বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় পৌঁছাল নতুন শীর্ষে

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে চলছে সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা। ইউক্রেন থেকে শুরু মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, যেন অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে এসব অঞ্চল। এসব উত্তেজনার জেরে গোটা বিশ্বেই বেড়েছে সামরিক শক্তি বাড়ানোর এক অলিখিত প্রতিযোগিতা। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী। মূলত ইউরোপ ও এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর ফুলেফেঁপে ওঠা সামরিক বাজেটই বিশ্বজুড়ে ব্যয়ের এই লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।

 

সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সংক্ষেপে সিপ্রি (এসআইপিআরআই)-এর প্রকাশিত ‘ট্রেন্ডস ইন ওয়ার্ল্ড মিলিটারি এক্সপেন্ডিচার’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলো আগের বছরের (২০২৪) তুলনায় এক ধাক্কায় ১৪ শতাংশ সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে। গত বছর এই খাতে তাদের মোট খরচ ছিল ৮৬৪ বিলিয়ন বা ৮৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে ব্যয়ের এই হার বেড়েছে ৮.১ শতাংশ, যার ফলে ওই অঞ্চলে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৬৮১ বিলিয়ন ডলার।

 

সার্বিকভাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক কর্মসূচির পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৯ ট্রিলিয়ন বা ২ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি ডলার। এটি আগের বছরের তুলনায় ২.৯ শতাংশ বেশি। সিপ্রি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় বিশ্ব অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আড়াই শতাংশ, যা গত ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

 

বিশ্বে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালা প্রথম পাঁচটি দেশের শীর্ষেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই যথাক্রমে অবস্থান করছে চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ভারত। এই পাঁচটি দেশ মিলে পুরো বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫৮ শতাংশ) নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

 

সিপ্রি’র প্রতিবেদনে একটি ভিন্নদিকও ফুটে উঠেছে। বলা হয়েছে, সার্বিক খরচ ঊর্ধ্বমুখী হলেও ২০২৪ সালের ৯.৭ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় এই বছর ব্যয়ের হার কিছুটা কমেছে। এই সামান্য পতনের একটি বড় কারণ হলো-যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তার জন্য নতুন করে কোনও বড় বাজেট পাস করেনি। (সিপ্রি সাধারণত এই ধরনের সামরিক সহায়তাগুলো দাতা দেশের খাতার হিসাব হিসেবেই গণনা করে।)

 

পরিসংখ্যানে যদি যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবটুকু আলাদা করে রাখা হয়, তবে বিশ্বে প্রতিরক্ষা ব্যয় লাফিয়ে ৯.২ শতাংশ বেড়েছে। তারপরও সামরিক খাতে খরচের দৌড়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রই। ২০২৫ সালে তারা একাই ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এরপর ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন এবং প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তৃতীয় স্থানে আছে রাশিয়া।

 

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এবার বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের এই বিরাট উল্লম্ফনের নেপথ্যে রয়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে বিশ্ব সমীকরণে কিছু নতুন পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

সিপ্রি’র গবেষক জেড গুইবারতো রিকার্ড বলেন, ২০২৫ সালে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক ব্যয় ১৯৫৩ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে। একদিকে ইউরোপ সামরিক দিক দিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জোটের খরচের বোঝা ভাগাভাগি করার জন্য ওয়াশিংটনের দিক থেকেও প্রচণ্ড চাপ বাড়ছে।

 

এর ফলেই দেশগুলোর সামরিক ব্যয়ের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যাদের সামরিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে- বেলজিয়াম (৫৯%), স্পেন (৫০%), নরওয়ে (৪৯%), ডেনমার্ক (৪৬%), জার্মানি (২৪%), পোল্যান্ড (২৩%) এবং কানাডা (২৩%)।

 

জার্মানি সামরিক খাতে ১১৪ বিলিয়ন ডলার ঢেলে খরচের দিক থেকে বিশ্ব তালিকায় সরাসরি চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এশিয়ায় জাপানের সামরিক ব্যয় ৯.৭ শতাংশ বেড়ে ৬২.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর জিডিপির হিসাবে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় এখন ১.৪ শতাংশ, যা ১৯৫৮ সালের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ।

