আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ হবে: কিউবা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হবে বলে সতর্ক করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। 

একই সময়ে ওয়াশিংটন কিউবার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ও দেশটির শীর্ষ নেতাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে দুই বৈরী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মিগেল দিয়াজ-কানেল সোমবার কিউবার আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। 

এর একদিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, হাভানা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করছে। 
হাভানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে— এমন জল্পনার মধ্যেই এ তথ্য সামনে এসেছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হাভানা পূর্ব কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন সামরিক জাহাজ ও সম্ভবত ফ্লোরিডাতেও ড্রোন হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দিয়াজ-কানেল আবারও বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের জন্য ‘কোনো হুমকি নয়’। 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে, তা ‘অপরিমেয় পরিণতির রক্তক্ষয়ী’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

কিউবার কথিত হামলাকারী ড্রোন মজুতের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। 

তবে তিনি বলেন, সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ কিউবার রয়েছে।

জাতিসংঘে কিউবার রাষ্ট্রদূতও একই ধরণের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

ওয়াশিংটন সোমবার ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। 

দেশটি কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা এবং যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিচার মন্ত্রীসহ নয় জন কিউবান নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং অন্তত তিন জন জেনারেলও রয়েছেন।

জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর ধারাবাহিক চাপ বাড়িয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। 

একই মাসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর পদক্ষেপের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার অন্যতম শেষ অর্থনৈতিক ভরসা ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসা অন্য দেশগুলোর ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।

ট্রাম্পের তেল অবরোধে কিউবার মানবিক ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।

কিউবা সরকার অভিযোগ করেছে, অর্থনীতিকে জ্বালানি অবরোধের মাধ্যমে ‘শ্বাসরোধ’ করার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
কিউবায় সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও ২ মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেয়েছেন

কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও দেশটির দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর বৃহস্পতিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজধানী হাভানায় তাদেরকে আটক করা হয়েছিল।    সানচেজ কিউবার স্বাধীন সাংবাদিক ও দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ৫১ বছর বয়সী ইয়োয়ানি সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এইমাত্র বাড়ি ফিরেছি। আজ সকালে আমাকে খামখেয়ালিভাবে আটক করা হয়েছিল, সে খবর ছড়িয়ে দেওয়া এবং আমার প্রতি সংহতি প্রকাশ করার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের এই সমর্থনই শেষ পর্যন্ত কারাগারের শিকল খুলে আমাকে মুক্ত হতে সাহায্য করেছে।’   সানচেজের প্রতিষ্ঠিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘১৪ইমেদিও’ জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালে হাভানার নুয়েভো বেদাদো এলাকায় নিজের বাসা থেকে কেনাকাটা করতে বের হওয়ার সময় পুলিশের সদস্যরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।   তার আটকের ঘটনায় একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা নিন্দা জানিয়েছিল।   সানচেজ জানিয়েছেন, কারাগারের ভেতরে যারা পরিচিত নন বা যাদের কথা প্রকাশ্যে আসে না, তাদের কষ্ট ও চরম নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো নিয়ে তিনি শুক্রবার আরও বিস্তারিত জানাবেন।   তিনি বলেন, ‘তাদের গল্পগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব আমার রয়েছে।’   বৃহস্পতিবার কিউবার আরও দুই পরিচিত মানবাধিকারকর্মীকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করা হয়েছিল।  তারা হলেন— ‘লেডিস ইন হোয়াইট’ আন্দোলনের নেত্রী বার্তা সোলের ও সংগঠনটির সদস্য মারিয়া ক্রিস্টিনা লাব্রাদা।   সোলেরের স্বামী অ্যাঞ্জেল মোয়া এএফপিকে জানান, বিরোধী আন্দোলনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওই দুই নারীকে ‘রাস্তায় মাঝপথ থেকে’ আটক করা হয়।   তিনি বলেন, ‘তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না।’   পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোয়া এএফপিকে জানান, ওই দুই নারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, স্পেনভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা কিউবান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে সোলের ও লাব্রাদার অবস্থান সম্পর্কে ‘অবিলম্বে তথ্য’ প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল।   সানচেজ আটকের খবরটি সংক্ষিপ্ত খুদেবার্তার মাধ্যমে তার সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন।   ২০০৮ সালে স্প্যানিশ ভাষার সাংবাদিকতায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ওর্তেগা ই গাসেত’ পুরস্কার পান তিনি। একই বছর টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়ও তার নাম স্থান পায়।   কিউবার অন্যান্য স্বাধীন সাংবাদিকের মতো সানচেজও দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।   এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সানচেজের আটকের পাশাপাশি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘লা ওরা দে কিউবা’র পরিচালক সাংবাদিক হেনরি কনস্টান্টিনকে আটক রাখারও সমালোচনা করেছে।   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে যাদের আটক রাখা হয়েছে, তাদের সবাইকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে আমরা কিউবা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’   ২০২৩ সালে প্রণীত কিউবার একটি আইন অনুযায়ী, দেশটিতে কেবল রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলোই অনুমোদিত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কাছ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাজ্য

গৃহবন্দি হতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব

এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ নকল করা হারাম: মক্কার ইমাম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, মানুষের কণ্ঠ নকল এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ইসলামে নিষিদ্ধ বলে সতর্ক করেছেন মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুর রহমান আল-সুদাইস।   গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। সৌদি সংবাদমাধ্যম সবক ও আজেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   শায়খ সুদাইস বলেন, এআই ও বিভিন্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে কারও ভিডিও বিকৃত করা, কণ্ঠ নকল করা কিংবা অন্যের নামে মিথ্যা বক্তব্য ও ছবি প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ মিথ্যাচারের শামিল। এসব কাজ মানুষের অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে।   তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। তাই এগুলো প্রতারণা বা মানুষের ক্ষতি করার কাজে নয়, বরং কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা উচিত।   খুতবে তিনি কোনো খবর, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। যাচাই না করে তথ্য ছড়ালে গুজব তৈরি হতে পারে, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে এবং সামাজিক আস্থার ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন।   সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাত শর্ত, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব

পার্কে বসে অফিসের কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে দুবাই

৮ মাস বেতন না পেয়ে অফিসের বাইরে ভিক্ষার বাটি নিয়ে বসে পড়লেন নারী

ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক ধসে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। তবে তার পদত্যাগের বিষয়টি এখনো কংগ্রেসের অনুমোদন পায়নি। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যরা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, কোনো সময় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চাইছেন। জনগণের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।   পেনাকে ঘিরে সংকটের সূত্রপাত উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় এর সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন পেনা। এ কারণে তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার প্যারাগুয়ের কংগ্রেস ভবনের কাছে পেনার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সাধারণ মানুষ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন শুরু হলেও পদত্যাগের প্রস্তাবের বদলে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে পেনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানিয়েছেন, সিনেটে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কিছু গোপন করা উচিত নয়।   পেনা এর আগে বলেছিলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   উয়েনো ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। ব্যাংকটিতে পেনশনসহ সরকারের কিছু তহবিলও জমা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাবের টাকা তুলতে পারছেন না।   ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও অনুমোদন করেছে কংগ্রেস। এদিকে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   ২০২৩ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন পেনা। তার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ অবশ্য এরই মধ্যে বাতিল করেছে কলোরাডো পার্টি।   সূত্র: বিবিসি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬

সরকার গঠনে আইজেনকোটের সমর্থন বাড়ায় চাপে নেতানিয়াহু

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকানরা

ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা ডেমোক্র্যাটদের

0 Comments