চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের সামান্য মুনাফা হয়েছে। যদিও আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি বড় লোকসান করেছিল। সেই অর্থে লোকসান থেকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে অনুমোদন করা হয়েছে।
সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৭২ পয়সা।
আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৮ পয়সা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার রাজধানর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১৩ টাকা ও এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে একটি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকা, আবার হালিতে ৬ টাকা। অন্যদিকে এক ডজন কিনলে দাম ১৪০ টাকা নিচ্ছে। শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি আগের দরে বিক্রি হলেও আরও বেড়েছে পেপের দাম। অনেক দিন পরে কমেছে বেগুনের দর। কমেছে কক মুরগি ও গরুর মাংসের দর। শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ সিয়াম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এক ডজন ডিমে পাইকারি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত শুক্রবারও এক ডজন ডিম বিক্রি করতাম ১৩০ টাকায়, গতকাল থেকে ১০ টাকা বাড়ছে, আজকে ১৪০ টাকা ডজন।’ এক ডজন ডিম একই দরে বিক্রি করছেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মোহাম্মদ রুবেলও। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পরিচিত ক্রেতা হলে এক হালি ৪৮ টাকা বিক্রি করি। এক ডজন নিলে ১৪০ টাকা।’ যাত্রাবাড়ী বাজারের দোকানি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০ দিন আগেও ১১০ টাকা ডজন বিক্রি করছি, এখন ১৪০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম আড়াই টাকা বৃদ্ধির হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, গরমের সময়ে ডিমের দাম কম থাকে। মুরগির দামও কমে যায়। খামারিরা মুরগি দ্রুত বিক্রি করে দেন, নতুন মুরগি উঠানোর জন্য। গরমে বড় মুরগি মারা যায় বেশি, তাই খামারিরা এক লটে বিক্রি করে দেন। ডিমের বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা গেছে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শেষের দিকে। সেই সময়ে আমদানির অনুমতি দিলে কমে আসে বাজার দর। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ঢাকা মহানগরীর দৈনিক বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর এক হালি ডিম বিক্রি হয় ৫২ টাকা দরে। পরে আমদানির সুযোগ দিলে ডিমের দর কমে আসতে থাকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডিমের দাম কমে প্রতি হালি ৪০ টাকায় নেমে আসে। সে বছর সেপ্টেম্বরে আরেক দফা দাম বাড়ে, তখন ভারত থেকে আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১ অক্টোবর ডিমের দর ফের প্রতি হালি ৫৬ টাকায় ওঠে। পরের মাস অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কমে ৫২ টাকায় নামে সরকারের আমদানির সিদ্ধান্তে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আমদানিকৃত ডিম বাজারে আসতে শুরু করলে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে দাম। সেই থেকে প্রতি হালি ডিমের দাম ৪০ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল, বেশিরভাগ সময়ে ৪০ টাকার মধ্যে ছিল। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গেল এপ্রিলের ৭ তারিখেও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসটির শেষ দিনে প্রতি হালি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ওঠে ৪৫ টাকায়। এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি দরে। কমেছে বেগুনের দাম, বাড়তি পেঁপে শনির আখড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, পেঁপে ৮০- ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। তার দাবি, পেঁপে আসছে কম। বড় আকারের হলে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। আগের সপ্তাহেও পেপে একই দরে বিক্রি হয়। তিন সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়। এ বাজারে আগের দরে ঝিঙা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দের বিক্রি হয়। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গোল বেগুন ১০০ টাকা ও লম্বা বেগুনের দর ৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগেও গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে। এ বাজারে আগের সপ্তাহের দরে ঢেঁড়স বিক্রি হয়, ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। টমেটোর দামও দরে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় স্থির। যাত্রবাড়ীতে করলা বিক্রি হয় আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪০ টাকা কমে, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে। কাপ্তান বাজারে পটল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা দরে, আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। যাত্রাবাড়ীতে দেশি শসা হঠাৎ বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা কেজি। অন্যদিকে হাইব্রিড শসা এ বাজারে বিক্রি হয় আগের দরে, প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। এ বাজারে কাকরোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা। নতুন এ সবজির দর এক মাস আগে ছিল ১৮০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে তা কমে হয় ১২০ টাকা। আগের সপ্তাহের মতো শুক্রবারও যাত্রাবাড়ী বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তিন বাজারেই কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও এ দরে বিক্রি হয়েছে। কিছু কমেছে মাংসের দাম শনির আখড়া কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮২০ টাকা দরে। এ বাজারে আগের সপ্তাহের মতো ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন মোহাম্মদ ইমন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, কক এক কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। ব্রয়লার আগের সপ্তাহের দরে বিক্রি হলেও কক মুরগির দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০ টাকা। বেড়েছে মাছের দাম শুক্রবার কয়েকটি মাছের দর আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দেখা যায়। সবচেয়ে ছোট আকারের কাচকি মাছ শনির আখাড়া বাজারে মোহাম্মদ জসিম বিক্রি করছেন ৬০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে ছিল ৫০০ টাকা। অন্যদিকে এ বাজারে মলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়, আগের সপ্তাহে ছিল ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি শিং মাছ ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে শুক্রবার বিক্রি হয় ৪০০ টাকা কেজি। শনি আখড়া বাজারে একই দরে বিক্রি হচ্ছে রুই ও তেলাপিয়া মাছ। দুই কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে এবং এক কেজি ওজনের হলে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। দেশি বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫০ টাকা কেজি। এ বাজারে আগের দরে তেলাপিয়া ১২০ টাকা, ভাটা মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সরপুটি ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। পাঙ্গাসের দর ২০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। আগের দরে চাষের পাবদা ৩০০ টাকা ও দেশি পাবদা ৬০০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ বাজারে। অবশ্য বেড়েছে আইড় মাছের দাম। প্রতি কেজি ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির কথা বলেছেন মোহাম্মদ জাকির।
সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় চাষ হওয়া নরম খোসার (সফটশেল) কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে। বর্তমানে সফটশেল (নরম খোসার) কাঁকড়া সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার, যা জেলা তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জুন) এ রপ্তানি ছিলো ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এতে বিগত বছরে চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। কেবল চলতি বছরের জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বাণিজ্যিকভাবে চাষ যোগ্য কাঁকড়ার মধ্যে শিলা কাঁকড়া অন্যতম। শিলা কাঁকড়া খোলস বদলের সময় প্রায় তিন ঘণ্টা খোলস বিহীন থাকে। তখন কাঁকড়ার ওপর শুধু একটি নরম আবরণ থাকে। ঠিক সেই সময় কাকড়াঁগুলো বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সফটশেল (নরম খোসা) কাঁকড়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, যার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি ছেড়ে এখন কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাকড়াঁতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ছাড়াও সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানেও সফটশেল কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। কাঁকড়া চাষে পুকুরের পানির উপরিস্তর ব্যবহৃত হয়। যাতে অব্যবহৃত থাকে পানির নিচের স্তর। পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাঁকড়ার পাশাপাশি সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ নানা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী। সফটশেল কাঁকড়া সাধারণত খাঁচা পদ্ধতিতে চাষ হয়। যাতে পানির ওপরে খাঁচাগুলোতে কাঁকড়া চাষ করলে নিচের স্তরের পানিতে সাদা মাছের চাষ করা যায়। সফটশেল কাঁকড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও রান্না করা যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে সফটশেল কাঁকড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কাঁকড়া শুধু সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আয়েরই উৎস নয়, বরং কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্বও দূর করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি কাঁকড়ার খামারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকড়ার খামারে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নারী ও পুরুষরা। কেউ ছোট ছোট করে কাটছেন কাঁকড়ার খাবার তেলাপিয়া মাছ এবং কেউ কেউ নিয়ম করে দেখছেন কাঁকড়ার খোলস পাল্টাচ্ছে কি-না। খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে ১২০৭.৭৬ মেট্রিক টন সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানি হয়, যার বাজার মূল্য ১৬.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরআগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৬৬.৮৮ মেট্রিক টনে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শ্যামনগরের চাষি মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় ভাইরাসের আক্রমণেও কাঁকড়া পোনা মারা যায়, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। তারপরও অন্যান্য কাঁকড়া চাষের তুলনায় সফটশেল কাঁকড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় আমরা এটি চাষ করছি। পাশাপাশি পুকুরে সাদা মাছও চাষ করছি, যাতে আর্থিকভাবে কিছুটা বাড়তি লাভ পাওয়া যায়।’ আরেক চাষি আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখন মোটামুটি সবাই সফটশেল কাঁকড়া চাষের সঙ্গে যুক্ত। এই কাঁকড়া বিশেষ বক্সের মধ্যে চাষ করতে হয়। প্রতিটি বক্স তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ১১০ টাকা। আমার খামারে প্রায় ১২ হাজার বক্স রয়েছে। বর্তমানে বাজারে সফটশেল কাঁকড়ার চাহিদা অনেক বেশি, তবে সেই তুলনায় যোগান কম।’ সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বাসস’কে বলেন, ‘সফটশেল কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করতে পারেন।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের বাজারমূল্য বুধবার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই খাতে দ্রুত বর্ধমান চাহিদার ফলে কোম্পানির শেয়ারমূল্য লাফিয়ে বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কসপি সূচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। কোম্পানিটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স-এর সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের সঙ্গে তাল মেলাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ সব চিপের ওপর নির্ভর করছে, ফলে এর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শক্তির একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলতে জোরালোভাবে কাজ করছে। বুধবার সকালের লেনদেনে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়, যার ফলে বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কসপি ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রথমবারের মতো ৭,০০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। গত এক বছরে এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে স্যামসাংয়ের শেয়ারমূল্য প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং এখন তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান, যার বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা বছরে ৭৫০ শতাংশ বেড়ে প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ৫৭.২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৩৯.৩ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে। স্যামসাং এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ‘এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও দ্রুত বাজারে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা’-কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কোম্পানিটি আশা করছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মেমরি চিপের চাহিদা অব্যাহত থাকবে।