খেলাধুলা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলে নেই বাংলাদেশ।  বাছাই পর্বে সব সময় বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপে না থাকলেও বাংলাদেশের সমর্থকদের ফুটবল উন্মাদনা অন্যরকম। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থকদের সমর্থনে ভেসেছিল আর্জেন্টিনা। পুরো দেশ আচ্ছন্ন ছিল বিশ্বকাপে। এবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে  এমন ফুটবল প্রিয় দেশের সমর্থন চাইছে আর্লিং হল্যান্ডের নরওয়ে।

 

সামাজিক মাধ্যমে দারুণ এক পোস্টে ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি তাদের দলের প্রতি বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের সমর্থন চেয়ে জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের উচিত নরওয়েকে সমর্থন করা! কেন, জানতে চান?

কারণ, আমাদের ফুটবলপ্রেমী দেশ দুটির মধ্যে কেবল ফুটবলই নয়, আরও অনেক বেশি কিছু ভাগাভাগির সম্পর্ক রয়েছে, যা হয়তো আপনার ধারণারও বাইরে!

রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস আরও জানায়, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল নরওয়ে। এছাড়া আমরা উভয় দেশই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, মধ্যস্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের এই বন্ধন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ইতিহাস এবং বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেহেতু বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে আসা নরওয়ে হতে পারে বাংলাদেশিদের সমর্থনের জন্য একদম উপযুক্ত একটি দল।

আমরা উভয়ই নদী এবং সমুদ্রবেষ্টিত উপকূলীয় দেশ এবং মাছের প্রতি ভালোবাসা আমাদের দুজনেরই সমান! আমরা উভয়ই ফেয়ার প্লে বা ন্যায়পরায়ণতায় বিশ্বাসী— সেটা বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেই হোক, কিংবা খেলার মাঠেই হোক।

আমরা নিজ নিজ দিক থেকে ছোট—বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক ছোট, আর জনসংখ্যার দিক থেকে নরওয়ে খুবই ছোট। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আমাদের উভয়ের স্বপ্নই আকাশছোঁয়া!

আর যারা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছেন না, তাদের জন্য বোনাস পয়েন্ট— বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা আর্লিং ব্রাউট হালান্ড খেলছেন এই নরওয়ে দলেই!

তাহলে কী ভাবছেন, বাংলাদেশ? এবার আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দলটির পাশে দাঁড়ানোর সময়! একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার সময়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
হুলিয়ান আলভারেজ। সংগৃহীত ছবি
বার্সাকে হারিয়ে হারানো আস্থা ফেরাতে চান আলভারেজ

