ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান যাতে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে না পারে ইসরাইলকে তা ‘নিশ্চিত’ করতে হবে।
ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ শেষ হওয়ার ছয় মাস পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।
জেরুজালেম থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
জেরুজালেমে মোসাদ এজেন্টদের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বার্নিয়া বলেন, ‘পারমাণবিক বোমা তৈরির ভাবনা এখনো তাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের যে মারাত্মক ক্ষতি করেছি, তা যেন আর কখনোই সচল হতে না পারে, সেই দায়িত্ব আমাদেরই পালন করতে হবে।’
২০২৬ সালের জুনে বিদায় নিতে যাওয়া এই গোয়েন্দা প্রধান যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইলের আকস্মিক হামলার প্রশংসা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই হামলার মাধ্যমেই বোঝা গেছে ইরানে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের কত গভীর অনুপ্রবেশ ছিল।
বার্নিয়া বলেন, ‘আয়াতুল্লাহর শাসনব্যবস্থা হঠাৎ টের পায় যে, ইরান পুরোপুরি উন্মোচিত এবং সেখানে আমরা গভীরভাবে ঢুকে পড়েছি।’
তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বিশ্বকে আবারও ধোঁকা দিতে চায় এবং আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা অতীতেও এমন কোনো খারাপ চুক্তি হতে দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তবে তেহরান সব সময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ইসরাইল ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
ওমানের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ জুন ইরানের ওপর ইসরাইলের আকস্মিক হামলার ফলে সেই আলোচনা থমকে যায়। ওই হামলার সূত্র ধরেই ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো অস্পষ্ট।
পেন্টাগন জানিয়েছে, হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি মাত্র কয়েক মাসের।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে এক চরম দোলাচল দেখা যাচ্ছে। তিনি একদিকে যেমন ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানো বা আরও জোরদার করা নিয়ে ট্রাম্প এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিমান ও নৌ বহর সুরক্ষায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে যে তারা কুশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে গুলি করে নামিয়েছে। ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মাঝে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষ করে বুশেহর এবং পিকঅ্যাক্স পর্বতের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের পারমাণবিক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন সরকার দুই কোটি ডলার পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর ট্রাম্প নিজ দেশে নাগরিকদের অসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি ইরানের দেওয়া সব শর্ত—যেমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও সম্পদ ফেরত দেওয়া—মেনে নিতে নারাজ। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কৌশলগত অবস্থান ও পাল্টা জবাবের ভীতি ট্রাম্পকে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলেছে, কারণ সীমিত সামরিক অভিযান শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধের হুমকির মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। ইরান নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেমন একটি নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বড় ধরনের অভিযানে নামতে তৈরি, তেমনি ইরানও সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ওপর পুনরায় হামলা হলে তারা গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানবে।
ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ সংকটের ঘটনায় প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। একই সঙ্গে শনিবার তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ধসের ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। প্যারাগুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট পেনাকে শুক্রবার সিনেটের সিদ্ধান্তে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকা দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ধসে পড়ার মাত্র তিন দিন পর এ ঘটনা ঘটে। পেনা নিজেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ফলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে যে আইনি দায়মুক্তি তিনি পেতে পারতেন, অভিশংসনের কারণে তা হারান। দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে শনিবার তাকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের সামনে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। পেনার শুনানি শেষে বিচারক হার্নান ওতাজু সাংবাদিকদের জানান, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে আসুনসিওনের যে স্থাপনায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে। পেনার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইউএনও ব্যাংক এসএ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও পেনশন তহবিল থেকে আমানত ও ঋণ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’ একই সঙ্গে ব্যাংকটির মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। ৬৫ লাখ জনসংখ্যার প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষের হিসাব রয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউএনও ব্যাংকে। এই ব্যাংকের সঙ্গে পেনার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ৪৭ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ পেনা গত বছর বিক্রি করে দেওয়ার আগপর্যন্ত ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনও হোল্ডিংয়ের শেয়ারধারী ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা পেনা এবং একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান কার্লোস কারভালোর সম্পদ জব্দ করার আবেদন জানিয়েছেন। বিচারক ওতাজু জানান, শুনানির সময় পেনা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। শুক্রবার সিনেটে দ্রুতগতিতে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হন পেনা। ওই রাতে তিনি আটক অবস্থায় কাটান। এদিকে, তাকে সাধারণ কারাগারে পাঠানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা তাঁর বাসভবনের বাইরে জড়ো হন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের কাছে ৩৩ বছর বয়সী আইনজীবী মাকারেনা চিলাভের্ত এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে কারাগারে দেখতে চাই। পেনাকে কারাগারে পাঠাতে হবে।’ পেনার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। তিনি ইউএনও ব্যাংকের পতনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পেনশনভোগীরাও রয়েছেন। পেনার ক্ষমতাচ্যুতির খবরে আসুনসিওনের রাজপথে অনেক মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে একই ডানপন্থী কলোরাডো পার্টির নেতা আলিয়ানার ক্ষমতা গ্রহণের খবরে ক্ষুব্ধ হন কিছু বিক্ষোভকারী। এডসন ভাসকেজ এএফপিকে বলেন, ‘তিনি তো একই দলের লোক। ইউএনও ব্যাংকের সমস্যার কথা তিনি জানতেন।’ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের হিসাব পরিচালনাকারী ইউএনও ব্যাংকের পতনে সাধারণত স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত প্যারাগুয়ের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউএনওর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা আমানতকারীদের একটি অনির্দিষ্টসংখ্যক অংশকে আগাম অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে। পেনার ক্ষমতাচ্যুতি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। পেনার মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন আলিয়ানা। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা প্যারাগুয়েকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অংশীদার, বন্ধু ও মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আলিয়ানার সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর এবার নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের আগে দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমে কৌশল বদলান ভ্যান্স। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির পক্ষে কথা বলার বদলে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।জাতীয় খবর রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান সম্মেলনের পর দেয়া ছয়টি বক্তৃতায় ভ্যান্স প্রায় পুরোপুরি নিজের নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতে দলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতিতে সংযম এবং জননিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো ছিল তার বক্তব্যের কেন্দ্রে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কিংবা অভিবাসীদের বিতাড়নের মতো ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো এড়িয়ে গেছেন তিনি। জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। তাই এই কৌশলগত পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত দুজন ব্যক্তি। তাদের মতে, ভ্যান্স ও তার উপদেষ্টারা মনে করেন, যেসব বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন, সেগুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসব বিষয় সামনে এলেও এখন সেগুলোর প্রধান প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভ্যান্স। রিপাবলিকানরা যখন ট্রাম্প-পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন, তখন ৪২ বছর বয়সী এই ভাইস প্রেসিডেন্টের নিজস্ব পথ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে তার নতুন কৌশল। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেননি ভ্যান্স। ট্রাম্পও তাকে কিংবা অন্য কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন ভ্যান্স। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের সমর্থকগোষ্ঠীর বড় অংশকে নিজের সঙ্গে ধরে রাখার পাশাপাশি ট্রাম্পের বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের দায় থেকে নিজেকে আলাদা করতে হবে তাকে। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আরও স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বুধবার বড় পদক্ষেপ নেন ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে দায়ী করেন তিনি। একই সঙ্গে দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি নীতিগত রূপরেখাও তুলে ধরেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে মূল্যায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, ট্রাম্প জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগকে ডেমোক্র্যাটদের ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের তদবিরের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন তিনি। পরে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিও সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান জানান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউস ও ভ্যান্সের যোগাযোগ দলের সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভ্যান্সের এই বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধের ইঙ্গিত নয়। এদিকে ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন মিত্রও।