জাতীয়

গরম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায় নারী ও শিশু নির্যাতন, তাপমাত্রা বাড়লে সহিংসতা প্রায় ৪.৪৯% বৃদ্ধি পায়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে সঙ্গীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা প্রায় ৪.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়—২০২৩ সালের একটি বৈশ্বিক গবেষণার এই চাঞ্চল্যকর তথ্যই এখন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এক নির্মম সত্য হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ভ্যাপসা ও চরম গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে তীব্র দাবদাহ, নিরবচ্ছিন্ন লোডশেডিং, নির্ঘুম রাত এবং গণপরিবহনে অসহনীয় ভিড়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। তবে গরমের এই চাক্ষুষ অস্বস্তির আড়ালে দেশের অপরাধ চিত্রে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; পুলিশের নথিপত্র ও পরিসংখ্যান বলছে, গ্রীষ্মের এই সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মৌসুমভিত্তিক (সিজনাল) হারে মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

 

বাংলাদেশ পুলিশের ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদের মাসিক অপরাধের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, নারী ও শিশু পাচার, যৌতুকের কারণে নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর অপরাধগুলো একটি নির্দিষ্ট ঋতুচক্রে আবর্তিত হয়। প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিল মাসের দিকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মামলাগুলোর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা পুরো গ্রীষ্ম ও বর্ষার মাসগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। পরবর্তীতে বছরের শেষ দিকে শীতের আমেজ শুরু হলে এবং তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের এই হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

 

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯৭টি, যা জুনের তীব্র গরমে এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৬৮টিতে; অথচ ওই বছরেরই ডিসেম্বরে শীতের সময় তা কমে ১ হাজার ৪২৬টিতে নেমে আসে। ২০২২ সালেও একই ধারায় ফেব্রুয়ারির ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা আগস্টের গরমে ২ হাজার ২১৫টিতে পৌঁছায়। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও এই একই ধারা অব্যাহত ছিল।

 

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের প্রবণতাও আগের বছরগুলোর এই মৌসুমভিত্তিক হারবৃদ্ধির চিত্রকে আরও নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৮১টি মামলা রেকর্ড হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে তা সামান্য কমে ১ হাজার ১৮১টি হয়। কিন্তু মার্চে গরম পড়তে শুরু করলেই মামলা বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৮৫টি এবং এপ্রিল মাসে তা এক লাফে ৩৫.৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১১টিতে পৌঁছায়, যা বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২৬৮টি মামলা রেকর্ড হয়েছিল ২০২১ সালের জুনে এবং সবচেয়ে কম ১ হাজার ৪৩টি মামলা হয়েছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

 

আমাদের দেশীয় এই অপরাধচিত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণার হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষের মানসিক চাপ, শারীরিক উত্তেজনা, খিটখিটে মেজাজ এবং নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বহুলাংশে কমে যায়, যা পারিবারিক ও আন্তব্যক্তিক সংঘাতের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যেসব দরিদ্র পরিবারে ঘর ঠান্ডা রাখার পর্যাপ্ত যান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই, সেখানে এই প্রবণতা বেশি।

 

'জ্যামা সাইকিয়াট্রি' জার্নালে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ—ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার নারীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তীব্র তাপমাত্রার সময় নারীদের ওপর শারীরিক সহিংসতা ৮ শতাংশ এবং যৌন সহিংসতা ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে ২০২৪ সালের 'এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পার্সপেক্টিভস'-এ প্রকাশিত ৮৩টি গবেষণার একটি মেটা-অ্যানালিসিস জানায়, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে সাধারণত সহিংসতার সামগ্রিক ঝুঁকি ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, তাপমাত্রাই সহিংসতার একমাত্র কারণ নয়, এটি মূলত সমাজে আগে থেকে বিদ্যমান সামাজিক ও আচরণগত সমস্যাগুলোকে আরও উসকে দেয়।

 

বাংলাদেশে গরমের সময় এই সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে মৌসুমভিত্তিক অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং চরম আবহাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, তীব্র গরমে দিনমজুর, কৃষক ও রিকশাচালকেরা ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। এই আকস্মিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন খুব দ্রুত মানসিক চাপে রূপ নেয়, যা পরিবারের সবচেয়ে দুর্বল সদস্য অর্থাৎ নারী ও শিশুদের ওপর এসে পড়ে। আর্থিক সংকট থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার শিশুদের শিশুশ্রম বা বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে।

