চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সোমবার (২৭ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ বিভাগ। পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দাবি করতে পারবে না এবং গত কয়েক বছরের মতো ব্যয় সাশ্রয় বা কৃচ্ছ্রসাধন নীতি চলতি থাকবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কেনাসহ কিছু ব্যয় বন্ধ থাকবে। সংশোধিত বাজেটের প্রাক্কলন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। প্রাক্কলন অবশ্যই মূল বাজেটে বরাদ্দের মধ্যেই থাকতে হবে; অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রয়োজনে একই ধরনের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ কমানো বা বাড়ানো যাবে। উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থ কোনো অবস্থাতেই পরিচালন বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশোধিত বাজেটে বৈদেশিক ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। সীমিত ক্ষেত্রে মাত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে। এছাড়া নতুন গাড়ি, জাহাজ বা বিমান কেনা যাবে না। তবে ১০ বছরের পুরোনো গাড়ির প্রতিস্থাপন হিসেবে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নতুন গাড়ি কেনা যাবে। ভূমি অধিগ্রহণ খরচও পরিচালন বাজেটে বন্ধ থাকবে, উন্নয়ন বাজেটে শর্তসাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নের সময় প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখাসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে, তাই সংশোধিত বাজেটে ব্যয় সাশ্রয় ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। বিশেষভাবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন থাকায় বাজেট সংশোধন আগেভাগে করা হচ্ছে, যা সাধারণত বছরের শেষের দিকে হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পূর্ব লন্ডনে ২০২৪ সালের এক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় যুক্ত দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে ১০ হাজার পাউন্ডের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ইউরোপে পালিয়ে গেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দারা দুই ব্যক্তির সন্ধানে জোরালো অভিযান চালাচ্ছেন। অভিযুক্তরা হলেন— ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গিরদার এবং ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীনের উইভার্স ফিল্ডস এলাকায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ। অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী স্বাধীন সংস্থা ‘ক্রাইমস্টপার্স’ এখন এই দুই পলাতকের সন্ধানদাতাদের জন্য ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশ এবং সম্ভাব্যভাবে মূল ভূখণ্ড ইউরোপে পালিয়ে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, উভয় ব্যক্তিরই টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। উইভার্স ফিল্ডসের সেই রাতের ঘটনা ২০২৪ সালের ১ আগস্ট গভীর রাতে ঘটে যাওয়া একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনার সূত্র ধরে এই তদন্ত শুরু হয়। রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী কিশোরী হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানায়। পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি কিশোরীকে উইভার্স ফিল্ডস এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর মারাত্মক যৌন নির্যাতন চালায়। হামলার পর এক সাধারণ পথচারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন। এই প্রাথমিক পদক্ষেপটিই অপরাধ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে এবং পরবর্তীতে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গত দুই বছর ধরে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কর্মকর্তারা অত্যন্ত নিবিড় ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়েছেন। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা, বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এই তদন্তের অংশ হিসেবে। মামলার জটিলতার কারণে দীর্ঘস্থায়ী গোয়েন্দা সম্পদের ব্যবহার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তদন্তে একটি বড় মোড় আসে, যখন মেট্রোপলিটন পুলিশ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোয়েন্দা তথ্য পায়, যা তদন্তকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই এখন জায়গিরদার ও আহমেদকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে, যা অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পলায়নপথ দুই সন্দেহভাজনকে খোঁজার এই অভিযান এখন আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ প্রথম এই মামলার তথ্য প্রকাশ করার পরপরই ৩৪ বছর বয়সী জায়গিরদার বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় ভ্রমণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ যুক্তরাজ্যেই তার উপস্থিতির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেয়নি। এই গুরুতর যৌন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় ব্যক্তিই বর্তমানে ওয়ান্টেড বা পলাতক তালিকায় রয়েছেন। জনগণের সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে। অপরাধীদের গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করে— এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পুরস্কার অব্যাহত রয়েছে। দাতব্য সংস্থাটি জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, তথ্য প্রদানকারীরা সম্পূর্ণ বেনামে তথ্য দিতে পারবেন, যা সন্দেহভাজনদের গতিবিধি বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা ব্যক্তিদের প্রতিশোধের ভয় দূর করবে। পুলিশের আবেদন ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তদন্তের নেতৃত্বদানকারী মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আনা ডেইটন জনসাধারণের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং পাশাপাশি আরও তথ্যের জন্য সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডেইটন বলেন, ‘এই অপরাধের রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকে আমরা ব্যাপক খোঁজখবর নিয়েছি। সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন, আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা আমাদের তদন্তকে এগিয়ে নিতে এবং অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আমরা এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, যিনি তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানেন বা এমন কোনও তথ্য জানেন যা আমাদের তদন্তে সহায়তা করতে পারে। আমরা আহমেদ ও জায়গিরদরকেও অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ মেট্রোপলিটন পুলিশ যখন বাংলাদেশ ও ইউরোপে তাদের সমকক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে, তখন ক্রাইমস্টপার্সের কাছে গোপনীয়ভাবে প্রদান করা যেকোনও তথ্যই অপরাধীকে শাস্তি প্রদান এবং ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক হতে পারে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের জন্য ‘সয়েল টেস্টিং’এবং প্রস্তাবিত 'এশিয়া বাণিজ্য মেলার সব কার্যক্রম আটকে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সয়েল টেস্টিংয়ে ব্যবহৃত যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতিবাহী গাড়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এই গবেষণা মাঠে কোনো প্রকার বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ চালাতে দেওয়া হবে না বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে বেলা ১১টায় গবেষণা মাঠের জমি শেকৃবির নামে স্থায়ীভাবে উদ্ধার ও প্রতিরক্ষার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে আগামী ৩দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেকৃবির নিজস্ব গবেষণা মাঠ হিসেবে ঘোষণা এবং জমি সুরক্ষায় হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে রিট দায়েরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, সরকার ১৬ই ডিসেম্বর এই মাঠে সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ নষ্ট করে সচিবালয় নির্মাণের মতো সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে চরম অপরিণামদর্শী এবং শেকৃবির শিক্ষা-গবেষণার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এছাড়া নিজ অধিকার আদায়ের দাবিতে মাস্টার্সের সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক দিন থেকে আমরা বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করতেছি। মানববন্ধন করেছি, সরকারকে স্মারকলিপি দিছি কিন্তু আমাদের দুর্বল ভাবা হচ্ছে। প্রায় ৩শত একর জমি ছিল আমাদের, সরকার নিতে নিতে আজ ছোট্ট জায়গায় সীমিত করে ফেলেছে, গবেষণার প্রশ্নে আর কোন ছাড় নয়।
বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখনো চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। শুক্রবার রাত ৮টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য ছিল। ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বার্তা দেখা যায়। এতে বলা হয়, সেবাটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং শিগগিরই আবার চালু করা হবে। বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি-তে শনাক্ত হওয়া গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ত্রুটি শনাক্ত করে। এ পরিস্থিতিতে সরকারও বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। এর আগে ২০২৩ সালে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ওয়েবভিত্তিক সেবা ৩৬ ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।