জাতীয়

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ 0

নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই দাবির বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘পে স্কেল ঘোষণা করা সহজ কাজ নয়, অনেকগুলো বিষয় জড়িত। কর্মচারীদের আলটিমেটামের মধ্যে এত কম সময়ে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না। আমরা কাজ করছি।’

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে রাজধানীর এক হোটেলে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশে দরিদ্রতা বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ ভালো প্রজেক্ট নিয়েও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনে দুর্বলতা আছে, দুর্নীতি আছে, সিস্টেমের জটিলতা–সবকিছু মিলিয়েই সমস্যা।’
 
উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া ভালো। নারীরা উদ্যমী, হিসাবী। তারা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারে খরচ করে বেশি। তাই তাদেরকে উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহরে প্রপার্টি বাড়ছে, কিন্তু উচিত হলো একে ডিসেন্ট্রালাইজ করা। শহর দরকার আছে, কিন্তু গ্রামকে আরও চমৎকার এবং আকর্ষণীয় করতে হবে। এসডিএফের রোল আরও বলিষ্ঠ হতে হবে। সুবিধাভোগী বাড়াতে হবে। দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও আত্মমানবতায় অবদান রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়। সে হিসাবে কমিশনের হাতে সময় রয়েছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বন্দরের কাছে ২৬৪ কোটি টাকা পাওনা: চসিক মেয়রের অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা ২৬৪ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছে না। ভারি যানবাহন চলাচলে নগরীর সব সড়ক বিধ্বস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ক্ষতিপূরণ নয়, ন্যায্য কর আদায়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।   সোমবার নগরীর র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে চট্টগ্রাম শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।   ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের মধ্যস্থতার পরেও বন্দর চেয়ারম্যান টাকা পরিশোধ করেননি। তিনি বলেন, ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ প্রকল্পটি সচেতনতার অভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে দৈনিক দুই হাজার ২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, আর এক হাজার টন খাল-নালায় নিক্ষেপিত হয়। পাশ্ববর্তী স্থাপনা থেকে এসব বর্জ্য খালে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন যানবাহন থেকে সড়কে বর্জ্য নিক্ষেপ করা হয়। গণসচেতনতা না বাড়লে যত অর্থই ব্যয় করা হোক না কেন, তা বৃথা যাবে। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহে ডোর টু ডোর প্রকল্পের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।   চসিক মেয়র আরও বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ ট্যাক্স আদায় নিয়ে প্রচারণা চালানো হয় যে, সিটি করপোরেশন টাকা নিচ্ছে যদিও এ কাজে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ডোর টু ডোর প্রকল্পে চসিকের জনবল এক হাজার ৮০০ জন। এক ওয়ার্ডে গড়ে দুই লাখ নাগরিকের জন্য ৪০ জন সংগ্রহকারী যথেষ্ট নয়। বাসা থেকে বর্জ্য আনার জন্য ট্যাক্স নেওয়া হয় না, শুধু ব্যবস্থাপনার জন্য ট্যাক্স আদায় করা হয়। এই বিষয়টি কাউকে বোঝানো যাচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।   এ সময় মেয়র চট্টগ্রাম নগরীতে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।   চসিক সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে চসিকের সঙ্গে নগরীতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ইয়ং পাওয়ার ইন স্যোশাল অ্যাকশন (ইপসা)। সোমবার প্রকল্পটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চুক্তি নবায়ন করা হয়।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইপসা'র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান প্রমুখ।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১১, ২০২৬ 0

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফাইল ছবি

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: বাসস

‘ব্রেইন ড্রেইন’ নয়, ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো যাবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশকে কাঁটাতার দিয়ে ভয় দেখানোর সময় এখন আর নেই।   সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।   এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ঘোষণাও দেন তিনি।   এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতারকে ভয় পায় না এবং সরকারও এ ধরনের পদক্ষেপে আতঙ্কিত নয়। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেওয়া প্রয়োজন, ভয়ভীতি প্রদর্শনে নয়।   পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, যেখানে বাংলাদেশের বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে, সেখানে সরকার যথাযথভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: সেতুমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ফেনী-পঞ্চগড়ে দায়িত্ব পাওয়ার পরই প্রত্যাহার দুই আলোচিত এসপি

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, একজন গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি
২৬ জেলার পানিসংকট নিরসনে ৩৩ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে সরকার বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ নামে একটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনর্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করা হবে। পুরো প্রকল্প শেষ করতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী—এই পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত চার বিভাগের ২৬ জেলা ও ১৬৩ উপজেলার মানুষ পদ্মা অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে বহু বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে তীব্র পানিসংকট দেখা দিচ্ছে। সরকারের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। গত ৬ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর প্রকল্পটি নতুন করে গতি পায়। বৈঠকে তিনি দেশের জিডিপিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরতে বলেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। এই ধাপের ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে। প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। ব্যারেজটিতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস গেট, মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস, একটি নেভিগেশন লক এবং গাইড ও সংযোগ বাঁধ। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারেজ ও গড়াই অফ-টেক এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের আওতায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতী নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। হিসনা অফ-টেককে হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি গঙ্গা নদী ব্যবস্থা থেকে পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পলি জমা কমানো ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।  জেলাগুলো হলো কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পিরোজপুর। দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, গোদাগাড়ী পাম্প হাউস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন হেক্টর নিট আবাদি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বছরে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন টন চাল এবং ২ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন টন মাছ উৎপাদন বাড়তে পারে। পদ্মার ওপর ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা নতুন নয়। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরে ২০০৫ সালে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয় এবং স্থানীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের একটি কনসোর্টিয়াম ২০১৩ সালে সেই সমীক্ষা শেষ করে। সেই সমীক্ষায় বলা হয়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে উজানে পানি প্রত্যাহার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়া, কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতি, নৌ-চলাচলে বিঘ্ন এবং জীববৈচিত্র্যের অবনতি ঘটেছে।

মারিয়া রহমান মে ১১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে কমিশনের দুই সদস্যের বক্তব্য প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: এ কে আজাদ

0 Comments