যশোর সফরে এসে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে উলাশীর উদ্দেশে রওনা দিলে পুরো পথজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে অবস্থান নেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান, করতালি ও শুভেচ্ছা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দেন।
বিশেষ করে ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী ও ঝিকরগাছা এলাকায় ছিল ভিন্ন এক আবহ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। অনেকেই সড়কে ফুল ছিটিয়ে রাখেন, আর প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বাস গদখালী এলাকায় পৌঁছালে ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।
সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম যশোর সফর হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। সফরকালে তিনি উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি পরিদর্শন করবেন, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন এবং পরে ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যশোর সফরে এসে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শার উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে উলাশীর উদ্দেশে রওনা দিলে পুরো পথজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে অবস্থান নেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান, করতালি ও শুভেচ্ছা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দেন। বিশেষ করে ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী ও ঝিকরগাছা এলাকায় ছিল ভিন্ন এক আবহ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। অনেকেই সড়কে ফুল ছিটিয়ে রাখেন, আর প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বাস গদখালী এলাকায় পৌঁছালে ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম যশোর সফর হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস। সফরকালে তিনি উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি পরিদর্শন করবেন, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন এবং পরে ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া এক কলেজপড়ুয়া যুবকের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়িয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। জানা গেছে, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট করেছিল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে নিশাদ ইসলাম (২০) নামের এক তরুণ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির এক কর্মী সাইবার নিরাপত্তা আইনে ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অভিযুক্ত নিশাদ একজন কলেজ শিক্ষার্থী। তার বয়স এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, হয়তো না বুঝে বা কারও প্ররোচনায় সে এমন কাজ করেছে। এরপর তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ক্ষমাশীলতার দৃষ্টিতে দেখেন। প্রতিমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে অভিযুক্তের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ছেলেটি আমার সন্তানের বয়সী। ভুল হতেই পারে, তাই তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আজ রবিবার সকালে অভিযুক্তের বাবা আশরাফ আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যেহেতু মামলা হয়ে গেছে এবং গ্রেফতার হয়েছে, সেহেতু প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আমার ছেলের জামিনের জন্য একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই আইনজীবী আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। এখন আমি আদালতের কাছে জামিনের প্রত্যাশা করছি। আশা করি, আমার ছেলের জামিন হয়ে যাবে।
ভাড়া বৃদ্ধির পর বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এবং ঢাকার আশপাশের জেলার জন্য বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করেছে সরকারি সংস্থাটি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিআরটিএর ওয়েবসাইটে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার সব ধরনের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়েছে। ওই দিন থেকেই ভাড়া কার্যকর হয়েছে। নতুন তালিকায় রাজধানী ও দূরপাল্লার সব পথেই প্রতিটি বাস রুটের জন্য আলাদা আলাদা তালিকা রয়েছে। রাজধানীর বাসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া গ্যাসচালিত বাসের ক্ষেত্রে নতুন ভাড়া হার কার্যকর হবে না। এ ছাড়া ভাড়া ভগ্নাংশ হলে ৫০ পয়সার বেশি হলে ১ টাকা যুক্ত হবে। ৫০ পয়সার কম হলে সেটা নেওয়া যাবে না। