বিশ্ব

ইরান প্রশ্নে চুপচাপ ট্রাম্প-শি, শেষ হলো প্রথম দফার বৈঠক

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে ইরান ইস্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

 

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ২০১৭ সালের পর প্রথমবার চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্পকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় সামরিক গার্ড অব অনার, কামান স্যালুট এবং দুই দেশের পতাকা হাতে শিশুদের উপস্থিতি ছিল।

বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা থেকে লাভবান হবে, আর সংঘাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ জবাবে ট্রাম্প দুই নেতার সম্পর্ককে চমৎকার উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘আগের চেয়ে আরও ভালো হবে।’

চীনা গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্য আলোচনা, তবে চুক্তি হয়নি

দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান শি। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, গরুর মাংস ও উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে নীরবতা

ইরান যুদ্ধই এই শীর্ষ বৈঠক ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলেও বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, ওয়াশিংটন চেয়েছিল বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করুক। তবে চীন সফরের আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও সঙ্গে

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে বড় মার্কিন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারাও বেইজিং গেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াংও অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা।

চীনা প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বলেন, চীনের দরজা আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এখানে আরও বড় সুযোগ তৈরি হবে।

দুই নেতার মধ্যে শুক্রবার আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
তুরস্কে বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটকবাহী বাস ও একটি টো ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২৭ জন।     রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশটির মানিসা প্রদেশের আখিসার এলাকায় গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কের টোল বুথের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।     টো ট্রাক সাধারণত উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হয়।     মানিসার গভর্নর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার কিছু পর দুর্ঘটনার খবর পায় কর্তৃপক্ষ।     আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে পুলিশ।       দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, উল্টে যাওয়া বাসটির পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।     সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল নীল রঙের বডি ব্যাগ।      ঘটনাস্থলে উল্টে যাওয়া টো ট্রাকটি কাঠের তক্তা বহন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।     নিহতরা নিজ দেশের নাগরিক বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে জানিয়েছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফচি। তবে হতাহতদের মধ্যে কোনো বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।     দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান বলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে কাজ চলছে।     এ দুর্ঘটনায় আমরা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা কতটা জরুরি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

২০৪৭ সালে উন্নত দেশ হতে ভারতের লক্ষ্য মাথাপিছু ১০ হাজার ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা: ১৪৪ ধারা অমান্যে গ্রেফতারের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক

ছবি : রয়টার্স
রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প জানান, অবিলম্বে এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।     তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।   এ ছাড়া কিয়েভ বা মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।       এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।     একইসঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের একদিন আগেই রাশিয়ার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা সামনে আসে।     এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার মতে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম।     জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে তেল শোধনাগারে হামলা চালানো উচিত নয়। বিশেষ করে ডিজেল উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।     ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যা খুশি করতে পারেন, কিন্তু তেল শোধনাগারে হামলা করবেন না। কারণ, এটি বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি করবে।     অথচ তিনি ডিজেল উৎপাদন স্থাপনায় হামলা করছেন। তাকে অবশ্যই এটি বন্ধ করতে হবে।’     রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়েও জেলেনস্কির ভূমিকার সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, সমঝোতায় পৌঁছানোর একাধিক সুযোগ থাকলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেগুলো কাজে লাগাননি।     ট্রাম্প বলেন, আমার পরামর্শ হলো, তাদের এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নেওয়া উচিত, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। কারণ, তিনি (জেলেনস্কি) অনেক চুক্তি করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তা করেননি। এরপরই তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’       ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের একটি সমঝোতার কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে সহিংসতায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে বিক্ষোভের মধ্যেই মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
জেলেনস্কি সীমা ছাড়িয়েছেন, কড়া মন্তব্য ইলন মাস্কের

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা নিয়ে এবার সরাসরি ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’। জ্বালানি সংকটের মধ্যে রুশ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধের দাবি ঘিরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ মন্তব্য করেন। এর আগে শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও বাড়াচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা দিলেও ডিজেল সরবরাহব্যবস্থায় আঘাত না হানতে জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিল ওয়াশিংটন। বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এ ধরনের হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে ইউক্রেন আবারও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   শুধু হামলা নয়, জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যুদ্ধ বন্ধের একাধিক সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবার ফোনে কথা বলার পর রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটন অন্তত ছয়বার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু জেলেনস্কি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলেনস্কি একে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।   এদিকে মিয়ামিতে চলমান আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই ইউক্রেনের আলোচক দল সেখান থেকে ফিরে গেছে।   জেলেনস্কির সঙ্গে মাস্কের বিরোধের গুরুত্ব শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ, ড্রোন পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের কাজে হাজার হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এ সেবা বন্ধ বা সীমিত করা হলে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।   মাস্ক আগেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার জন্য স্টারলিংক ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।   ২০২২ সালে ক্রিমিয়ার কাছে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে হামলায় সহায়তার জন্য ওই এলাকায় স্টারলিংক সেবা চালু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন মাস্ক। তাঁর আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং স্পেসএক্সকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।   সম্প্রতি জেলেনস্কি ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তিনি মাস্ককে রাশিয়ার গভীরে স্টারলিংক-নির্দেশিত ড্রোন হামলার অনুমতি দিতে রাজি করান। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরের সময় মাস্কের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের উদ্যোগও নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তবে আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাতে দ্য আটলান্টিক জানিয়েছে, মাস্ক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।   অন্যদিকে মাস্কের সমর্থন আদায়ের চেষ্টার অংশ হিসেবে গত আগস্টে তাকে ইউক্রেনের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘অর্ডার অব ফ্রিডম’ প্রদান করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষা এবং ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়।   সূত্র: আরটি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা

সংগৃহীত ছবি

অচল নয়াদিল্লি, চাপে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার

প্রতীকী ছবি

আমিরাতে ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

0 Comments