আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ে ইরানের নতুন কৌশল, ছাড় পাচ্ছে চার দেশ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, এই চার দেশের জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ, পণ্য ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের এক আইনপ্রণেতা এসব তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার।

 

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এসব জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন।

 

আমির হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার আগে থেকেই তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে।

 

তিনি জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে টোল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই আইনপ্রণেতা।

 

ইরানের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের আইনপ্রণেতা যেসব যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে।

 

রুজবেহ পারসি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, অবরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানের পথ তৈরি করা।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে। বিকল্প হিসেবে পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, ইরানের এই কৌশল বেশ চতুর। কারণ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দেশটির আয়ের বড় একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধার সম্পর্ক তেহরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ে ইরানের নতুন কৌশল, ছাড় পাচ্ছে চার দেশ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, এই চার দেশের জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ, পণ্য ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের এক আইনপ্রণেতা এসব তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার।   ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এসব জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন।   আমির হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার আগে থেকেই তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে।   তিনি জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে টোল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই আইনপ্রণেতা।   ইরানের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের আইনপ্রণেতা যেসব যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে।   রুজবেহ পারসি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, অবরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানের পথ তৈরি করা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে। বিকল্প হিসেবে পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, ইরানের এই কৌশল বেশ চতুর। কারণ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দেশটির আয়ের বড় একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধার সম্পর্ক তেহরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মুনাফায় ধস

ফাইল ছবি

ইয়েমেনের বাজারে সৌদি জোটের বিমান হামলা, বহু মানুষ হতাহত

ছবি: সংগৃহীত

হামাসকে সন্ত্রাসী বলতে অনীহা কেন, ব্যাখ্যা দিলেন রা’আম প্রধান

নাশরা নাইম। ছবি: এআই সম্পাদিত
ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস গড়লেন ভারতের মুসলিম তরুণী

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদসহ ১৩টির মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন নারী প্রার্থীরা। শুক্রবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।   প্রতিষ্ঠানটির ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাশরা নাইম। নির্বাচনের বিস্তারিত ফল অনুযায়ী, তিনি ৭ হাজার ৯১টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮টি ভোট।   এবার কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন নারী প্রার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে ছাত্র সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেল।   নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি ৪ হাজার ১০০টিরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হামদান।   এএমইউ ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।   শিক্ষার্থীদের টানা তিন বছরের আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।   বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, চলমান ‘জেন জি’ (নতুন প্রজন্ম) আন্দোলনের প্রভাবও পড়েছে এই নির্বাচনে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আগের বছরগুলোর মতো কেবল ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক দাবি-দাওয়াতেই এই প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল না। এবার দেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কিত নানা বিষয় উঠে এসেছে শিক্ষার্থীদের আলোচনায়।’   নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি একে প্রতিষ্ঠানের ‘উচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে তিনি নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি জোট। ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি সৌদির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ

ইরান যুদ্ধের জেরে চাপে হেগসেথ, তাকে নিশানা করছেন ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাল নাসডাক

  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার সূচক নাসডাক কম্পোজিটের পতন হয়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। একই দিনে নাসডাকের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে মুছে গেছে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (২ লাখ ৫০ হাজার কোটি) ডলার।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দলটির প্রার্থীদের জয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অনেকেই এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।   বিশেষ করে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার জয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তিনি নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং এ খাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান কিছু করসুবিধা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। টেক্সাসে গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে।    বৃহস্পতিবার নাসডাকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোতেও বড় দরপতন হয়েছে। ডাও জোন্স সূচক ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্টের বেশি হারিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর এক দিনে এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি।   প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। এএমডির শেয়ারের দাম কমেছে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে, নেবিয়াস ও কোরউইভের মতো এআই অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ কমেছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধপরিবাহী চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর পরিমাপকারী ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০২০ সালের পর এক দিনে এই সূচকের এত বড় পতন আর হয়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সাল নাগাদ তথ্যকেন্দ্রের যে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৩০ শতাংশ রাজনৈতিক বিরোধিতা ও নির্মাণকাজে সম্ভাব্য স্থগিতাদেশের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ইউবিএসের বিশ্লেষকেরা।   এদিকে, গত ৬ অক্টোবর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। ফলে সূচকটি সংশোধন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কোনো শেয়ারবাজার সূচক অন্তত ১০ শতাংশ কমে গেলে তাকে সংশোধন পর্যায় বলা হয়।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের পর তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬

কিউবায় সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও ২ মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেয়েছেন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কাছ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাজ্য

0 Comments