 

সিপ্রি’র জ্যেষ্ঠ গবেষক ডিয়েগো লোপেজ দা সিলভা বলেন, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ফিলিপাইনের মতো মার্কিন মিত্ররা নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য এখন অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছে। শুধু দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক উত্তেজনা নয়, বরং প্রয়োজনে আমেরিকার সাহায্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই তাদের এমন সিদ্ধান্তে বাধ্য করছে।

 

একই সময়ে গণতান্ত্রিক ও স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান নিজেদের সামরিক ব্যয় ১৪.২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮.২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা তাদের জিডিপির ২.১%। সিপ্রির হিসাব বলছে, ১৯৮৮ সালের পর এটিই তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক উল্লম্ফন।

 

অন্যদিকে, সামরিক খাতে চীনের ব্যয় গত বছর ৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটাই তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা। এর মাধ্যমে টানা ৩১ বছর ধরে সামরিক খাতে চীনের ব্যয় বাড়ল। ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি আধুনিক করার যে লক্ষ্য বেইজিং নির্ধারণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে এই বাজেট বাড়ানো হচ্ছে।

 

যদি জিডিপির অনুপাতে চিন্তা করা হয়, তবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। তারা তাদের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশই ঢেলে দিচ্ছে সামরিক খাতে! রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চার বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিয়েভ সামরিক খরচের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে।

 

এর বিপরীতে রাশিয়া তাদের জিডিপির ৭.৫ শতাংশ সামরিক খাতে খরচ করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫.৯ শতাংশ বেশি।

 

সিপ্রি’র আরেক গবেষক লরেঞ্জো স্ক্যারাজ্জাতো জানিয়েছেন, “২০২৫ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মোট সরকারি খরচের এক বিশাল অংশ চলে গেছে সামরিক খাতে, যা এর আগে কখনওই দেখা যায়নি।

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চললে ২০২৬ সালেও দেশ দুটির সামরিক খরচ বাড়বে। কারণ একদিকে রাশিয়ার তেলের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের ঋণ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে খরচের দৌড়ে সবার আগে রয়েছে সৌদি আরব। তাদের সামরিক ব্যয় গত বছরের চেয়ে ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৮৩.২ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে ইসরায়েল। তারা খরচ করেছে ৪৮.৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪.৯ শতাংশ কম। গত বছর জানুয়ারিতে হামাসের সঙ্গে গাজা উপত্যকায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষ কিছুটা কমে আসায় ইসরায়েলের খরচ কমে যায়।

 

ইরানের সামরিক ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমেছে। কিন্তু সিপ্রি’র প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। দেশে ৪২ শতাংশের আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি হিসাবের বাইরে বিক্রি হওয়া তেলের টাকা ধরলে, তেহরানের প্রকৃত সামরিক ব্যয় আসলে আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

 

সিপ্রি’র গবেষক জুবাইদা করিম বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে ইরানের প্রকৃত সামরিক ব্যয়ের হিসাব লুকিয়ে রাখাটাই স্বাভাবিক। তারা সরকারি বাজেটের বাইরে লুকিয়ে তেল বিক্রির অর্থ দিয়েই মূলত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বড় খরচ মেটায়।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধই এর অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যয়ের দিক থেকে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অন্তত ৮০ বিলিয়ন ডলার এগিয়ে থেকে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

 

আফ্রিকা মহাদেশের সামরিক ব্যয় ৮.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.২ বিলিয়ন ডলারে। পুরো আফ্রিকার এই ব্যয়কে যদি একটি দেশের হিসেবে ধরা হতো, তবে বিশ্বের তালিকায় তা জাপানের পর এবং ইসরায়েলের ঠিক আগে, অর্থাৎ ১১তম স্থানে থাকত। মহাদেশটির দেশগুলোর মধ্যে আলজেরিয়া সবচেয়ে বেশি সামরিক ব্যয় করে থাকে।

 

সিপ্রি ধারণা করছে, ২০২৬ সাল এবং এরপরও সামরিক খাতে ব্যয়ের এই জোয়ার থামবে না। সিপ্রি’র গবেষক জিয়াও লিয়াং বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে এবং বিভিন্ন দেশের যে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে করে আগামী দিনগুলোতেও সামরিক বাজেট বাড়তেই থাকবে।

