যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপনের জন্য সরকার বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে। প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সূর্যোদয়ের পরপরই দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঠিক রং ও মাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাবে।
গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে; তবে ১৪ ডিসেম্বর রাতে কোনো আলোকসজ্জা থাকবে না। ১৬ ডিসেম্বর সকালে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ৩১ বার তোপধ্বনি বাজানো হবে।
সেদিন সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানাবেন।
সকাল ৯টায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।
তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, এবং টেলিভিশন–বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে
শিশুদের জন্য জাদুঘর, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটনস্থান বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।
দেশের হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
এছাড়া রাজধানীসহ সব শহরে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও রঙিন ফেস্টুনে সজ্জিত করা হবে প্রধান সড়কগুলো।
শেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত, যুদ্ধাহতদের সুস্বাস্থ্য ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ইফতেখার মাহমুদ (৩৬) ও তোফাজ্জল হোসেন পলাশ (৩৮) নাম সাজাপ্রাপ্ত দুই কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাদের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন। কারা ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ইফতেখার মাহমুদ মিরপুর থানার একটি বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। তার বন্দি নম্বর ছিল হাজতি-২৯৬৯২/২৬। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) অসুস্থ হয়ে পরলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারারক্ষীরা ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানকার মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন থেকে গত বুধবার রাত ৯টায় তার মৃত্যু হয়। সে মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকার মাহবুব আলমের ছেলে ইফতেখার। অপর দিকে একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মো. তোফাজ্জল হোসেন পলাশ (৩৮) নামে কারাবন্দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। কারাসুত্র জানিয়েছে, তিনি দারুস সালাম থানার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। তার বন্দি নম্বর ছিল কয়েদি-৪৫৬৫/এ। তিনি মিরপুরের দারুস সালাম থানার বাঘবাড়ী এলাকার আলী হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল হোসাইন পলাশ।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত এসব কমিটি থেকে আওয়ামীপন্থিদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে পরিচালিত ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠনের কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সভা না হওয়া এবং কমিটিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যক্তিদের থেকে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে দলটির সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে কমিটির সভায় তাদের অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও তাদের বৈঠকে ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। সরকারি সূত্রগুলোর মতে, এসব কারণে পুরনো কমিটি বহাল রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে সরকারি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। এতে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে। এই তিনজনকে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক মনোনয়ন দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পরিচালিত ৯৮টি কমিটির উল্লেখ রয়েছে। এসব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং বাকি তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এসব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ দেশের কোনো শিশুকেই শিক্ষার সুযোগের বাইরে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। নবজাতক থেকে প্রবীণ—সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে সুরক্ষা ও সুযোগের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ‘লিডো বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার্স: ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পরিবারহীন ও অভিভাবকহীন শিশুদের সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন ছোটমণি নিবাস ও শিশু নিবাস পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জনকল্যাণে নেওয়া সামাজিক উদ্যোগ ও কার্যক্রমে সরকারের সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন। সরকার ও জনগণ পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং দেশের উন্নয়নে উভয় পক্ষের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা এড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্য ও বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সুবিধাবঞ্চিত ও অভিভাবকহীন শিশুরা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে। এ সময় জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়া এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকহীন শিশুদের প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। শিশুদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন মন্ত্রী। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (লিডো) শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে পরিচালিত একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সংগঠনটি পথশিশু, নির্যাতনের শিকার শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। শিশুদের সার্বিক বিকাশকে দেশের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে লিডো শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও অংশ নেয়।