অর্থনীতি

চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা গভর্নরের

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত


ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।

 

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা সরকারের কোনো অবৈধ বা অযাচিত হস্তক্ষেপ নেই।

 

গভর্নর জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পাঁচজন সদস্য ছিলেন। পরে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির মতো বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকটিকে ঘিরে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমিক ব্যাংক হওয়ায় কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন ছিল।

 

ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে বেড়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি স্বাভাবিক সীমার তুলনায় বেশি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

 

গভর্নর আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকিং খাত তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজেও চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ নষ্ট করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে পরিবারে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   তারেক রহমান বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে।   তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে এসব মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে তাদের প্রতিটি কার্যক্রম আইনসম্মত, মানবিক, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হতে হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন বা গ্রাম গড়ে তুলতে কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, গ্রাম ও ইউনিয়নগুলো তত বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হবে।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, গ্রাম পুলিশের বিচক্ষণ ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গ্রাম পুলিশের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে কর্মরত ৪০ হাজারের বেশি গ্রাম পুলিশ সদস্যের পরিবার ও জীবিকার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি জানান, গ্রাম পুলিশের পদবি পরিবর্তনের পাশাপাশি বেতন-ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশের আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।   এ ছাড়া তথ্য আদান-প্রদানের কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহারের খরচ হিসেবে প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মাসে ২০০ টাকা দেওয়া হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে থানায় যাতায়াতের জন্য সাধারণ গ্রাম পুলিশের সাপ্তাহিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।   নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতির জন্য নারীর কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি।   তিনি জানান, সরকার সারাদেশে ১ লাখ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারী নিয়োগ দেওয়া হবে।   এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে আরও দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি। নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।   গ্রাম পুলিশের কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ রাখার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।   তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় এসব সড়কে গাছ লাগানো হবে। গাছ বড় হওয়ার পর বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এভাবে গ্রাম পুলিশদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন

চামড়াশিল্পে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা

রাজনৈতিক ও দলীয় পর্যায়ে আদান-প্রদান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আজ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন|    এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে ঢাকা|    রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সম্মানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আয়োজিত প্রাতরাশ ˆবঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়|     বৈঠকে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ কাঠামোর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|    এ সময় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য চীনের অব্যাহত কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন|   এছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণ, দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে|   বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে উভয় পক্ষই চলতি বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে|   লিউ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন| একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে তার বিভাগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন|   অব্যাহত রাজনৈতিক সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চীনের আগ্রহের কথা জানান তিনি|   আলোচনাকালে লিউ হাইশিং তার পিতা লিউ শুচিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন|    তিনি বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন|   লিউ জানান, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে লিউ শুচিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন|   রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীর করা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চীনের মন্ত্রী তিন দিনের সফরে গত ৩ নভে¤^র ঢাকায় আসেন|

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের বাইরে কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ, সম্ভাব্য তহবিল ২ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

মানি চেঞ্জারদের কাস্টডিয়াল হিসাব খোলার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে ব্যাংকে

সংগৃহীত ছবি
নভেম্বরের প্রথম তিন দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৫২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই সময়ে রেমিটেন্স এসেছিল ৩৩০ মিলিয়ন ডলার।   এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ১৬১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।   এর আগে গত অক্টোবর মাসে দেশে এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।     গত সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আর গত আগস্ট ও জুলাই মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ও ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।   এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১১ হাজার ৯৮৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১০ হাজার ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার।   ফলে অর্থবছরের প্রথম চার মাসের বেশি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪০-শ শতে

সংগৃহীত ছবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসইএক্স, শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

0 Comments