ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৪৮ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশিক্ষণে নির্বাচনী আচরণবিধি, দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা, সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং সমন্বিত টহল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সোমবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে ৫ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত করার আগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহায়তায় তাদের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সদস্যদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহায়তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যালট পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। গত শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানরা বৈঠক করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯০ হাজার সেনাসদস্য, আড়াই হাজার নৌবাহিনীর সদস্য এবং দেড় হাজার বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় এক কোম্পানি সেনা দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণ, গ্রাউন্ড অপারেশন আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় সংস্থাটি। এরই মধ্যে এ লক্ষ্যে ১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কালবেলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি ফ্লাইট পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোই এ বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্য। উড়োজাহাজের বহর ও আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও অন্তত ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইন্সটি। ভবিষ্যতে আরও ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্ত হচ্ছে ১৪৬টি নতুন গ্রাউন্ড সরঞ্জাম উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস সরঞ্জাম রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আরও ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সরঞ্জামের মধ্যে থাকছে উড়োজাহাজ ঠেলে সরানোর ট্রাক্টর, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, যাত্রী ওঠানামার সিঁড়ি, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক এবং পানি ও ল্যাভাটরি সার্ভিসের যানবাহন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, একটি ফ্লাইট সময়মতো পরিচালনার জন্য শুধু উড়োজাহাজ থাকলেই হয় না। আধুনিক গ্রাউন্ড সরঞ্জাম, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে উড়োজাহাজের বহর বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে চলবে ৮০টি বৈদ্যুতিক যান পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি বৈদ্যুতিক যানবাহন পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা। এসব যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের সেবা ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইউএস-বাংলার অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, অভিবাসন মানে কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা। এই রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের সাধারণ নাগরিকদের কষ্ট ও সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা। আজ রাজধানীর ওয়েস্টিন, ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক ককাসের উদ্বোধন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। অনুষ্ঠানে সংসদীয় ককাসের সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং ককাস সচিবালয়ের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক স্বাগত বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংসদীয় ককাসের মহাসচিব এমপি মাহমুদা হাবিবা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে আমাদের সচেতন হতে হবে। নারী শ্রমিকদের অভিবাসন গন্তব্যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয়। আমাদের প্রচলিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিমালা বাস্তবায়নের সাথে অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আলোচনা করতে হবে। স্পিকার বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী প্রেরণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। শ্রমিক প্রেরণে অব্যবস্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্মের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এই সর্বদলীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ-সদস্যগণ বিদেশে কর্মী প্রেরণে সহায়তা এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করবেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসী শ্রমিকরা অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘমেয়াদে নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিকুর রহমান, উইটনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিপা হাফিজা, আইএলও’র জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার শাহরিন মুনির এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ দিপ্তা রক্ষিত প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। প্যানেল আলোচকগণ প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, মনোসামাজিক ও আর্থসামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, মানবপাচার বন্ধে সরকারের অভিবাসন নীতির প্রয়োগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ককাসের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ-সদস্যবৃন্দ, অভিবাসন বিশ্লেষক ও আলোচকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র কখনো রাগ বা ক্ষোভের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না, রাষ্ট্র পরিচালিত হয় যৌক্তিকতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি বিনষ্ট করে নয়। বুধবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, এ দেশের জনগণ কখনোই বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। যারা বাড়াবাড়ি করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এ দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না। তিনি বলেন, যারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ছিল, জনগণ তাদের সমর্থন দিয়েছে এবং নির্বাচিত করেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেশের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তারপরও শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।