রূপকথার শেষ পাতাটা তো সব সময় আনন্দের রঙে আঁকা থাকে। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিকেলটা লিওনেল মেসির জন্য কোনো রূপকথা আনেনি। এনেছে এক বুকভাঙা হাহাকার। ট্রফি মঞ্চের ঝলমলে আলোয় যখন তিনি রানার্সআপ মেডেলটা গলায় নিচ্ছেন, তখন ক্যামেরা জুম করল তাঁর মুখে। সেই চেনা চোখ, যা দিয়ে তিনি মাঠের সব ডিফেন্ডারের ফাঁকফোকর গলে বল বাড়িয়ে দেন, সেখানে কিছুক্ষণ পর শুধুই নোনা জলের ধারা।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। স্পেনের লাল ঝড়ের সামনে নীল-সাদা স্বপ্নগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আর্জেন্টিনাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে স্পেন ম্যাচটা জিতে নিল ১-০ গোলে। কিন্তু মেসির চোখের জল কি শুধু একটি হারানো ট্রফির জন্য? নাকি এক মহাকাব্যের বিষাদময় শেষও?
মাঠের ওপাশে যখন স্প্যানিশ তরুণদের উল্লাস, ফক্স স্পোর্টসের স্টুডিওতে বসে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ আর থিয়েরি অঁরিরা তখন কথা বলছিলেন মেসির শেষটা নিয়ে। ইব্রা বললেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমরা ওকে মন ভরে উপভোগ করেছি। আমি জানি বিশ্বকাপটা জিততে না পেরে ও ভীষণ দুঃখী। কিন্তু ও একটা অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। একা হাতে এই দলটাকে টেনে নিয়ে গেছে। ও যা করেছে, তা স্রেফ জাদুকরি।’
৬ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন মেসি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানে হয়তো এটাই তাঁর জীবনের সেরা বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল আর ৪টি অ্যাসিস্ট! তবে পরিসংখ্যান তো স্রেফ সংখ্যার খেলা, মাঠে যা করেছেন, তা ছিল চোখের আরাম। প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল। কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালে গোল না পেলেও বানিয়ে দিলেন ৩টি গোল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় কামব্যাকের ম্যাচে তাঁর বাড়ানো পাস দুটি তো ফুটবল ইতিহাসে জাদুঘরে রাখার মতো।
ইব্রাহিমোভিচ মেসির এই রূপটাকেই ব্যাখ্যা করলেন দারুণভাবে, ‘এই টুর্নামেন্টে কখনো মনে হয়েছে ও এই গ্রহেরই কেউ না, আবার কখনো একদম আমাদের মতো রক্তমাংসের মানুষ হয়ে উঠেছে!’
এই ৮ গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল এখন ২১টি। গ্রুপ পর্ব শেষেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টের সিংহভাগ সময় রেকর্ডটা তাঁর নামের পাশেই ছিল। কিন্তু বাদ সাধলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের এই তারকা মেসির কাছ থেকে রেকর্ডটা ছিনিয়ে নেন।
ফাইনালে রেকর্ডটা আর উদ্ধার করা হয়নি মেসির। আসলে স্পেনের কাছে পাত্তাই পায়নি আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা শট নিতে পেরেছে মাত্র দুটি, যার একটিও অন-টার্গেট ছিল না। মেসি নিজে একটা শট নিয়েছিলেন বটে, কিন্তু তার বাড়ানো পাঁচটি ক্রসের মধ্যে মাত্র একটি ঠিকঠাক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলে বন্দী হয়ে মেসিকে বড্ড একাকী লেগেছে।
কিন্তু থিয়েরি অঁরি মোটেও মেসির কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে রাজি নন। আর্সেনাল ও বার্সেলোনার এই কিংবদন্তি কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্পেনের ট্যাকটিকসকে, ‘আপনি মেসির বিপক্ষে বাজি ধরতে পারেন না। আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে স্পেনের মতো একটা দলই লাগত।’
ফাইনালে মেসির পা থেকে চেনা জাদু বের হয়নি সত্যি, কিন্তু তাতে কি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এক বিন্দু কমে যায়? ডেনমার্কের সাবেক গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেল তো পরিষ্কার বলে দিলেন, বিশ্বকাপের ট্রফি দিয়ে মেসির মতো ফুটবলারকে মাপাটাই বোকামি।
