জাতীয়

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দীপের তথ্যে ধোঁয়াশা

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান।

 

অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন জানান, তারা কেন তুরাগ নদ-সংলগ্ন বাজার বস্তি মাঠে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন দীপ। ওই মাঠে যাওয়ার কারণ ছাড়াও তাদের সঙ্গে কোনো নারী কিংবা অন্য কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না তিনি।  

 

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে মাদক ও নারী সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে রেখেও তদন্ত করছে পিবিআই। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া কোনো তথ্যই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা হচ্ছে না। পাশাপাশি তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা দীপের কাছে জানতে চান, তারা তুরাগ নদ-সংশ্লিষ্ট বাজার বস্তি মাঠে কেন গিয়েছিলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে দীপ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি তদন্তকারীদের বলেন, তিনি ওই মাঠে যাননি। তাহসিফ তাকে বলেছিলেন, তিনি ওই মাঠে যাবেন।

 

এরপর তদন্তকারীরা দীপকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি যদি ওই মাঠে না গিয়ে থাকেন, তাহলে মোটরসাইকেলটি মাঠের কোন জায়গায় ছিল, তা কীভাবে জানেন? এই প্রশ্নের জবাবে দীপ আবারও বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তখন তিনি বলেন, তিনি মাঠে গিয়েছিলেন। তাহসিফ তাকে মোটরসাইকেলে করে ওই মাঠে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আগে থেকে ওই মাঠ চিনতেন না।

 

তবে মাঠে কেন গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সঠিক কোনো উত্তর দিচ্ছেন না দীপ। এছাড়া তাদের সঙ্গে কোনো নারী বা আরও কোনো লোকজন ছিলো কি না, সে বিষয়েও তথ্য না দিয়ে একই কথা বারবার বলছেন তিনি। এতে তদন্তকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে দীপ খুবই ঠান্ডা মাথায় ও শান্ত স্বভাবে তদন্তকারীদের সব প্রশ্নের উত্তর নিজের মতো করে দিচ্ছেন। 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, টঙ্গী মাজার বস্তি-সংলগ্ন ওই মাঠে মাদক সেবন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই স্থানে এর আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। তাহসিফ ও দীপ মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন, এমন কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ওই সময় তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মাদক সেবনের জন্য ঢাকা থেকে বের হয়ে তারা টঙ্গীর ওই মাঠে কেন যাবেন, তা নিয়ে দীপকে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিভিন্ন উত্তর দিচ্ছেন। এসব উত্তর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা আরেক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাহসিফের সঙ্গে ওই রাতে একজন নারীও ছিলেন। তাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় যান তিনি। ওই নারী শেষ পর্যন্ত ওই মাঠে গিয়েছিলেন কি না, নাকি মাঠে যাওয়ার আগে তাকে তার বাসায় দিয়ে এসেছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া মাদকের বিষয়টি জোর দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কারণ, তাহসিফের মাদক সংশ্লিষ্টতার কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে।

 

এদিকে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর নিজ বাসা থেকে বের হয়ে তাহসিফ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, তা প্রযুক্তির সহায়তায় জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া তার ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ২৭ অক্টোবর দীপের সঙ্গে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাহসিফের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ১০ থেকে ১২ বার কথা হয়। এসব কলের কোনোটি কয়েক সেকেন্ডের, আবার কিছু কলের দৈর্ঘ্য কয়েক মিনিট ছিল। এছাড়া ওই দিন রাতে তাহসিফের ফোনে আরও একাধিক নম্বর থেকে কল আসে এবং তিনিও বিভিন্ন নম্বরে কল করেন। এসব কল ও যোগাযোগের তথ্য ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছে পিবিআই।

 

মামলা না হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিহতের পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। মামলা হলে সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হবে। এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে মামলা হলে নিহতের পরিবারের মামলা করার বিষয়ে বর্তমান অবস্থানও তদন্ত করা হবে। নিহতের পরিবার কেন মামলা করছে না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে।

 

এদিকে শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে দীপের বাবা, ছোট ভাই ও মামাকে দেখা যায়। দীপের বিষয়ে তার বাবা কোনো কথা বলতে চাননি। তবে দীপের মামা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহসিফ ও দীপের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। তাহসিফ দীপের মোহাম্মদপুরের বাসায় যাতায়াত করতেন। ওই বাসায় দীপের ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও থাকতেন। তাদের সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল।

 

তাহসিফের জানাজা ও দাফনে দীপ বা তার পরিবারের কেউ অংশ নিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীপ বা তার পরিবারের কেউ যাননি।

 

বন্ধুত্ব ও পারিবারিক পরিচয় থাকার পরও দীপ বা তার পরিবারের কেউ জানাজা ও দাফনে যাননি কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে দীপের মামা কোনো উত্তর দেননি।

 

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার সার্বিক তদন্তের বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকসংক্রান্ত বিষয় ও নারীসংক্রান্ত বিষয়। এছাড়া এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। আমরা বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। এছাড়া দীপ আমাদের যা বলছে, সব কথাই আমরা বিশ্বাস করছি না। আমরা তার দেওয়া তথ্য যাচাই করছি।’

 

ময়নাতদন্তের নমুনা পরীক্ষায় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সময় অর্গান নমুনা হিসেবে তার পাকস্থলী ও কিডনি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরদেহটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্ভুলভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। 

 

ওই কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সাধারণত তার সাঁতার জানার কথা। সে ক্ষেত্রে তিনি এমন অবস্থায় পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে তার সাঁতার দেওয়ার সক্ষমতা ছিল না, সেটিও বিবেচনায় আসছে। তবে এসব তথ্য সঠিক কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

