টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার বড় চওনা এলাকার ‘মোটের পুকুর’ থেকে পাথরের তৈরি একটি প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সারাদিন পুকুর সেচ দিয়ে মাছ ধরার সময় জালে হঠাৎ করে পাথরের মূর্তি উঠে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক বছর আগে ভেকু দিয়ে পুকুরটি খনন করা হয় এবং পরে সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, মূর্তিগুলো প্রাগৈতিহাসিক বা প্রাচীন আমলের হতে পারে।
এই খবর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা রোববার রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নিয়ে যান।
শামসুন্নাহার শিলা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাথরের মূর্তিটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটির প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাব্য হুমকির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। র্যাব-২-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, বর্তমানে এ ধরনের কোনো আশঙ্কা বা হুমকি আমরা লক্ষ্য করছি না। আমরা আশা করি, অপরাধীরা অন্তত এ ধরনের সাহস দেখাবে না। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর সতর্ক করে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে। বৃহস্পতিবার বাহিনীর ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঐ বার্তায় চরমপন্থী সংগঠনটির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ওই সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদকে সম্প্রতি গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের সমর্থকদের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ইসতিয়াকের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনা সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২-এর অধিনায়ক খালিদুল বলেন, যেকোনো ঝুঁকি বা হুমকি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি। আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি কার্যালয় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল ও গোয়েন্দা দল মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। এ সময় তিনি আরও জানান, জনগণের নিরাপত্তা বিধানে র্যাবের টহল ও অভিযান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। আজ সংসদে সিলেট-৬ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে। ১৯৭৮ সালে আগত ২ লাখ রোহিঙ্গার পুনর্বাসন সম্পন্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৯২ সালে আগত ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে প্রত্যাবাসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ড. খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখে এই সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াগুলোতে নৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। লিখিত ও মৌখিক শুনানি সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার পক্ষ না হলেও ওআইসি’র মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে এবং মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ এ তদন্তে প্রমাণসহ পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এছাড়া জাতিসংঘ-প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকেও বাংলাদেশ সহায়তা করছে, যা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনায় দায়ের করা একটি মামলায় মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো— রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত এবং টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে ভুগছে এবং ৪ বিলিয়ন মানুষ বছরে অন্তত এক মাস তীব্র পানি সংকটে পড়ে। এই সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী ও কন্যাদের ওপর, যারা প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘণ্টা পানি সংগ্রহে ব্যয় করে। বাংলাদেশে ৮৬ শতাংশ পরিবারে নারী ও মেয়েরাই পানি সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে, যেখানে অনেকেই প্রতিদিন ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার, শিল্প দূষণ, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বন্যা ও খরার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এর ফলে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক চাপে পড়তে হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ডিপিএইচই’র প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আওয়াল। সেমিনারে পানি ও জেন্ডার বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন। তিনি নারীদের নিরাপদ পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ততার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, পানি সংকট কেবল পরিবেশগত নয়, এটি একটি লিঙ্গ সমতার সংকট। নারীদের ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এনজিও ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এস. এম. এ. রশিদ তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এ খাতে বৈষম্য কমানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় নারী ও কন্যাদের কেন্দ্রে আনতে হবে, যাতে তাদের মতামত, নেতৃত্ব ও অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়। প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, পানিই জীবন—কিন্তু পানির সংকট এখন বিশ্বব্যাপী। দুঃখজনকভাবে নিরাপদ পানির উৎস দিন দিন কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকায় এই সংকট আরও তীব্র। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার নরগিস আক্তার, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রো, ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ পিটার ম্যাস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেশীয় প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ। নায়োকা মার্টিনেজ পানি খাতে সমাধান ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি রাজস্বভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন, যেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি করার প্রতি জোর দেন। পিটার মেস পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ডব্লিউএইচও বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ স্বাস্থ্য খাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান। তিনি উপস্থিত সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান।