বিশ্ব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। খবর আলজাজিরা।

 

বৃহস্পতিবার ভোরে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের আরেক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছায়।

 

তবে কিছু সময় পর দাম সামান্য কমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় ইরান প্রণালিটি খুলছে না। এ অবস্থার কারণে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার শঙ্কায় তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ : সর্বশেষ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি : - লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরাইলের হামলা - আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও, বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় আল-আখবার পত্রিকার প্রবীণ সংবাদদাতা আমাল খলিল নিহত ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জেইনাব ফারাজ আহত হয়েছেন।  প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। লেবাননের রেড ক্রসের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, তারা ফারাজকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা খলিলের লাশের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।  তিনি আরও বলেন, একটি ‘সতর্কতামূলক হামলার’ কারণে কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে আসার পর, তারা পুনরায় ফিরে গিয়ে তার লাশটি উদ্ধার করেন। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করাকে ‘একটি গুরুতর অপরাধ ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। ‘গুরুতর মতপার্থক্য নেই’ ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বুধবার বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে ইসরাইলের কোনো ‘গুরুতর মতপার্থক্য’ নেই।  তিনি হিজবুল্লাহকে ‘শান্তি ও স্বাভাবিকীকরণের পথে বাধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।  তবে হিজবুল্লাহর একজন আইন প্রণেতা সোমবার এএফপিকে জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা মেনে নিতে পারে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং লেবানিজ কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ২ হাজার ৪৫৪ জন নিহত হয়েছেন।  - গাজায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ৫- গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, উত্তরের বেইত লাহিয়ার আল-কাসাম মসজিদের কাছে একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের হামলায় নিহত পাঁচ ফিলিস্তিনির মধ্যে তিন জন শিশু ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সঙ্গে ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্তত ৭৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  এই মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জাতিসংঘ তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। - দ্বিতীয় ফরাসি সেনার মৃত্যু - ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বুধবার বলেছেন, লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর সপ্তাহান্তে চালানো এক অতর্কিত হামলায় আহত হয়ে দ্বিতীয় এক ফরাসি সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করা হলেও তারা এর দায় অস্বীকার করেছে। - শান্তি পরিকল্পনার জন্য কোনো সময়সীমা নেই- হোয়াইট হাউস বুধবার জানিয়েছে, ইরানকে শান্তি প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি।  হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের কিছু প্রতিবেদনের মতো প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রস্তাব পাওয়ার জন্য কোনো কঠোর ডেডলাইন সেট করেননি। শেষ পর্যন্ত এই সময়রেখা তিনিই (ট্রাম্প) নির্ধারণ করবেন।’ - হরমুজ পুনরায় খোলা 'সম্ভব নয়' - ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেছেন, মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না। তিনি এটিকে দুই দেশের যুদ্ধবিরতির একটি ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির তখনই অর্থ থাকে, যখন নৌ অবরোধের মাধ্যমে তা লঙ্ঘন করা হয় না। যুদ্ধবিরতির এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা সম্ভব নয়। ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের প্রত্যাখ্যান ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার অনুরোধে ইরান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া আট নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।  তবে ইরানের বিচার বিভাগ এই দাবিকে ভুয়া খবর বলে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, ওই নারীরা কখনোই মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হননি। - যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন - হোয়াইট হাউস বুধবার জানিয়েছে, ইরানের দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করাকে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেন না, কারণ জাহাজগুলো মার্কিন বা ইসরাইলের নয়। যুদ্ধ ইউরোপকে ‘দুর্বল’ করছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, এই যুদ্ধ ইউরোপকে দুর্বল করতে শুরু করেছে।  জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে এক ফোনালাপে এরদোয়ান বলেন, যদি শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা না করা হয়, তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0

পাকিস্তানে খনি প্রকল্পে সশস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ১০

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখতে জি-৭ বৈঠকে জলবায়ু ইস্যু বাদ

ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের বড় বড় হুমকি কতটা কাযকর হলো?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে বারবার সময়সীমা বেঁধে দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ইরান যুদ্ধের পঞ্চম দিন, ৪ মার্চ, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, অনেকেই ভেবেছিল ট্রাম্প শুধু কথা বলবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প ‘ফাঁকা হুমকি’ দেন না। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ট্রাম্পের একাধিক হুমকি ও সময়সীমা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি পাঁচ সপ্তাহে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বারবার সময়সীমা ঘোষণা করলেও পরে তা পিছিয়ে দিয়েছেন।   এই সময়ে ট্রাম্প অন্তত পাঁচবার ইরানকে শর্ত মানতে সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়। এর মধ্যে ছিল ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পাঁচ দিনের সময়সীমা, এমনকি ‘সব ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ ধরনের কঠোর হুমকিও। কিন্তু বাস্তবে ইরান তার শর্ত পূরণ না করলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেনি।   প্রথমে ২১ মার্চ তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেন। কিন্তু ২৩ মার্চের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি তা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বাড়ান এবং বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে। যদিও ইরান সে দাবি অস্বীকার করে। পরে ২৬ মার্চ আবার সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়। ট্রাম্প বলেন, ইরান সময় চেয়েছে এবং আলোচনা ভালো চলছে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, প্রকৃত আলোচনা হয়নি।   এই সময় ট্রাম্প আরও কড়া শর্ত দেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেন। ৬ এপ্রিল আবার সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ এপ্রিল করা হয়। ট্রাম্প বলেন, ইস্টারের কারণে তিনি সময় দিয়েছেন। একইসঙ্গে আবারও হুমকি দেন, শর্ত না মানলে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।   ৭ এপ্রিল তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে তখনও ইরান তার কোনো শর্ত পূরণ করেনি। যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে।   এরপর ২১ এপ্রিল তিনি আবারও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সময় বাড়ান। এবার তিনি যুক্তি দেন, ইরানের সরকার ‘অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল’। তবে একই বক্তব্যে তিনি এটিও বলেন যে এমন অবস্থা ‘অপ্রত্যাশিত নয়’, যা তার আগের কঠোর সময়সীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সূত্র বলছে, নতুন সময়সীমা সীমিত হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।   বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে ইরান এখন মনে করতে পারে যে ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়নে অনিচ্ছুক।   এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সিরিয়া ইস্যুতে ‘রেড লাইন’ কার্যকর না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই একসময় বলেছিলেন, এমন ব্যর্থ হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।   ২০১৭ সালে ট্রাম্প বলেন, হুমকি দিয়ে তা কার্যকর না করলে দেশ হিসেবে আমাদের ক্ষতি হয়। আর ২০১৬ সালের এক ভাষণে তিনি ওবামার নীতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তথ্যসূত্র : সিএনএন

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরে ইন্টারনেট কেবলে হামলা করতে পারে ইরান

ছবি : সংগৃহীত

উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিবাদ

আমাল খলিল। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল সাংবাদিকের

ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে আটকা ইরানের ৩ হাজার কনটেইনার, বাড়ছে বাণিজ্য সংকট

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রভাবে ইরানের উদ্দেশ্যে পাঠানো পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়েছে। সম্প্রতি সামনে আসা কিছু নথিপত্রে এই কনটেইনারগুলো উদ্ধারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, কনটেইনারগুলো ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ইরানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে সেগুলো করাচি বন্দরে খালাস করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কনটেইনারগুলো পাকিস্তানি ট্রাকে করে সীমান্ত পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে ইরানি ট্রাকের মাধ্যমে তা ইরানে প্রবেশ করবে। এদিকে সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও শিপিং শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান চীনের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউয়ান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টোল আদায় করছে। এক্ষেত্রে তেলের জন্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় এক ডলার করে চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজ থেকে ইরান বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। অন্যান্য কার্গোর ক্ষেত্রে তেলের ব্যারেলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে চার্জ নির্ধারণ করা হচ্ছে। ইরানের জন্য এই ব্যবস্থা লাভজনক হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করার পথ খুঁজে পেয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ আটকে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবরোধ সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বেশি কাজ করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা কবে—জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা ঘিরে ধোঁয়াশা

0 Comments