দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।
পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা।
কারাগারে কর্তব্যে পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও বিদ্যমান নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হতে পারে এমন আশাঙ্কা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং সকল কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিতভাবে মতামত জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে, যাদেরকে সারাদেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে।
সেলিম বলেন, অধিদপ্তরটি নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ থাকতে হবে।
এই নির্দেশিকায় প্রতিটি কারাগারে ২৪-ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে।
আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।
কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে অধিদপ্তরটি দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানান তিনি।
এই নির্দেশিকায় অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা পাহারাদার কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের কর্মীদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন।
মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরী কর্মীদেরকে অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
অধিদপ্তর কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে।
অধিদপ্তর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারাগার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও হামলার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়েও বর্তমানে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কৃষকদল নেতা শামীম গাজী। তবে তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ কবিরাজ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শামীম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি পক্ষ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি, জমি ও মাছঘাট দখল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি। শামীম গাজী রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে। লিখিত বক্তব্যে শামীম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফারুক কবিরাজকে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি ‘হাইব্রিড’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। তাঁর ভাই মেহেদি কবিরাজের নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে বলেও অভিযোগ করেন শামীম। তাঁর দাবি, ওই পক্ষ চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করেছে। মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছরেও তিনি রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সরকারের পতনের পরও হামলা ও ষড়যন্ত্রের কারণে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর কর্মীদের মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শামীম বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে তিনি আরও বেশি কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও নেতাকর্মীদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শামীম। তাঁর দাবি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ও তাঁর নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত লোকজন শামীমের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি বা তাঁর কোনো লোক জড়িত নন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও তাঁর জানা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শামীম গাজীর মাছঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৫ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৬ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৯৪ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ দুই হাজার ৩৯৪ জন।
আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি মাতারবাড়ী বিষয়ে সরকারের ভূমিকা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় মেনে চলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগের সমালোচনা করেছেন তিনি। মাতারবাড়ী নিয়ে সরকারের অবস্থান কী, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারকে ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে। মুখে আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্য দিলেও মাতারবাড়ী বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা জরুরি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্যবাদী কোনো শক্তির সঙ্গে এমন চুক্তি করা যাবে না, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশকে কারও হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের জনগণ ও তরুণ সমাজ আর আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন জাতি গঠন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। মানবতার মুক্তি ও প্রকৃত স্বাধীন জাতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে বলেও জানান তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, গণভোটে যে রায় আসবে তা মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছে এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে আলোচনার ২০টি বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় গ্রহণ করা হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে বসানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন দক্ষ, স্বচ্ছ ও সৎ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কতটা সম্ভব হবে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। তাঁদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু পিএসসির চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যকে বিদায় করা হয়েছে। অন্য সদস্যদেরও ডাকা হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। শফিকুর রহমানের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের আন্দোলনের পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, যাতে তাঁরা আর এ বিষয়ে সোচ্চার হতে না পারেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলের নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, তাঁদের কর্মীরা গত ১৭ বছর নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিলেন, তাই এখন তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কর্মীদের শুধু পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেছেন, বাকিটা তাঁরা দেখবেন বলে মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে জাতি ও তরুণ সমাজের প্রতি উপহাস বলে উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, দলটি এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বারবার বিপ্লব ফিরে আসার নজির রয়েছে। জাতির প্রয়োজনে বিপ্লব আবারও ফিরে আসতে পারে। সংসদের ভূমিকা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, তাঁরা সংসদকে অর্থবহ, কার্যকর ও প্রাণবন্ত দেখতে চেয়েছিলেন। প্রথম দিন থেকেই সব বিষয়ে বিরোধিতা করে সংসদ অচল করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের ছিল না। যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা ও সমর্থন এবং অন্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নীতিতে তাঁরা চলতে চেয়েছিলেন। তবে সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, সংসদকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে বিভিন্ন বিষয় দ্রুত পাস করা হচ্ছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনি ইশতেহার ও সংস্কার প্রস্তাবে ক্ষমতায় গেলে র্যাব বিলুপ্ত করার কথা বলেছিল। কিন্তু বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে সংসদে বিল আনা হয়েছে এবং স্পেশাল রেসপন্সিবিলিটি বাহিনী (এসআরবি) গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, র্যাবের কাঠামো ও জনবল আগের মতো রেখেই শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। পিয়ন থেকে কমান্ডার পর্যন্ত সবাইকে একই জায়গায় রাখা হয়েছে; পোশাক ও লোগোও অপরিবর্তিত রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন ও অপরাধের অভিযোগের বিচার কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আগের সদস্যদের একই দায়িত্বে রাখলে তাঁরা প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, তাঁদের প্রস্তাব ছিল র্যাব বিলুপ্ত করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা ও সময় নিয়ে নতুনভাবে বাহিনী গঠন করা। বিভিন্ন বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা সদস্যদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তাঁরা। এই প্রস্তাব অযৌক্তিক ছিল কি না, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন ও সংবিধান সংস্কারের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এবং নানা প্রস্তাব দিচ্ছে বলেও জানান জামায়াত আমির। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এসব প্রস্তাবে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য সময় প্রয়োজন—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয়নি; ভোট দিয়েছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের। ক্ষমতাসীনরা অতীতে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। তাহলে দায়িত্ব পাওয়ার পর এত অল্প সময়ে এত পরিবর্তন কেন আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দলের দায়িত্বের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করা তাঁদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ কারণেই তাঁদের রাজপথে নামতে হয়েছে। সাত দফা দাবি নিয়ে তাঁদের আন্দোলন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব দাবি কোনো দলের একক দাবি নয়, বরং জনগণের দাবি। তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন করতেই হবে। কেউ সমর্থন করুক বা না করুক, জনগণের মুক্তির জন্য সংস্কারের বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গে দলটির আমির বলেন, ওই আন্দোলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলের নেতাদের হত্যা, বাড়িঘর ভাঙচুর, কার্যালয় বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক বাতিল এবং দল নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এত নির্যাতনের পরও ২০২৪ সালের আন্দোলনের কৃতিত্ব জামায়াতে ইসলামী দাবি করেনি বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা কখনো বলেননি যে এই আন্দোলনের কারিগর বা মূল পরিকল্পনাকারী তাঁরাই। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে দেশের মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবে দেখেন বলে জানান তিনি। এ জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার কথাও বলেন। আন্দোলনে শহীদদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে যাঁদের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা দিয়ে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।