গুরুতর অনিয়ম ও স্বচ্ছতা সংকটে পড়ছে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। ২৭ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী সিন্ডিকেটের ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদ যাচাই-বাছাই না করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে তালিকা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া ‘ভুয়া’ ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়ে গেছে তালিকায়। বাস্তবে যাদের কোনো প্রযুক্তি ব্যবসা নেই। তাদের প্র্রভাবেই বেসিস হয়ে উঠেছিল আওয়ামী দলীয় প্রযুক্তি সংস্থা। মেম্বারশিপ অডিট ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকা প্রকাশ করায় অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসিসের নেতৃত্ব আবারও পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ছাড়া ভুয়া সদস্য বহাল থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকটে পড়বে দেশের প্রযুক্তি খাত।
বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাসরুর বলেন, বেসিস দেশের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এখানে যোগ্য ও প্রকৃত প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা নেতৃত্বে না এলে পুরো খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন নষ্ট হবে, তেমনই দেশের প্রযুক্তি শিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। প্রযুক্তি খাতের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
বেসিস সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক বাংলা পাজেল লিমিটেডের সিইও মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সংগঠনে বিপুলসংখ্যক ভুয়া সদস্য রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সদস্যপদ অডিট করে তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু অডিট ছাড়াই নির্বাচন আয়োজন করায় আবারও ভোট কারচুপির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বেসিসে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮০০। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যই সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নয়। এমনকি তাদের অনেকের বেসিস সদস্য হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে এসব ‘ডামি ভোটার’ তৈরি করা হয়। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটনকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বেসিসের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রশাসক ১০ সদস্যের একটি সহায়ক কমিটি গঠন করেন। তবে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটি ৬ মাসের বেশি সময় কাজ করলেও সদস্যপদ হালনাগাদ ও আর্থিক নিরীক্ষার (অডিট) কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি।
অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত নির্বাচন বোর্ড মেম্বারশিপ অডিট সম্পন্ন না করেই ৫ এপ্রিল নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে। ২৭ এপ্রিল ছিল ভোটার হওয়ার শেষ দিন। ৭ মে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। যুগান্তরের হাতে আসা প্রাথমিক ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে ৭২৫ জন সদস্য ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে জেনারেল ক্যাটাগরিতে ৪৩১, অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ৯৬, অ্যাফিলিয়েট ক্যাটাগরিতে ৮৪ এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে ৪ জন। প্রাথমিকভাবে ৬১৫ জন ভোটার হিসাবে অনুমোদন পান। ১১০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়। ১৫ মে শুক্রবার ছুটির দিন গভীর রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, ৭২৫ জন আবেদনকারীর বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকায় ৯৩৫ জন ভোটার। সেখানে জেনারেলে ৬২৬, অ্যাসোসিয়েটে ১৯২, অ্যাফিলিয়েটে ১২২ এবং ইন্টারন্যাশনালে ৫ জন। অর্থাৎ, আবেদনকারীর চেয়েও ২১০ জন বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন। বাড়তি ২১০ জন ভোটার কোথা থেকে কীভাবে এলেন, এ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেক ভোটারের বেসিসের সদস্য হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাই নেই, আবার অনেকেই প্রযুক্তি ব্যবসায়ও সক্রিয় নন।
নিয়ম অনুযায়ী বেসিসের সদস্যপদের ক্ষেত্রে সরাসরি সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে যুক্ত এবং ন্যূনতম দুই বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে জেনারেল সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সদস্যপদ যাচাইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সচল আছে কি না, তা প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে সে মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ওয়েবসাইটই নেই। জেড কর্প সলিউশনের সামিরা জুবেরি হিমিকার নাম উঠে এসেছে ওই তালিকায়। তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গিগাটেকের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও বেসিসের ভোটার হয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট (http://www.zcorpsolutions.com/) বর্তমানে অকার্যকর।
এছাড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এনআরবি জবস লিমিটেডের দিলারা আফরোজ খান। বেসিস পোর্টালে তাদের ঠিকানা হিসাবে কাওরান বাজারের ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান উল্লেখ থাকলেও ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যকর অফিস নেই। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটও সচল নয়।
ভোটার তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য র্যাডিসন ডিজিটাল লিমিটেডের দেলোয়ার হোসাইন ফারুক, সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদার দোহাটেক নিউ মিডিয়া, সিসটেক ডিজিটালের এম রাশিদুল হাসান, বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গিগাটেক লিমিটেডের সামিরা জুবেরি হিমিকা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষে বেসিসে সভা আয়োজনের অভিযোগ থাকা টিম ক্রিয়েটিভের তসলিম আহমেদ রাসেলসহ বহু আওয়ামী দোসর। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, সব কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত কোনো তালিকাতেই ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রুপম রাজ্জাক জানান, আপিল করার পরও তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি। একই অভিযোগ ব্যবসায়ী শোহিবুর রহমান খান রানার। তিনি যুগান্তরকে জানান, প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা পূরণের পরও তার প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা সাজিয়ে পুরোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে আবারও বেসিসের নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিসের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপসচিব তানিয়া ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।