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ফলে এই শ্রেণির বাসের ভাড়া পরিবহনমালিকদের ইচ্ছার ওপর এবং নির্দিষ্ট পথে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ধারিত হয়। এ ছাড়া বাসের মান ও আসনসংখ্যা কত, সেটিও ভাড়া নির্ধারণের ওপর প্রভাব ফেলে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের ভাড়া ঢাকার ফুলবাড়িয়া বা গুলিস্তান থেকে গাজীপুরের পথে বেশ কিছু বাস চলাচল করে। এ পথের মোট দূরত্ব সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা। কেউ ফুলবাড়িয়া বা গুলিস্তান থেকে গাজীপুর পর্যন্ত গেলে ভাড়া হবে ১০৫ টাকা। ফুলবাড়িয়া থেকে মগবাজার পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া, অর্থাৎ ১০ টাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এর বেশি যাতায়াত করলে বাড়তি কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া যুক্ত হবে। মিরপুরের চিড়িয়াখানা থেকে শ্যামলী, আসাদ গেট, ফার্মগেট ও প্রেসক্লাব হয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ভাড়ার তালিকা অনুসারে, এই পথের মোট দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাতায়াত করলে ভাড়া গুনতে হবে ৫৩ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে একজন যাত্রী চিড়িয়াখানা থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবেন। শ্যামলী পর্যন্ত যাতায়াত করলে ভাড়া দিতে হবে ১৪ টাকা। একইভাবে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে শ্যামলী থেকে উঠে ফার্মগেট পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। চট্টগ্রাম মহানগরে বাসভাড়ার তালিকা অনুসারে, কালুরঘাট ব্রিজ থেকে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট পর্যন্ত মোট দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসাবে ভাড়া হবে ৩৫ টাকা। সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়ায় চকবাজার মসজিদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পথ চলাচল করা যাবে। একইভাবে কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শরাফত পেট্রলপাম্প পর্যন্ত যেকোনো গন্তব্যে ভাড়া হবে ১০ টাকা। চট্টগ্রাম নিউমার্কেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথের দূরত্ব ১৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার। কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গেলে ভাড়া পড়বে ৪৭ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে যাওয়া যাবে নিউমার্কেট থেকে বাদামতলী পর্যন্ত। আন্তজেলা ও দূরপাল্লা আন্তজেলা ও দূরপাল্লার পথের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা। এটি ৫১ আসনের বাসের জন্য। তবে দূরের পথে যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য অনেক কোম্পানি বড় বাসে আসন কমিয়ে ৪০–এ নামিয়ে চালায়। এ ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়তি দিতে হবে। এ ছাড়া দূরের পথে ফেরি ও সেতুর টোল থাকলে সেটাও ভাড়ায় যুক্ত হবে। সব মিলিয়েই নতুন ভাড়ার তালিকা তৈরি করেছে বিআরটিএ। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। এই পথে টোল বাবদ ৪৫০ টাকা যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫২ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসে ভাড়া হবে ৭০৪ টাকা। সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। টোলসহ ৫১ আসনের বাসের যাত্রীপ্রতি ভাড়া হবে ২৪০ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া ৩০৬ টাকা। এ ছাড়া সায়েদাবাদ থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। এই পথে টোলসহ ৫১ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮০ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৭৪০ টাকা। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে বরিশালের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। এই পথের বাসে যাত্রীপ্রতি ফেরির বাড়তি টোল যোগ হবে ৭৬ টাকা (৫১ আসন) থেকে ৯৭ টাকা (৪০ আসন)। সে হিসাবে ৫১ আসনের বাসে ঢাকা থেকে বরিশালের ভাড়া ৬১৬ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া ৭৮৫ টাকা। অন্যদিকে সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালের দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ প্রতিটি বাসে টোল দিতে হয় তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। সে হিসাবে এই পথে প্রতিটি যাত্রীকে টোল বাবদ ৮৩ টাকা (৫১ আসন) থেকে ১০৬ টাকা (৪০ আসন) বাড়তি দিতে হবে। সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ৫১ আসনের বাসে বরিশাল পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৪ টাকা। আর ৪০ আসনের বাস ভাড়া হবে ৫৯২ টাকা। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। এই পথে কোনো টোল নেই। ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৯ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৩৩০ টাকা। মহাখালী থেকে রাজশাহী বা রংপুরের দিকে গেলে যমুনা সেতুসহ অন্যান্য সেতুতে ১ হাজার ৫০ টাকা টোল যুক্ত হবে। এর মধ্যে শুধু যমুনা সেতুর টোলই ১ হাজার টাকা। নতুন তালিকা অনুসারে, মহাখালী থেকে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নাটোর হয়ে রাজশাহী পর্যন্ত দূরত্ব ২৬৭ কিলোমিটার। এই পথে ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসভাড়া হবে ৭৯৭ টাকা। মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। ৫১ আসনের বাসে ভাড়া হবে ২০১ টাকা। আর ৪০ আসনের বাস হলে ভাড়া আসবে ২৫১ টাকা। চট্টগ্রাম মহানগর থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার পথে চলাচলকারী বাসগুলোর ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার। এই পথে ৫১ আসনের বাসের ভাড়া হবে ৩২৮ টাকা। আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য বড় বাসের আসন কমিয়ে ৪০ আসনে রূপান্তর করলে ভাড়া গুনতে হবে ৪১৮ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ১৫৪ কিলোমিটার। ৫১ আসনের বাসের ভাড়া হবে ৩৪৩ টাকা। আর ৪০ আসনের বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া দাঁড়াবে ৪৩৭ টাকা।