নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেন ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর সোমবার এই হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নভগোরোদ অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে কিয়েভ। এই হামলার কারণে যুদ্ধ অবসানে ক্রেমলিনের আলোচনার অবস্থান এখন বদলাবে।
ল্যাভরভ বলেছেন, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ইউক্রেন ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে হামলা চালায়। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলেছে, ‘‘ইউক্রেনের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে। ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ছোড়া সব ড্রোন রাশিয়ার আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।’’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হামলার পরও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা মস্কোর রয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে কিয়েভ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ক্রেমলিন যে দাবি করেছে, তাকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভে নতুন হামলার যুক্তি দাঁড় করাতেই এই দাবি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘‘এটি রুশ ফেডারেশনের আরেকটি মিথ্যাচার।’’ তিনি বলেন, তারা মূলত রাজধানী কিয়েভ এবং সম্ভবত সরকারি ভবনগুলোতে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করছে।’’
ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে—একেবারে সবাইকে। রাজধানীতে হামলা চালানো হতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু ওই ব্যক্তি (পুতিন) বলেছেন, তারা উপযুক্ত লক্ষ্য বেছে নেবে।’’
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত পারিবারিক সফর স্থগিত করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। মার্কিন দূতাবাসের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ না করায় সফরটি বাতিল করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ভিসা আবেদনের অংশ হিসেবে বেন-গভিরকে ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য ও আঙুলের ছাপ প্রদান করতে বলা হয়। এ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সফর পরিকল্পনায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি ভ্রমণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ভিসা আবেদনের সাধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দূতাবাস থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বেন-গভিরকে ভিসা প্রদানের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অনীহা বা অনাগ্রহ থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। বেন-গভির ইসরায়েলের রাজনীতিতে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন দেশ তাঁর কিছু অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘটনায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিবিড় থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনাদের চীনা সামরিক সদস্যরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি অপবাদ ও মানহানিকর বক্তব্য। এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো ইইউ যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে কালাস আরও জানান, বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি চীনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসলেও বেইজিং বারবার দাবি করে আসছে যে তারা সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় সাইবেরিয়ায় রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদমাধ্যমটি নিজস্ব সূত্রে প্রাপ্ত একটি ভিডিও শেয়ার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে একটি টুপোলেভ টু-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরকুটস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা চারজন ক্রু সদস্যই নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিধ্বস্ত হওয়া টু-২২এম৩ বিমানটি সোভিয়েত আমলে তৈরি একটি সুপারসনিক দূরপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান, যা এখনও রাশিয়ার বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই ধরনের বোমারু বিমান অতীতে সিরিয়া এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।