সারাদেশ

মেডিকেলে সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তায় মাহমুদার স্বপ্ন

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মাহমুদা খাতুন চলতি বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে। সম্প্রতি ভর্তিও হয়েছে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে। প্রথম বর্ষের ক্লাশও শুরু হয়েছে। এরপরও তার লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

তার বাবা একজন চা বিক্রেতা। তার পক্ষে মেয়ের মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ক্লাশ শুরু হলেও বই ও স্কিলেটন (কঙ্কাল) কেনা অতি জরুরি হলেও টাকার জোগাড় করতে না পারায় তা কিনে দিতে পারেননি এখনো। 

 

মোসা. মাহমুদা খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিণী। মাসুদ রানার কোনো ছেলে নেই, দুই মেয়ে। এর মধ্যে মাহমুদা বড়। আর ছোট মেয়ে মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

 

মাহমুদা ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। আর ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশোনাই আগ্রহী। আমরা পড়ালেখা জানি না। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি ওই সময়ে। গরিবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন।

মাহমুদার ডাক্তারি পড়ালেখায় সহায়তা করতে হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার।

মাসুদ রানা আরও বলেন, গ্রামে তার ছোট একটি চায়ের দোকান আছে। চা বিক্রি করে প্রতিদিন তার ৪শ থেকে ৫শ টাকা আয় হয়। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এত স্বল্প আয় দিয়েই তিনি গ্রামের কলেজে মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পেরেছেন। এখন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে তার মেয়ে। ভর্তির সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকাও ধার দেনা করে খরচ করা হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলে খাওয়ার খরচ মাহমুদার লাগবে আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

 

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাব। গ্রামে মাত্র দুই শতক জমি রয়েছে। সেখানে মাটি ও বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্না করেন, যেন পড়াশোনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরিব-দুঃখী মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারে তার মেয়ে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাতে পূরণ হয় এজন্য রাষ্ট্রের সরকার ও দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

 

মাহমুদা খাতুন বলেন, প্রথম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তাহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি খারাপও লাগছে। এছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কাল) কিনতে বলেছেন। কিন্তু বাবা টাকার অভাবে এখনো কিনে দিতে পারেননি।

 

মাহমুদার প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন মুণ্ডুমালা পৌরসভায় চাকরি করেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবার সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠে। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়ালেখা করতে হয়েছে তাকে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। এছাড়াও অতি অভাবে মানুষের কামলা খাটে। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলেও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। মাহমুদার পাশে সবাইকে দাঁড়ানো উচিত।

 

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, মাহমুদা খাতুনের মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ব। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু সরকারি সহায়তা নয়- এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মোংলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।   বিকেলে পৌর মার্কেট চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   সমাবেশে পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার, গোলাম নুর জনি, মো. আলাউদ্দিন, কাজী ফারুক, আ. কাদের, আ. সালাম ব্যাপারী, মো. ইলিয়াস হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ফকির ও শেখ শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।   বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের নজরের মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।   বক্তারা আরও বলেন, কেউ যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে মিছিল ঘিরে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীন-ভারতের ভূমিকা জরুরি : জামায়াত আমির

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির ৫ দিনের রিমান্ড

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সেই ক্যান্টনমেন্টের ওসি

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   এর আগে ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবুল হাসানকে ডেকেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছিল। কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদরদপ্তরের দুজন কর্মকর্তা ছিলেন।   সাবেক ওসি রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’   এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ডিবিতে তাকে ডাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছিলেন, ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিএমপির গঠিত কমিটি।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের নামে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ, সরকার ও বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সেখানে বলা হয়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’   অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ার দাবি এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিয়েও বক্তব্য শোনা যায়। এ ছাড়া পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায় সাবেক ওসি রাকিবুলকে।   তবে অডিওটি নিজের নয় বলে দাবি করেছিলেন রাকিবুল হাসান। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।   অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে ডিএমপির পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে হাজির করা হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, তা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।   পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সময়ে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় কাজ করেছেন রাকিবুল। ৫ আগস্টের পর তিনি ডিএমপিতে বদলি হন। প্রথমে ভাটারা থানায় দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনের আগে লটারিতে তাকে গুলশান থানায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে গুলশান থানা থেকে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় বদলি করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মিয়ানমারে পাচারকালে ৬০০ বস্তা সার উদ্ধার কোস্ট গার্ডের

ছবি: সংগৃহীত

৩৫ যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে উল্টে গেল স্লিপার বাস, আহত ১৫

সংগৃহীত ছবি

বরিশাল মহাসড়কে ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
দেড় বছর আগে গাঁজাসহ আটক হয়েছিল অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে প্রায় দেড় বছর আগে গাঁজাসহ আটক করেছিলেন অপ্রতিমের মা কুবি’র বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন।   গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে ফাহাদসহ সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে আটকদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।   এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।   এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কামরুল হাসান (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯)। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন ও মো. সিয়ামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   চার আসামির মধ্যে সিয়াম ছাড়া সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   এদিকে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটকের ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও নিশ্চিত করেছেন, ছবিতে থাকা সাত কিশোরের একজন ফাহাদ।   জানা গেছে, ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোচালক। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।   অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, চলতি মাসের ২ তারিখে ফাহাদ তার ইলেকট্রিক অফিসে চাকরি নেয়। তবে ফাহাদের মা জুলি আক্তার দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গাঁজাসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের মধ্যে ফাহাদ ছিল না।   এদিকে অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।   তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো?’   নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজের পুনঃপদায়ন বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে: মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক

0 Comments