স্মাইকেলের কথা, ‘হ্যাঁ, ও বিশ্বকাপে জেতার চেয়ে ফাইনাল হেরেছে বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ও-ই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। যেকোনো বাচ্চা যখন ওর দিকে তাকাবে, সে বুঝতে পারবে ফুটবল মানে শুধু জেতা নয়। ফুটবল মানে আপনি খেলাটাকে কী দিয়ে গেলেন। আর মেসি এই খেলাটাকে যা দিয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না।’
একই সুরে সুর মেলালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা অ্যালেক্সি লালাস, ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচও। লালাস যেমন বলছিলেন, ‘ও একজন চ্যাম্পিয়ন। আর চ্যাম্পিয়নরা সব সময় সবকিছু জিততে চায়। ও তো ক্যারিয়ারে সবকিছুই জিতেছে, তাই আজকের হারটায় ও হতাশ হবেই। কিন্তু আমার মনে হয়, আজকের ম্যাচের স্কোরলাইন ভুলে আমাদের এখনই আলোচনা করা উচিত ও কতটা আইকনিক, কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কতটা অবিশ্বাস্য এক ফুটবলার।’
পিটার ক্রাউচ আবার স্পেনের বর্তমান দলটার উদাহরণ টেনে অন্য এক সত্য সামনে আনলেন, ‘আজ স্পেনের যে ছেলেরা চ্যাম্পিয়ন হলো, তাদের প্রায় সবাই ছোটবেলায় মেসিকে দেখে বড় হয়েছে, ওর খেলায় অনুপ্রাণিত হয়েছে। এই মানুষটা একটা জিনিয়াস। আর এটাই যদি ওর শেষ বিদায় হয়, তবে মনে রাখতে হবে আমরা ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারটিকে বিদায় জানালাম।’
ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেসির কান্নার ছবিটা এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। রুপালি মেডেলটা যখন তাঁর গলায় ঝুলছিল, মেসির চোখ বেয়ে জল পড়ছিল। থিয়েরি অঁরি সেটা দেখে আবেগাপ্লুত, ‘দেখো, এই হারটা ওর কাছে কী ভীষণ কষ্টের! তোমাদের মনে যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে যে এই বয়সেও ওর পেটে জেতার ক্ষুধা আছে কি না, তবে ওর মুখের দিকে তাকাও। দেখো এই কান্না কী অর্থ বহন করে। ও তো জীবনে সব জিতেছে। তাও এই কান্না কেন? কারণ, দেশের প্রতি ওর ভালোবাসা, ওর প্যাশন আর ও নিজের সবটুকু উজাড় করে দেয় মাঠে।’
এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: রানার্সআপ মেডেল গলায় নিয়ে এই কান্নাই কি আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সিতে মেসির শেষ দৃশ্য? ইব্রাহিমোভিচ চান না মেসির এই রূপকথা এখানেই শেষ হয়ে যাক। জ্লাতান শেষ করলেন একবুক আশা নিয়ে, ‘আমি আশা করি ও যত দিন সম্ভব খেলা চালিয়ে যাবে, যাতে আমরা ওকে আরও বেশি উপভোগ করতে পারি। ও কি পরের বিশ্বকাপে থাকবে? আমি জানি না, ফুটবলে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে ও খেলছে, এটাই আমাদের আনন্দ। যেদিন ও খেলা ছেড়ে দেবে, সেদিন আমাদের সবার মন খারাপ হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ক্লাবে যোগ দেওয়ার ৪০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে দলটি। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে গোল করে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ হয়েছে ৪-৪ সমতায়। রোববারের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন প্যাট্রিক ডরগু। তার এই গোলে পূর্ণ তিন পয়েন্টের বদলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অ্যাস্টন ভিলাকে। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা। এই ড্রয়ের ফলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা নয় ম্যাচে জয়হীন থাকল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর দলটির সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা লাগে। খেলার প্রথম চার মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ইউরি তিয়েলেমানসের গোলে সমতায় ফেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বিরতির পরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ধরে রাখে দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় জন ম্যাকগিনের গোলে আবারও এগিয়ে যায় অ্যাস্টন ভিলা। এরপর ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন