হয়রানিমুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ চান ব্যবসায়ীরা। যাতে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, মানুষের দুর্দশা কমে ও অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসতে পারে। তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায় গতিশীল হবে। তারা বলছেন, বাজেটকে তৈরি করা হয় শাস্তিমূলক। এ বাজেটকে সহায়তামূলক করতে হবে। এ সময় তারা ব্যবসাবাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার, করনীতি সহজীকরণের দাবি জানান।
গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় ব্যবসায়ীরা এসব বিষয় তুলে ধরেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শুল্ক-কর নিয়ে যতটা পারি করব। হয়তো পুরোটা পারব না, তবে ব্যবসা সহজ করতে আইনকানুন, নিয়মনীতি ব্যবসা সহায়ক করা হবে। এর আগে সভায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। বর্তমানে এই করমুক্ত সীমা পৌঁনে ৪ লাখ টাকা। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবও করা হয়। নন-লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে করহার সাড়ে ২৭ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা, টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতসহ সব শিল্প খাতের ওপর যে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আছে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা ও এই করহার পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়। সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক আবদুর রহিম খান। সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
সভায় বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, করদাতাদের জন্য সহজ, আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও তৈরি হবে। সঠিক ও ন্যায়সংগত করব্যবস্থা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, এমন বাজেট দিতে হবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হবে। আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়তামূলক হয়। তিনি আয়কর, ব্যাংক ও কাস্টমসের জন্য সমন্বিত ইউনিফাইড ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল চালু করাসহ ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে, কর ফাঁকি কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআর ও উচ্চ জরিমানার বিধান ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইমরান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সবাইকে ‘সিস্টেমেটিক্যাল চোর’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। যারা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয় এনবিআর তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালায়। যারা দেয় না, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্র্রি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের এসব ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচান। ডাইরেক্ট ট্যাক্স বাড়ান। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অফিসার পাঠান, সেখান থেকে প্রচুর আয়কর আদায় হবে।
বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, একসময় দেশে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ির বাজার ছিল। যা গত বছর ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশনও এখন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ডলারের দাম ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মধ্যবিত্ত মানুষ আর গাড়ি কিনতে পারছে না। গাড়ির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমালে বাজারে গতি ফিরবে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দেশের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে স্থানীয় পর্যায়ে সব পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ২ শতাংশ করা, দেশে উৎপাদন হয় না এমন শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, শিল্পের কাঁচামাল-উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং দেশে উৎপাদন হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও শিল্পের কাঁচামাল-উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এতে দেশি শিল্প সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। আগামী বাজেট প্রণয়নে ট্যাক্স ও ডিউটির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য যতটা সম্ভব সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এনবিআর কাজ করছে। ট্যাক্সের আওতা বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। বৈষম্য দূর করতে পুরো জাতি এ বিষয়ে একমত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বেসরকারি অফডক বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোর (বিকডা) হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ আরো সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত চার মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চার্জ বাড়াল অফডকগুলো। দফায় দফায় এই ব্যয় বৃদ্ধিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাব মতে, নতুন এই দফায় চার্জ বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ২১টি অফডক বছরে তিন লাখের বেশি আমদানি কনটেইনার এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে। সমুদ্র বন্দরের মূল এলাকার বাইরে অবস্থিত এই কনটেইনার ইয়ার্ডগুলোতে পণ্যের লোডিং-আনলোডিং, স্টোরেজ ও শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানির ধাক্কায় নতুন ট্যারিফ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে গত ১৯ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দরকেন্দ্রিক ২১টি বেসরকারি অফডক তাদের সেবামূল্য বাড়িয়ে দেয়। অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত লরি এবং ডিপোর ভেতরে কনটেইনার ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত ক্রেনসহ সব ভারী যন্ত্রপাতিই ডিজেলচালিত। ২১টি অফডকে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, ‘ডিপোগুলো প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ ডিজেল পোড়ায়। তেলের দাম বাড়ার পর এই বাড়তি খরচ সমন্বয় করা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চার মাসে বন্দর ও স্টিভিডোর (জাহাজ থেকে মাল নামানো এবং জাহাজে মাল বোঝাই করার কাজ করে) একবার করে এবং অফডকগুলো দুইবার চার্জ বাড়িয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এক আমদানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, যার যার মতো করে ইচ্ছামতো চার্জ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বাড়তি চাপের ফলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বিকডার ট্যারিফ ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এখন তেলের অজুহাতে আরো সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হলো। এই বাড়তি খরচের কারণে আমাদের ট্রেডের ওপর চরম বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাবের শঙ্কায় ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, লজিস্টিক খাতের এই ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে। আমদানীকৃত পণ্যের খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার ঘানি টানতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। এতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের ২৮ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৯০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২ হাজার ৫০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা ২৯ হাজার ১১৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪ হাজার ২৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, বাজেটের আকার চূড়ান্ত না হলেও এটি ৯ লাখ থেকে ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাজেট প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বলেছেন এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সেরা বাজেট। তিনি অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ দেন এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বাজেটের আকার বৃদ্ধি অপরিহার্য। ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে কর আদায় বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ বাজেট প্রণয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের বাজেটে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।