রক্ত, পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুর কারণ জানতেই এসব নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মাদক সেবন করে থাকলে বা কোনো ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণ করে থাকলে পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যেতে পারে। শনিবার(৩১ অক্টোবর) প্রতিবেদন আসার কথা রয়েছে।

 

যেভাবে সামনে আসে তাহসিফের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা 

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। দীপের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশের মতো দুজনকে দেখে তারা দৌড় দেন। তবে ওই দুজন আসলেই পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা যাচাই করছে পিবিআই।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, তাহসিফ যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তার সঙ্গে বন্ধু দীপ ছিলেন। দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পিবিআই। তার দেওয়া সব তথ্য বিশ্বাস না করে প্রতিটি বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

 

দীপের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দীপ জানিয়েছেন, সেখানে পুলিশের মতো দুজনকে দেখে তারা দৌড় দিয়েছেন। এখন ওই দুজন কারা, তা যাচাই করে দেখা হবে। আদৌ কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ছিলেন কি না কিংবা কারও দায়িত্ব ছিল কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

 

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, দীপ আগের দিন তাদের জানিয়েছিলেন, রাত ১২টার দিকে হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের সঙ্গে আলাদা হয়ে তারা দুজন দুদিকে চলে যান। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাহলে রাত ২টার দিকে তারা কেন ওই এলাকায় এসেছিলেন এবং গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাওয়ার কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

 

এনায়েত হোসেন মান্নান আরও বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা জানানো হবে।

 

এর আগে তাহসিফের বাবা একে এম এনায়েতুল করিম দাবি করেন, তার ছেলে সাঁতার জানতেন। শুধু তা-ই নয়, পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্সও করেছিলেন তিনি। ছিল সেই কোর্সের সনদও। তাই পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার’ তথ্য মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা। তার দাবি, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।

 

তিনি বলেন, ‘না না, এ ধরনের কিছু হতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা, প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। ও তো পাইলট। ওদের সুইমিংয়ের কোর্স করা এবং তার ওপর সার্টিফিকেট আছে। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে আমার ছেলের।’

 

ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। তো আর ওকে ধাওয়া দেবে কেন লোকজন, কেন তাকে কেউ ধাওয়া দেবে? ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’

 

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ছোট ভাই দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সেই দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থলে) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর আমি পালিয়ে আসি।’

 

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

 

এদিকে তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

 

পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, ‘দীপের দেখানো মতে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’

 

তাহসিফের মরদেহ বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানটি উত্তরখান থানার অধীন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থানটি টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুটি স্থানের সঙ্গেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।

 

তাহসিফের বাবা একে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, বাসায় ফিরছেন।

 

তবে ওই বার্তায় তাহসিফকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ওই বার্তা পাওয়ার পর থেকে তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

 

এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য যেন প্রশাসন ও সরকার বের করে সবার সামনে তুলে ধরে, সেই দাবি তিনি ঘটনার পর থেকে জানিয়ে আসছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

শিশুদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম।    শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাত ও নখ পরিষ্কার রাখা, ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শারীরিক ব্যায়াম করা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির ছাদ, ফুলের টবসহ আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং দুধ, ডিম ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।   ডিআরইউ সদস্য সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাবা-মায়েরা সমাজের সত্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। বাবা-মায়ের পেশাকে সম্মান জানিয়ে তাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে হবে।   শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, তাদের মধ্য থেকেই একদিন দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসক ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরি হবে। এজন্য ছোটোবেলা থেকেই শিক্ষা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।   শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার ভবিষ্যৎ এখন নতুন প্রজন্মের হাতে। আগামী দিনে তারাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং মিথ্যা বলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।   দিনব্যাপী এ উৎসবে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি মো. আব্দুস সালাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, দীপের তথ্যে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: পিআইডি
নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।     তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানে তারা ভূমিকা রাখবে।       শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অসহায়, দুস্থ ও কর্মজীবী নারীদের সেলাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।     মন্ত্রী বলেন, স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়। স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।        পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকার ইতোমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে বলেও তিনি জানান।     আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অনেক বন্ধু থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। আমাদের দেশ আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গুরুত্ব অনেক। এ দেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপরও কারও প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না। দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।     মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেলাব উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাইলাতুল হোসেন, মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ প্রমুখ। 

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে বিধিনিষেধ: ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

সংগৃহীত ছবি

সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিতকরণ: সঠিক ব্যবস্থাপনায় পর্যটন বৃদ্ধির আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

শম্ভুগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র চালু: বাড়বে বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমবে সিস্টেম লস

ছবি: সংগৃহীত
নৌবাহিনীর ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও ইলিশ জব্দ

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী পরিচালিত ২২ দিনব্যাপী ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ শেষ হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নৌবাহিনী মোট ২১২টি অভিযান চালিয়েছে।     এসব অভিযানে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার ও ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল, চারটি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর সর্বমোট ভিত্তিমূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা। এ ছাড়া ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ অভিযান শেষ হয়।     শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।     আইএসপিআর জানায়, অভিযান বাস্তবায়নে দেশের ৯টি জেলায় ৭টি জাহাজ ও বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে জাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়।       পাশাপাশি নৌবাহিনীর বোট ও কন্টিনজেন্টগুলো সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।       স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা জাটকা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় দান করা হয়। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বোটগুলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়।       নৌবাহিনী সূত্রে আইএসপিআর আরো জানায়, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।       এদিকে, নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত ২২ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পথ আরো সুগম হয়েছে।  

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টোকিওতে অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক: বিকল্প অর্থায়নে গুরুত্ব জাপানের

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রের ক্ষমতার চেয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান বিচারপতি

ছবি: সংগৃহীত

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে দীপের চাঞ্চল্যকর তথ্য

0 Comments