লিয়ন গোরেৎজকা। ফলে ৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় ইউনাইটেড। যোগ করা সময়ে জশুয়া জিরকজির গোলে ব্যবধান কমে ৪-৩ হয়। এরপর শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে ডরগুর গোলে সমতায় ফেরে দলটি। এর আগে শুক্রবার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাবেক ফুটবলারদের সঙ্গে তার একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ক্লাবটির বর্তমান কোচ মাইকেল ক্যারিকও ছিলেন। তবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে দলটির পারফরম্যান্স সেই উদ্যাপনের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দেয়।
সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ২-৩ গোলে ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল। আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পাকিস্তানের পয়েন্ট পাওয়ার বিকল্প ছিল না। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ৩-০ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়েছে। এতে এই গ্রুপ থেকে পাকিস্তানই সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। গ্রুপে তিন দল। প্রতি দল দু’টো করে ম্যাচ খেলবে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে দুই ম্যাচ খেলেছে। দুই ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৩ ও গোল ব্যবধান +২। ভারতের এক ম্যাচে তিন পয়েন্ট ও +১। মালদ্বীপের শূন্য পয়েন্ট ও -৩ গোল ব্যবধান। মালদ্বীপের পরের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে ১১ নভেম্বর। ঐ ম্যাচে মালদ্বীপ ৩ গোলের ব্যবধানে জিতলে তাদের গোল ব্যবধান দাড়াবে +০ আবার ভারতেরও -২। তখন তিন দলেরই সমান তিন পয়েন্ট হলেও পাকিস্তান +২ গোল ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে থাকবে। মালদ্বীপ এক গোলের ব্যবধানে হারালে অবশ্য ভারত শূন্য গোল ব্যবধানে থেকে মালদ্বীপের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। আর দুই গোলের ব্যবধানে হারলে তখন অবশ্য মালদ্বীপ ও ভারতের গোল ব্যবধান সমান হবে। সাফের বাইলজের ১১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, দুই কিংবা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে হেড টু হেড দেখা হবে। মালদ্বীপ ভারতকে হারালে পাকিস্তান, ভারত ও মালদ্বীপ তিন দলেরই সমান তিন পয়েন্ট হবে এবং তিন দলই পরস্পর পরস্পরের বিপক্ষে জয়-পরাজয় রয়েছে। এই ধারায় সমতা থাকায় পরের ধারায় রয়েছে দলগুলোর মধ্যে গোল পার্থক্য। এই অংশেই পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান গ্রুপে শীর্ষ দুই নম্বরে থাকা নিশ্চিত করে। মালদ্বীপের কিংবা ভারতের জয় অথবা ড্র কিছুই পাকিস্তানকে গ্রুপে শীর্ষ দ্বিতীয় থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মালদ্বীপ ভারতকে দুই গোলের ব্যবধানে হারালে তখন মালদ্বীপ ও ভারতের সমান তিন পয়েন্ট ও -১ গোল ব্যবধান হবে। সেক্ষেত্রে ২০ অনুচ্ছেদের পরবর্তী ধাপ অনুসরণ হবে ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যে কারা বেশি গোল করেছে। বাইলজ ও গাণিতিক হিসাব নিকাশে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে। এরপরও সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষত্তোম ক্যাটেল বলেন, 'গ্রুপ পর্বের সকল খেলা শেষ হওয়ার আগে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি বা অবস্থান ব্যক্ত করতে পারি না। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী আপনারা হিসাব-নিকাষ করতে পারেন।' আজ ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে নিজেদের বক্সে মিকাইল অরুণ আব্দুল্লাহকে ফাউল করেন মালদ্বীপের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ নাঈম। পেনাল্টি থেকে গোল করে লিড এনে দেন পাকিস্তানকে আব্দুল্লাহ। সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাজিব উল্লাহ। বক্সের কোনা থেকে গোল করেন তিনি। ২৪ মিনিটে মালদ্বীপের ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নাজিব। প্রথমার্ধের তিন গোলের লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে পাকিস্তান। বিরতির পর খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও স্কোরলাইন পরিবর্তন করতে পারেনি মালদ্বীপ। ৬৬ মিনিটে মোহাম্মদ নাঈমের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ইউসুফ ইয়াজ বাট। পরের মিনিটে মালদ্বীপ বল জালে পাঠালেও অফসাইডে গোল বাতিল হয়।
