জাতীয়

সংকটে পোশাক খাত, অর্ডার যাচ্ছে অন্য দেশে

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৫

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নতুন অনেক কার্যাদেশ প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই সংকট অব্যাহত থাকলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) আয়োজিত ‘বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. মোফাজ্জল হোসেন পাভেল।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অবরোধ, লোডশেডিং ও গ্যাসসংকটের কারণে কারখানাগুলো সময়মতো উৎপাদন সম্পন্ন করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করতে অনেক রপ্তানিকারককে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিমানপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে রপ্তানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, দেশের সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সমাধান না এলে এই সংকট আরও গভীর হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিজিবিএর মহাসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, গ্যাসসংকট ও প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময়মতো পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে অনেককে বিমানপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। তিনি সরকারের প্রতি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান।

 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাক খাত জাতীয় রপ্তানির ৮৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে, তবু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ সীমিত। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং নতুন অর্ডারের প্রবাহেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

 

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, বিমানবন্দরের জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক বাধা সব মিলিয়ে গার্মেন্ট খাত এখন সংকট ব্যবস্থাপনার খাতে পরিণত হয়েছে। তিনি শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ৫০ জনের পরিবর্তে ২০ জন শ্রমিকের সীমা নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, আমেরিকার শুল্কনীতি ও শ্রমিক ইস্যুর জটিলতার কারণে রপ্তানি অর্ডারও প্রভাবিত হচ্ছে।

সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেবে, যাতে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতির সুযোগ পান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংক খাত থেকে অর্থ লুটপাটের কারণে আর্থিক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।

 

তিনি আরও বলেন, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানিবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সেমিনারে বক্তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও দক্ষ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় শেনজেন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করল সুইডেন দূতাবাস, যোগাযোগের নতুন নির্দেশনা

শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত কোনো ধরনের নির্দেশনা, তথ্য বা সহায়তা প্রদানের অনুমোদন এখন আর দূতাবাসের হাতে নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।     ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস আর শেনজেন ভিসার কোনো আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করছে না। একই সঙ্গে শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বা সহায়তা দেওয়ার এখতিয়ারও আর দূতাবাসটির নেই বলে জানানো হয়েছে।   সোমবার (২ নভেম্বর) দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় সুইডেন দূতাবাস আর শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করছে না। এর ফলে এখন থেকে শেনজেন ভিসা, আমন্ত্রণপত্র (ইনভাইটেশন লেটার), আপিল, নির্দিষ্ট কোনো আবেদনসংক্রান্ত বিষয় কিংবা এ-সম্পর্কিত অন্যান্য যেকোনো প্রশ্নের জন্য সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি 'সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি'-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট লিংকও সরবরাহ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, শেনজেন ভিসা সংক্রান্ত কোনো ধরনের নির্দেশনা, তথ্য বা সহায়তা প্রদানের অনুমোদন এখন আর দূতাবাসের হাতে নেই।   এমতাবস্থায়, ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের স্পন্সরদের শেনজেন ভিসা-সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্ন ও যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের বদলে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানানো হয়।   শেনজেন ভিসা হলো ইউরোপের ২৯টি দেশে প্রবেশের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদী অনুমতিপত্র। এটি ব্যবহার করে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত শেনজেন চুক্তিভুক্ত দেশগুলোয় অবাধে ভ্রমণ করা যায়।   

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে আজ শুরু ‘সোলার এক্সপো’

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার পাওয়ার সিস্টেম চালুরে ডিপিপি তৈরির সিদ্ধান্ত

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০২ নভেম্বর) সংসদ ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।     সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।     সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. আশরাফ উদ্দিন এমপি, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এমপি, মো. সাইফুল আলম এমপি এবং মারদিয়া মমতাজ এমপি।    এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ডিপিডিসির প্রতিনিধি, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সভায় অংশ নেন।      সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সার্বিক বিদ্যুৎ চাহিদা, কেন্দ্রীয় এসি ব্যবস্থার কার্যপরিধি, ভবনের বায়ু চলাচল এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গার সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে ডিপিডিসির মাধ্যমে সোলার পাওয়ার সিস্টেম চালুর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।      জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুতের অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবনের সব লাইট ও বাতি সেন্সর ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং অপচয়ের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়।     বৈঠকে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের শাখা এবং আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ বিল যথাযথভাবে আদায়ের লক্ষ্যে সাব-মিটার অথবা প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।     সভায় মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে সংসদ অধিবেশন চলাকালে নামাজের এক ঘণ্টা আগে এবং অন্যান্য সময়ে নামাজের আধা ঘণ্টা আগে মসজিদের এসি চালু করার সুপারিশ করা হয়।     এ ছাড়া ডিপিডিসির মাধ্যমে সোলার পাওয়ার সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।     সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ডিপিডিসির প্রতিনিধি, গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক বন্ধে

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ মহড়া শুরু

দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আজ চট্টগ্রামে ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া শুরু করেছে। বিশেষ করে খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানো এ মহড়ার লক্ষ্য।   আজ ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। দুর্যোগ ও জরুরি সংকট মোকাবিলায় দুই বাহিনীর পরিকল্পনা, সমন্বিত পদক্ষেপ এবং প্রস্তুতি বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।   বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে এবং উদ্ধার তৎপরতা বেগবান করতে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।   জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় দুই বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদার করতেও এ মহড়া সহায়ক হবে।   ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন মিশনের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ গার্ডিয়ান শার্ক মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।’   তিনি বলেন, এ ধরনের যৌথ মহড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ার প্রতি দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারও আরও দৃঢ় করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা : গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

অনিয়ম পেলে সারের ডিলারশিপ বাতিল : কৃষিমন্ত্রী

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা : শামা ওবায়েদ

0 Comments