বলিউডের অন্যতম তারকা জুটি রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট। তাদের কোলজুড়ে এসেছে মেয়ে রাহা কাপুর। জন্মের পর থেকেই তাকে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। সবাই ধরে নিয়েছিলেন বড় হয়ে মা-বাবার মতো রূপালি পর্দায়ই দাপিয়ে বেড়াবে সে। তবে মা আলিয়া ভট্টের ভাবনা কিন্তু একদম ভিন্ন। তিনি চান না তার মেয়ে গ্ল্যামার দুনিয়ায় আসুক, বরং মেয়ের হাতে ব্যাট কিংবা বল দেখতে চান তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া তার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। রাহা বড় হয়ে অ্যাথলিট বা ক্রীড়াবিদ হোক এটিই তার একান্ত চাওয়া। মাত্র তিন বছর বয়সী রাহার মধ্যে আলিয়া এখনই একজন অ্যাথলিটের সব গুণাবলি খুঁজে পাচ্ছেন।
আলিয়ার মতে, রাহা ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড চঞ্চল এবং প্রতিযোগী মনোভাবাপন্ন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে মনে চাই ও বড় হয়ে যেন অ্যাথলিট হয়। ও এখনই খুব পরিশ্রমী এবং সারাক্ষণ ছোটাছুটি ও লাফালাফি করতে ভালোবাসে। মাত্র তিন বছর বয়সেই ওর মধ্যে যে পরিমাণ এনার্জি আমি দেখি, তা একজন অ্যাথলিটের মতোই।’
নিজের জীবনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আলিয়া তার মা সোনি রাজদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, তার মা যেভাবে সংসার সামলানোর পাশাপাশি থিয়েটার ও টেলিভিশনে নিজের অভিনয় সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তা আলিয়াকে আজীবন অনুপ্রাণিত করে।
তার কথায়, ‘আমার মা-ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। থিয়েটার হোক বা টেলিভিশন তিনি সবসময় নিজের সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’ ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাদার জীবনেও এখন সাফল্যের তুঙ্গে আছেন আলিয়া।
খুব শিগগিরই যশরাজ ফিল্মসের আলোচিত স্পাই ইউনিভার্সের ছবি ‘আলফা’-তে তাকে অ্যাকশন লুকে দেখা যাবে। এছাড়া সঞ্জয় লীলা বনশালির পরবর্তী মাস্টারপিস ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ স্বামী রণবীর কাপুর এবং ভিকি কৌশলের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন এই বলিউড কুইন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মাইকেল’ আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনে আয়োজন করা হয়েছিল এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে পর্দায় প্রথমবারের মতো দেখানো হয় মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। এ সময় উপস্থিত দর্শক ও সমালোচকরা বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেন। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। মাইকেল জ্যাকসন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী একজন মার্কিন গায়ক, গীতিকার ও নৃত্যশিল্পী ছিলেন, যাকে বিশ্বজুড়ে 'কিং অফ পপ' বা পপসম্রাট হিসেবে অভিহিত করা হয়। তার অসাধারণ প্রতিভা এবং নতুনত্বের মাধ্যমে তিনি মিউজিক ভিডিও এবং আধুনিক পপসংগীতের ধারা চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাইকেল তার ভাইদের সঙ্গে নিয়ে গঠিত সংগীত দল 'দ্য জ্যাকসন ৫’-এর লিড ভোকালিস্ট হিসেবে পেশাদার সংগীত জীবন শুরু করেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এই ব্যান্ডটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ‘আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক’ ও ‘এবিসি’-এর মতো চার্ট-টপিং গান উপহার দেয়। এ কিংবদন্তি ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট আমেরিকার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে একটি আফ্রিকান-আমেরিকান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১০ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার ছিল তীব্র অনুরাগ। ১৯৭১ সালে মাইকেল এককভাবে গান গাওয়া শুরু করেন। তবে ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ তাকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত। মাইকেল জ্যাকসন কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, বরং একজন বড়মাপের মানবহিতৈষীও ছিলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে ৩৯টি দাতব্য সংস্থাকে কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিলেন এবং নাগরিক অধিকার ও পরিবেশগত কারণে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তার আয়ের অর্থ দিয়ে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাইকেল জ্যাকসন আজও তার গান এবং নাচের মাধ্যমে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। ২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (প্রোপোফল নামক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়) এ কিংবদন্তির মৃত্যু হয়। সেদিন তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ব শোকাভিভূত হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তার জীবনী অবলম্বনে হলিউডে বায়োপিক নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইয়ের ছেলে জাফর জ্যাকসন। এ সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত জীবন এবং আইকনিক পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়েছে। লায়ন্সগেট ও গ্রাহাম কিং এবং জন ব্রাঙ্কা ও জন ম্যাকক্লেইন (মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের সহনির্বাহী) প্রযোজনায় জন লোগানের চিত্রনাট্যে অ্যান্টোনি ফুকার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে 'মাইকেল' সিনেমা। এত কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইকেল জ্যাকসনের ভাইপো জাফার জ্যাকসন। পপসম্রাটের ভূমিকায় অভিনয় করে এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছেন তিনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেটের আশা, 'মাইকেল' সিনেমাটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে ৭০ কোটি ডলার আয় করবে। যদি এ পূর্বাভাস মিলে যায়, তবে এটি হবে মিউজিক্যাল বায়োপিক বা সংগীত তারকাদের নিয়ে নির্মিত সিনেমার ইতিহাসে শীর্ষ তালিকায় স্থান। আজ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘মাইকেল’ সিনেমাটি। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করা জাফর জ্যাকসনকে নিয়ে। সম্পর্কে পপসম্রাটের ভাতিজা এক অনবদ্য অভিনয় ও তার লুকের মাধ্যমে চাচা মাইকেলের প্রায় পুরোটাই পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। দর্শকদের মতে, জাফরের কণ্ঠ থেকে শুরু করে তার নাচ ও আবেদন প্রায় সবটাই মিলেছে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে।
হলিউড কাঁপাতে আবারও ফিরছেন দেশি গার্ল খ্যাঁত বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। গত বছরের টানটান উত্তেজনা আর অ্যাকশনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক মিশনে নামছেন এই অভিনেত্রী। ওটিটি দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত স্পাই-থ্রিলার সিরিজ ‘সিটাডেল’-এর দ্বিতীয় সিজনে আবারও নাদিয়া সিং হয়ে পর্দায় ঝড় তুলতে প্রস্তুত তিনি। প্রথম কিস্তিতে নিজের দুর্ধর্ষ অ্যাকশন আর গ্ল্যামারে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করার পর, এবার প্রাইম ভিডিওর এই মেগা প্রজেক্টে ফের দেখা যাবে এই সুন্দরীকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনের ট্রেলার প্রকাশ করেছে স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম প্রাইম ভিডিও। অ্যাকশনে ভরপুর এই ট্রেলার প্রকাশের পাশাপাশি জানানো হয় এর মুক্তির তারিখ। চলতি বছরের আগামী ৬ মে থেকে সিরিজটির স্ট্রিমিং শুরু হতে চলেছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে এই সিজনেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা রিচার্ড ম্যাডেনকে। ‘সিটাডেল’ মূলত বিশ্বসেরা একদল এলিট গোয়েন্দাদের গল্প। ম্যান্টিকোর নামের একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্রের হাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছিলেন মেসন কেন (রিচার্ড ম্যাডেন), নাদিয়া সিং (প্রিয়াঙ্কা চোপড়া) ও বার্নার্ড অরলিক (স্ট্যানলি তুচি)। স্মৃতিলোপ পাওয়া এই গোয়েন্দাদের পুনরুত্থান ও লড়াই নিয়েই সিরিজের মূল কাহিনী। এদিকে নতুন সিজনে দেখা যাবে, পৃথিবীকে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে এই তিন গোয়েন্দা আবারও অ্যাকশনে নামছেন। নিজেদের লক্ষ্য পূরণে তারা নতুন এক দল গঠন করেন এবং বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তাদের শ্বাসরুদ্ধকর মিশন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারের সিজনটি আগের চেয়ে আরও বেশি রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে।
পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভারের তারকা হিসেবে খেতাব পেয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে।কভারে জায়গা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘এখনো কিছুটা অবাস্তব/অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক সিটির লিংকন সেন্টারে ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’ এর প্রিমিয়ারে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। প্রিমিয়ারে পিপল ম্যাগাজিন তাদের বিশেষ সংখ্যার কপি কভার তারকার হাতে তুলে দেয়। তারকা সমাবেশে ভরা এ অনুষ্ঠানে পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিনিধি টেইলন বিগসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হ্যাথাওয়ে বলেন, দিনটি ছিল ভীষণ আনন্দের। তিনি জানান, এমন একটি আইকনিক কভারে জায়গা পাওয়া তার জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। হাসিমুখে বলেন, এটা এখনো কিছুটা অবাস্তব মনে হচ্ছে। আজই প্রথম দিন, এখনো বিষয়টা বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি—আর আশা করছি সবাই আমাকে এটা নিয়ে একটু মজা করবে! এই ছবিতে হ্যাথাওয়ে প্রায় ২০ বছর পর তার জনপ্রিয় চরিত্র অ্যান্ডি স্যাকস হিসেবে ফিরে আসছেন। তিনি আরও জানান, পুরনো সহ-অভিনেতা মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচির সঙ্গে আবার কাজ করা তার জন্য ছিল আনন্দময় অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, সেই সময়টিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন হ্যাথাওয়ে। তিনি তার স্বামী অ্যাডাম শুলমানের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি তাকে সবসময় স্থির ও বাস্তবতায় রাখেন। ৪৩ বছর বয়সী এই অস্কারজয়ী অভিনেত্রীর বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১৩ সালে ‘লে মিজারেবলস’ এ ফ্যান্টাইন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কার জেতেন। চলতি বছর হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। আগামী ১ মে ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’ ছাড়াও এ বছর তার অভিনীত আরও চারটি সিনেমা মুক্তি পাবে। সূত্র: পিপল ডটকম