ম্যানচেস্টার সিটিকে চমকে দিয়ে শুরুতেই এগিয়ে গেল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। পরে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন লিয়াম দিলাপ। মাঝে একবার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও, ধারহীন পারফরম্যান্সে কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারল না এন্টসো মারেস্কার দল। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ৩-১ গোলে হেরে গেছে সিটি। প্রতিযোগিতাটিতে এটি তাদের টানা তৃতীয় হার। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, একটি শোধ করেছিলেন রায়ান শের্কি। গত মার্চে প্রিমিয়ার লিগে সিটিকে তাদের মাঠেই ২-২ গোলে রুখে দেয় ফরেস্ট। আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে এবার তারা পেল স্মরণীয় এক জয়। এদিনই হাল সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করে আর্সেনাল। ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট করল সিটি। আর্সেনালের সমান ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। রক্ষণের ভুলে ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে বসে সিটি। নিজেদের সীমানায় সতীর্থের পাস পেয়ে বল পায়ে রাখতে পারেননি ইয়োশকো ভার্দিওল। তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে, আরেকজনের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে নিচু শটে দলকে এগিয়ে নেন জাইর কুইয়া। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এই প্রথম গোল পেল ফরেস্ট। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাঝমাঠে তাদের সামান্য ভুলের সুযোগে বল ধরেই আক্রমণ শাণায় ফরেস্ট। মাঝমাঠের আগে থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দিলাপ, এবং জোরাল শটে ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়ান ইংলিশ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে আক্রমণে সাদামাটা সিটি ৪১তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পায়। গোলরক্ষক আগেই নিজের পজিশন থেকে সরে যান, সেই সুযোগে শট নেন হলান্ড; কিন্তু গোললাইনে সেটা আটকে দেন কুইয়া। দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পায় সিটি। জেরেমি ডোকুর বাঁ দিক থেকে বাড়ানো বল ফরেস্টের একজনের গায়ে ডি-বক্সের মুখে পান শের্কি, বুলেট গতির হাফ-ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি মিডফিল্ডার। খানিক পর গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন হলান্ড, কিন্তু তার একটু বাঁকানো শটটি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৬৭তম রক্ষণে আবার গড়বড় করে সিটি এবং বিপদেও পড়তে যাচ্ছিল তারা। ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরাল শট নেন রায়ান ইয়েটস, এবং বল এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পায়ে লেগে ওপরের জালে গিয়ে পড়ে। ওই যাত্রায় বেঁচে গেলেও, সাত মিনিট পর ঠিকই আবার দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সিটি। প্রতিপক্ষের একটি দুর্বল আক্রমণ রুখে, দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। সতীর্থের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকেই জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন দিলাপ। এবারের লিগে ফরেস্টের এটা দ্বিতীয় জয়। ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে আছে দলটি।