একসময় বার্সেলোনার জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ। সেই ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আসার পর নিজের ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের বিরাগভাজন হন তিনি। দল ছাড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি এই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদেই থেকে যেতে হয়েছে তাকে। এবার সেই বার্সেলোনার বিপক্ষেই মাঠে নামার অপেক্ষায় আলভারেজ। মেত্রোপলিতানোতে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয় পেলে লা লিগার শীর্ষস্থানও দখল করতে পারে আতলেতিকো। তাই সমর্থকদের হারানো আস্থা ফিরে পাওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টাইন তারকা। গত মৌসুমে কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বার্সেলোনাকে বিদায় করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আলভারেজের। দুই প্রতিযোগিতাতেই কাতালান ক্লাবটির বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে বার্সেলোনায় খেলার আগ্রহ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা আলজেরিয়াকে হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন আলভারেজ। তিনি সরাসরি বার্সেলোনার নাম উল্লেখ না করলেও দলবদলের সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেননি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার জন্য ভালো হয় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার এই মন্তব্য আতলেতিকো সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। অন্যদিকে বার্সেলোনাও তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। তবে আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ আলভারেজকে ছাড়তে রাজি হয়নি। ফলে নতুন মৌসুমেও মাদ্রিদে থেকে যেতে হয় তাকে। এরপর থেকেই সমর্থকদের দুয়ো শুনতে শুরু করেন এই ফরোয়ার্ড। একপর্যায়ে সতীর্থরা যখন দর্শকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখন আলভারেজকে একা টানেলের দিকে চলে যেতে বলা হয়। গ্যালারি থেকে তাকে ক্লাব ছাড়ার দাবিও ওঠে। দলবদলের বাজার শেষ হওয়ার মাত্র ছয় দিন আগেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এর মধ্যে দুই দিন অনুশীলনেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরে নিজের এজেন্ট ফার্নান্দো ইদালগোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন আলভারেজ। আতলেতিকোর প্রধান নির্বাহী আগে অভিযোগ করেছিলেন, এজেন্ট তাকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। অন্যদিকে ইদালগো ক্লাবের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন। এজেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে দলে বেশি সময় পেতে শুরু করেন আলভারেজ। তবে শুরুতে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যায়নি। অবশেষে ২০ অক্টোবর স্টুটগার্টের বিপক্ষে গোল করে দীর্ঘ খরা কাটান তিনি। এরপর চার দিন পর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়েও গোল করেন এই আর্জেন্টাইন। সেই ম্যাচের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান আলভারেজ। বিশ্বকাপের সময় নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, সমর্থকদের অসন্তোষের কারণ বুঝতে পারছেন। তার মতে, সমর্থকেরা যেভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাতে তাদের রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা পুরোপুরি বদলে গেছে, এমন কোনো ঘোষণা দেননি আলভারেজ। বরং নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় ও ধরন নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি। আলভারেজের ক্ষমা চাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তার মতে, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাহস প্রয়োজন। এই ঘটনার পর আলভারেজ মানসিকভাবে আগের চেয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন বলেও মনে করেন তিনি। তবে সমর্থকদের সবাই এখনো তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি। অনেকের মতে, ঘটনার পরপরই ক্ষমা চাইতে পারতেন তিনি। প্রায় চার মাস পর এবং আতলেতিকোতেই থাকা নিশ্চিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তার ক্ষমা চাওয়ায় কেউ কেউ ভিন্ন অর্থও খুঁজছেন। অন্যদিকে আলভারেজের সামর্থ্য নিয়ে সতীর্থদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক মনে করেন, দলের সাফল্যের জন্য আলভারেজের কাছ থেকে আরও বেশি গোল প্রয়োজন। আলেক্স গ্রিমালদোর বিশ্বাস, এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের মধ্যে অসংখ্য গোল করার সক্ষমতা রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন আলভারেজ। তখন গোলের দেখাও পাননি। তবে পরবর্তী আট ম্যাচের পাঁচটিতে প্রথম একাদশে জায়গা পেয়ে দুটি গোল করেছেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন। এদিকে আলভারেজকে দলে পাওয়ার চেষ্টা করা বার্সেলোনা এখন অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করেই এগোচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রবার্ট লেভানডভস্কি, মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেররান তোরেসকে হারানোর পর কোচ আক্রমণভাগে রাফিনিয়াকে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার করছেন। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেই দারুণ সফল হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ইতোমধ্যে ১৯ গোল করে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও রয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে লামিন ইয়ামালও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তার গোলসংখ্যা ১৩, সঙ্গে রয়েছে ১১টি অ্যাসিস্ট। দলের মোট ১৩ জন আলাদা খেলোয়াড় গোল করেছেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আক্রমণভাগে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে কাতালানরা। অন্যদিকে লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আতলেতিকোও। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারলেও স্প্যানিশ লিগে টানা সাত ম্যাচে জয় পেয়েছে সিমিওনের দল। এই ধারায় নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকেও হারিয়েছে তারা। গত মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় এবার দলের পয়েন্টসংখ্যাও বেশি। আতলেতিকোর হয়ে গোল করার দায়িত্বও ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন একাধিক ফুটবলার। লিগে আলভারেজের গোল একটি হলেও আলেক্স বায়েনা করেছেন পাঁচটি, আলেক্স গ্রিমালদো চারটি এবং জোনাথন ডেভিড ও জুলিয়ানো সিমিওনে করেছেন তিনটি করে গোল। ১১ ম্যাচ শেষে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো এবং ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনাকে হারাতে পারলে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করবে আতলেতিকো। আলভারেজের ওপর দলের গোলের নির্ভরতা কিছুটা কমলেও তার সেরা পারফরম্যান্স ফিরে পাওয়া আতলেতিকোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোচ সিমিওনের বিশ্বাস, ক্লাবের বড় লক্ষ্য অর্জনে এই ফরোয়ার্ডের অবদান প্রয়োজন। সিমিওনের ভাষায়, ক্লাব যদি সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণের অবস্থানে থাকতে চায়, তাহলে দলে হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড়কে প্রয়োজন। তাই বার্সেলোনার বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, আলভারেজের জন্য নিজের সামর্থ্য প্রমাণ এবং সমর্থকদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারেরও বড় মঞ্চ।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৮, ২০২৬

