আর ১৯ দিন পরেই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের উত্তর আমেরিকা আসরের। বাকি দিনগুলোর প্রতিটিতে একটি করে পরিসংখ্যান ভিত্তিক গল্প বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হবে।
এই ধারাবাহিকতায় আজ থাকছে হ্যাটট্রিকের গল্প।
ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত মোট ৫৪টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড আসরে, আটটি।
২০০৬ সালের জার্মানি আসরে একটিও হ্যাটট্রিকের দেখা মেলেনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চার জন একাধিক হ্যাটট্রিক করেছেন: হঙ্গেরির সান্দর কোচিশ, ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন, পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলার ও আর্জেন্টিনার গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।
একমাত্র ‘বাতিগোল’ নামে পরিচিত বাতিস্তুতা দুটি আসরে একটি করে হ্যাটট্রিক করেছেন; ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র আসরে গ্রিসের বিপক্ষে ও ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স আসরে জ্যামাইকার বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে তার দুটি হ্যাটট্রিকই হয় ২১ জুন।
একমাত্র বদলি খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন লাসলো কিশ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডও হাঙ্গেরির সাবেক এই ফরোয়ার্ডের; ১৯৮২ সালের স্পেন আসরে এল সালভাদরকে ১০-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে সাত মিনিট ৪২ সেকেন্ডে তিনটি গোল করেন তিনি।
আর ম্যাচের শুরু থেকে দ্রুত সময়ে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্টের। ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড আসরে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রথম ২৪ মিনিটেই হ্যাটট্রিক করেন এই স্ট্রাইকার।
আর ফাইনালে প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড জিওফ হার্স্টের। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড আসরে তার তিন গোলের সুবাদে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে একমাত্র শিরোপা জয় করে ইংলিশরা।
কয়েক দশক পর, দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে গত আসরে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন কিলিয়ান এমবাপে। যদিও শেষ হাসি হাসতে পারেননি তিনি, তার দল ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। নিজের ১৬তম টেস্ট খেলতে নামা নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সেট হয়ে যাওয়া জাস্টিন গ্রিভস। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। গ্রিভসের বিদায়ের পরপরই শেষ হয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা। লাঞ্চে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭৪.৫ ওভারে ২১৩ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ৫৯ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। হাতে আছে ৪ উইকেট। ৪২ বলে ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন নিজের ৬২তম টেস্ট খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। নাঈম হাসানের আগের ওভারেই ফিরতে পারতেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। কিন্তু শর্ট ফিল্ডার মুমিনুল হক একেবারে সহজ ক্যাচটি হাত থেকে ফেলে দিয়েছেন। এক ওভার পর নাঈম ফিরেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেললেন জাস্টিন গ্রিভসকে। এর মধ্য দিয়ে ৫১ রানের জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু পেল বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্ট: ফিফটি করা চন্দরপলকে ফেরালেন শরীফুল
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভালে গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে লাল-সবুজের দলটি ১-০ গোলে হারায় আফ্রিকার দেশটিকে। বাংলাদেশের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন নাঈমুর রহমান রাতুল। আজারবাইজানের বাকুতে ই-টিয়ার ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। সুযোগ আসে গ্যাবনেরও। তবে দলটির আক্রমণ বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে এক আক্রমণে দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট গ্যাবনের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেয়। ফিরতি বলে হেডে গোল করেন বাংলাদেশকে লিড এনে দেয় রাতুল। এতে ১-০তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৮তম মিনিটের সময় আরো একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। লেফট উইং দিয়ে ওয়ান টু ওয়ান আক্রমণের সময় গ্যাবন গোলকিপার উপরে উঠে আসলেও বল বাইরে মারেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পরও বাংলাদেশের আক্রমণে আধিক্য ছিল। তবে জালের দেখা পাচ্ছিলেন না আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা। ৩৩তম মিনিটে একটি ভালো সুযোগ আসলেও গোলে রূপান্তর করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে রাতুলের ওই গোলেই ফাইনালের টিকিট কাটা নিশ্চিত হয় লাল-সবুজের দলের। বাংলাদেশ প্লেট পর্বে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টাইব্রেকারে জেতে, হারায় সিশেলসকে। শেষ ষোলোতে সিঙ্গাপুরকেও টাইব্রেকারে হারায়। এরপর কোয়ার্টারে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে সেমিতে ওঠে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বে ৫টি ম্যাচের একটিতে জয়, দুটিতে ড্র এবং দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। ইউরোপের দল ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে আসর শুরু করে। পরেরদিন প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যায়, দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে। তৃতীয় দিনে বুরুন্ডির সাথে পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ, হারে ২-০ গোলে। ফিজির বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় তোলে ফাহিমের দল। এবার টায়ার ই-এর ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ। তবে এই স্তরের শিরোপা আর টুর্নামেন্টের মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার খেতাব এক নয়। মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে টায়ার এ-এর প্রতিযোগিতা থেকে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হলে ১২৯তম হবে।
ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের লেগ স্পিনার বেন হোয়াইট। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৪১টি উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই স্পিনার। হোয়াইটের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে গত বছরের ডিসেম্বরে। ২০২১ সালে আয়ারল্যান্ড উলভসের বাংলাদেশ সফরে নজর কাড়েন তিনি। ওই বছরই আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন হোয়াইট। তবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন টি-টোয়েন্টিতে। এই সংস্করণে প্রতি ২০ বলেই একটি করে উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২০২১, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলেছেন এই লেগ স্পিনার। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ছিল তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য। লেইনস্টার লাইটনিং, নর্দার্ন নাইটস, মুনস্টার রেডস, ফিনিক্স ও সিএসএনআইয়ের হয়ে খেলেছেন তিনি। ২০২১ সালের আন্তপ্রাদেশিক টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে ১৭ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন হোয়াইট। এ ছাড়া ২০২৪ সালের আইরিশ সিনিয়র কাপের ফাইনালে ৩৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে হোয়াইট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রতি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাওয়াকে নিজের শৈশবের স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হোয়াইট বলেন, আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। দেশের হয়ে তিনটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার বাইরে ছিল বলেও জানান তিনি। ক্যারিয়ারের এই অর্জনগুলো নিয়ে সব সময় গর্বিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন ২৮ বছর বয়সি এই স্পিনার।