রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নাফনদী পেরিয়ে অনুপ্রবেশকালে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, হেউন ডে টে (৩৮), কিয়াও নাইং (৩৫) ও থেইন জও (৩৩)। তাদের মধ্যে হেউন ডে টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য এবং অপর দুজন দেশটির পুলিশ সদস্য। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও মংডু এলাকায়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তিন মিয়ানমার নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মহেশখালীর অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার (৮ নভেম্বর) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীসহ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) অধিক্ষেত্রাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মুখ্য সচিব বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে মাতারবাড়ীকে অর্থনীতি, শিল্প, জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি সেখানে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি যোগ্যদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ৩২ হাজার একরজুড়ে চার অর্থনৈতিক হাব মিডার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, মহেশখালীর চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩২ হাজার একর এলাকাকে চারটি কৌশলগত অর্থনৈতিক হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। হাবগুলো হলো গভীর সমুদ্রবন্দর ও লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প ও উৎপাদন এবং মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন। ২০২৬ থেকে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়েছে পরিদর্শনকালে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভূমিভিত্তিক এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল এবং এলপিজি স্টোরেজ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট, তেল শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ড্রাইডক ও শিপইয়ার্ড নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করা হয়। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত এলাকাও ঘুরে দেখেন তাঁরা। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার লক্ষ্য মিডার অধিক্ষেত্র ও আশপাশের এলাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে গত ১৪ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো সামনে রেখে এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, কুতুবদিয়া মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর চাঁদমারীতে এমসি অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলার ৯টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভা এবং ৭০টি ইউনিয়ন পরিষদের ৮৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক। তবে বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং অধিনস্ত ১০টি ইউনিয়নে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি দলটি। প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জামিলুর রহমান। প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তুলতে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ইসলামী মূল্যবোধ ও জনকল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ঘোষিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। এদিকে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে বরিশাল সদর বাদে ৯টি উপজেলায় চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. পারভেজ মিয়া, গৌরনদীতে উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল, উজিরপুরে উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল হক, বানারীপাড়ায় উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাস্টার মো. আনিছুর রহমান, বাবুগঞ্জে উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মো. রহমাতুল্লাহ, মুলাদীতে উপজেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা নেছার উদ্দিন, হিজলায় উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হক, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস হাসান এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের উপজেলা পশ্চিম শাখার সদস্য নুরুল ইসলাম আল আমিন চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালের জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে পৌরসভা রয়েছে। ছয়টিতেই প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যে গৌরনদী পৌরসভায় দলের পৌর শাখার সভাপতি মো. ওবায়দুল হক মিয়া (নবী), উজিরপুর পৌরসভায় দলের উপজেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম মুরাদ, বানারীপাড়া পৌরসভায় পৌর শাখার সভাপতি জালিস মাহমুদ, মুলাদী পৌরসভায় উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ এফএম মাইনুল ইসলাম, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যাদের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা সবাই দলের বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়নের পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাগধা ইউনিয়নে আব্দুল হান্নান মিয়া, বাকাল ইউনিয়নে মো. শাহিন বখতিয়ার, রাজিহার ইউনিয়নে সৈয়দ মো. ইমরান, গৈলা ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, রত্নপুর ইউনিয়নে মো. খলিল শাহ। গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে ঘোষণা করা হয়েছে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে মো. জামাল হোসেন মৃধা, বার্থী ইউনিয়নে মো. মিরাজ শাহ, মাহিলাড়া ইউনিয়নে মো. আরিফ গোমস্তা, নলচিড়া ইউনিয়নে মো. কামাল হাওলাদার, বাটাজোড় ইউনিয়নে মাওলানা বজলুর রশিদ ও সরিকল ইউনিয়নে মো. ছানাউল ইসলাম। উজিরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে ঘোষণা হয়েছে। সাতলা ইউনিয়নে মো. মুজাম্মেল হক, জল্লা ইউনিয়নে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ওটরা ইউনিয়নে মো. নজরুল ইসলাম, ষোলক ইউনিয়নে মো. সাইফুল ইসলাম, বামরাইল ইউনিয়নে মো. শফিকুল ইসলাম, শিকারপুরে মো. আলাউদ্দিন খান ও গুঠিয়ায় মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজ। বানারীপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিশারকান্দি ইউনিয়নে হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ, সৈয়দকাঠীতে মুহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম, উদয়কাঠীতে মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সলিয়াবাকপুরে মো. মাজহারুল ইসলাম, বাইশারীতে ওসমান আনিস, এবং বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে মো. শাহজালাল। বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে মাওলানা মো. মিরাজুল ইসলাম, চাঁদপাশায় মো. নুর হোসেন সিকদার, রহতপুরে মুফতি মো. বেলাল হোসাইন, দেহেরগতিতে মাওলানা খাইরুল ইসলাম এবং মাধবপাশা ইউনিয়নে মুফতি মাহমুদুল হাসান। মুলাদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সাতটিতেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাটামারা ইউনিয়নে হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ বরকত, সফিপুরে মাওলানা ক্বারী আবুল কাসেম জিহাদী, নাজিরপুরে মো. মেজবাহ উদ্দিন, গাছুয়ায় মুফতি হুমায়ুন কবির আরেফী, চরকালেখানে মাস্টার মো. নজরুল ইসলাম, মুলাদী সদর ইউনিয়নে মাওলানা মো. বায়েজিদ হোসেন নাঈম এবং কাজিরচর ইউনিয়নে মুফতি মো. ইউসুফ চোকদারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হিজলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ছয়টিতেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে হরিণাথপুর ইউনিয়নে মাওলানা মো. জাকির হোসেন, মেমানিয়ায় মো. মোছলেম উদ্দিন খান, গুয়াবাড়িয়ায় আলহাজ মিজানুর রহমান, বড়জালিয়ায় মাওলানা আব্দুস সাত্তার, হিজলা গৌরব্দীতে মাওলানা মাইনুদ্দিন ও ধুলখোলা ইউনিয়নে মাওলানা মো. ইসমাঈলকে প্রার্থী করা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ৫টি ইউনিয়নের চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্দারমানিক ইউনিয়নে মো. কামাল হোসেন খান, লতা ইউনিয়নে মো. বাকিউল্লাহ খান, জয়নগর ইউনিয়নে মুফতি আব্দুর রহমান, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নে মো. কাওসার উদ্দিনকে প্রার্থী করা হয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ থানাধীন ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ডা. আব্দুর রশিদ খান, আলিমাবাদে মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, জাঙ্গালিয়ায় মো. কবির হোসেন মোল্লা, চরগোপালপুরে হাফেজ মো. রুহুল আমিন, শ্রীপুরে মাওলানা মো. রাসেল হোসেন, চাঁনপুরে মো. ছালাম উদ্দিন বিশ্বাস, উলানিয়া (উত্তর) মাওলানা আল আমিন এমদাদী, গোবিন্দপুরে মো. দুলাল রাড়ী, দড়িচর খাজুরিয়ায় মাওলানা মো. রেদোয়ান এবং চরএককরিয়া ইউনিয়নে মাওলানা মো. হাবিবুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চরামদ্দি ইউনিয়নে মো. রিয়াজ সিকদার, চরাদীতে মুফতি ইউনুস আহমাদ, দাড়িয়ালে মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ, দুধালে মো. ইউসুফ হাওলাদার, দুর্গাপাশায় মো. কামাল উদ্দিন মাস্টার, ফরিদপুরে মো. রোকনুজ্জামান বাচ্চু, বকাইতে মো. ফরহাদ হোসেন মুন্সী, রঙ্গশ্রীতে মাওলানা মাহমুদুল হাসান জাহাঙ্গীর, নলুয়ায় মো. হাফিজুর রহমান, কলসকাঠীতে মাওলানা মো. সোলাইমান, গারুড়িয়ায় মো. শাহিন সিকদার, ভরপাশায় মাওলানা মনিরুজ্জামান তালুকদার এবং পাদ্রীশিবপুরে মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চাই। দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা, উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে মাগুরার শালিখা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা হাইস্কুল মাঠে আটদলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে নতুন করে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন টুকু, জেলা বিএনপির সদস্য মনিরুজ্জামান চকলেট ও মোতালেব হোসেন শিকদার, বুনাগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুসাইন শিকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা হাফিজুর রহমান এবং সাবেক যুবদল সদস্যসচিব মুন্সী নয়নুজ্জামান নয়নসহ জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।