পিএসজির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে প্যারিসের আরেক দল

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ জয়ে গার্দিওলা, আনচেলত্তি ও জিদানকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মরিনহো

ছবি: সংগৃহীত

পথহারা ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ফরেস্টের দুর্দান্ত জয়

ছবি: সংগৃহীত
দারুণ জয়ে বার্সেলোনার সমান পয়েন্টে রিয়াল মাদ্রিদ

ভালেন্সিয়ার মাঠে ছন্দময় ফুটবল খেলল রেয়াল মাদ্রিদ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দর্শনীয় গোল করলেন ফেদে ভালভের্দে। জালের দেখা পেলেন আর্দা গুল্যার আর কিলিয়ান এমবাপেও। দারুণ জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনাকে ছুঁয়ে ফেলল জুজে মরিনিয়োর দল।   প্রতিপক্ষের মেস্তায়া স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ৩-০ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। শেষ দিকে কিছু সময় একজন কম নিয়ে খেলেছে স্বাগতিক দল।   গোল করে ও করিয়ে ম্যাচ সেরা হন গুল্যার। ভালভের্দে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান গুল্যার। তার পাস থেকে দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে।   সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জিতল রেয়াল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতির আগে এটিই ছিল তাদের শেষ ম্যাচ।   ১২ ম্যাচে ১০ জয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে দুইয়ে উঠেছে রেয়াল।   ১১ ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। তাদের সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। রোববার মুখোমুখি হবে এই দুই দল।   পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে রেয়াল। ভালেন্সিয়ার চার শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।   শুরুর কিছু সময় উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রেয়াল। অষ্টাদশ মিনিটে নিজেদের ভুলে উল্টো বিপদে পড়তে বসে তারা। বক্সের বাইরে অহেলিয়া চুয়ামেনির থেকে আলগা বল পেয়ে জোরাল শট নেন ভালেন্সিয়ার আরন মায়োয়। দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান তিবো কোর্তোয়া।   দুই মিনিট পর রেয়ালের জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল পায়নি স্বাগতিকরা।   ২৬তম মিনিটে ভালেন্সিয়ার বক্সের বাইরে এমবাপে ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় রেয়াল। ফরাসি তারকার শট রক্ষণ দেয়ালে লেগে ফেরার পর, বক্সের বাইরে থেকে জোরাল নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ভালভের্দে।   গত বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এইকে এথেন্সের বিপক্ষে রেয়ালের ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচেও, শেষ সময়ে এভাবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শটে চোখধাঁধানো গোলে ব্যবধান গড়ে দেন উরুগুয়ের তারকা।   রেয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা অন্তত দুই ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে গোল করলেন তিনি এই নিয়ে তৃতীয়বার। সবশেষ করেছিলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে, টানা তিন ম্যাচে।   ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রেয়াল। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে জুড বেলিংহ্যামের কাটব্যাকে বল প্রতিপক্ষের পেয়ে লেগে একটু ওপরে উঠে যায়, ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন গুল্যার।   ছয় মিনিট পর দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন তুরস্কের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। বক্সে ঢুকে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান ভালেন্সিয়া গোলরক্ষক। পরক্ষণে বক্সে বল পেয়ে উড়িয়ে মারনে অরক্ষিত ইয়ান ডিওমান্ডে।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পরপর দুই মিনিটে দুটি সুযোগ পান এমবাপে। প্রথম দফায় ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ফরাসি তারকার প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক। একই জায়গা দিয়ে বক্সে ঢুকে ফ্রান্স অধিনায়কের আরেকটি শট আটকে দেন তিনি।   ৬৫তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বেলিংহ্যামের নেওয়া শটও চমৎকার নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর এমবাপের ওভারহেড কিকে বল সরাসরি তার হাতে যায়।   দুই মিনিট পর রেয়ালের বক্সে হানা দেয় ভালেন্সিয়া। দুরূহ কোণ থেকে দানজুমার শট নিচু হয়ে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।   ৭৫তম মিনিটে তৃতীয় গোল করা থেকে রেয়ালকে আর আটকে রাখতে পারেননি ভালেন্সিয়া গোলরক্ষক। ডান দিক থেকে গুল্যারের পাস বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে পাঠান এমবাপে।   এই মৌসুমে লা লিগায় ১২ ম্যাচে তার গোল হলো ১৩টি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১০ ম্যাচে ১৫ গোল নিয়ে চূড়ায় বার্সেলোনা অধিনায়ক হাফিনিয়া।   আর গুল্যার মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে চারটি গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করলেন সাতটি।   ওই গোলের তিন মিনিট পর এমবাপেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ভালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার হোসে গায়া। বাকি সময়ে রেয়াল চাপ ধরে রাখলেও আর জাল খুঁজে পায়নি।   ১২ ম্যাচের সাতটিতে হারা ভালেন্সিয়া ৯ পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের মধ্যে ১৯ নম্বরে আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত আলভারেস

