অভিবাসীদের স্বপ্নের দেশ ইতালিতে বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। নতুন বছরে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা পাবেন দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীরা, যার ফলে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ ও দ্রুত।
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে ২০২৬ সালের বাজেটে নাগরিকত্ব আইন সংস্কারের অনুমোদনের কথা জানিয়েছে। নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা ডিজিটাল সুবিধা পাবেন।
আইন পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ইতালি প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের কাজ শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই এর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
ভোগান্তি কমাতে সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি:
গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ফাইল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে কয়েক বছর লেগে যেত। এখন জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন শুরু হবে।
দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার সঠিক মূল্যায়ন:
যারা টানা দীর্ঘ সময় বৈধভাবে ইতালিতে বসবাস করে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাদের জট কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করা হবে। এতে অযথা ফাইল আটকে থাকার সম্ভাবনা কমবে।
বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য বড় সুযোগ:
২০২৬ সালের নতুন বাজেট আইনে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব ঘোষণার সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ ধরনের অনেক ঘোষণায় ২৫০ ইউরো ফি মকুফ করা হয়েছে।
এ আইন পুরোপুরি কার্যকর করতে ইতালি সরকারের ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬ প্রকল্পের আওতায় আগামী জুনের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্পিড/সিআইই (SPID/CIE) ব্যবহার করে আবেদনের প্রতিটি ধাপ সরাসরি দেখতে পারবেন।
স্থানীয় অভিবাসীরা বলছেন, যারা নতুন করে ইতালিতে আসবেন বা সিজনাল ভিসায় নিয়ম মেনে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় সুযোগ। ইতালি সরকার এখন দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে দেশটির মূলধারায় যুক্ত করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সিঙ্গাপুরে বেতন না পেয়ে কাজ হারানো দুই প্রতিষ্ঠানের ২৩০ জনের বেশি অভিবাসী শ্রমিকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। এরই মধ্যে কয়েকজন শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতনও পেয়েছেন। শুক্রবার সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (এমওএম) অনবোর্ডিং সেন্টারে আয়োজিত এক কর্মসংস্থান মেলায় শ্রমিকদের সঙ্গে নির্মাণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইটস টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বকেয়া বেতনের দাবিতে গত অক্টোবরে অভিযোগ করা ২৩০ জনের বেশি শ্রমিককে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। এই শ্রমিকেরা ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’ এবং ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বেতন পরিশোধ না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে গত এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে আসা ২১ বছর বয়সি বাংলাদেশি শ্রমিক রব্বানি মো. গোলাম তাদের একজন। দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তার হাতে ১০ সিঙ্গাপুরি ডলারেরও কম অর্থ অবশিষ্ট ছিল। তবে ৬ নভেম্বর একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে রব্বানি বলেন, “এখন আর অতটা দুশ্চিন্তা হচ্ছে না। আবার বেতন আয় করতে পারব। গত এক মাস ধরে বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করে চলতে হয়েছে।” একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শ্রমিক মো. সাব্বির আলম নভেম্বরের শুরুতে তার বকেয়া বেতন পেয়েছেন। ২৩ বছর বয়সি এই শ্রমিক জানান, বেতন পাওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। বাংলাদেশে চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। বেতন পাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাওয়ায় পরিবারের কাছে আবার টাকা পাঠাতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে সবার অনিশ্চয়তা কাটেনি। ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’-এ কাজ করা ২১ বছর বয়সি সায়মন ইসলাম এখনও নতুন নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। গত অক্টোবরে তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সিঙ্গাপুরে আসার জন্য নেওয়া ৬ হাজার ডলারের ঋণ এখনও পরিশোধ করতে হচ্ছে জানিয়ে সায়মন জানান, বকেয়া বেতন ফেরত না পেলেও তাকে আবার কাজে ফিরতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’-এর প্রায় ১২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় সবাই তাদের বকেয়া বেতন পেয়েছেন বলে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন শ্রমিক জানিয়েছেন। তবে ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’-এর তিনজন শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা এখনও বেতন পাননি। গত ২৯ অক্টোবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠান দুটির শ্রমিকেরা গত অগাস্ট থেকে বেতন পাচ্ছিলেন না। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে কয়েক দফায় তাদের ওয়ার্ক পারমিটও বাতিল করা হয়। নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের শুধু প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। নির্মাণ খাতেও কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের অনেকে এই খাতে যেতে আগ্রহী, কারণ সেখানে তুলনামূলক বেশি আয় করা যায়। সিঙ্গাপুরের অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘ট্রানজিয়েন্ট ওয়ার্কার্স কাউন্ট টু’ (টিডব্লিউসি২) গত অগাস্টে প্রকাশিত এক জরিপে জানায়, নির্মাণ খাতে শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৮৬৮ সিঙ্গাপুরি ডলার। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে এ আয় ৭৭১ ডলার। উভয় হিসাবেই ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক বা ওভারটাইম ধরা হয়নি। সিঙ্গাপুরের অভিবাসী শ্রমিক কেন্দ্র (এমডব্লিউসি) এবং জনশক্তি মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করছে। এমডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের এমওএমের অনবোর্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির সহায়তা পাওয়া ২৩০ জন শ্রমিকের ৯০ শতাংশের বেশি বকেয়া বেতনের দাবিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন। এমডব্লিউসির পরিচালক মাইকেল লিম জানান, যারা নিজেরাই নতুন চাকরি খুঁজে পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করতে সহায়তা করা হচ্ছে। বকেয়া বেতনের দাবি নিষ্পত্তি এবং পরবর্তী করণীয় নিয়েও শ্রমিকদের পাশে থাকবে সংস্থাটি। জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্তে কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চলমান তদন্তের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি এবং তাদের মধ্যকার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি মন্ত্রণালয়। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের আগের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালকরা এর আগে এমন দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যেগুলো জুলাইয়ে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির মালিকানায় ছিল। ওই ঘটনায় একটি অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়। এদিকে, প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন বাংলাদেশি ব্যক্তি শ্রমিকদের নিয়োগ ও বিভিন্ন কর্মস্থলে পাঠানোর কাজ করতেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে তারা বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর হাই কমিশন জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং তদন্ত ও শ্রমিকদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান শরিফ, প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম, পরিচালক আশিসুল কবির ইয়াসির, পরিচালক রেহান রেজা এবং আঞ্চলিক পরিচালক সুমাইয়া জামান। এ সময় আসন্ন সম্মেলনের লক্ষ্য, পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আরও জানান, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, মেধা ও বিনিয়োগকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়ার মিসরাতা হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।