এটি প্রকাশ্য লুটপাট এবং স্পষ্টতই দুর্নীতির প্রমাণ। কার্যকর মনিটরিং ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে না।

সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটের ইকোনমি ক্লাসের একমুখী ভাড়া যেখানে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সৌদি আরব ও দুবাই রুটে এই মূল্যবৃদ্ধি চরমে। এই অরাজকতার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) প্রশাসক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। এমনকি প্রশাসক হিসাবে সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার অভিযোগে সরাসরি কোনো সদস্যের মেম্বারশিপ বাতিল করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আমাদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা সদস্যদের অবহিত করেছি। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় বেশকিছু এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলও করেছে।

এদিকে টিকিট সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রুপ বুকিংয়ের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য চাহিদাসম্পন্ন রুটের এয়ার টিকিট ব্লক করে রাখে এমন ১৩টি এজেন্সিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, সিটিকম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, আরবিসি ইন্টারন্যাশনাল, মেঘা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার সার্ভিস, মাদার লাভ এয়ার সার্ভিস, জেএস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, হাসেম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফোর ট্রিপ লিমিটেড, কিং এয়ার এভিয়েশন, বিপ্লব ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্ট, সাদিয়া ট্রাভেলস, আত-তাইয়ারা ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল ও এনএমএসএস ইন্টারন্যাশনাল। এসব ট্রাভেল এজেন্সি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অস্বাভাবিক দামে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে টিকিটের মজুতদারি, কালোবাজারি ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাতে উঠে আসে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, আমরা এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। এরই মধ্যে ৪৯টি এজেন্সিকে চিঠি দিয়েছি। ১৩টির লাইসেন্স বাতিল করেছি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
গুম ও মানবাধিকার আইনে দায়মুক্তি, উদ্বেগ জানাল টিআইবি

পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের গুম-খুনসহ বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল কোনো শিক্ষা নিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।    অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এবং খসড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।   বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি।    টিআইবি বলছে, অনুমোদিত দুই খসড়া আইনে বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় রাখা হলেও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে অংশীজনরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের যে খসড়াটি অনুমোদিত হয়েছে, সেখানেও অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে দায়মুক্তি সহায়ক ধারাসমূহ বহাল রাখা হয়েছে।     এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অথচ নতুন খসড়ায় ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারা প্রায় অপরিবর্তিত রেখে এসব ঘটনায় কমিশনকে সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনের এ দুর্বলতার কারণেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। একই কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদাও অর্জন করতে পারেনি।   টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটিতে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। অন্য সদস্যদের মনোনয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের প্রভাব থাকার সুযোগ থাকায় কমিশনের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   কমিশনে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা না থাকায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি।   এ ছাড়া কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বলা হলেও এটি সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতামুক্ত থাকবে এ বিষয়টি খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।    অন্যদিকে ঢাকার বাইরে কার্যালয় স্থাপন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে সরকারের পূর্বানুমোদন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ কমিশনকে কার্যত সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি।   ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের সময় প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইনের প্রথম খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ’কে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ না করার বিধান ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় ওই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, একই সঙ্গে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ বা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন স্থান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ‘সামরিক আটক কেন্দ্র’কে কমিশনের এখতিয়ার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ কী? তাহলে কি আয়নাঘর বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন রয়েছে? গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গুমের মতো স্পর্শকাতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার কমিশনের বাইরে রেখে পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। গুমের অধিকাংশ ঘটনায় যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তারা শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য। ফলে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্ত পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।   তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমে জড়িত থাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অধস্তন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কার্যধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন। বাস্তবে এ ধরনের বিধান গুমের অপরাধের বিচারহীনতা নিশ্চিত করবে কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।   টিআইবি বলছে, অনুমোদিত খসড়ায় গুমের সংজ্ঞায় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে যে ধরনের আটককেন্দ্র, কারাগার, হাজতখানা ও গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, অনুমোদিত খসড়ায় তার অনেকটাই রাখা হয়নি।   জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় মানবাধিকার, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদে উত্থাপনের আগে দুই খসড়া আইনই ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করারও দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা

ফাইল ছবি

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, ৬ জনের ৭ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে ভুয়া নথি তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয় আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।   বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।   রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন— ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সামিম সরদার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ১২ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।   বুধবার আসামিদের কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সাত পাতার একটি ডকুমেন্ট পাঠানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত নথি ছিল।   নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। তদন্তে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরির বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।   পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সরকারি সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে আসছিল।   এ ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি ও কুষ্টিয়া থেকে ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম ও বকুল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার পরদিন ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে আটক করে ডিবি পুলিশ।   গত ৫ আগস্ট ডিবির এসআই রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত প্রথমে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী-এমপিদের সিল ও স্বাক্ষর সংবলিত লেটারহেড প্যাড জব্দ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে গৃহবধু তানিয়া হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত: এসি গোলাম রুহানী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।   সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামিট টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না এবং এক্সিলারেট টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে।   জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এ জন্য আমরা জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”   তিনি জানান, এক্সিলারেট টার্মিনাল বর্তমানে বয়লারজনিত সমস্যার কারণে প্রায় অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট টার্মিনালে এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না।   সংকট কতদিন স্থায়ী হতে পারে— এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সময় বলা কঠিন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।   মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, একটি কার্গো পাওয়ার আশায় আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার বিষয়টিও মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয় এবং অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই সন্তানকে নিয়ে বের হয়ে একা ফেরেন বাবা, পরে উদ্ধার হলো দুই শিশুর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে মারা যাওয়া আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাহার

0 Comments