বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পায়োলা প্যাম্পালোনি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ এশিয়ার উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রাস্টিস্লাভ স্প্যাক।
এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। আর নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউ'র সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান পরিবেশন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার প্যারেড ময়দানে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ‘মেহফিল-এ-ইনকিলাব’ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মাধ্যমে এসব বিষয় তুলে ধরেন তিনি। গানের কথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়গুলো স্থান পায়। এ সময় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যও দেন। সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ দুই জায়গায় পাই। একটা হচ্ছে বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু সাহেবের মুখে, আরেকটা কারেন্টের তারে।’ গানের মাধ্যমে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের প্রতিবাদ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আঞ্চলিক গান পরিবেশন করে। সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও সংগীতের প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকেরা জানান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
প্রথম ধাপে দেশের প্রায় এক হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ৬ বছর বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (৮ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টিতে ভোট হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নগুলোকে আগে রাখা হচ্ছে, এর কিছু বেশি ইউনিয়ন নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ আখতার আহমেদ বলেন, ‘৬ বছর বয়স থেকে এনআইডিতে তথ্য নিবন্ধনের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনা করছি, প্রাথমিক শিক্ষায় ঢোকার সময় যেই তথ্য দেওয়া হয় সেই তথ্য নিয়ে আমরা ডেটাবেজ করবো।’ তিনি বলেন, ‘ইভিএম আমরা ব্যবহার করবো না। এগুলো ডিজপোজাল করতে ফাইনাল স্টক টেকিং শুরু করেছি। কী পদ্ধতিতে ডিজপোজ করবো সে বিষয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর বলতে পারবো।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) একটি গণমুখী, সম্পূর্ণ স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চায় সরকার। প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ স্বাধীনতা ও কার্যকর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিবিএস যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বিবিএস মিলনায়তনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান: টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। সংস্থাটির পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. সৈয়দ শাহাদাত হোসেন এবং বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক আলোচনায় অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান টেকসই উন্নয়ন, কার্যকর পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নের অন্যতম ভিত্তি। সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে শুরু করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্ভুল তথ্য ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাও জরুরি। অর্থনৈতিক গণতন্ত্র নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। এ কারণে বিবিএসকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলা প্রয়োজন। সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, তথ্য হতে হবে পরিমাপযোগ্য, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য। রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক স্বার্থে তথ্য বিকৃতির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো সরকার তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করলে শেষ পর্যন্ত নিজেদেরই বিভ্রান্ত করে। বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত সরকারের কর্মসূচি ও নীতির যথাযথ বাস্তবায়নেও বাধা সৃষ্টি করে। অতীতের পরিসংখ্যান পর্যালোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, তথ্যের অসংগতি ও অন্তর্নিহিত সমস্যা চিহ্নিত করতে সরকার পুরোনো তথ্যের ফরেনসিক পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে এ উদ্যোগকে কেবল আগের সরকারের ভুল খোঁজার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজলভ্য হলে সরকার কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে গবেষকেরা মানসম্মত গবেষণার সুযোগ পাবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। নতুন নীতি গ্রহণের চেয়ে বিদ্যমান নীতির বাস্তবায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এখন সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আধুনিক পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও আধুনিক তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল ভিত্তি প্রয়োজন। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পরিসংখ্যান ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চায় সরকার। এতে স্বাধীন গবেষণা, জনমত ও গঠনমূলক পর্যালোচনার সুযোগ বাড়বে। তথ্য যত বেশি সহজলভ্য হবে, ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগও তত বাড়বে। গবেষণার সুযোগ-সুবিধা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিসংখ্যানকে শুধু সরকারের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। সরকারি উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও এর প্রকৃত মালিক জনগণ। তাই এসব তথ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিবিএসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে কার্যক্রমের সমন্বয়ে তাঁদের অবদান রয়েছে। বিবিএসের জনবল সংকট ও অন্যান্য পরিচালনাগত সমস্যার বিষয়েও সরকার অবগত রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জনমুখী পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।