 

সামনে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির এই মিছিলে প্রধান ইন্ধন জোগাবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রই। কারণ মার্কিন কংগ্রেস এরই মধ্যে ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি বাজেট পাস করে রেখেছে। এর বাইরে ইরানের সঙ্গে চলা প্রায় তিন মাসের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের পকেট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে। সব ছাপিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন বা দেড় লাখ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্ক প্রস্তাব করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

 

সূত্র: সিএনএন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লেবাননের ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা নেই ইসরাইলের: গিদিওন সার

দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের নতুন করে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও ইসরাইল মঙ্গলবার বলেছে, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা তাদের নেই। জেরুজালেম  থেকে এএফপি জানায়, ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লেবাননে ইসরাইলের কোনো ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষা নেই। সেখানে আমাদের উপস্থিতির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।’ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার মধ্যেই তিনি বলেন, ‘মাথার দিকে বন্দুক তাক করা অবস্থায় কোনো দেশই এভাবে বসবাস করতে রাজি হবে না।’ গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইসরাইল সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি এলাকা ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে ওই এলাকায় ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে। সার বলেন, ‘যখন হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ অন্যান্য সংগঠনকে নিরস্ত্র করা হবে, তখন এসব এলাকায় ইসরাইলের উপস্থিতির আর প্রয়োজন হবে না।’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় একে অপরের ওপর চাপিয়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী এক ডজনের বেশি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করে। এতে তাদের দ্রুত উত্তর দিকে সাইদা জেলার দিকে সরে যেতে বলা হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে সাইদা জেলার দিকে চলে যেতে হবে।’ এর কিছুক্ষণ পর লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এলাকাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত একটি ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ অভিযান চালানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া বেশিরভাগ এলাকা ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে অথবা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। মঙ্গলবারের আরও দুটি ঘটনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সেনা মোতায়েন থাকা এলাকায় ‘সন্দেহজনক একটি আকাশযান’ প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া সোমবার বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় এক সেনা গুরুতর এবং আরেক সেনা সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। ইসরাইল এ ঘটনাকে হিজবুল্লাহর নতুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার বলেন, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন এখনো বড় ধরনের হুমকি এবং এ কারণে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0

দারফুরে শিশুদের পরিস্থিতি ‘ভাঙনের পর্যায়ে’: ইউনিসেফ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় পৌঁছাল নতুন শীর্ষে

ছবি : সংগৃহীত

নেতানিয়াহুকে ক্ষমার আগে ‘সমঝোতা’ চান ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা নয়, জানাল হোয়াইট হাউস

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে এ তথ্য জানায় মিডল ইস্ট আই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা পরিচালনা করবে না। লেভিট বলেন, ‘এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করবে না।’ মুখপাত্র আরো জানান, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী থাকবে এবং আমরা কেবল এমন চুক্তিই করব যা প্রথমে আমাদের জনগণের স্বার্থে হবে।  একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না। এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত শর্তকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর বিবিসির।রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা শেষ করে ইরানের প্রতিনিধিদল। আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়।  তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ফারসি সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি আরো জানান,  কোন কোন শর্তসাপেক্ষে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।  এদিকে ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কথা বলেন আরাগচি।তিনি বলেন, এই জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক ইস্যু। এ প্রেক্ষাপটে ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আরাগচি আরো উল্লেখ করেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে একটি চুক্তিও হয়েছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0

‘মেইড ইন ইউরোপ’ বাস্তবায়ন হলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি চীনের

ওপেনএআইকে ঘিরে অল্টম্যানের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়

মহামারি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু

পাকিস্তান আলোচনায় ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 রাশিয়ায় পৌঁছে সোমবার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রাক্কালে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে আগের দফার আলোচনা অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তাদের অতিরিক্ত কিছু দাবি ছিল। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। তিনি আরো বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়।’ ওই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহ নেতার

দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন দিনেশ ত্রিবেদী

ছবি : রয়টার্স

রাশিয়া পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments