জাতীয়

আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা ছিল: শাজাহান

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা রেখেছিল বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী।

 

মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।

 

শাজাহান চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৎকালীন পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীও যুক্ত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য গঠিত ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম। একই কমিটিতে আব্দুস সামাদ আজাদ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, আগরতলা মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করতে তৎকালীন সময়ে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।”

 

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে জঙ্গি সংগঠন বলে আখ্যায়িত করা হলেও জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনৈতিক সংগঠন।

 

শাজাহান চৌধুরী অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র যখনই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তখন আন্দোলন করেছে। একই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা, স্বাধিকার আন্দোলন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নে অধ্যাপক গোলাম আজমের ভূমিকার কথাও সংসদে উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী অবস্থান নিয়েছিল।

 

এই সংস্করণটি আপনার দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নতুনভাবে লেখা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ইইউ প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   এ সময় ইইউ প্রতিনিধি দল বিএনপির কাছে ১৯টি সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা তুলে দেয়। এর মধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও মাহদী আমিন।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে দুই গ্রামে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক আহত

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরনের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের প্রতিবাদ সমাবেশ

ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প নেই, অন্য সব আন্দোলন আলাদা: সংসদে শ্যামা ওবায়েদ

মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো আন্দোলনের তুলনা করা যায় না। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর বাকি সব আন্দোলন অন্যদিকে।   মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্থান অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভবিষ্যতে যত আন্দোলনই হোক না কেন, তা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে আসতে পারে না।   জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকারে যুক্ত নতুন প্রজন্মের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা প্রত্যাশিত নয়। “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে শ্যামা ওবায়েদ বলেন, শুধু ফেসবুকে বক্তব্য দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেই প্রকৃত রাজনীতি হয় না। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হলে অভিজ্ঞতা, সাহস এবং বিচক্ষণতা জরুরি।   তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দলটি কখনো সামাজিক মাধ্যমে নির্ভর করে রাজনীতি করে না; বরং মাঠের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের রাজনীতি পরিচালিত হয়।   জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কারে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা সংস্কার উদ্যোগে দলটির অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন।   শেষে শ্যামা ওবায়েদ রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীতে জোরদার নিরাপত্তা: ডিএমপি

ছবি: সংগৃহীত

আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা ছিল: শাজাহান

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকির বাস্তবতা নেই: র‍্যাব

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনা রোধে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করছে। কেন্দ্রটির নিরাপত্তা বিধানে গ্রহণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো।   মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহেদুল হাসান।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা অনুসরণে কেন্দ্রটিতে ‘পাঁচ স্তরের’ অব্যাহত নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে। রূপপুরে রাশিয়ার নবীনতম ‘তৃতীয় প্রজন্মের (প্লাস)’ ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে, যা রাশিয়ার রোসাটমের পরিকল্পনায় তৈরি। আইএইএ-র পরামর্শ মোতাবেক ‘বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা’ (ডিফেন্স-ইন-ডেপথ) কৌশলের আওতায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। একাধিক স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে কার্যকর রয়েছে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুল্লিতে আধুনিক ‘সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বিদ্যমান, যা জরুরি অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুল্লি বন্ধ (শাটডাউন) করে এবং কোরকে ঠান্ডা রাখে। একই সঙ্গে ‘নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বিদ্যুৎ বা মানবীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকেই নিরাপত্তা বিধান করতে সক্ষম। এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দ্বৈত কনটেইনমেন্ট কাঠামো, কোর ধারক এবং হাইড্রোজেন পুনর্মিশ্রণযন্ত্র, যেগুলো দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে।   ড. মোহাম্মদ জাহেদুল হাসান জানান, ২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘটিত বিপর্যয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এই প্রকল্পে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতিতেও চুল্লিকে নিরাপদ রাখার ক্ষমতা রাখে এই প্রযুক্তি।   নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাত হাজারের অধিক স্বয়ংক্রিয় ইন্টারলক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সংযোজিত রয়েছে। যে কোনো অস্বাভাবিক অবস্থায় এই ব্যবস্থাগুলো আপনাআপনি সক্রিয় হয়ে যায়। চরম পরিস্থিতিতে কোনো পরিচালক বা মানুষ উপস্থিত না থাকলেও ব্যবস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুল্লি বন্ধ (শাটডাউন) করে দিতে পারে।   তদুপরি কেন্দ্রটির সব ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দিনরাত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময় অন্তর নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করতে হবে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত জটিলতা, মাটি স্থিতিশীলকরণ, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।   আগামী দিনের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সমস্যা হবে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিরতিহীনভাবে বিতরণ করা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাধারণত মৌলিক ভার বহন করে, তাই গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি ও লোড ভারসাম্য ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। গ্রিড শক্তিশালীকরণে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন (ট্রান্সমিশন লাইন) এবং আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।   পারমাণবিক বর্জ্য প্রসঙ্গে জাহেদুল হাসান জানান, স্বাভাবিকভাবে প্রায় এক বছর পরিচালনার পর ব্যবহৃত জ্বালানি (স্পেন্ট ফুয়েল) চুল্লি থেকে অপসারণ করা হয়। এটি চুল্লির নিকটে বিশেষভাবে পরিকল্পিত পুলে (স্পেন্ট ফুয়েল পুল) সংরক্ষণ করা হবে। এই পুলে প্রায় এক দশক পর্যন্ত নিরাপদে বর্জ্য রাখার ব্যবস্থা বিদ্যমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার অধীনে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহৃত জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।   রূপপুরের মতো একটি আধুনিক ‘তৃতীয় প্রজন্মের (প্লাস)’ পারমাণবিক কেন্দ্র সম্পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। একটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এজন্য সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় প্রয়োজন হয় বলেও তিনি জানান।

আবরার আল মামুন সাহাফ এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউ পর্যবেক্ষকদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

ছবি: মন্ত্রণালয়

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কোলাজ

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১.৮৯ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রী

0 Comments