জাতীয়

ঢাকার পরিস্থিতি দিল্লির কাছে ‘কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’, হাসিনাকে আশ্রয় মানবিক সিদ্ধান্ত : কমিটি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

বর্তমানে ঢাকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত পরীক্ষাগুলোর একটি।


কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বৃহস্পতিবার সংসদে একটি প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি নয়, তবে এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের প্রতিবেশী নীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সরাসরি বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্যের দিকে না গেলেও সতর্ক থাকা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইসলামিক মৌলবাদী শক্তির পুনরুত্থান এবং ঢাকায় চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছে—এমন দাবি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ভারতের তরফ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।


প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি “গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম বাংলাদেশ নিয়ে এত বড় কৌশলগত পরীক্ষার মুখে পড়েছে ভারত। তখন চ্যালেঞ্জটি ছিল অস্তিত্ব ও মানবিক সংকটের, আর এখনকার চ্যালেঞ্জটি রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রজন্মগত দূরত্ব এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে।
প্রতিবেদন তৈরির সময় সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা কমিটিকে জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেখানে বহিরাগত শক্তির প্রভাব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি
কমিটির মতে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি জটিল এবং পরিবর্তনশীল। এতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক অস্থিরতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পর সংখ্যালঘু, উপজাতি সম্প্রদায়, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের ওপর হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ধীরগতির অর্থনীতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের মানবিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকটে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার নজির ভারতের রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তিনি ভারতে অবস্থান করলেও ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি।


চীন ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য কমে যাওয়া, তরুণ নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদের উত্থান, ইসলামপন্থী শক্তির পুনরাগমন এবং চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় ব্যর্থ হলে যুদ্ধের কারণে নয়, বরং কৌশলগত অপ্রাসঙ্গিকতার কারণেই ঢাকায় ভারতের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।


অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে অবস্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। ভারতের নীতিকে জনমুখী বলে উল্লেখ করে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে কেন্দ্র করে নয়।
একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন, মৌলবাদ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভারতের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথাও প্রতিবেদনে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ
প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ববোধ দুই দেশের মধ্যে সদিচ্ছা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে একই সঙ্গে সেই ইতিহাসের বিপরীত আখ্যান ছড়ানোর চেষ্টাকেও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


শশী থারুরের বক্তব্য
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে শশী থারুর বলেন, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ জোরদার করে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার আহ্বান জানান। তার মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকার কারণে এই সম্পর্কের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং হঠাৎ করে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে সরে যাওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে উভয় দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সাক্ষাৎ হয়। মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে জুবাইদা রহমান এতে অংশ নেন।   হোয়াইট হাউজের আয়োজনে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।   মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা।   সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও এ উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই সম্মেলনেও তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যোগ দেন।   মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বহালের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

৪০ বছর ধরে নদীভাঙন, মধুমতির গ্রাসে বদলে যাচ্ছে মাগুরার মানচিত্র

ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডে রেলভূমি উচ্ছেদ ঘিরে বিক্ষোভ, সময় চাইলেন বাসিন্দারা

ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন - স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।   বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন প্রথমে একটি সময়সূচির কথা জানিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   প্রতিমন্ত্রীর মতে, রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন এমন পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন কবে থেকে ভোট শুরু করবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কত ব্যয় হবে—এ বিষয়ে এখনো সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আগামী মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্টদের বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজন করতে আনুমানিক ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।   তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে।   প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকর্তারা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রত্যাশা হলো চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা। তবে ভোট কখন শুরু হবে, সেটি নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।   উল্লেখ্য, এর আগে আগস্টে প্রতিমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের ৬ জুনের সময়সীমার কথা সামনে আসে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, উৎপাদনের লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের যে অগ্রযাত্রা তা রুখা সম্ভব নয় : ব্যারিস্টার মীর হেলাল

ছবি: সংগৃহীত

বাসভাড়া বাড়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন পথে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি আদায়ের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন।     নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় কাটছে তাঁর সময়।   গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি নানা কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা।   ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নির্ধারিত ভাষণসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন।   নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক বিষয়াবলি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো মূল বিষয়গুলোতে আলোকপাত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ইউএনজিএ-তে অংশগ্রহণের প্রথম দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদল প্রধান ও তাঁদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।   পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন।   দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমে'র সঙ্গে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।    প্রধানমন্ত্রী দিনভর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।   সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।   ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলোর মূল কেন্দ্রে থাকবে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।   জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন তিনি। গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর 'দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: আ রিনিউড কল ফর আ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি' শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন।   প্রধানমন্ত্রী ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং 'ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন।   প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ।   সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বিকেলের সেশনের ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এবং তাঁর বক্তব্যের জন্য ১৫ মিনিটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।   ওইদিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলার ওপর আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।   এছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।   জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার পর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তাঁর সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।   ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি লঞ্চ মালিকদের

দুবাইয়ের শাসকের ভাই শেখ আহমদের ইন্তেকাল : প্রধানমন্ত্রীর শোক

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

0 Comments