পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা জোরদারে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য-প্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আজ রোববার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ৩৩(১) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ২৪(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ খসড়া বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে আগামী দুই মাসের মধ্যে মতামত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রতারণামূলক কার্যক্রম, ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
খসড়া বিধিমালায় ‘তথ্য-প্রকাশকারী (হুইসেলব্লোয়ার) হিসেবে কমিশনে নিবন্ধিত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিবন্ধিত ফান্ড বা বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান (এসপিভি) এর কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বা নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হলে নির্ধারিত ফরমে কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন। তথ্য লিখিতভাবে, সরাসরি, ডাকযোগে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করা যাবে।
এতে তথ্য-প্রকাশকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদাবনতি, বদলি, চাকরিচ্যুতি, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের অধীনে একজন অতিরিক্ত পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ‘ডিজিগনেটেড অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি তথ্য গ্রহণ, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, রেজিস্টার সংরক্ষণ ও প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। প্রয়োজনবোধে বিষয়টি কমিশনের ইন্সপেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে পাঠানো হবে।
প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগ তুচ্ছ, হয়রানিমূলক বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিধানও রাখা হয়েছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য-প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরোপিত জরিমানা বা অর্থদণ্ড আদায় হলে কমিশন স্বীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা প্রদান করতে পারবে। তবে এ প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশের বেশি এবং কোনো অবস্থাতেই ১০ কোটি টাকার বেশি হবে না।
খসড়া বিধিমালা কমিশনের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে মতামত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। মতামত কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ই-৬/সি, আগারগাঁও, শের-ই-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকা, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় অথবা chairman@sec.gov.bd এই ইমেইলে পাঠানো যাবে।
কমিশন মনে করছে, এ বিধিমালা কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশে উৎপাদিত হতে যাচ্ছে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট। এ লক্ষ্যে চীন (হংকং)-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদন করবে, যা মাটিবিহীন চাষাবাদের জন্য বিশেষায়িত বহনযোগ্য কাঠামো। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন এবং পিই প্যাকেজিং ফিল্ম উৎপাদন করা হবে। হাইড্রোপনিক্স টেন্ট একটি নন-ট্র্যাডিশনাল ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত। যা পণ্য বহুমুখীকরণ ও বিশেষায়িত বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে বেপজার কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উৎপাদিত পণ্যসমূহ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানা গেছে। ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে আজ এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং গ্রিন পিউর হাউজওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াং শেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল ধরনের সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রদানে বেপজা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ. এস. এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সংঘাতে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হামলার জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এলএনজি ও তেল আমদানিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। সংঘাত শুরুর আগে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যেখানে ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৬১ ডলার, তা বেড়ে বর্তমানে ৭২.৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছার শঙ্কা রয়েছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ১৮ থেকে ১৯ মিলিয়ন ব্যারেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই রুটে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যকে টালমাটাল করে দিতে পারে। এদিকে দেশের জ্বালানিখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আমাদের চাহিদার বেশিরভাগ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিনির্ভর। এসব পণ্যের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। বিশেষ করে দেশে এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একক সরবরাহ উৎস কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। চলমান সংঘাত তীব্র হলে তা বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় যদি যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের দাম বেড়ে যাবে এমনটাই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। আর তা দেশে গুরুতর গ্যাস সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’ তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও আগামী জুন পর্যন্ত দেশের জ্বালানি আমদানিতে তাৎক্ষণিক শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকার টু সরকার চুক্তি ও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চুক্তি সম্পন্ন রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক দামের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ– এই তিনটি ঝুঁকি বড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বিপিসির তথ্য বলছে, অপরিশোধিত তেল আসছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। অতীতে এসব চালান মূলত হরমুজ প্রণালি হয়ে এলেও এখন বিকল্প সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ফুজাইরাহ টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বছরে বিকল্প রুটে আনার প্রস্তুতি রয়েছে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল। জানা গেছে, বিপিসির কাছে কৌশলগত মজুত রয়েছে ৩০ দিনের জ্বালানি। প্রতি মাসে গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন করা হয়। আমদানি প্রিমিয়াম আগেই নির্ধারিত থাকায় তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ পড়ছে না। তবে স্পট মার্কেটে দাম বাড়লে ভবিষ্যতের চালানে ব্যয় বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে জাহাজ চলাচলে বীমা ব্যয় বাড়বে, পরিবহন সময় দীর্ঘ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এতে ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি তেলের আপাতত সংকট না হলেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আনা এলএনজির প্রায় পুরোটাই আসছে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, যা সরাসরি বিদ্যুৎ ও শিল্পকারখানার উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে আমরা সার্বক্ষণিক তার ওপর নজর রাখছি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি নজরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিক বকেয়া না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব দিয়ে মূলত পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হয়, উন্নয়ন ব্যয়ে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণেই ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও ফ্রি ট্রেড চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রমজানের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দু-একটি পণ্যের দাম সাময়িক বাড়লেও এখন তা স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রীরা সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।