 

সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু কাঠামোগত প্রভাবক। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের মতে, ফসল কাটার মূল মৌসুমের বাইরে কৃষি ও অন্যান্য কায়িক শ্রমে যুক্ত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং গ্রীষ্মকালে জীবনযাত্রার ব্যয়ও শীতকালের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, যা পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মামলার দীর্ঘ জট, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার (ভিকটিম-ব্লেমিং) প্রথাগত মানসিকতা। অধ্যাপক মাহবুব আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম থেকে শহরে দ্রুত স্থানান্তরের কারণে প্রথাগত অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েছে, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানীরা জৈবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু অভ্যাসে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন, তীব্র গরমের সময় খিটখিটে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও রেড মিট পরিহার করা এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজের পরিবেশের পোশাক সংস্কার করা (যেমন আইনজীবীদের ভারী কালো কোট পরা পরিহার করা)। এদিকে, আবহাওয়া ও তাপমাত্রার সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই সংবেদনশীল সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টির তাৎপর্য স্বীকার করে জানিয়েছেন, পুলিশ আগে কখনো মৌসুমভিত্তিক আবহাওয়ার সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণা না করলেও, এর একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গভীর মূল্যায়ন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন এবং অদূর ভবিষ্যতে পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা

কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে কাজে ফিরেছেন সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ কারখানায় আবারও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে তৈরি পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসার আশা তৈরি হয়েছে।   রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে এসব এলাকার অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।   অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক   শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে আশুলিয়ার দু-একটি কারখানায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। পরে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কারখানা ত্যাগ করেন।   শিল্প পুলিশের মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।   তিনি আরও জানান, রোববার শিল্পাঞ্চলগুলোতে কোনো বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।   অক্টোবরের বেতন পরিশোধ শুরু   এদিকে, গত ৫ নভেম্বর থেকে পোশাক শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধ শুরু হয়েছে। রোববার অধিকাংশ কারখানায় বেতন দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।   শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং কারখানায় তাঁদের উপস্থিতি বাড়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখার প্রত্যাশা   শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কয়েক দিন ধরে পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের কাজে ফেরার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।   শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: নির্বাচন কমিশন

এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ

সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৫২২ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪০টি

রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করেছে পুলিশ।   রোববার (৮ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তার সবচেয়ে বেশি   ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিরপুর বিভাগের ১৬৬ জন। এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৯৪ জন, গুলশান বিভাগে ৫৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৬ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অন্যদিকে উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন, রমনা বিভাগে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মাদক   পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ১০ হাজার ৯২৪ পিস ইয়াবা, ২১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে।   রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।   গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা   ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ছবি: সংগৃহীত

বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরাতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী

অর্থনৈতিক দুর্নীতির তুলনায় বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বিচার বিভাগকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিচার বিভাগের অতীত ভূমিকা, বিচারকদের সততা ও জবাবদিহি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি তিনি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেছেন।   রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারিক শুদ্ধাচার বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।   তিনি বলেন, বিচার বিভাগে অর্থনৈতিক দুর্নীতি যতটা ক্ষতি করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ক্ষতি তার চেয়েও বেশি। এ সময় ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির সৃষ্টি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   বিচারকদের সততা ও জবাবদিহি নিয়ে বক্তব্য   বিচারকদের সততা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন বিচারকের কাজের মধ্যেই সততা থাকা উচিত। তাই বিচারকের নামের আগে ‘সৎ’ শব্দটি ব্যবহার করা অতিরঞ্জিত।   যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সরকারের অঙ্গীকার   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন মো. আসাদুজ্জামান।   অতীতের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হওয়ার সময় বিচার বিভাগ তার পাশে দাঁড়ায়নি। বিচার বিভাগের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।   শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি পদক্ষেপের কথা   সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার।   এ বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বিচারিক শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা, বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীকে বিদায় দিয়ে চা-বাগানে সেলফি, বিতর্কের মুখে মুখ খুললেন এসিল্যান্ড

খাবারে মাছি-কেকে মুরগির নখ, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ১০ লাখ

২০২৮ সালের কারিকুলামে ‘শিখনফলভিত্তিক’ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের : ববি হাজ্জাজ

0 Comments