বিতর্ক উঠেছে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও। জানা গেছে, বেসিসের প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটন ৬ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত হজ পালনের জন্য ছুটিতে থাকবেন। অথচ প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় ৭ মে। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় শুক্রবার গভীর রাতে। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়জুড়ে প্রশাসকের অনুপস্থিতি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কোনো জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে দেওয়ানি বিরোধ বিচারাধীন থাকলে সেই জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে মালিকানার স্বত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার পর রায়ে বিজয়ী পক্ষের অনুকূলে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে। ‘সাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় পৃথক দুটি রিট আবেদনের রায়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ মে এ রায় দেন। ২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির মালিকানা ও স্বত্ব নিয়ে জটিলতা থাকায় তা রিটের সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। তাই উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে আগে মালিকানার প্রশ্নের মীমাংসা হতে হবে। এর আগে রিট আবেদনকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদ কিংবা মামলার অন্যতম বিবাদী মো. জাহিদুর রহমান- কারও অনুকূলেই সম্পত্তিটি অবমুক্ত করা সমীচীন হবে না। মামলার নথি অনুযায়ী, ফরিদপুরের ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। জমিটির মূল মালিক ছিলেন যমুনা চামার ও গয়ানাত চামার। পরবর্তী সময়ে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় জমিটি অনিল কুমার দত্তের মালিকানায় আসে। পরে দানসূত্রে তার ছেলে অলোক কুমার দত্ত জমিটির স্বত্বাধিকারী হন। ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে অলোক কুমার দত্ত জমিটি সাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে বিক্রি করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের দাবি, অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ২৩ মে তার সঙ্গে জমিটি বিক্রির জন্য একটি বায়নাপত্র সম্পাদন করেছিলেন। ওই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে তিনি ২০০১ সালে দেওয়ানি মামলা করেন। ওই মামলায় ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর একতরফা ডিক্রি পেয়ে ২০০৩ সালে আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধিত দলিলের অধিকারী হন। এর বিরুদ্ধে সাহাবুদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট ফরিদপুরের জেলা জজ আদালতে টাইটেল আপিল করেন। বিলম্ব মার্জনার পর আপিলটি গ্রহণ করা হলে জাহিদুর রহমান হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশে পুনরায় শুনানির পর ২০২৩ সালের ২৫ মে জেলা জজ আদালত আপিলটি গ্রহণ করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জাহিদুর রহমান আবার হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করেন, যা এখনো বিচারাধীন। হাইকোর্টে শুনানিতে সাহাবুদ্দিন আহমেদের আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে তার মক্কেল জমির স্বত্ব অর্জন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের আইনজীবী মো. নাসির শিকদার যুক্তি দেন, তার মক্কেলের বায়নাপত্রটি সাহাবুদ্দিন আহমেদের বিক্রয় দলিলের আগের এবং আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতেই তিনি স্বত্ব অর্জন করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেন, বায়নাপত্রের ভিত্তিতে করা দেওয়ানি মামলার রায় ও ডিক্রি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে সাহাবুদ্দিন আহমেদের বিক্রয় দলিলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। রায়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিভিল রিভিশনে উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে যে পক্ষের অনুকূলে জমির মালিকানা নির্ধারিত হবে, সেই পক্ষের অনুকূলে সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া এবং বিবাদীপক্ষে মো. নাসির শিকদার ও আইনজীবী মিতুল ভৌমিক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে এবং জনগণের অধিকার ‘পদদলিত’ করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের অবস্থান থেকে ‘সরে এসেছে’। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির তৈরি করেছিল, সেই দলই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ‘ছলচাতুরী’ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অসম্মতি জানানোর মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি ‘অবজ্ঞা’ দেখানো হয়েছে। মামুনুল হক বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার। এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল হয়ে না যায়। তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অন্যায়, জুলুম ও বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের অংশ হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী প্রমুখ।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বার্তায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হলো। অপর বার্তায় মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থ বিবেচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নির্দেশক্রমে দলীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলে। একই সাথে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উভয় বার্তায় বলা হয়েছে।