অন্যান্য

তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে যা বললেন সালাহউদ্দিন আহমদ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এই ঘোষণার মধ্যেই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যুটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

এ প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তার ভাষায়, ১০ তারিখ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে, তার পরদিনই একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ওপর হামলা চালানো হলো। হামলার ধরন দেখেই বোঝা যায়, এটি পেশাদার শ্যুটারের কাজ।

তিনি আরও বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখবো এবং আরও সুদৃঢ় করবো। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবে, নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা মতভেদ হবে কিন্তু এমন কোনো পর্যায়ে আমরা যাব না, যাতে ঐক্য বিনষ্ট হয়।

দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও তার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, সে জন্য সরকারের প্রতি আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি যোগ করেন, এ বিষয়টি আজকের বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়নি, তবে এটি আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দলীয়ভাবেও আমরা চেষ্টা করবো এবং সরকারকেও আহ্বান জানাবো যেন তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

তিনি বলেন, কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে, পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।” এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, এই ধরনের সহিংস ঘটনা আমরা বন্ধ করতে পারবো।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমাদের চেতনা হচ্ছে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। জনআকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে আমরা সর্বাগ্রে রাখবো। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার বিষয়ে আমাদের কোনো আপস নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদকে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই এ ধরনের হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় যাত্রাকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি করে শরীফ ওসমান হাদিকে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাদির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া গুলি হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’।” তিনি বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে কোনো নতুন ইন্টারভেনশন করা হবে না।

 

তিনি আরও জানান, হাদি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা আপাতত তার সুস্থতা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।   এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি দেশব্যাপী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা নারীদের ওপর হামলা ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপিকে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পোস্টে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জনের বেশি সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

পুষ্টিকর খাবার খেতে গিয়ে পকেট ফাঁকা? কিভাবে প্ল্যানিং করবেন

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত।

ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

৩ দিনের সফরে উত্তরাঞ্চল যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে যেসব কর্মসূচি

ছবি : সংগৃহীত
খুশকি দূর করুন সহজ

শীত এলেই অনেকের মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতার সুযোগ নিয়ে ফাঙ্গাস দ্রুত বাড়তে থাকে, আর তখনই দেখা দেয় খুশকি, চুলকানি ও চুল পড়ার মতো সমস্যা।   ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধান পেতে সব সময় দামি প্রোডাক্টের দরকার নেই। ঘরেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতের খুশকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভারতীয় লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে এমনই কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়ের কথা।   টি ট্রি অয়েল টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক গুণ রয়েছে, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে। নারকেল, অলিভ বা জোজোবা তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। হালকা ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।   ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি কমায়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।   অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।   আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সঙ্গে আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। পাঁচ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে।   নারকেল তেল নারকেল তেল শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে খুশকি কমে এবং চুল নরম থাকে।   কলা, মধু ও অ্যাভোকাডো মাস্ক পাকা কলা ও অ্যাভোকাডো পেস্ট করে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজড থাকবে।   নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই দুই চামচ করে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।   শীতের খুশকি একদিনে যাবে না, তবে নিয়মিত যত্ন নিলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা না ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি। একটু যত্নেই শীতেও রাখতে পারেন সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৪৫ জন

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামনগরে অগ্নিকাণ্ডে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪ জন

তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান

সংগৃহীত ছবি
ঘুম থেকে ওঠে পানি পান করা কি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস?

সকালে চোখ খোলার পর শরীরের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।   সকালে পানি খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।   সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। পরিমাণের দিক থেকে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে

ছবি : সংগৃহীত

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

ছবি : সংগৃহীত

পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস আছে? তাহলে কী খাবেন, কী খাবেন না

0 Comments