জাতীয়

জনগণের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬
ছবি : পিআইডি
ছবি : পিআইডি

সুশাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.)।

তিনি ‘সরকারের সব অংশের সমন্বিত উদ্যোগ’ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসই জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে এই কৌশলের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।’ 

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। 

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। দেশের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাহিনী প্রধানগণও তাদের বক্তব্যে নিজ নিজ বাহিনীর অবস্থান এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরেন। 

সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই সম্পর্কের গভীর শিকড় নিহিত রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তার ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের বাহিনী হিসাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আজও প্রকৃত অর্থেই জনমানুষের বাহিনী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রেখেছে, যা দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত সহায়তা প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও অটুট রয়েছে এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 

তিনি আরও বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সকল ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের একত্রিত সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।

উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে। অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধে জড়ালে তার দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর নয়। ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিল, আছে এবং থাকবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। আজ জাতীয় নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা বা প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক হুমকি এর অন্তর্ভুক্ত। 

তিনি বলেন, নিরাপত্তা এখন একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক ধারণা, যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় কোনো একক বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়ই একটি কার্যকর ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা’ নিশ্চিত করবে; অর্থাৎ সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসনের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ও দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের সর্বস্তর থেকে এসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সৈনিকের জীবন বেছে নেয়। সশস্ত্র বাহিনী কেবল চাকরির জায়গা নয়, এটি একটি জীবনধারা। একজন সৈনিক প্রতিদিন কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দেশরক্ষার অঙ্গীকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক পরিমণ্ডলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য তরুণ-তরুণীদের সামরিক পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর সশস্ত্র বাহিনী তৈরির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত।

উপদেষ্টা ‘সর্বজনীন জনযুদ্ধ’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রকৃতপক্ষে, সামরিক ও বেসামরিক শক্তির এই সমন্বিত প্রয়াসই আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে ‘সর্বজনীন জনযুদ্ধ’ ধারণার ভিত্তি, যা প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন- জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। তাঁর প্রবর্তিত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিও আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যেখানে কূটনীতি ও সমরনীতি পরস্পরের পরিপূরক। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী না হলে কূটনীতিও কার্যকর থাকে না।’ 

তিনি বলেন, ‘একটি জনকল্যাণমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম- জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করা অন্যতম দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য। জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান, এসব ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম।’

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব এবং সরকার, প্রশাসন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থ নির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান ।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকদের প্রতি পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের কল্যাণে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকগণ গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। 

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুদৃঢ়, আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর দর্শন - ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ মনে-প্রাণে ধারণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান সফল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। 

নৌবাহিনী প্রধান উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিমানবাহিনী প্রধান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসাবে নতুন বিমান সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে কাজ করছে।

প্রতিরক্ষা সচিব জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীর সকল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে তাদের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে সামরিক নেতৃত্ব ও সিভিল প্রশাসনের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং পারস্পরিক সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এ সমন্বিত প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

গত ৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।      সেই সঙ্গে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।       সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।        উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) বর্ণিত কর্মকর্তাদের নামের পাশে বর্ণিত পদে প্রেষণে নিয়োগ বা প্রত্যাবর্তনের নির্মিত তাদের চাকরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ন্যস্ত করা হলো।     জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম কমানোর দাবিতে মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

জামতৈল স্টেশনে অস্ত্র হাতে যুবকদের ভিডিও, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালে বিমানের ফ্লাইটে অভিযান, শতাধিক স্বর্ণবার জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে একটি ফ্লাইট তুরস্কের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে।’   এর আগে, ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী।   বিমানটি নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।   বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।   বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।   এর আগে, রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন।   এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।   প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন।   বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।   ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।   একইদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।   ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।   সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।   এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে ।   এ ছাড়া, অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও আরও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় একটি ফ্লাইট যোগে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজমুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

‘বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল’ - বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সালাম

ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে অস্ত্রসহ কথিত চাঁদাবাজ কাইল্ল্যা ফারুক আটক

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রাস্তার পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে সেলোটেপ লাগানো অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কলেজ মোড়সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয়রা জানান, কলেজ মোড়ের পাশে রাস্তার ধারে এক ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন পথচারী। পরে কাছে গিয়ে তার হাত-পা ও মুখ সেলোটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।   তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।   এদিকে ব্যস্ততম কলেজ মোড় এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তেলের দাম বাড়ায় রংপুরে ক্ষোভ, বাড়ছে পরিবহন ও কৃষি ব্যয়ের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রশাসনের তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে এবার আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদের মামলা

0 Comments