ছবি: সংগৃহীত

৩১ বছরের ইতিহাস ভাঙার পথে মেসি, অনন্য রেকর্ডের সামনে মায়ামি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

৬৪ দলের প্রস্তাব থেকে সরে এলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ছবি: সংগৃহীত
৫৯ বছর বয়সেও মাঠে নেমে ইতিহাস গড়লেন ‘কিং কাজু

বয়স যে কেবলই সংখ্যা, তা যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন কাজুইয়োশি মিউরা। ৫৯ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে মাঠে নেমে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন জাপানের এই গ্রেট ফুটবলার।   জাপানের তৃতীয় বিভাগের লিগে শনিবার ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামেন ‘কিং কাজু’ নামে পরিচিত এই ফুটবলার। সবচেয়ে বেশি বয়সে জে-৩ লিগে খেলার কীর্তি এখন তার।   এফসি রিউকিউয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জেতা ম্যাচে বদলি হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মিউরাকে নামান ফুকুশিমার কোচ। এদিন তার বয়স হয়েছে ৫৯ বছর ৮ মাস ১২ দিন।   পেশাদার ফুটবলে মিউরা ৪২তম মৌসুমে খেলছেন। জাপানের লিগে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। ২০২১ সালের পর কোনো লিগ ম্যাচে এটাই ছিল তার প্রথম উপস্থিতি। সেবার মূল ক্লাব ইয়োকোহামা এফসির হয়ে জাপানের শীর্ষ লিগে একবার খেলেছিলেন এই স্ট্রাইকার।   গত মৌসুমে আয়োজিত বিশেষ টুর্নামেন্টে ছয়টি ম্যাচ খেলেন মিউরা। তবে সেগুলো আনুষ্ঠানিক লিগ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।   টানা পাঁচটি দশকে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন মিউরা। গত জুলাইয়ে এম্পেরর’স কাপে গোল করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোলের প্রায় চার বছরের অপেক্ষার ইতি টানেন তিনি।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অধিনায়কের দুর্দান্ত গোলে জয় তুলে নিল আর্সেনাল

ছবি: সংগৃহীত

লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তি বাড়ালেন অধিনায়ক গ্রেস ফিস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলে রোনালদোর ৯ অনন্য কীর্তি, ভাঙা কঠিন হবে যেসব রেকর্ড

0 Comments